সানস্ক্রিন লোশন এর উপকারিতা ও ক্ষতি

বেশির ভাগ ক্যান্সারই বংশগতির জিন-জাত নয় বরং জিনগত পরিবর্তন। আমরা ডেকে আনি জীবন কালেই জীবনশৈলীর প্রভাবে। কেউ কেউ এমন আছেন যার সূর্যালােক স্পর্শকাতরতার বা অনুভূতির শিকার। অতি বেগুনী রশ্মির জন্য ত্বকের যে ক্ষতি তাদের জিন তা মেরামত করতে পারে না। আলাের বিষন থেকে ত্বকের কোষের ক্ষতি করে। একে সানবার্ন বলে বা রােদে পোড়া।

ত্বক লাল -ফুলে যেতে পারে-তাপে পােড়া অঞ্চলের ত্বকের রঙকে কালাে করে দেয়। এই একই রকম বিষন ঘটাতে পারে ডিওডােরান্ট, ব্যাকটিরিয়া প্রতিরােধী সাবান, কৃত্রিম সুগার ফ্রি, ক্যালসিয়াম সালফাইড
(ট্যাটুর সময় ঢােকানাে হয়) এবং ফ্লোরােসেন্ট উজ্জ্বলতা দেয় এমন উপাদান যা নাইলন, উল, মথবল এবং পেট্রোপন্যে ব্যবহার করা হয়।

ফটো অ্যানার্জি বা সূর্য রশ্মিজাত অ্যালার্জি তৈরি হয় ইমিউনিটি জাত প্রতিবর্তী ক্রিয়া থেকে – যখন আগে দেহে প্রবিষ্ট কোনাে কেমিক্যাল শেনশিটাইজড হয়ে গিয়েছিল কিন্তু দ্বিতীয়বার ঢােকামাত্র তা একজিমার মত হয়ে বেরিয়ে আসে সূর্যালােক প্রভাবে। প্যারাঅ্যামাইনাে বেনজোয়িক অ্যাসিড বা পাবা’ এই কাজটি করে থাকে।

তীব্র গরমে রোদে পোড়ার হাত থেকে ...

দলে আরাে যারা আছে, তারা হল শিনামেট, অ্যাভােবেনজোন, অক্সিবেনজোন, প্যাডিমেটতিন বেনজোইল মিথেন, মাস্ক অ্যামব্রেট এবং চন্দন কাঠের তেল।

ফিজিক্যাল ও কেমিক্যাল দুভাবে সানস্ক্রিন কাজ করে

-ফিজিক্যাল পদ্ধতিতে ত্বকে এক আস্তরণ এক আচ্ছাদন তৈরি করে দেয় -যা আপতিত সূর্য কিরণকে প্রতিফলিত প্রতিসরিত করে দেয়-যা জিংক অক্সাইড ও টিটানিয়াম ডাইঅক্সাইড গােত্রের।

একটি কৌশল আছে -এই সমস্ত সানস্ক্রিন পন্যে ন্যানাে অকৃতির ন্যানাে আয়তনের উপাদান রাখা হয় এবং টিটানিয়াম ডাই অক্সাইড কুড়ি ন্যানােমিটার আকারের জলে তা বর্ণহীন হবে এবং যখন সূর্যরশ্মি অতিবেগুনী রশ্মি ও জল শক্তিশালী দ্রবণ ও ফ্রি র‍্যাডিক্যাল গুন ধর্মী মিলে ‘ডি এনএ’র ক্ষতি করে; অন্যদিকে পাঁচশাে ন্যানােমিটার আকারের ডিএনএ’র ক্ষতি সামান্য। অর্থাৎ জিনকোডে ছােটখাটো ক্ষতি মেরামত করে দিতে পারে এমন ব্যবস্থা আছে এবং ঐ কুড়ি ন্যানােমিটারের টিটায়ািম ডাইঅক্সাইড ডি.এন.এ’র যে ক্ষতি করে তার মেরামতি হয় না।

কেমিক্যাল সানস্ক্রিন-এ থাকে বেনজোফেনােল ও সিনামেটস এরা অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয় এবং ভিতরে তাপ ছড়িয়ে দেয়। কেমিক্যালও ভেঙে যায় তাপের প্রভাবে-এর একটি বৈজ্ঞানিক নাম ডিনেচার হওয়া; এই ভেঙে যাওয়ার কারণে কেমিক্যালটি বারে বারে ব্যবহার করতে হয়।

এই কেমিক্যাল শতকরা দশের বেশি ঘনতে মেশানো হয় না। এগুলি ময়শ্চেরাইজার এর উপাদানেও মেশানাে হয়ে থাকে। এরা সবাই ফ্রি র্র‍্যাডিক্যাল তৈরি করে এবং তাই ডিএনএ’র শত্রুও বটে।

স্নান ও হাত মুখ ধােয়া ইত্যাদির কারণে সানস্ক্রিন উপাদানের কেমিক্যাল গুলি ভাল জল বা তাজাজল এবং সমুদ্র জলের পরিবারে গিয়ে মেশে। এভাবে কোরাল ব্লিচিং ঘটছে এবং আরাে অনেক অজানা ক্ষতি করেই চলেছে।

তার উত্তর নেই, তা স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই। সানস্ক্রিন লােশনের কেমিক্যাল মেলানােমার
মত ক্যানসার আটকাতে পারছে কিনা এ সন্দেহ থেকে গেছে এবং আরাে বেড়ে যাচ্ছে।

ন্যানাে পার্টিকল বা  মৌলকণা যত ক্ষুদ্র হবে, যত মাইক্রো আয়তন হবে ততই তার পক্ষে মানবদেহ কোষের অভ্যন্ত্রে অবাধে প্রবেশ করতে সহজ হয়।

ন্যানাে পার্টিকলস ভােগ্যপন্যে ব্যবহারের সময় অনেক ক্ষেত্রেই তা ২০ বা ১০ন্যানােমিটারের নীচেরাখা হয়, পন্যটিকে বাজারে উপভােক্তাদের কাছে আদৃত হবার জন্য।

মনােহরণের জন্য আকর্ষনীয় করার জন্য। সানস্ক্রিনের টিটানিয়াম ডাইঅক্সাইড এর মৌলকণা ন্যানােত্বের কারণে জলের সঙ্গে মিশে হাইড্রোক্সিল র‍্যাডিক্যাল তৈরি করে যাকিনা ডিএনএ স্ট্রান্ডের ক্ষতি করে দিতে
পারে।
কেমিক্যাল সানস্ক্রিনের পন্যে ব্যবহার হয় এমন কয়েকটি উপাদান। এরা অন্যত্র ইউভি ফিলটার পন্যেও থাকে। যাদের ক্ষতিকর বিরূপ প্রক্রিয়া আছে একত্রিত  করে পরিবেশিত হলঃ

ক) অ্যানথাইলেটস্-ইউরােপে ও জাপানে ব্যবহার হয় না।

খ) বেনজোফেনােনস্ ব্যবহারকারী মাতৃদুগ্ধে এবং মূত্রে পাওয়া গেছে ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি করে অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে

(গ) ক্যামফর ডেরিভেটিভস্ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহার হয় না। এন্ডেক্রিন ব্যবস্থাকে ক্ষতি করে, হাইপাে থাইরয়েডিজম্ এর দিকেনিয়ে যায় (ক্যামফর হলকপূর),

(ঘ) শিনামেটস মাতৃদুগ্ধেও পাওয়া যায়। ত্বকে দহন এবং অ্যালার্জি ডেকে আনে কোন কোন শিশু বুকের দুধ খেতে চায় না এই কারণে ।

(ঙ) ডাইবেনজেইল মিথেনস এর ডেরিভেটিভ অ্যাডভাবেনজোন ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি করে এবং ডি এন-এ’র ক্ষতি করতে সমর্থ।

(চ) অক্টোক্রাইলিন ত্বকে দহন ও কনট্যাক্ট ডারমাটাইটিস তৈরিকরে,

(ছ) প্যারা অ্যামাইনাে বেনজোয়িক অ্যাসিড (পাবা) আলাে স্পর্শকাতরতা অনুভূতি এবং অ্যালার্জি তৈরি করে এবং কানাডাতে এই উপাদান নিষিদ্ধ। ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি করে; ত্বকের ক্যান্সার তৈরি করতেপারে।

(জ) স্যালিসাইলেটস্-সূর্যালােক থেকে যােগ্যতার সঙ্গে ত্বক রক্ষা করতে পারে না।

লেখক  – রঞ্জিৎ পাল

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক  মার্চ এপ্রিল ২০১১ থেকে সংগৃহীত।

Leave a Reply

%d bloggers like this: