বিশ্বের বৃহত্তম ফুল

poribes news
0
(0)

বিশ্বের বৃহত্তম ফুল

ফুল শব্দটির মধ্যে রয়েছে সুপ্ত এককমনীয় সৌন্দর্য আর অপরূপ বর্ণসুষমা। মানবজীবনে ফুল একবিশিষ্ট ভূমিকায় অবতীর্ণ। জন্মের শুরু থেকে বিদায়ের লগ্ন পর্যন্ত ফুল অপরিহার্য। ফুলের মাধুর্য সুগন্ধ আর রঙের বৈচিত্র্য মানুষকে আকৃষ্ট করে। এমন ফুলও যে যুগপৎ মানুষকে আশ্চর্য করে,বিকর্ষণও করে।বিশ্বের বৃহত্তম দুটি ফুলের নাম হচ্ছে র‍্যাফ্লেসিয়া আরনল্ডী আর টাইটান অরাম

র‍্যাফ্লেসিয়া আরনল্ডী

র‍্যাফ্লেসিয়া আরনন্ডী উদ্ভিদটির পূষ্পের অতিকায়ত্ব ও উদ্ভিদ দেহের  অত্যাধিক হ্রস্বতা উদ্ভিদবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বহু আগে। পরজীবী জীববিজ্ঞানের একটি সাধারণ ঘটনা। পরজীবীদের ক্ষেত্রে কিছু শারীরবৃত্তীয় গঠনগত পরিবর্তণ ঘটে থাকে। সমস্ত পরজীবী উদ্ভিদের ক্ষেত্রে র‍্যাফ্লেসিয়া গােত্রের পরজীবীত্বের পরিবর্তন উদ্ভিদবিদদের যথেষ্ট আগ্রহের উদ্রেক করে।

র‍্যাফ্লেসিয়া আরনল্ডীকেপরজীবীদের রাজ্ঞী অর্থাৎ (Queen of Parasite) বলে অভিহিত করা হয়। পুষ্পটি অদ্ভুতদর্শণ। এটি পূর্ণমূল পরজীবী। জাভার Bogor Botanical Gargen এ বীজ থেকে কুঁড়িবার হতে সময় লেগেছিল দেড় বছর আর ফুলটির স্থায়ীত্ব কাল ছিল সম্ভবতঃ মোটে ২-৩দিন। এরপরে ফুলটির পচন শুরু হয়।

১৮১৮ সালে র‍্যাফ্লেসিয়া আবিষ্কৃত হয় সুমাত্রা ইন্দোনেশিয়ার নিরক্ষীয় বনভূমিতে। এই সময়ের জাভার লেফটেন্যন্ট গর্ভনর স্যার টমাস স্টামফেড র‍্যাফ্লেস (১৭৮১-১৮২৬) এবং প্রথিতযশা ডঃ যােসেফ
আরনল্ড দ্বারা এই আবিষ্কার উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক চমকপ্রদ ঘটনা।

বিখ্যাত ইংরেজ উদ্ভিদবিদ রবাট ব্রাউন (১৭৭৩-১৮৫৮) আবিষ্কারকদের সম্মান জানিয়ে এই উদ্ভিদের নামকরণ করেন র‍্যাফ্লেসিয়া আরনল্ডী। এই উদ্ভিদের অস্বাভাবিক ফুলটি বেরিয়ে আসে রােহিনী জাতীয় উদ্ভিদ থেকে যেখানে কোন পত্র বা মূলের চিহ্ন পর্যন্ত চোখে পড়ে না। স্থানীয় লােকেরা একে ক্রুবাট (Krubut) বা মস্ত বড় ফুল বলে অভিহিত করে।

La flor más grande del mundo: hallaron una Rafflesia de más de un metro en  Indonesia | Infocampo
 Rafflesia arnoldii        র‍্যাফ্লেসিয়া আরনল্ডী

মূলহীন পত্রহীন দেহ কল্পনাতীত! সমস্ত উদ্ভিদটির সুতাের মত শােষক মূল ও অন্যান্য কলাতন্ত্র ফুলটির দ্বারা আবৃত হয়ে যায়। পরিণত পুষ্পের আয়তন সাধারণতঃ ৫০-৭০ সেমি ব্যাস যুক্ত। বৃহত্তম র‍্যাফ্লেসিয়ার আয়তন ৯০ সেমি বা তারও বেশি হতে পারে।

২০০৭ সালের জানুয়ারির টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি সংবাদে জানা গেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ চার্লস ডেভিস ও তাঁর সহকর্মীরা এই দৈত্যাকৃতি ফুলের বংশানু বা জিন সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন এই ফুলের নিকটবর্তী সম্পর্কের পরিবারের আয়তন মাত্র কয়েক মিলিমিটারের মত হয়ে থাকে। বৃহৎ র‍্যাফ্লেসিয়া আরনল্ডীকে দেখে মনে হয় এ যেন গ্রহবহির্ভূত কোন ফুল।

র‍্যাফ্লেসিয়ার নাটকীয় বৃদ্ধি অবাককরে। একে ক্যারিয়ন মিমিক বলে কারণ রক্তের মত রাঙা র‍্যাফ্লেসিয়া পচা মাংসের গন্ধযুক্ত। এই উদ্ভিদ যে গােত্রের তা থেকে ক্যাস্টর অয়েল, রাবার প্রভৃতি তৈরী হয়। পচা
মাংসের মাছি, মথ পরাগ সংযােগে সাহায্য করে।

Largest Flower on Earth - Rafflesia arnoldii - Brant Florist Blog

উদ্ভিদ জগতের এক বিস্ময় এই পুষ্প। ডেভিস ও তাঁর সহযােগিরা এর জিনােমের প্রতি বা এই প্রজাতির
নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ক্রোমােজোম সম্পর্কে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। এর পূর্বপুরুষদের প্রতিষ্ঠার জন্যই এর জিনের অনুসন্ধান। র‍্যাফ্লেসিয়ার ফটোসিন্থেটিক জিন নেই। অবশ্য সেই কারণেই পরজীবী। পঞ্চাশ রকম প্রজাতির র‍্যাফ্লেসিয়া আবিষ্কৃত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ছাড়া থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া আর ফিলিপাইন দীপপুঞ্জ এদের বাসভূমি।

টাইটান অরাম

এই রকম আর একটি বৃহৎ ফুলের নাম হচ্ছে টাইটান অরাম। এর বিজ্ঞান সম্মত নাম অ্যামারােফেলাস টাইটেনিয়াম। টাইটান অরাম ২ দিন ধরে দেখা গিয়েছিল বসিরহাটের পশ্চিম দন্ডিরহাটে। এর পাপড়ি গুলি প্রায় দেড় ফুট। ইন্দোনেশিয়ার গ্রীষ্মপ্রধান জলাভূমিতে এটি জন্মায়। মাটির নীচের মস্তটিউবার থেকে এই যৌগিক মঞ্জরী পুপটির জন্ম। এই টিউবার খাদ্য সংগ্রাহক ও খাদ্য সংরক্ষক। টানটান অরামের পত্রটি শুকিয়ে যায় অপর পাতা জমানর আগে। ঐ জায়গায় বেরিয়ে আসে মঞ্জরী দন্ড। ঐ মঞ্জরী দন্ড অদ্ভুত মজায প্রতিদিন ১০ সেমি করে বেড়ে ওঠে।

I got to see the Amorphophallus titanum Corpse Flower bloom at Frederick  Meijer Gardens last week. First bloom in 17 years. : IndoorGarden
টাইটান অরাম       Amorphophallus titanum

পুষ্পধারটি সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে মেলে থরে। পুষ্প দন্ডের নীচের দিকেস্ত্রীপুষ্প এবং উপরের দিকে জন্ম নেয় পুরুষ ফুল। অগ্রভাগের পুষ্পহীন অংশ হল অ্যাপেনডিক্স। টাইটান অরামের পত্রটি বিশাল, বিভক্ত ছাতার মত বা সামিয়ানা অথবা চাঁদোয়ার মত। এই পত্র এতই দীর্ঘ যে সাত মিটার দৈর্ঘ্যকে অতিক্রম করে
যেতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় এই ফুলের নাম বাঙ্গে বাদাই(Bunge Bankai) অথবা কার্পস ফ্লাওয়ার বা ক্রান্তীয় বনভূমিতে কোরক আর্বিভূত হয় এবং তার থেকে পুষ্পিত উদ্ভিদ। পুষ্পধারটি থেকে উত্তাপ নির্গত হয়। প্রথমে স্ত্রীপুষ্প বৃদ্ধিপায়, পরে পুরুষ ফুল। এই কারণে এখানে স্বপরাগ যোগ হয় না।

Flora of Indonesia - Wikipedia, the free encyclopedia | Flor cadáver,  Flores estranhas, Flores exóticas

পুরুষ পুষ্প পরাগ নির্গত হয় এবং স্ত্রী পুষ্পে পতিত হয় অর্থাৎ বিপরীত পরাগ সংযােগ ঘটে। এই ফুলের পচা মাংসের গন্ধ মাছিদের অথবা মথকে অনেক দূর থেকে আকৃষ্ট করে। পুরুষ পুষ্পের পরাগ বহন করে স্ত্রীপুষ্পে বসায় পরাগ সংযােগ ঘটে এবং নিষিক্তকরণ বা ফার্টিলাইজেসান হয়। মঞ্জরীদরে উপরের উদগত অংশ অ্যাপেন্ডিক্স শুকিয়ে যেতে শুরু করে। ফুল ফলে পরিণত হয়।

উজ্জ্বল লালবর্ণের বেরী জাতীয় ফল গঠিত হয়। এই ফল অলিভ সাইজের বনভূমির মাটিতে পতিত হলে, হনবিল জতীয় পাখী এই ফল খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে ও বীজ বিস্তারে সহায়তা করে। উজ্জ্বল লাল রঙের ফল লম্ব ভাবে গুচ্ছাকারে মঞ্জরী দক্সে গায়ে লম্বভাবে সজ্জিত থাকে এবং প্রায় দেড় মিটার অংশ জুড়ে। টাইটান অরামের ফুলের স্থায়ীত্বকাল মােটে দুদিন। টাইটান অরাম পৃথিবীর বিস্ময়কর বৃহত্তম স্বভােজী যৌগিক অশাখ মঞ্জরী পুষ্প তথা উদ্ভিদ।

 সতী চক্রবর্তী

লেখটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর সেপ্টেম্বর- অক্টোবর- ২০১৪ থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

বিকল্প শক্তি হিসাবে দেহের তাপ

0 (0) আজ পৃথিবীর সর্বত্রই বিকল্প শক্তির সন্ধানে মানুষ চারিদিকে সন্ধান করে চলেছে। যান্ত্রিক শক্তি, বিদ্যুৎ শক্তি, তাপশক্তি প্রভৃতি নানা প্রকার শক্তির চাহিদা উত্তরােত্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। বিদ্যুৎ শক্তির আজ চরম অভাব। আর এই বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনে তাপশক্তির একান্তই প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ওলিতে, তাপশক্তি উৎপাদনের জন্য […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: