ইলিশ

5
(2)

বাঙালির মছ প্রীতির কথা বিশ্ববন্দিত,এই মৎস প্রিয় বাঙালির মাছের রাজা হলো ইলিশ ! হিলসা পছন্দ করে না এমন বাঙালি এই ভূ-ভারতে খুঁজে পাওয়া দায় । ভাজা থেকে ভাঁপে,ঝাল থেকে ঝোল হয়ে অম্বল সবেতেই একাধিপত্য ইলিশের । ইলিশের এই প্রেম উপেক্ষা করতে পারেননি স্বয়ং স্বামীজীও ।

বুদ্ধদেব বসুর আস্ত একখানি কবিতাই আছে ইলিশ নিয়ে,

‘রাত্রি শেষে গোয়ালন্দে অন্ধ কালো মালগাড়ি ভরে

জলের উজ্জ্বল শস্য, রাশি-রাশি ইলিশের শব, নদীর নিবিড়তম উল্লাসে মৃত্যুর পাহাড় !

ইলিশের বৈজ্ঞানিক নাম : Tenualosa ilisha   (টেনুওয়ালোসা ইলিশা), ইংরেজিতে ‘হিলশা’ নামে  পরিচিত । হেরিং, সার্ডিন মাছের মতোই ক্লাপিউডা পরিবারের সদস্য এরা।গভীর সমুদ্রে বসবাস করলেও নদী আর মোহনায়ও দেখা মেলে পরিযায়ী ইলিশের। সারা পৃথিবীর মধ্যে 65% ইলিশ আরোহন করা,দুই বাংলাতেই ইলিশ পাওয়া যায় । ভারতের অসম, ত্রিপুরা, উড়িষ্যা প্রভৃতি জায়গায় দেখা মেলে ইলিশের ।
আমাদের ঐতিহ্যর সাথেও ইলিশ যুক্ত,বাঙালি হিন্দুদের সরস্বতীপুজো ও লক্ষ্মীপুজো-তে ইলিশ খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে ।

ইলিশ মাছ কত প্রকার?

স্বাদু জলের ইলিশের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Hilsa ilisha। Hilsa– র রয়েছে তিনটি প্রজাতি, যথা Hilsa ilisha, Hilsa keele এবং Hilsa toli । তার মধ্যে কেবলমাত্র Hilsa ilisha বংশ বিস্তারের জন্য স্বাদুজলে অর্থাৎ নদীতে আসে। Hilsa keele এবং Hilsa toli এই দুটি প্রজাতি পুরোপুরি সামুদ্রিক। বংশ বিস্তারের জন্য এদের নদীতে আসার প্রয়োজন হয় না।
Tenualosa ilisha নামেও একটি ইলিশ মাছ আছে যা শ্রীলংকার নদীর মোহনা ও মধ্য পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে পাওয়া যায় । Tenualosa ilisha ও Hilsa ilisha মাছ দুটো দেখতে প্রায় একই রকম শুধু পার্থক্য হচ্ছে Hilsa ilisha-র দেহ মসৃণ ও দাগবিহীন আর Tenualosa ilisha-র দেহের উভয় দিকে কালো কোণাকৃতির কয়েকটি কাল দাগ (black spot) থাকে।

শ্রেণীবিন্যাস:
রাজ্য: Animalia পর্ব: Chordata শ্রেণী: Actinopterygii বর্গ: Clupeiformes পরিবার: Clupeidae উপপরিবার: Alosina গণ: Tenualosa প্রজাতি:T. Ilisha ( শ্রেণী বিন্যাসবিধি F. Hamilton, 1822)

ইলিশের আকার আকৃতি :

ইলিশের দেহ আঁশ দ্বারা আবৃত থাকে এবং এর বর্ণ উজ্জ্বল রুপালি ।বাংলাদেশের জাতীয় মাছ হলো ইলিশ এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ইলিশের ভৌগোলিকস্বত্ব লাভ করে । অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় পৃষ্ঠ ও পার্শ্বদেশে আড়াআড়ি ভাবে কালো বর্ণের ব্যান্ড-এর ন্যায় দাগ দেখতে পাওয়া যায় যা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় থাকে না। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় উভয় পার্শ্বের অনেকটা গোলাপিভাব হয়ে থাকে বিশেষত প্রজনন ঋতুতে। দাঁতহীন এই মাছের আঁশ নিয়মিত সারিতে সাজানো।এদের দেহ বেশ চাপা ও পুরু। মাথার উপরিতল পুরু ত্বকে আবৃত থাকে। ধাতব রূপালি রঙের শরীর সুবিন্যস্ত মাঝারি আকারের আঁশে আবৃত। দৈর্ঘ্য সর্বাধিক ৬০ থেকে ৭০ সেমি হয়ে থাকে । বড় আকারের ইলিশের ওজন হয় প্রায় ২.৫ কিলোগ্রাম হয়। স্ত্রী মাছ দ্রুত বাড়ে এবং সচরাচর পুরুষ ইলিশের চেয়ে আকারে বড় হয়। ইলিশ দক্ষ সাঁতারু এবং এরা ১-২ বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়।

ইলিশ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড | Current News

ইলিশ মাছ কেন নদীতে আসেঃ

যদিও ইলিশ লবণাক্ত জলের মাছ বা সামুদ্রিক মাছ, জীবন কালের প্রধানত বেশিরভাগ সময় সে সাগরে অতিবাহিত করে থাকে কিন্তু বংশবিস্তারের জন্য বিপুল দূরত্ব অতিক্রম করে নদীতে পারি জমায়।ইলিশ প্রধানত বাংলাদেশের পদ্মা (গঙ্গার কিছু অংশ), মেঘনা (ব্রহ্মপুত্রের কিছু অংশ) এবং গোদাবরী নদীতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। পদ্মার ইলিশের স্বাদ জগৎ বিখ্যাত । ইলিশ মাছ সাগর থেকেও ধরা হয় কিন্তু সাগরের ইলিশ নদীর মাছের মত সুস্বাদু হয় না। ইলিশ মাছ চাষ করা যায় না। জেলেরা মাছ ধরার নৌকা নিয়ে নদীতে যায় এবং জাল ফেলে মাছ ধরে। এই মাছ উপকূলবর্তী ঘাটে আনা হয়, সেখান থেকে বরফ দিয়ে দেশের দূরবর্তী স্থানসমূহে প্রেরণ করা হয় ।

বাংলাদেশের ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, পাকিস্থান প্রভৃতি দেশে ইলিশের সন্ধান মেলে, তবে এই মাছ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় বাংলাদেশেই।

ইলিশের জীবন চক্র :

পরিণত পুরুষ ইলিশ থেকে আকারে তুলনায় স্ত্রী ইলিশ দীর্ঘ হয়ে থাকে। পুরুষ ইলিশ আকারে ৩৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটারের মতো হয়ে থাকে, স্ত্রী ইলিশের সর্বনিম্ন দৈর্ঘ সাধারণত 46 সেন্টিমিটার হয়ে থাকে । কোনো কোনো স্ত্রী ইলিশ আকারে ৫৫ সেন্টিমিটারও লম্বা হয়ে থাকে। জন্মের এক বছরের মধ্যেই পরিণত হয় মাছ। বিশেষ করে প্রথম বছরের শেষ কিংবা দ্বিতীয় বছরের প্রথম দিকে পরিণতি লাভ করে রুপালি ইলিশ ।

প্রজনন ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠে ; এর পর, বছরজুড়েই ডিম ছাড়ে ইলিশ। তবে তাদের প্রধান প্রজনন মরশুম হলো অক্টোবর-নভেম্বর। সম্পূরক সময়ের মধ্যে রয়েছে জুন-জুলাই ও ফেব্রুয়ারি-মার্চ। এ দুটি ঋতুকে বলা হয় গ্রীষ্মকালীন প্রজনন সময় আর প্রধান প্রজননক্ষণ টি হলো ইলিশের শীতকালীন প্রজনন মৌসুম এবং এই সময়তেই সর্বাধিক অপত্য উৎপন্ন হয় । বড় বড় নদী মোহনার অগভীর ঘোলাজলে সাধারণত এরা সন্ধা ও ভোরে প্রজননে অংশ নিয়ে থাকে।

গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ভূমি অভিমুখে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে শুরু হওয়ার সময়টা মূলত ইলিশের মূল প্রজনন মৌসুম। সে সময় ডিম ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে মোহনা আর বড় নদীতে পাড়ি জমায় ইলিশের দল। ডিম ছাড়ার জন্য জুতসই জায়গা না পাওয়া পর্যন্ত পরিণত স্ত্রী ইলিশ তাদের চলা থামায় না। নদীতে পছন্দসই স্থানে ডিম ছেড়ে আবার তাদের চলা শুরু হয় সমুদ্র অভিমুখে। সমুদ্র থেকে যে ইলিশ আসে, তার বেশির ভাগেরই প্রজনন ভূমি হিসেবে প্রাধান্য পায় বৃহৎ নদী ও তার শাখা নদীগুলো।

গবেষকদেরর মতে, প্রজনন উপলক্ষে ইলিশের যে ঝাঁকগুলো আসে, তার মধ্যে কিছু অংশ ডিম ছাড়ার পর আর সাগরে ফেরে না। পাকাপাকিভাবে নদীতেই থেকে যায়। ইলিশের প্রজনন শক্তি নির্ভর করে এর শরীরের আকার ও ওজনের ওপর। ২৫ থেকে ৫৫ সেন্টিমিটার আকারের একটি ইলিশ আনুপাতিক হারে দশমিক ১ থেকে ২ মিলিয়ন ডিম ছাড়তে সক্ষম এবং একটি স্ত্রী ইলিশের পূর্ণ পরিপক্ব ডিম্বাশয়ের ব্যাস সাধারণত দশমিক ৭ থেকে দশমিক ৯ মিলিমিটার।

ইলিশ মাছ কোথায় থাকেঃ

মাছটির জন্ম স্বাদু জলে হলেও ইলিশ একটি পুরোদস্তুর সামুদ্রিক মাছ। সাধারণত পেলাজিক প্রকৃতির মাছটি বঙ্গোপ সাগরের ১০০ মিটার গভীরতার মধ্যে বসবাস করে। সাগরের পরিবেশে ছোট আকারের দ্রুতগামী পেলাজিক স্বভাবের মাছ হিসেবে দলবদ্ধ ভাবে সমুদ্রের উপরিভাগের অংশে এদের বেশি দেখা যায়। ইলিশ মাছ সমুদ্রে বাস করলেও প্রজননক্ষম মাছগুলি প্রজননের জন্যে সমুদ্র থেকে নদ-নদীতে ডিম ছাড়তে চলে আসে। এই সামুদ্রিক ও নদীর উভয় পরিবেশে বেঁচে থাকার গুণসম্পন্ন ইলিশকে ‘অ্যানাড্রমাস’ (Anadormous) পরিযায়ী মাছ বলা হয়।

কম লবনযুক্ত অপেক্ষাকৃত স্বাদু জলের স্রোতশীল নদ-নদীতে দশ মিটারের কম গভীরতায় ঘোলা জলস্তরে ইলিশ ডিম পাড়ে।নদীর পরিবেশ ছাড়া এদের ডিম ফোটে না এবং অপত্য ইলিশ বেঁচে থাকতে পারে না। শিশু ইলিশকে ‘জাটকা ইলিশ’ বলা হয়।

ইলিশ কখন ডিম পাড়েঃ

ইলিশ সারা বছরই নদ-নদীতে ডিম ছাড়তে আসে। তবে বছরের দুই সময়ে সর্বাধিক বেশি ডিম দেবার প্রবণতা দেখা যায়। বর্ষার পরপরই এবং শীতকালে। বাংলা মাসের আশ্বিনের (সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর) ভরা পূর্ণিমায় এবং বাংলা মাস মাঘ ও ফাল্গুনে (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে বেশি প্রজনন প্রবণতা দেখা দেয়। দলে দলে ইলিশ মাছ সমুদ্র থেকে মেঘনা অববাহিকায় চলে আসে প্রজননের জন্যে।ইলিশের অটোলিথের রাসায়নিক পদার্থের তারতম্য পর্যবেক্ষণ করে ইলিশের পরিযান পথ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায় ।

জাটকা কি ? জাটকা অপ্রাপ্তবয়স্ক ইলিশের স্থানীয় নাম। পরিযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী ইলিশ নদীতে স্রোতপ্রবাহে ডিম ছাড়ে। ভাসমান ডিম থেকে অপত্য বেরিয়ে এসব এলাকায় কিছুদিন থাকে এবং এখানেই কিছুটা পরিণত হয়। ছয় থেকে দশ সপ্তাহের মধ্যে পোনা দৈর্ঘ্যে ১২-২০ সেমি লম্বা হয়, তখন এদের জাটকা বলে।

নদীর ইলিশ :

সমুদ্র এবং নদীর দুটি জায়গার ইলিশই টর্পেডো আকৃতির হয়ে থাকে,কিন্তু নদীর ইলিশ বেশি উজ্জ্বল এবং স্বাস্থবান হয়, আকৃতিতে অনেকটা চ্যাপ্টা পটোলের মধ্যে দেহের মাঝের অংশ মোটা এবং মাথা ও লেজ সরু । সমুদ্রের নোনা জল থেকে ইলিশ নদীর উজানে যেতে থাকে এবং তার শরীর থেকে ফ্যাট ও খনিজ লবণ ক্ষয় হতে থাকে। নদীতে ইলিশ যত বেশি থাকে, তার দেহের ফ্যাট অর্থাৎ চর্বি বৃদ্ধি পেতে থাকে তাই বাড়তে থাকে স্বাদও। তাই সমুদ্রের ইলিশের স্বাদ কম এবং নদীর ইলিশের অতুলনিয় স্বাদ।

ইলিশের খাদ্য :

ইলিশের প্রধান খাবার হলো জলে ভাসমান উদ্ভিদকণা (phytoplankton) ও প্রাণিকণা (zooplankton)। মূলত অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এরা ভাসমান উদ্ভিদকণা ও প্রাপ্তবয়সে ভাসমান প্রাণিকণা খেয়ে থাকে। এছাড়াও এরা জৈব আবর্জনাও খেয়ে থাকে।পরিযানের সময় এরা খাবার গ্রহণ করে না বললেই চলে। তবে ডিম ছাড়ার পর প্রচুর পরিমাণে খায়ে থাকে। একই বয়সের স্ত্রী মাছ পুরুষের চেয়ে বড় হয়ে থাকে এবং একই সময়ে অধিক বৃদ্ধিলাভ করে।

ইলিশের উপকারীতা :

ইলিশ আর তার ডিম শুধু স্বাদের জন্যই শ্রেষ্ঠ নয়, এর পুষ্টিগুণও রয়েছে প্রচুর। এতে ভিটামিন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম আয়রন ও সেলেনিয়ামের গৌণ খনিজ লবণ রয়েছে। এছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রাকৃতিক উৎস্য যা শরীরে ভালো কোলেস্টরেল পরিমান বৃদ্ধি করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

সার্ডিন আর ইলিশের পার্থক্য :

সার্ডিনের দেহ পার্শ্বীয়ভাবে পুরু এবং পিঠের দিকের চেয়ে পেটের দিক অপেক্ষাকৃত উত্তল ও চ্যাপ্টা। ইলিশের দেহ পার্শ্বীয়ভাবে পুরু, পিঠের ও পেটের দিক প্রায় সমভাবে উত্তল।
সার্ডিনের দৈর্ঘ্য ৭ সেন্টিমিটার থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ইলিশ দৈর্ঘ্যে তুলনায় বড় (সর্বাধিক ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত) হয়ে থাকে।

সার্ডিনের মাথার আকৃতি ছোট ও অগ্রভাগ চ্যাপ্টা। ইলিশের মাথার আকৃতি লম্বাটে ও অগ্রভাগ সূচালো।
সার্ডিনের পৃষ্ঠীয় পাখনার অগ্রভাগে এবং পুচ্ছ পাখনার প্রান্তীয় অংশ ধূসর হয়ে থাকে । ইলিশের পৃষ্ঠীয় পাখনার অগ্রভাগে এবং পুচ্ছ পাখনার প্রান্তীয় অনেকটা ফ্যাকাশে।

সার্ডিনের চোখের আকৃতি তুলনামূলকভাবে বড়। আসল ইলিশের চোখের আকৃতি তুলনামূলকভাবে ছোট।
সার্ডিনের পার্শ্বরেখা বরাবর এক সারিতে আঁশের সংখ্যা ৪০ থেকে ৪৮টি। ইলিশের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা হয় ৪০ থেকে ৫০টি।

সার্ডিনের অঙ্কদেশে বক্ষ অংশের নীচে কিল বোন বা স্কুইটস বিদ্যমান এবং স্কুইটস এর সংখ্যা ২৯টি থেকে ৩৪টি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ইলিশেল পেটের নীচে বিদ্যমান স্কুইটসের সংখ্যা ৩০ থেকে ৩৩টি পর্যন্ত থাকে।

ইলিশের সংরক্ষণ :

পূর্ববর্তী সময়ে শুধুমাত্র মোহনা থেকে ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও বতর্মানে নদী ও সমুদ্র থেকে বড় পরিসরে এবং বিপুল পরিমানে ইলিশের আহরণকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে সরকার ইলিশের ঐতিহ্য ফেরানোর জন্য একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে অপরিণত ছোটো ইলিশ অর্থাৎ জাটকা ধরা বন্ধ করা, প্রজনন ঋতুতে স্ত্রী ইলিশকে ধরা বন্ধ করা, ইলিশের রফতানি বন্ধ রাখা, সাগর ও নদীর মোহনায় ইলিশের সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্ধারণ করা ইত্যাদি, এসকল ইতিবাচক কার্যক্রমের ফলেই এখন সারা দেশে ইলিশের রমরমা চলছে। মনে করা হচ্ছে যেন ইলিশের সেই সুদিন আবার ফিরে এসেছে। ইলিশ আমাদের শুধু একটি মাছ বা প্রিয় খাদ্য নয় ,এর সাথে আমাদের আবেগ ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে এবং সর্বোপরি পরিবেশের ও জলজ বাস্তুতন্ত্র -এর ভারসাম্য রক্ষায় ইলিশ আবশ্যক । সেজন্যই ইলিশ বাঁচিয়ে রাখতে হলে সচেতনতা এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

গত দু-তিন বছরে ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ প্রমান করেছে যে ইলিশের সুদিন পুনরাগত এবং বর্তমানে বৈজ্ঞানিক উপায়ে পুকুরেও ইলিশের চাষ করা হচ্ছে যা আশানুরূপ সাফল্য এনেছে বিগত অর্ধদশকে । সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকল পাঠক কে অনুরোধ কখনই ছোট ইলিশ কিনবেন না। অপরিণত ইলিশের স্বাদ কখনই ভাল হয় না। ইলিশ ছোট অবস্থাতেই ধরে ফেললে, পরিণত ও প্রজননক্ষম হওয়ার সুযোগ না দিলে, তারা বংশবিস্তার করবে কী করে? ফলে অচিরেই লুপ্ত হতে বসবে আমাদের প্রাইড হিলসা,তাই ছোট ইলিশ এড়িয়ে যান এবং পরবর্তী প্রজন্মকেও ইলিশের গল্প নয় ,ইলিশের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ করে দিন।

সৌভিক রায়

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 2

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

জলাভুমি-প্রাকৃতিক বৃক্ক

5 (2) পরিবেশ আজ বিপন্ন এ বিষয়ে সন্দেহের অবশ্য কোন অবকাশ নেই। আনুমানিক ২৭০ কোটি বছর পেরিয়ে পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার। আর তারপর বিবর্তন ও অভিব্যক্তির হাত ধরে এসেছে বিভিন্ন প্রজাতির জীবাণু,উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষ। শুধু তাই নয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় কৃত্রিম ভাবে নতুন প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণী ও জীবাণুও তৈরি […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: