বৃষ্টির জল সংরক্ষন ।

আমাদের সুপেয় জলের সবচেয়ে ভাল উৎস বৃষ্টি বা তুষারপাত। এই বৃষ্টির জল ধরে রেখে আমাদের প্রয়ােজনীয় অনেক কাজে, যেমন, পানীয় হিসেবে,গৃহস্থালীর কাজে, কৃষিকাজে বা অন্যান্য প্রয়ােজনে ব্যবহার করা যায়। তবে আমাদের রাজ্যে তথা আমাদের দেশে বৃষ্টির জল ধরে রাখা অর্থাৎ বৃষ্টির জল
সংরক্ষণের তেমন পরিকাঠামাে এখনও গড়ে ওঠেনি।

কেন বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ? ভারতে খর ও বন্যা দুটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়। বেশ কয়েকটি রাজ্যে খরা একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়ে উঠেছে, যা খুবই চিন্তার কারণ। আবার বেশ কয়েকটি রাজ্য বন্যার কবলে নিয়মিত পড়ছে।

বৃষ্টির জলকে কিভাবে সংরক্ষণ করে ...

যদি পশ্চিম বঙ্গের কথা বলি সেক্ষেত্রেও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর ইত্যাদি জেলাগুলি বছরের বেশী সময়ই জল কষ্টে ভােগে। আর অন্য কয়েকটি জেলাতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের বেশ অভাব
দেখা যায়। কিন্তু সত্যিই কি বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট আছে?

আমাদের দেশে মােট যা বৃষ্টি হয় তা দিয়ে গােটা দেশকে এক মিটার মােটা জলের চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায়। এই বৃষ্টির জলের মাত্র ১০ শতাংশ আমরা কাজে লাগাতে পারি। যদি এই বৃষ্টির জলকে বয়ে যেতে না দিয়ে ধরে রাখতে পারি তবে সারা বছর ধরে আমাদের প্রয়ােজনে ব্যবহার করতে পারি।

গােটা দেশ জুড়ে বিশুদ্ধ পানীয় জলের যে হাহাকার চলছে, তা নিশ্চিহ্ন হয়ে অতিরিক্ত জল শিল্প বা অন্যান্য কাজে ব্যয় করতে পারব।

বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করার অর্থ হল যেখানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে সেখানে সেই জল ধরে রেখে প্রয়ােজনে ব্যবহার করা। এই সংরক্ষিত জল প্রবাহিত হয়ে নদী বা সমুদ্রে যেন মিশে যেতে না পারে। বৃষ্টির জল ধরে রাখার বা সংরক্ষণের দুটি সহজ উপায় হল বাড়ীর ছাদে উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে সঞ্চয় এবং স্থানীয় ছােট জলাশয় গুলি সংস্করণ করে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ।

তবে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ পদ্ধতি আজও যে ব্যাপকভাবে হচ্ছে না তার প্রধান কারণ যেমন জল সংকটের ভয়াবহতা বুঝতে না পারা, তেমন অন্যতম কারণ হচ্ছে উপযুক্ত প্রযুক্তির অভাব।

বৃষ্টির জল সংরক্ষণের উপযুক্ত সহজ প্রযুক্তি সকলের নাগালের মধ্যে আনতে পারলে, তা সহজেই সকলে গ্রহণ করবে। বিশুদ্ধ পানীয় জল পেতে যখন এত কষ্ট করতে হয়, সেখানে বিশুদ্ধ জল। এত সহজে পাওয়া যাবে সকলেই এই পন্থা গ্রহণ করবে।

বর্তমানে ভারতে জলের চাহিদা প্রায় ৭.৫ কোটি হেক্টর মিটার। ২০২৫ সালে ভারতের জলের চাহিদা হবে ১০.৫ কোটি হেক্টর মিটার। এত পরিমান জল ভূগর্ভ এবং নদী ও পুকুর থেকে নেওয়া হয় তবে বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়ে যাবে। যেমন ইতিমধ্যেই পরিবেশ তার স্বাভাবিক সুস্থতা হারিয়েছে। ক্রমাগত সঞ্চিত জলের ভান্ডারে আঘাত হানার জন্য।

তবে কি বৃষ্টির জল থেকে এই জলের চাহিদা মেটাতে পারবে? হ্যাঁ পারব। ভারতে সারা বছরে গড়ে ৪০
কোটি হেক্টর মিটার বৃষ্টির জল পড়ে। সারা বছরে বৃষ্টির জল বিভিন্ন পদ্ধতিত সংরক্ষণ করলে ভারত কমবেশী প্রায় ১৭.৩ কোটি হেক্টর মিটার জল সঞ্চয় করতে পারে।

পান্নালাল মনি

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর মার্চ-এপ্রিল ২০০৬ থেকে সংগৃহীত।

One thought on “বৃষ্টির জল সংরক্ষন ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: