আমরা কি মহাবিশ্বে একা ?

poribes news
0
(0)

পিন্টু আজ সকালে জোর তর্ক জুড়েছে ওর বন্ধু অমলের সঙ্গে। গতকাল পিন্টু একটা হিন্দি ছায়াছবি দেখেছে—“কোই মিল গয়া’। সিনেমার গল্পটা বাইরের থেকে আসা এক জীবকে নিয়ে, তার নাম ‘যাদু’। ঘুমানাের আগে পর্যন্ত পিন্টু যাদুর কথা ভেবেছে। রাত্রে যাদুর স্বপ্ন দেখেছে তাই সে আজ উত্তেজিত। তার যুক্তি যাদু যদি নাই থাকে তবে ফিল্মটা হলাে কিভাবে?

banglarkobita.com/uploads/profile_pics/Shahriar...

অমলের যুক্তি—শুধু হিন্দিতে নয়, ইংরাজী ভাষায় অনেক ফিল্ম তৈরি হয়েছে E.T., মার্স অ্যাটাক, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডে ইত্যাদি। ফিল্ম তৈরি হলেই বিষয়টা সত্যি হয় না। তর্কের শেষ হচ্ছে না দেখে দুজনেই ঠিক করলাে অনন্ত কাকুর কাছে যাবে। অনন্ত কাকু বিজ্ঞানের শিক্ষক।

ছুটির দিনে সাত-সকালে দুই মূর্তিকে আসতে দেখে বুঝলেন নিশ্চয়ই কোন বিষয়ে এদের মতবিরােধ দেখা দিয়েছে। সব শুনে বললেন—তােমরা দুজনেই ঠিক। আসলে পৃথিবীর বাইরে জীবজগৎ আছে কিনা এই বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। তবে মানুষের অনুসন্ধান থেমে নেই। আজ তােমাদের সেই কথাই বলব।পৃথিবীর বাইরে প্রাণ আছে কিনা খোঁজার আগে আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটা ধারণা থাকা দরকার।

মহাবিশ্ব কত বড়?

এই প্রশ্নের উত্তর আমরা একটু অন্যভাবে দিতে পারি। আমাদের সৌর জগত (সূর্য ও তার গ্রহ) যে গ্যালাক্সির (Galaxy) অন্তর্গত তার নাম মিল্কি ওয়ে (Milky Way)। এই গ্যালাক্সির চেহারা পাক খাওয়া চাকতির মতাে। এই গ্যালাক্সির ব্যাস ১ লক্ষ আলােকবর্ষ। ১ আলােকবর্ষ = এক বছরে আলাে যে দূরত্ব
যায় (আলাে এক সেকেন্ডে প্রায় ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল যায়)। মহাবিশ্বে এইরকম অসংখ্য গ্যালাক্সি আছে।

মহাবিশ্বে তারার সংখ্যা পৃথিবীর ...

প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে আমাদের সূর্যের মতাে অসংখ্য নক্ষত্র আছে এবং অসংখ্য গ্রহ আছে। এদের অনেকের ক্ষেত্রেই প্রাণ থাকা সম্ভব। এতক্ষণে মহাবিশ্বের বিশালত্ব সম্বন্ধে একটা ধারণা আমরা নিশ্চয় পেয়েছি।

DNA রহস্য

এবারে আসি DNA অণুর কথায়। এর পুরাে নাম ডি-অক্সি রাইবাে নিউক্লিক অ্যাসিড। এক অসাধারণ যৌগ এই DNA তার মতাে আর একটি DNA তৈরি করতে পারে এবং প্রােটিন অণু তৈরি করতে পারে।
প্রােটিন হল জীবকোষের অন্যতম গঠনগত উপাদান। বিজ্ঞানীদের মতে এই DNA অণু আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবীর জীবজগতের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি পৃথিবীর বাইরে কোথাও প্রাণ থাকলে
বাধ্যতামূলক ভাবে DNA ও থাকবে। এবং অনেক বিজ্ঞানীর মতে DNA অণু তৈরির শৃঙ্খলাবদ্ধ আকস্মিক ঘটনা বারবার ঘটে না। সুতরাং পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সম্ভাবনা কম।

পৃথিবীর বাইরে প্রাণ নিয়ে গবেষনার জন্য বিজ্ঞানের নতুন শাখা- এক্সোবায়ােলজিঃ

সবাই এদের মতো নিরাশাবাদী নন।অনেকেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে পৃথিবীর বাইরে প্রাণ আছে। গড়ে উঠেছে বিজ্ঞানের নতুন শাখা- এক্সোবায়ােলজি। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন দূরবীন এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি
কাজে লাগিয়ে এক্সোবায়ােলজিস্টরা প্রাণের সন্ধানকরে চলছেন।

একদল পৃথিবীর বুকে পাওয়া বিভিন্ন উল্কার ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে জৈবপদার্থের সন্ধান করছেন। উদ্ধার মধ্যে পাওয়া বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে জৈব পদার্থ গঠনকারী রাসায়নিকর সন্ধান করছেন। আরেকদল সন্ধান করছেন পৃথিবীর বাইরে অনুভূতিশীল বুদ্ধিমান জীবের।এদের বিশ্বাস,সৌর জগতের বাইরে আমাদের গ্যালাক্সি (Milky Way) বা অন্য গ্যালাক্সিতে মানুষের সমকক্ষ বা উন্নত জীব বর্তমান।

পৃথিবীর বাইরের প্রানিদের রেডিও সঙ্কেত জানার চেষ্টা

তারা একটি প্রকল্প গড়ে তুলেছেন যার নাম Search for Extra terrestrial Intelligence SETI
মনে প্রশ্ন জাগে SETI ব্যাপারটা কি? ব্যাপারটা একটু সহজে বােঝার চেষ্টা করা যাক। ১৯৫৯ খ্রীষ্টাব্দে Phillip Morrison এবং Giuseppe Coconi সর্বপ্রথম বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে মহাকাশে তথ্য প্রেরণের
ব্যাপারে আলােচনা করেন। তাদের এই ধারণা থেকেই গড়ে ওঠে SETI প্রকল্প।

পৃথিবীর বাইরে উন্নত জীব আছে এবং তারাও যােগাযােগ করতে চায় এবং তারাও বেতার তরঙ্গকে যােগাযােগের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছে এই ধারণার ভিত্তিতে SETI প্রকল্পের কাজ চলে। এই প্রকল্পে
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বেতার তরঙ্গ গ্রাহক যন্ত্রে বিভিন্ন সংকেত সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। এই সংকেতের মধ্যেই খোজা হয় ভিন গ্রহবাসীর পাঠানাে সংকেত।

সংকেত খোঁজার জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয় ২১ সেমি তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে। এই তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণ এই তরঙ্গ মুক্ত হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে নির্গত হয়। পদার্থ বিদ্যার মূল বিষয়গুলি এই মহাবিশ্বের যেকোন স্থানে অপরিবর্তিত থাকে।

তাই এটা ধরে নেওয়াই যায়, পৃথিবীর বাইরের বুদ্ধিমান জীবরা এই ব্যাপারটা জানে এবং তার ফলে তারা এই তরঙ্গ দৈর্ঘ্যর মাধ্যমেই সংকেত পাঠাবে।ফ্রাঙ্ক ড্রেক নামের বিজ্ঞানী ৩০০ মিটার ব্যাসের অ্যান্টেনা-র সাহায্যে এই তরঙ্গ ধরার চেষ্টা করছে।
শুধুমাত্র সংকেত গ্রহণ নয়, পৃথিবীর মানুষ অন্য গ্রহের জীবের সঙ্গে যােগাযােগ করার চেষ্টা করেছে সংকেতের মাধ্যমে। ১৯৭২ খ্রীষ্টাব্দে পাইওনিয়ার-১০ নামে মহাকাশযানের মধ্যে একটি ফলকের মধ্যে পৃথিবী ও মানুষ সম্পর্কে তথ্য ছিল। সেই ফলকে এটাও জানানাে হয়েছিল আমরা বন্ধুত্ব করতে চাই। অবশ্য এই তথ্যে কোন ভাষা ব্যবহার করা হয়নি।

মঙ্গল গ্রহে প্রান ?

মানুষ এত সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নয়। তাই কয়েকজন বিজ্ঞানী মনে করেন কিছু গ্রহে নিশ্চয়ই
প্রাণ আছে এবং এইসব গ্রহের মােট সংখ্যা হল আনুমানিক এক কোটি। ভিনগ্রহে জীব থাকার ধারণাকে জোরালাে করেছে মঙ্গল গ্রহ থেকে আসা উল্কা খণ্ড। এই উল্কাখণ্ডে পাথর হয়ে যাওয়া খুব ছােট জীবের
সন্ধান পাওয়া গেছে। উন্নত যন্ত্রপাতির সাহায্যে মহাশূন্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। কিছুদিন আগে মহাশূন্যে গ্লাইসিন নামে অ্যামাইনাে অ্যাসিড পাওয়া গেছে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।কারণ অ্যামাইনাে অ্যাসিড জুড়ে জুড়ে তৈরি হয় প্রােটিন যা জীবকোষের উপাদান। এইসব ঘটনায় উৎসাহী হয়ে ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধানীরা নজর রাখছেন তাদের গ্রাহক যন্ত্রে, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন একটি ডাকের আমরা এখানে। রাত্রে বিন্দু তারা ভরা আকাশে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাে সত্যিই যদি এখন শােনা যেত আমরা এখানে।
তথ্যসূত্র : Science Reporter, Down to Earth
লেখাটি বিজ্ঞান আন্বেষ্কক এর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি/২০০৪ থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

এশিয়ার বুনাে গাধা

0 (0) যারা হারিয়ে যাচ্ছে (এইবিভাগে নিয়মিতভাবে থাকবেলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের কথা) এশিয়ার বুনাে গাধা আগে উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে পাওয়া যেত। বর্তমানে এদের কেবলমাত্র গুজরাটের কচ্ছের রাণে পাওয়া যায়। ঘােড়ার থেকে সামান্য ছােট কিন্তু গৃহপালিত গাধার থেকে আকারে বড়। এই বুনাে গাধার বিজ্ঞানসম্মত নাম Asinus hemiontus Kbur । এদের গায়ের […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: