অ্যান্টিবায়ােটিক রেজিস্ট্যান্স

0
(0)

অ্যান্টিবায়ােটিক রেজিস্ট্যান্স কি ?

সর্বজনবিদিত সর্বগ্রাসী দূষণ পরিবেশের ভারসাম্য দৈনন্দিন বিঘ্নিত করছে। ভয়ংকর পরিবেশ দূষণের তাড়নায় খাদ্যদ্রব্যে ব্যাপক বিষ প্রয়ােগের ফলস্বরূপ মানুষ নিত্যনতুন রােগের শিকার হচ্ছেন। বিপাকীয় ত্রুটিজনিত রােগগুলি বাদ দিলে অধিকাংশ রােগই কোনও না কোন অনুজীবঘটিত রােগ।

এই অনুজীবগুলি প্রতিরােধ করতে বিভিন্ন শক্তিসম্পন্ন জীবানুনাশক বা অ্যান্টিবায়ােটিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়।এই অ্যান্টিবায়ােটিক যখন সাড়া না দিয়ে প্রতিরােধক্ষম হয়ে পড়ে তখনই মানুষকে এক ভয়ঙ্কর অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়। প্রতিরােধক্ষম Superbugs গুলি সন্মন্ধে যদি আমরা সতর্ক না হই তবে মানব জীবন অচিরেই দুঃসহ হয়ে উঠবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অনুজীব প্রতিরােধ ক্ষমতা আজ পৃথিবীতে একটি বিশেষ চিন্তার বিষয় কারণ এরূপ ঘটতে থাকলে আগামীদিনে রােগের চিকিৎসা অসম্ভব হয়ে পড়বে। কতকগুলাে রােগে এই সমস্যা মারাত্মক হয়ে পড়েছে যেমন যক্ষ্মা রােগে-২০.৫%, ম্যালেরিয়া রােগে-১০%, ইনফ্লুয়েঞ্জা রােগে-৩-৪% প্রতিরােধক্ষমহীন হয়ে পড়েছে।

অ্যান্টিবায়ােটিক রেজিস্ট্যান্স থেকে বাঁচার উপায়

এই সকল সমস্যা মােকাবিলা করার জন্য বিজ্ঞানীরা যে মতামত ব্যক্ত করেছেন তাহল

– -সংক্রামক রােগের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

-পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

চিকিৎসকের নির্দেশমত জীবানুনাশক ওষুধ সেবন করতে হবে।

-চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে জীবানু প্রতিরােধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ইচছামত অ্যান্টিবায়ােটিক ওষুধ খাওয়া চলবেনা।

-নির্দিষ্ট রােগে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়ােটিক ব্যবহার করতে হবে।

আধুনিক কালে গবেষকরা এই বিষয়ে সারা পৃথিবীব্যাপী গবেষণা করছেন এবং অ্যান্টিবায়ােটিক প্রতিরােধ গড়ে ওঠার কারণগুলি ব্যাখ্যা করা চেষ্টা করছেন। প্রথমতঃ সংক্রমণ যাতে না ঘটে সেই ব্যাপারে উল্লেখ
করছেন। দ্বিতীয়তঃ সংক্রমণ ঘটে গেলে নির্দিষ্ট রােগের নির্দিষ্ট ওষুধ, নির্দিষ্ট সময় ব্যবহারের কথা বলেছেন।

অ্যান্টিবায়ােটিক রেজিস্ট্যান্স নিয়ে নতুন গবেষনা

আধুনিক গবেষণায় জানা গেছে ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধক্ষমতা দূর করতে একটি উল্লেখযােগ্য পদ্ধতি হল-(Switchable Polymer Combating Techlque)-যেখানে বলা হচ্ছে পলিভিনাইল অ্যাসিটোনের মত পলিমার ব্যাকটিরিয়ার কোষপর্দা ভেদ করে প্রবেশ করে উৎসেচকের কার্যকারিতা নষ্ট করে, ফলে ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরােধক্ষমতা নষ্ট হয়।

আবার প্রাকৃতিকভাবে জীবানুনাশকের প্রতিরােধক্ষমতা মােকাবিলা করার জন্য ব্রাজিলিয়ান উইপােকার ব্যবহার একটি উল্লেখযােগ্য ব্যবস্থা। এই পােকার ব্যবহারে লক্ষ্য করা যায় কোন কোন অ্যান্টিবায়োটিক যেমন-এরিথ্রোমাইসিন, জেন্টোমাইসিন জাতীয় জীবানুনাশকের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দিয়ে ব্যাকটিরিয়া প্রতিরােধক্ষমতাকে দূর করে।

সবশেষে বলি যদিও আজকের দিনে জীবানুনাশকের প্রতিরােধক্ষমতা বৃদ্ধি একটি জ্বলন্ত সমস্যা- যা বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কেননা আমরা জীবানুনাশক ওষুধের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছি।
এই ভয়ংকর সমস্যা থেকে যাতে অচিরেই মুক্ত হতে পারি সে জন্য সারা পৃথিবীব্যাপী গবেষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন- যা অত্যন্ত আশার বিষয়।

সপ্তর্ষি সমাজদার

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর সেপ্টেম্বর – অক্টোবর ২০১৬ থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

উত্তরবঙ্গের অরণ্য সম্পদ

0 (0) উত্তরবঙ্গ বলতে বাংলার প্রধান নদী গঙ্গার উত্তরের অংশকে বােঝায়। এই উত্তরবঙ্গ ছটি জেলার সমষ্টি (দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা) যার মধ্যে একদিকে যেমন পাহাড়ের ছোঁয়া আছে তেমনি আছে বিস্তীর্ণ সমভূমি অঞ্চল। এদের বুক চিরে গেছে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, রায়ডাক, কালজানি, মুজনাই, সংকোশ, মহানন্দা প্রভৃতি […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: