ভারতে বিজ্ঞান চর্চার গােড়ার দিক

ভারতে বিজ্ঞান চর্চার গােড়ার দিক (অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দী)   বুদ্ধিবৃত্তিতে উদ্ভাবন, স্বকীয়তা ও ভাবনাচিন্তার মাধ্যমে নিরন্তর পরিবর্তন/উৎকর্ষ বিধান মানুষের সভ্যতাকে অভাবনীয় অগ্রগতি দিয়েছে। আগুনের আবিষ্কার, চাকার আবিষ্কার, পশুপালন, পাথরের অস্ত্র এবং সর্বশেষ কৃষিসভ্যতা মানুষের জীবন ও সমাজ ব্যবস্থাকে আমূলভাবে বদলে দিয়েছে। মানুষের ইতিহাস বা ইতিহাসে মানুষ বা সভ্যতার ইতিহাস বা ইতিহাসে […]

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  
3.7
(3)

ভারতে বিজ্ঞান চর্চার গােড়ার দিক
(অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দী)
বুদ্ধি বৃত্তিতে উদ্ভাবন, স্বকীয়তা ও ভাবনা চিন্তার মাধ্যমে নিরন্তর পরিবর্তন/উৎকর্ষ বিধান মানুষের সভ্যতাকে অভাবনীয় অগ্রগতি দিয়েছে। আগুনের আবিষ্কার, চাকার আবিষ্কার, পশুপালন, পাথরের
অস্ত্র এবং সর্বশেষ কৃষিসভ্যতা মানুষের জীবন ও সমাজ ব্যবস্থাকে আমূল ভাবে বদলে দিয়েছে। মানুষের ইতিহাস বা ইতিহাসে মানুষ বা সভ্যতার ইতিহাস বা ইতিহাসে সভ্যতা – এই দু’ভাবেই ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ আজ একটি প্রাসঙ্গিক চর্চা।
পৃথিবীতে নাকি এ পর্যন্ত ৮/১২টি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে। মিশরের পিরামিড আশ্চর্য প্রযুক্তির নিদর্শন হিসাবে আজও দাঁড়িয়ে। ফারাও রাজাদের সভ্যতা আজ ইতিহাসের গর্ভে। মহেনজোদারাের সভ্যতা থেকে আমরা অনেক কিছু জেনেছি। এদেশে আর্যরা বহিরাগত – এই তত্ত্ব মেনে নিলে বলা যায়, এদের হাত দিয়ে যেমন প্রযুক্তি এসেছে; তেমনি আমাদের দেশীয় ভূমিপুত্রদের হাতেও অনেক প্রযুক্তি ছিল। আজ মিলেমিশে একাকার। কারা সুগন্ধি ধান বাসমতী, কামিনীভােগ, গােবিন্দভোেগ সৃষ্টি করেছিলেন; এমন ২ লক্ষ জাতের ধান, ৪০ হাজার জাতের গম, কয়েকহাজার জাতের বাজরা, ভুট্টা, যব ইত্যাদি (অসংখ্য
কৃষি বৈচিত্র্য (Agri-Bio Diversity) –তা আমাদের অজানা। তখন ছাপাখানা, লিপি নির্মাণ হয়নি। তালপাতার পুঁথিতে অল্প হলেও কিছু পাওয়া যায়।

হিন্দু-বৌদ্ধ যুগে ভারতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা তথ্য আমাদের জানা। নবম-দশম শতাব্দী থেকে মুসলমান শাসকরা ধীরে ধীরে ভারতের রাজনৈতিক মানদণ্ডকে অধিকার করে। প্রায় ৭/৮ শ বছরে মুসলমান বিজ্ঞান-প্রযুক্তির বিকাশেরও একটা ঐতিহ্য গড়ে ওঠে। পাশাপাশি হিন্দু ঐতিহ্যও লুপ্ত হয়নি। ষােড়শ/সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত ভারত বর্হিবাণিজ্যে উল্লেখযােগ্য ভাবে অগ্রণী ছিল। সিল্ক, পশম, কাসা-পিতল, হস্তশিল্প, মশলা ও অন্যান্য নানা বিষয়ে অগ্রণী ও সমৃদ্ধ ছিল। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ছিল বলেই বিদেশীরা (ইউরােপীয় দস্যুরা) নানাভাবে লুঠপাঠ চালাত (স্থলে ও জলে। এবং এই সময়কালে তথাকথিত ইউরােপ ছিল অনুন্নত ও অসভ্য।

পরবর্তী অধ্যায় সংক্ষিপ্ত; কিন্তু অতিদ্রুত ইতিহাসের পট পালটে দিল। অসভ্য ইউরােপ সভ্য হােল। রজার বেকন প্রমুখের হাত ধরে আধুনিক বিজ্ঞান যাত্রারম্ভ করল। ফ্রান্সিস বেকন-এর দর্শন দিলেন। পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ-সিদ্ধান্ত বিজ্ঞানের এই ধাপ অতিক্রম করে সত্যান্বেষণে এগােতে হবে। আপ্ত বাক্য; মেনে নেওয়া, তর্কহীন বিশ্বাস বিজ্ঞান নির্ভর যুক্তিচিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে। চার্চের উপর বিশ্বাস ও আনুগত্য টলে গেল। কোপারনিকাস, টাইকোব্রাহে, গ্যালিলিও, কেপলার এবং আইজ্যাক নিউটন। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। এবং এল শিল্প বিপ্লব।

মানুষ প্রথম আয়ত্ব/উদ্ভাবন করেছে প্রযুক্তি। পরে জেনেছে অন্তর্নিহিত তাৎপর্য – বৈজ্ঞানিক কার্য-কারণ। আবার অনেক ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আগে এসেছে; পরে এসেছে প্রযুক্তি উদ্ভাবন। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি হাত ধরাধরি করে এগােয়।

এবার আসি ভারতের কথায়। বৌদ্ধ সভ্যতার সূর্য অস্তমিত। এবং হিন্দু পুনরুত্থান। কী পেলাম? হিন্দু জাগরণ! সমুদ্র অস্পৃশ্য। ব্যবসা-বাণিজ্য, সভ্যতার আদানপ্রদান স্তব্ধ। জাতপাতে আকীর্ণ। শ্রমজীবী উৎপাদক সমাজ নিপীড়িত, নিষ্পেষিত, নিরক্ষর। একটা উন্নত ঐতিহ্যবাহী সভ্যতা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে অতলে তলিয়ে গেল।

নারী জাতির বিদ্যাচর্চা অধর্ম হিসাবে ঘােষিত হােল। সতীদাহ প্রথার মতাে হাজারাে বর্বর ঘটনা
উঠে এলাে ধর্মের মােড়কে; পুরুষশাসিত সমাজের নির্মম শােষণের হাতিয়ার হয়ে। মুসলমান ধর্ম তত্ত্বগত ভাবে প্রগতিশীল ও উদারপন্থী। কিন্তু তারা ভারতবর্ষীয় ব্যবস্থায় কোনরকম হস্তক্ষেপ করেনি। পলাশীর যুদ্ধ। ইংরাজের সূর্য উদীয়মান। আধুনিক প্রগতিশীল বিজ্ঞানচিন্তার বিস্তারের পটভূমি প্রস্তুত।

রাজা রামমােহন রায় চিঠি লিখলেন লর্ড আমহাস্টকে। ইউরােপীয় বিজ্ঞান, অ্যালজেব্রা, ত্রিকোণমিতি, ইউরােপীয় ভূগােল চাই (১৮৮৩)। যথেষ্ট দ্রুততায় প্রায় হাজার বছরের জগদ্দল গড্ডালিকার অন্ধবিশ্বাসকে সরানোের কাজ শুরু হল। বাংলার নবজাগরণ। এই ঐতিহাসিক পটভূমিতে জন্ম ও বিস্তার।

এই লেখায় সংক্ষিপ্তভাবে ভারতে আধুনিক সময়কালে (উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত) মুখ্যত ইউরােপীয় বিজ্ঞানের পঠন-পাঠনের গবেষণার যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, তার একটি তালিকা প্রণয়নের চেষ্টা
করা হয়েছে।

১৭২৩-২৭ – দিল্লী, উজ্জয়িনী, মথুরা, বেনারস, জয়পুর – এই পাঁচ জায়গায় বৃহৎ আকারে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার ও পরিমাপের জন্য মহারাজা সােয়াই জয়সিং (২) কর্তৃক মানমন্দির স্থাপন। এইকাজে সমকালীন ইউরােপীয়/আরবীয় জ্ঞানও ব্যবহৃত হয়েছিল।

১৭৩৭ –দক্ষিণ ভারতের ম্যাপ তৈরি d’Anville কর্তৃক। (মােরাখা স্কুল অফ অ্যাস্ট্রোনমি ও মিশনারিদের সংগৃহীত তথ্যাদি ব্যবহার করে।)

১৭৫৫–উদ্ভিদ বিষয়ক অনুসন্ধান – দক্ষিণ ভারতে কোয়েনিগ কর্তৃক। এইসব তথ্যাদি সুইভেনের লুন্ড শহরে রক্ষিত আছে।

১৭৬১ – চট্টগ্রামের উপকুলে তটরেখার সমীক্ষা।

১৭৬৪— রেনেল কর্তৃক গঙ্গানদীর গতিপথের বিস্তৃত সমীক্ষা। (ব্রিটিশইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির সহায়তায়।)

১৭৭৩ – ইউরােপীয় বৈজ্ঞানিকগণ শুক্র গ্রহের সংক্রমণ (transit of venus) পর্যবেক্ষণ করে ভারত থেকে।

১৭৮৩–রেনেল কর্তৃক সর্বপ্রথম ভারতের ম্যাপ প্রস্তুত। (অবিভক্ত ভারতবর্ষ)।

১৭৮৪ – এশিয়াটিক সােসাইটির প্রতিষ্ঠা। নবগঠিত সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি ভারতপ্রেমী স্যার (১৫ জানুয়ারি) ইউলিয়াম জোন্সের হাতে। ১৮০৮ সালে পার্কস্ট্রীটে বাড়ি নির্মিত হয়।

১৭৮৭— শিবপুর (হাওড়া) রয়াল বেটানিক্যাল গার্ডেন প্রতিষ্ঠা। রবার্ট কিড ছিলেন এর প্রথম অবৈতনিক সুপারিনটেন্ডেন্ট।

১৭৮৮-১৮৩৯ -এশিয়াটিক রিসার্চেস নাম নিয়মিতভাবে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হতে থাকে এশিয়াটিক সােসাইটি থেকে।

১৭৮৯— The Design of a Treatise on the plants of India -উইলিয়ম জোনস লিখিত এই বই ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রকে প্রথম বিশ্বের সামনে তুলে ধরে।

১৭৯২ – মাইকেল টপিং (Toppins) কর্তৃক মাদ্রাজ অবজারভেটরি মানমন্দির স্থাপন। -জেমস রেনেলের লেখা বই— Memoir of a map of Hindustan প্রকাশিত হয়। এই বইতে ৩৫ বছর সময়কালে কোম্পানি কর্তৃক ভারতের ২০০০ মাইল লম্বা সমুদ্রতীর ও ৫০০ মাইল লম্বা দ্বীপপুঞ্জের জরিপের তথ্যাদি নথিভুক্ত আছে।

১৭৯৩-৯৪ –উইলিয়াম রক্সবার্গ শুরু করেন বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভিদ অনুসন্ধান ও নথিভুক্ত করণের সুবৃহৎ কাজ। তিনি ছিলেন রয়াল বােটানিক গার্ডেনের সুপারিনটেন্ডেন্ট।

১৭৯৪— মাদ্রাজ সার্ভে স্কুলের প্রতিষ্ঠা। ট্রিগােনােমেট্রিক্যাল সমীক্ষা পর্বের শুরু।

১৭৯৪ – প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের জন্ম। কয়লা, নুন, জাহাজ শিল্প ও ইংরাজদের সঙ্গে নানা ব্যবসায় সাফল্য অর্জন। অসাধারণ উদ্যোগী পুরুষ ও শিল্প-বাণিজ্যের পৃষ্ঠপােষক। উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষার
প্রসারে বৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন।

১৮০০ –মাদ্রাজে ট্রিগােনােমেট্রিক্যাল সার্ভে দপ্তর প্রতিষ্ঠা।

১৮১৩ —ভারতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান (Promotion of the knowledge of Science) উন্নয়নে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বছরে একলক্ষ টাকা ব্যয় করবে  ঘােষণা। কোম্পানির সনদ নবীকরণ হয়।

১৮১৪— নাথানিয়েন ওয়ালিচ হলেন রয়াল বােটানিক গার্ডেনের সুপারিনটেন্ডেন্ট। এঁর উদ্ভিদ সংগ্রহের নমুনা ইউরােপের নানা কেন্দ্রে পাঠানাে হয় বিস্তৃত অনুসন্ধানের জন্য।

১৮১৫— ল্যাম্বটন কর্তৃক ভারতের দক্ষিণ অঞ্চলের (Sonthern Region) ম্যাপ প্রস্তুত। সর্বোচ্চ মধ্যরেখার জ্যা পরিমাপ। (Measurement of the largest meridonial arc)

১৮১৭ – কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা রাজা রামমােহন রায়ের

১৮১৮ – উদ্যোগে। উদ্দেশ্য-পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের পঠন-পাঠন। ইউরােপীয় সাহিত্য- বিজ্ঞানের শিক্ষার ভিত্তি শুরু। কলকাতায় ‘গ্রেট ট্রিগােনাে মেডিক্যাল সমীক্ষা পর্ষদের সূচনা। প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপটেন উইলিয়াম ল্যাম্বটন।

১৮২০— কলকাতার আলিপুরে এগ্রি-হর্টিকালচারাল সােসাইটির পত্তন। প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়ম কেরী ও রামকমল সেন।

১৮২২ – ভারতের (অবিভক্ত) অ্যাটলাস (মানচিত্র) প্রকাশ। স্কেল – ১/৪ ইঞ্চি।

১৮২৩ – নবজাগরণের পথিক রাজা রামমােহন রায়ের ঐতিহাসিক চিঠি লর্ড আর্মস্টকে ইউরােপীয় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রবর্তনের জন্য। টোল ও মাদ্রাসা শিক্ষার বিরােধিতা।

১৮২৯ – বর্ধমানের লৌহ আকরিকের খনিজ বিশেষণ করেন হেনরি পিডিংটন। অন্ধ্রপ্রদেশের নেলাের জেলার তামার আকরিকের খনিজ বিশ্বেষণ করেন জেমস প্রিন্সেপ।

গ্রেট ট্রিগােনােমেট্রিক্যাল সার্ভের সুপারিনটেন্ডেন্ট নিযুক্ত হন জর্জ এভারেস্ট। এখানেই রাধানাথ সিকদার প্রথম হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টের উচ্চতা নির্ণয় করেন। এভারেস্ট নিজে এই পরিমাপের জন্য স্বতন্ত্র পরিমাপ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলে, যা রাধানাথ সাথকভাবে ব্যবহার করেছিলেন।

– ডা. মহেন্দ্র লাল সরকারের জন্ম। এর উদ্যোগে ভারতে সর্বপ্রথম দেশীয় চেষ্টায় বিজ্ঞানের পঠন-পাঠন ও গবেষণাগার (The Indian Association for the cultivation of Science) গড়ে ওঠে
১৮৭৬ সালে। মৃত্যু- ১৯০৮।

১৮৩৫ -কলকাতা মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠা। ডা. ব্রামলে প্রথম অধ্যক্ষ। সর্বসাধারণের জন্য আধুনিক অ্যালােপ্যাথি চিকিৎসার প্রথম সুযােগ। এখানে মেডিকেল শিক্ষার (ডিগ্রী) ব্যবস্থাও ছিল। মেকলের মিনিট প্রকাশিত হয়। ভারতে ইংরাজি হবে শিক্ষার বাহন। সরকারি কাজ হবে ইংরাজিতে।
১৮৩৯— জামসেদজি নাসের ওলানজি টাটার জন্ম। ভারতে আধুনিক শিল্পোদ্যোগে এঁর উদ্যোগ যথেষ্ট। (মৃত্যু – ১৯০৮)

১৮৪৩— মাদ্রাজে মেডিক্যাল স্কুলের প্রতিষ্ঠা।

১৮৪৪— কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করা চারজন ছাত্রের উচ্চশিক্ষার্থে বিলাত গমন।

১৮৪৫— বম্বেতে ‘গ্রান্ট মেডিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠা (কলেজ)।

১৮৪৭— উত্তরপ্রদেশের রুরকিতে ইনজিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন। পরে নামকরণ হয়। থমসন ইনজিনিয়ারিং কলেজ।

১৮৪১ –প্রথম ভারতীয় এফআরএস – আর্দেসির কারসেটজি (১৮০৮-৭৭)। নৌচালনায় স্টিম ইঞ্জিনের বিষয়ে গবেষণায় বিশেষ কৃতিত্ব।

১৮৪৫— কোলাবা অবজারভেটরি স্থাপন। ১৮৯৬-তে এর ডিরেক্টর নিযুক্ত হন নানাভাই আর্দেসীর প্রেমজি মুস। তার আগে ডিরেক্টর ছিলেন চার্লস চেম্বার্স। ভূচুম্বকত্ব বিষয়ে এঁদের সংগৃহীত তথ্যাদি সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

১৮৫১ – ভারতীয় ভূতত্ত্ব সমীক্ষা পর্ষদের স্থাপনা কলকাতায়। প্রথম সুপারিনটেন্ডেন্ট টমাস ওল্ডহ্যাম। ভারতে খনিজ পদার্থ অনুসন্ধানে এই সংস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

– ভারতের প্রথম টেলিগ্রাফ লাইন সংযােগ স্থাপিত হয় কলকাতা ও ডায়মন্ডহারবারের মধ্যে। রূপকার উইলিয়ম ও সাউঘনেসি।

১৮৫৩— বােম্বে থেকে থানে প্রথম রেলপথ স্থাপন। এইকাজ ভারতের আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধন করে।

১৮৫৪ —উডস ডেসপ্যাচ প্রকাশিত হয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনার আর্জি জানানাে হয়। মডেল হবে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়। পুনায় ইনজিনিয়ারিং স্কুল স্থাপনা।

১৮৫৬ –শিবপুর হাওড়ায় বেঙ্গল ইনজিনিয়ারিং কলেজ উঠে আসার পূর্বে রাইটার্স বিল্ডিং-এ এর কার্যারম্ভ ঘটে। ১৮৬৫ থেকেছিল প্রেসিডেন্সি কলেজে। হাওড়ায় উঠে আসে ১৮৮০।

১৮৫৭ – কলকাতা, বম্বে, মাদ্রাজ ভারতের প্রথম তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। একমাত্র কাজ হবে অনুমােদন দেওয়া ও পরীক্ষাগ্রহণ।

১৮৫৯— মাদ্রাজে সিভিল ইনজিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠা।

১৮৬০– কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রতিষ্ঠা। প্রথম দিককার বিজ্ঞান শিক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানের অধ্যাপক ফাদার ল্যাকোর অসামান্য অবদান আছে।

১৮৬১ – ভারতীয় গ্ৰহতত্ত্ব সমীক্ষা (Archaeology) পর্ষদের স্থাপন। লর্ড ক্যানিংহাম এর সার্ভেয়ার নিযুক্ত হন।

১৮৬৩ – ব্রিটিশ মেডিক্যাল অ্যাসােসিয়েশন বেঙ্গল চ্যাপটার প্রতিষ্ঠিত

১৮৬৭ –কলকাতায় ভারতীয় সংগ্রহশালার (Indian Museum) সূচনা। জনসাধারণের উদ্দেশ্যে গ্যালারি উন্মােচন হয় ১৮৭৮ সালে।

১৮৭৩ – আলেকজান্ডার পেডলার প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়নের শিক্ষা ও গবেষণার কাজ শুরু করেন। কেউটে সাপের বিষ, ফসফরাসের আলােক সুবেদী বিক্রিয়া, সীসার আচ্ছাদনের ক্ষয় এসব গবেষণায়
তিনি যথেষ্ট সাড়া জাগাতে সক্ষম হন।

১৮৭৫– কলকাতায় ভারতীয় আবহদপ্তরের (Dept. of Meterlogy) প্রতিষ্ঠা।

১৮৭৬ – ভারতবর্ষীয় বিজ্ঞান সভার (Indian Association for the Cultivation of Science) প্রতিষ্ঠা ২১০ নং বৌবাজার স্ট্রীটে (বর্তমানে যেখানে গােয়েঙ্কা কলেজ অফ কমার্স)। প্রধান উদ্যোক্তা ডা.
মহেন্দ্রলাল সরকার।

১৮৮০—প্রমথনাথ বসু (১৮৫৫-১৯৩৪) প্রথম ভারতীয়, যিনি বিদেশী বৈজ্ঞানিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। (1) Undescribed Fossil carnivoca from Sivallie Hills in the collection of the British Musuem – The quarterly Journal of the Gelogical Soc of London. Feb, 1980. (2) Notes on the History and Comparative Anatomy of the Extimet Carnivora – Geological Magazine. Vol. VIII, 1880.

১৮৮১ — আশুতােষ মুখােপাধ্যায়ের (মাত্র ১৭ বছর বয়সে) প্রথম গণিত বিষয়ক গবেষণাপত্র প্রকাশ
মেসেঞ্জার অফ ম্যাথমেটিকস পত্রিকায়।

১৮৮৪ – এশিয়াটিক সােসাইটির শতবর্ষপূর্তি। বিশিষ্ট ভূতত্ত্ববিদ প্রমথনাথ বসু সম্পাদিত The Centenary Review of the Researches of the Asiatic Society of Bengal in Natural Sciences (২০০ পৃঃ প্রায়) ৩য় খন্ড, প্রকাশ। এতে রয়েছে (ভৌতবিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ে ৫০০ গবেষণা পত্রের তালিকা, জীববিদ্যায় ৫০০, উদ্ভিদবিদ্যায় ৩২০টি (১৭৮৮-১৮৮২ সময়কাল)

১৮৮৭— ডা. রাধাগােবিন্দ করের চেষ্টায় কলকাতা মেডিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে এর নাম আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ।

শ্রী নিবাস রামানুজনের জন্ম মাদ্রাজে। ভারতীয় গণিত প্রতিভাধরদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। ভারতের দ্বিতীয় এফ আর এস (১৯১৮)। মৃত্যু- ১৯২০।

১৮৯২— বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস প্রতিষ্ঠা – ভারতের প্রথম ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠান।

১৮৯৫ -তারহীন বেতার সঙ্কেত প্রেরণ – জগদীশচন্দ্র বসুর পরীক্ষা প্রদর্শন ও গবেষণাপত্র প্রকাশ।

১৮৯৫-৯৭— প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ১১টি গবেষণাপত্র মারকিউরাস নাইট্রাইট বিষয়ক প্রকাশিত হয়।

১৮৯৪— পশুচিকিৎসা ও গবেষণার প্রথম ভারতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে বেলগাছিয়ায় বেঙ্গল ভেটেরানারি কলেজ।

১৮৯৮ – ডা. রােনাল্ড রস কর্তৃক কলকাতায় ম্যালেরিয়া রােগের কারণ নির্ণয়। ১৯০২ সালে নােবেল পুরস্কার প্রাপ্তি। উনিশ শতকের শেষে এদেশে ১৭০টি বিজ্ঞান শিক্ষার কলেজ, চারটি মেডিক্যাল কলেজ, ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৫০টি ইনজিনিয়ারিং ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

দীপক কুমার দাঁ

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক পত্রিকায় মার্চ – এপ্রিল ২০০৯ সংখ্যা থেকে সংগৃহীত

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 3.7 / 5. Vote count: 3

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক

3.7 (3) শক্তির দেওয়া নেওয়া ও বিকিরণ অবিরত ও অবিচ্ছিন্নভাবে হয় না, হয় ঝাকে ঝাকে (By jerks), অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র, খন্ড খন্ডভাবে (Discontinuously) sports কণাভাবে। কোন তরঙ্গের শক্তি কখনও ন্যূনতম একটি সংখ্যার চেয়ে কম হতে পারে না। কথাগুলি বলতে পেরেছিলেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক (Max Planck) এবং এই কথাগুলিই প্ল্যাঙ্কের(max planck theory […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: