মোটা হওয়ার সহজ বৈজ্ঞানিক উপায়

3
(2)

কাদের মোটা বলা হয় ?

মহাভারতে পঞ্চপান্ডবের দ্বিতীয় ভাই ভীম প্রচুর খেতেন এবং সেই কারণে তার দেহে প্রচুর মেদ ছিল। তবে তিনি কিন্তু ছিলেন যথেষ্ট শক্তিমান।

 

চিকিৎসাশাস্ত্র মতে, একজন পুরুষের মােট ওজনের প্রায় ২০ শতাংশ এবং একজন স্ত্রী-লােকের মােট ওজনের প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি চর্বি জাতীয় পদার্থ যদি দেহে থাকে, তবে তাদের মােটা বলা হয়।

তবে রােগা বা মােটা কোনাে দলেই পড়েন না এমন মানুষের চর্বি, মােটা মানুষের তুলনায় শতকরা ৩ থেকে ৫ ভাগ কম হতে হবে।

বাড়তি চর্বি শরীরে কীভাবে জমা হয় ?

এখন প্রশ্ন – এই বাড়তি চর্বিশরীরে কীভাবে জমা হয় ? এর উত্তর পেতে হলে জানতে হবে শরীরের কোষগঠন প্রণালী। আমাদের শরীরে ফ্যাট সেল বা স্নেহ কোষ বলে এক ধরনের কোষ আছে। এর মধ্যে চর্বি জমা থাকে। এখন এই কোষগুলির সংখ্যা বাড়লে চর্বির পরিমাণও বেড়ে যায়। চর্বি বাড়া মানেই শরীরের মেদবৃদ্ধি অর্থাৎ রােগা থেকে মােটা মানুষ।

মোটা হওয়ার কারণ ?

♦ খাবার বেশী খওয়া ও পরিশ্রম কম করা ♦

এখন মােটা হওয়ার একটি বড়াে কারণ হচ্ছে খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া। প্রতিদিন আমরা যা খাই তা নানা
কায়িক পরিশ্রমে খরচ হয়। যাঁরা বেশি শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন তাদের শরীরে মেদ বা চর্বি জমার সম্ভাবনা কম। শরীরের মােট শক্তির প্রায় এক তৃতীয়াংশ পেশীর কাজে খরচ হয়। এখন খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে স্বাভাবিক পরিশ্রম করলে শরীরে মেদের পরিমাণ বেড়ে যাবে।

সুমো পালোয়ানরা কি কি খেয়ে থাকেন ...

♦ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলির নিঃসরণের তারতম্য ♦

মােটা হওয়ার আর একটি কারণ হচ্ছে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলির নিঃসরণের তারতম্য। এড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নির্গত একটি বিশেষ হরমােনের পরিমাণ খুব বেশি হলেই শরীরের কয়েক স্থানে চর্বি জমতে শুরু করে। এছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থির গ্রন্থিরস কমে গেলেও চর্বি জমতে পারে। বংশগতির নিয়ম অনুযায়ী একজন মানুষের দেহে মেদ কোষের সংখ্যা নির্ধারিত হয়।

♦ হাইপােথ্যালামাস গ্রন্থি সঠিকভাবে কাজ না করলে ♦

তবে বেশি বয়সে বিভিন্ন কারণে মেদকোষের সংখ্যা বাড়তে পারে। একটি মােটা শিশু যে উত্তরকালে একজন মােটা মানুষে পরিণত হবে, একথা অনুমান করা স্বাভাবিক। আমরা জানি, হাইপােথ্যালামাস গ্রন্থি
দ্বারাই ক্ষুধা ও তৃপ্তির অনুভূতি নিয়ন্ত্রিত হয়। কোনাে কারণে এই কেন্দ্রটি সঠিকভাবে কাজ না করলে, খাদ্যের প্রতি আসক্তি বেড়ে যায় এবং তার ফলে মােটা মানুষ বেশি খেয়ে আরও মােটা হয়ে যান।

♦ খাদ্যে শর্করা ও স্নেহজাতীয় পদার্থের পরিমাণ বেশি হলে ♦

একজন মানুষের শারীরিক ও বিপাকীয় কার্য ঠিকভাবে হতে গেলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে ক্যালরি যুক্ত
খাদ্যের প্রয়ােজন হয়। তার বেশি খেলে শরীরে মেদ জমা হয়। খাদ্যে শর্করা ও স্নেহজাতীয় পদার্থের পরিমাণ বেশি হলে মােটা হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।প্রতি কিলােগ্রাম মেদ সঞ্চয়ের ফলে দেহের রক্তবাহী নালীর দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়। তাই হৃৎপিন্ডকে আরও বেশি কাজ করতে হয়। যে সব মহিলা সংসারের কাজকর্ম
বিশেষ করেন না, শুধু খান আর ঘুমােন, তারা সহজেই মােটা হয়ে যান।

♦ পরিশ্রমের পরিমান কম ♦

যান্ত্রিক সভ্যতার যত উন্নতি হচ্ছে মানুষের কায়িক পরিশ্রমের প্রয়ােজনও তত কমে যাচ্ছে। সব লােকের ক্যালােরির চাহিদা সমান নয়। ছােটোখাটো আকৃতির ও অলস প্রকৃতির মানুষের ক্যালরি চাহিদা কম। সুতরাং এমন লােকেরা বেশি খাদ্য খেলে, সেই খাদ্যের কিছুটা উদবৃত্ত থেকে যেতে পারে।

মোটা হলে বিপদ বেশী ?

এখন একজন স্থূলাকার পরুষ একজন স্থলাকার নারীর থেকে কম কর্মক্ষম (Less fit) বলে কিছু গবেষক মত প্রকাশ করেছেন। কারণস্বরূপ তারা বলেছেন, স্থলাকার পুরুষ সহজেই বহুমূত্র রােগ( Diabetes)বা তার আগের অবস্থার পৌঁছান। সেইসময় তার তলপেটে চর্বির পরিমাণ বেশি হয়। ৫৬ জন রােগগ্রস্থ অস্বাভাবিক মােটা পুরুষ ও নারীকে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তারা প্রত্যেক ওজন কমানাের জন্য শল্য চিকিৎসকদের কাছে গিয়েছিলেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা বেশিমাত্রায় পরিশ্রম করতে সক্ষম। এই ব্যাপারটা নির্ভর করছে কি পরিমাণ চর্বি শরীরে আছে তার উপর। নেদারল্যান্ডের Reiner de Graaf হাসপাতালের ডাক্তাররা এই ব্যাপারটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। একজন মানুষ কীভাবে শর্করা ও অন্যান্য সহজ কার্বোহাইড্রেট ব্যবহার করছে। তার উপরে এই ব্যাপারটা নির্ভরশীল। তাঁরা বলেন, বেশিরভাগ স্থলাকার পুরুষ বহুমূত্র( Diabetes) রােগের আগের অবস্থায় চলে আসে অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেট
সহনক্ষমতা তাদের কমে যায়।এর ফলে তাদের কর্মক্ষমতা কমে যায়।

কমল চক্রবর্তী

লেখটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর নভেম্বর -ডিসেম্বর ২০০৯ সংখ্যা

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 3 / 5. Vote count: 2

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

আঙুর চাষের বিচিত্র কাহিনী

3 (2) আঙুর সুস্বাদু রসালাে ফল হিসাব পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র পরিচিত। আঙুর সর্বপ্রথম বিদেশ থেকে ভারতে আসে।পূর্বে সযত্নে তুলার আধারে আঙুর আমদানি করা হতাে। পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ ইউরােপ, আলজিরিয়া এবং মরক্কোর নাতিশীতােষ্ণ অঞ্চলে। আঙুর হয় কাস্পিয়ান সাগর ও ককেশাস পর্বতমালার দক্ষিণে। এবং বিশেষ করে আর্মেনিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলে আঙুরের লতানাে গাছ জন্মায়। […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: