স্যাকারিন কতটা নিরাপদ

0
(0)

বিনােদন জগতের মানুষেরা যেমনজিরাে ফিগার নিয়ে যথেষ্ট সচেতন ঠিক তেমনি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা জিরাে ক্যালােরি নিয়েও অনেকটা সচেতন। আজ মানুষের গ্যাস-অ্যাসিডিটি জ্বর মাথা ব্যথার মতাে সুগারের সমস্যা এক অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সচেতন মানুষ তার খাদ্যাভাস পরিবর্তন
করতে বাধ্য হচ্ছে।

গ্রাহকের চাহিদা বুঝে বাজারে চলে এসেছে সুগার মুক্ত নানান জিনিস। মিষ্টযুক্ত খাদ্য প্রস্তুতিতে চিনি ব্যবহার করা হয়। ডায়াবেটিস রােগে আক্রান্তদের যাদের দৈহিক ওজন অতিরিক্ত বেশী তাদের কথা ভেবেই চিনির বিকল্প হিসাবে খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলাে কৃত্রিম মিষ্টকারক পদার্থ (বিভিন্ন রাসায়নিক পদর্থ) বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

এই মিষ্টি কারক পদার্থগুলােও এক ধরণের খাদ্য সংযােজক বা Food. Addtives এই ধরণের পদার্থগুলি জীব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না।শরীর থেকে অপরিবর্তিত ভাবে বেরিয়ে যায়। ফলে এরা দেহেশক্তি বা ক্যলােরি উৎপন্ন করেনা। তাই এদের ক্যালােরি মুক্ত মিষ্টকারকও বলা হয়।

বাজারে যে সমস্ত বহুল ব্যবহৃত কৃত্রিম মিষ্ট কারক পদার্থ পাওয়া যায় সেগুলি হল স্যাকারিন, অ্যাসপারটেম, অ্যালিটেম, সুক্রালােজ, সাইকমেট, এল-গ্লুকোজ ইত্যাদি।

স্যাকারিন মানবদেহের পক্ষে কতটা নিরাপদ?

মিষ্টকারক পদার্থের ইতিহাস কোন কথা বলে? এসবই এখানকার আলােচনার মূল বিষয়। স্যাকারিন (বাজারে যা Sweet’N Low, Sweet Twin নামে পরিচিত) হল প্রথম ব্যবহৃত কৃত্রিম মিষ্টকারক পদার্থ যা জলে অদ্রাব্য হওয়ায় একে জলে দ্রাব্য সােডিয়াম বা ক্যালসিয়াম লবন রূপে ব্যবহার করা হয়। এর
মিষ্টত্ব চিনির প্রায় ৫০০ গুন এবং কোনাে ক্যলােরি ভ্যালু নেই।

মুত্রের মাধ্যমে এটি অপরিবর্তিত অবস্থায় শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। ডায়াবেটিস রােগী এবং যাদের ক্যালােরি অর্ন্তগ্রহণকম করা দরকার তাদের পক্ষেএটি উপযুক্ত মিষ্টকারক।কিন্তু এই স্যাকারিন কতট নিরাপদ এ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে এবং দেখা গেছে এর ক্রমাগত ব্যবহার ক্যান্সার রােগ ঘটাতে পারে। Fukushima etal. (1983) তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছে ঘন ঘন স্যাকারিন যুক্ত দ্রব্যাদি গ্রহণে ইউরিনারী ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। সাকারিনের হেপ্টাটক্সিসিটি এবং লিভারের পচনের মতাে রােগের কথা ১৯৯৪ প্রথম উল্লেখ করেছেনNegro Mondardini and Paldmas
এই প্রসঙ্গে বলা ভালাে Pregnant বা lactating মহিলাদের কোনাে অবস্থাতেই স্যাকারিন গ্রহণ করা উচিত নয়।

স্যাকারিনের পরে যে মিষ্টকারক পদার্থটির নাম শােনা যায় তাহল অ্যাসপারটেম। ১৯৯৬ সাল থেকেই এটাকে খাদ্য দ্রব্যে এবং পানীয়তে ব্যবহারের অনুমােদন দিয়েছে FDA (Food and Drug Administra-
tion)। বাজারে এই রাসায়নিক পদার্থটি Equal এবং Nutrasweet নামে পরিচিত। মৃদু পানীয়। চুইংগাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের মেডিসিন সর্বত্রই এটা ব্যবহৃত হয়। অ্যাসপারটেম এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেক মতবাদ অনেকে দিয়েছেন। অ্যাসপারটেম যুক্ত খাবার গ্রহণের পর এটা অ্যাসপারটিক অ্যাসিড, ফিনাইল অ্যালানিন এবং মিথানলে পরিণত হয়।

অ্যাসপারটেম বা অ্যাসপারটেমের আদ্র বিশ্লেষণের ফলে প্রাপ্ত পদার্থগুলো কোনটির শরীর গ্রহণ করতে পারে না। বিশেষ করে ফিনাইল কিটোন ইউরিয়া রােগাক্রান্ত ব্যক্তিদের এটি গ্রহণ করা উচিৎনয়। FDA এর ব্যবহারের উচ্চমাত্রা সঠিক ভাবে এখনাে বেঁধে দেয়নি। তাই যেসব খাদ্যে এর পরিমাণ অতিরিক্ত বেশী বা যারা দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগত অ্যাসপারটেম যুক্ত খাবার বা পানীয় বা মেডিসিন নিয়ে চলেছে তাদের মাথা ধরা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া বা কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। সচেতন মানুষ অ্যাসপারটেম এর ব্যবহার কমাচ্ছে তার পেছনে প্রধান দুটি কারণ হল, কোলেস্টেরল বাড়ানাে, শরীর থেকে বডি ফ্লুইড কমে যাওয়া।

সাইকামেট (Brand Name Sugar Twin, Sucaryl) যা ১৯৭০ সালেই FDA এটাকে বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ গবেষণায় ধরা পড়েছে এটা Bladder Cancer এবং Testicular attropy-র জন্য দায়ী।

নিওটেম অপর একটি মিষ্টকারক পদার্থ যা সাধারণত Jam, jellies, fruit juice এ ব্যবহৃত হয়। মাত্রাতিরিক্ত গ্রহণে মাথা ধরা এবং heptatoxic হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গ্রহণে, শরীরে ওজন
যেমন অতিরিক্ত কমিয়ে দেয় ঠিক তেমনি birth rate ও কমাতে পারে।

সুক্ৰালেস সুগারের থেকে ৬০০ গুন বেশী মিষ্টি যুক্ত পদার্থ। ১৯৯৮ সালে FDA এটাকে ১৫টি খাদ্যে ব্যবহারের স্বীকৃতি দিয়েছে। সুক্রোজের তিনটি হাইড্রোক্সিল গ্রুপ ক্লোরিন পরমাণুদ্বারা প্রতিস্থাপিত করে এটা বানানাে হয়।এর অধিক গ্রহণে সাধারণত shruken thymas gland’s এ প্রভাব পরে বলে অনেকে মনে করেন।
এই আলােচনার শেষে বলা যায় যদিও আজকার কৃত্রিম মিষ্টকারক পদার্থের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। যতই এদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে ভিন্নমতবাদ থাকুক, আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে আমরা নিজেরা কোনাে সমস্যায় পড়ছি কিনা।
তথ্যসূত্র : American dietetic Association (2004). Journal of the American Dietetic Association, 104 (2), 255- 275, AAOHN Journal, June 2008, Vol-56,No-6

ডঃ তপন দাস

লেখটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি ২০১৫ থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

কোস্টাল পলিউশন ও ইরোশন

0 (0) দূষণ, দূষণ সর্বত্র দূষণ। বিশাল সমুদ্র, সেখানেও দূষণ। দূষণ নিয়ে ভাবনাচিন্তা। কোস্টাল দূষণ সাধারণ ভাবে মানুষের নজরে কমই পড়ে। আধুনিক সভ্যতার ডানায় ভর করেই মানব সমাজ দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। সমুদ্র তীর বা তটভূমি ও মােহনা দিন দিন মানব সমাজের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। ফলে ঐ সকল অঞ্চলে দূষণ […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: