ভূ-উষ্ণায়ণ — বন ও বন্যপ্রাণী

5
(1)

গ্লোবাল ওয়ার্মিং কাকে বলে ?

‘গেবাল ওয়ার্মিং’ বা ভূ-উষ্ণায়ণ সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে পরিচিত ও বহু চর্চিত একটি শব্দ। পৃথিবীর বায়ুমন্ডল এবং সমুদ্রের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধিরই অপর নাম এই ভূ-উষ্ণায়ণ। সারা পৃথিবীর শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন প্রতিটি মানুষ আজ চিন্তিত কীভাবে এটিকে রােধ করা যায় এই ভেবে। মহাজাতি সংঘের পরিচালনায় United Nations Environment Programme (UNEP) এর অধীনে ‘Intergovermental Panel on Climate Change (IPCC)’ গঠন করে ২০০৭ সালে ‘বালি’ আন্তর্জাতিক পরিবেশ সম্মেলনে গালভরা বহু চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে এটি রুখতে। বাস্তবে, সেভাবে সাফল্য আসেনি পৃথিবীর আপামর
জনসাধারণের কাছে।

এদিকে অসময়ে প্রবল বৃষ্টি, খরা, ঝড়- ঝঞ্ঝা, প্রবল জলােচ্ছাস এবং দাবানল পৃথিবীর বুকে অব্যাহত। তাদের থাবা থেকে কোন মুক্তি নেই। দিনদিন এগুলির পরিমাণ এবং তীব্রতা ক্রমশঃ বেড়েই চলছে। পৃথিবীর জলবায়ুর খামখেয়ালীপনার কারণ খুঁজতে আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত প্যানেল একবাক্যে জানিয়েছে যে, শিল্প বিপ্লবের পর থেকে উৎপাদন পদ্ধতি পরিবর্তনের ফলে বায়ুমন্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। আর তাতেই জলবায়ুর সব পরিবর্তন।

বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ বাড়লে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বাড়ে ‘গ্রিন হাউস এফেক্ট’ নিয়মে। ১৮২৪ সালে প্রথম এই ঘটনার কথা বর্ণনা করেন বিজ্ঞানী জোসেফ কুরিয়ার। অবশ্য ১৮৯৬ সালে সুইডিস বিজ্ঞানী আরহেনিয়াস প্রথম এটির পরিমাণগত তথ্য অনুসন্ধান করেন। জীবাশ্ম জ্বালানি পােড়ানাে, জঙ্গল কেটে সাফ করে দেওয়ার জন্য, কৃষিকাজের জন্য, কলকারখানার প্রয়ােজন সহ
প্রভৃতি বিভিন্ন কারণে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনােক্সাইড, মিথেন, ইথেন প্রভৃতি গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ে। National Oceanic and Atmospheric Administration (NOAA)- এর বিজ্ঞানীরা ১৯৯৮ সালে জানান যে ১৯৯৭ সালে পৃথিবীর তাপমাত্রা ছিল গত শতাব্দীর গড় তাপমাত্রার চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি। এদিকে নাসা-র জলবায়ুবিদরা বলেছেন, শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ছিল
২০০৫ ।

পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের গড় ১৯৯০ সালে ছিল 353 ppm (পার্টস পার মিলিয়ান বাই ভলিউম) এবং প্রতিবছর গড়ে 1.8  ppm বাড়ছে। যা অবশ্য ১৯৫৮ সালে ছিল 315 pp এবং বৃদ্ধির
বার ছিল বছরে 0.6 ppm। আবার, ১০০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডের গাঢ়ত্ব ছিল 280 ppm

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন(গ্লোবাল ওয়ার্মিং সম্পর্কিত আন্তঃসরকারী প্যানেল (IPCC)২০০১ সালের রিপাের্টে জানিয়েছে যে, ১৯৯০ সাল থেকে ২১০০ এর মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১,৪ থেকে ৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে।

গ্রিনহাউস গ্যাস এবং তার প্রভাব

সূর্য থেকে নির্গত শক্তির সাহায্যেই পৃথিবীর জলবায়ু এবং আবহাওয়া পরিচালিত হয়। সূর্য থেকে বিকিরিত শক্তি পৃথিবীর পৃষ্ঠে এসে পড়ে। ফলস্বরূপ, পৃথিবী পৃষ্ঠ গরম হয়। পৃথিবী থেকে কিছু তাপশক্তি মহাকাশেই আবার বিকিরিত হয়। সূর্য থেকে নির্গত এই শক্তি বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করার সময় ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যুক্ত হয়। পৃথিবী দ্বারা শােষিত হওয়ার পর উদ্বৃত্ত তাপশক্তি পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত হওয়ার সময় বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যুক্ত হয়। এই বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শক্তির ক্ষেত্রে বায়ুমন্ডলে এদের ভেদ্যতা অনেক কম। বায়ুমন্ডলে উপস্থিত গ্রিন হাউস গ্যাস গুলাে দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণকে ধরে রাখে, যার ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

শীতকালীন দেশগুলােতে কাচের ঘরে (Green House) বা গ্রিন হাউসে গাছপালা রাখা হয়। সেখানেও একই নিয়মে কাজ হয়। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সহায়ক উপযুক্ত তাপমাত্রা সহজেই পাওয়া যায়। তাই
এই ঘটনাকেই ‘গ্রিন হাউস এফেক্ট’ বলা হয়।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ‘গ্রিন হাউস এফেক্ট’ ছাড়া পৃথিবীতে জীবজগতের অস্তিত্বই সম্ভব হতাে না। বায়ুমন্ডল এক্ষেত্রে একটি চাদরের কাজ করে থাকে। এই প্রাকৃতিক চাদর ছাড়া পৃথিবীর তাপমাত্রা হতাে।
বায়ুমণ্ডলহীন চাদের মতাে। দিনের বেলা ২২৫ ডিগ্রি ফারেন হাইট (১০৭ সেলসিয়াস) এর মধ্যে। এই তাপমাত্রা জীবজগতের পক্ষে সহায়ক নয়। কিন্তু, সমস্যাটি হল বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস গুলির
ক্রমশঃ গাঢ়ত্ব বৃদ্ধি পাওয়া।

ক্রমাগত বায়ুমন্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পরিবেশ ও জীবজগতের পক্ষে ক্ষতিকারক। এ নিয়ে বহু বিতর্ক আছে, তবে সমীক্ষা বলছে, বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির গাঢ়ত্ব যদি বর্তমান অবস্থায় থাকে তবে পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে।

বন ও বন্যপ্রাণীর উপরে উষ্ণায়নের ক্ষতিকারক প্রভাব পরিবেশ এবং মানুষের উপর ভূ-উষ্ণায়নের নানান ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। এর প্রভাবে বরফের আচ্ছাদন গলছে, সমুদ্রতলের উচ্চতা বাড়ছে, আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটছে, কৃষিকাজে ব্যাঘাত ঘটছে, বিভিন্ন রােগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবহাওয়ার এসব খামখেয়ালীপনার ফলস্বরূপ বহু বন ও বন্যপ্রাণী তীব্র সংকটের মুখে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের দরুন বেশ কিছু প্রজাতি তাদের বাসস্থান ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বহু প্রজাতি বিলুপ্তির প্রহর
গুনছে। আবার, অন্য কিছু প্রজাতির বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। এদের জীবনযাপনের প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সময়সূচীর পরিবর্তন ঘটছে, কোনও একটি অঞ্চলে খাদ্য-খাদক ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

‘গেবাল ওয়ার্মিং’ বা ভূ-উষ্ণায়ণ - বিপন্ন প্রানী
‘গেবাল ওয়ার্মিং’ বা ভূ-উষ্ণায়ণ – বিপন্ন প্রানী

‘গেবাল ওয়ার্মিং’ এর উদ্ভিদ জগতের উপর প্রভাব

পৃথিবীর উষ্ণায়ণ সম্পর্কে বিশিষ্ট পরিবেশবিদ মিখাইল এ ভেদিযুশকিন, তার সমীক্ষায় জানিয়েছেন এর ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠে উদ্ভিদ জগতের পরিবর্তন ঘটতে পারে। পাশাপাশি, অরণ্য অঞ্চলের কিছুটা বৃদ্ধি ঘটবে কিন্তু অরণ্য অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য এলাকার উদ্ভিদের পরিমাণ কমবে।

উল্লেখযােগ্য পরিবর্তন গুলাে হলাে – তুন্দ্রা অরণ্যের পরিবর্তন। এই অরণ্য নাতিশীতােষ্ণ অঞ্চলের ঋতু
নির্ভর চিরহরিৎ অরণ্য, শীতল পর্ণমােচী প্রভৃতি অরণ্যে পরিবর্তিত হচ্ছে। এই ধরনের অরণ্য বর্তমানে রাশিয়ার মেরুবর্তী অঞ্চল, উত্তর স্ক্যান্ডিনেভিয়া, আইসল্যান্ড, কানাডা এবং আলাস্কায় দেখা যায়।
অরণ্য নয় এমন বিস্তৃত অঞ্চল তৈরি হওয়া, যেখানে বিভিন্ন ধরনের শুল্ম ও ঘাস দেখা যায়।
নাতিশীতােষ্ণ, চিরহরিৎ অরণ্য, গ্রীষ্ম ও বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলের অরণ্য,পর্ণমােচী চিরহরিৎ অরণ্য প্রভৃতি কমছে।

এই ধরনের অরণ্যের পরিবর্তে সেখানে গুল্মযুক্ত তৃণভূমির উদয় হচ্ছে। নতুন নতুন জায়গায় গুল্ম ভূমি
তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও তৃণভূমির পরিমাণ বাড়ছে। টেম্পল টেক্সাসের উদ্ভিদ বাস্তুতন্ত্রাবিদ এইচ.ওয়ানে পলি-র মতে, এর কারণ হল গত ২০০ বছরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি।
টেক্সাসের বিস্তৃত এলাকায় তৃণভূমির চরিত্র বদল ঘটছে। পরবর্তী শতাব্দীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘সুগার মেইপল’ কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ দ্বিগুণ হওযায় ব্রিচ, হেমলক, বিচ প্রভৃতি বৃক্ষ ৩০০-৬০০ মাইল উত্তরে সরে যাবে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন যে, পৃথিবীর উষ্ণায়নের ফলে দেশের ২০ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকা বর্তমান উদ্ভিদ প্রজাতির পক্ষে অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে। কার্বন ডাই-অক্সাইডের দ্বিগুণ
বৃদ্ধি ঘটলে তুন্দ্রা অঞ্চলে আকার ৩০ শতাংশ কমে যাবে।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর প্রাণী জগতের উপর প্রভাব

ভূ-উষ্ণায়নের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির জীবকূল উত্তরের দিকে বা অধিক উচ্চতায় সরে যাচ্ছে। বিজ্ঞানী ক্যামিলে পারমেসান ১৯৯৬ সালে। প্রকাশিত তার গবেষণায় দাবী করেন যে, এডিথস চেকারপোেস্ট নামে
এক ধরনের ছােট্ট প্রজাপতি তাদের বসবাসের অঞ্চল পরিবর্তন করেছে।

তিনি ১৫১টি অঞ্চলে সমীক্ষা চালিয়ে দেখান যে, বসতি অঞ্চলের দক্ষিণ অংশে বিভিন্ন প্রাণীর সংখ্যা কমছে। কানাডার তুলনায় মেক্সিকোয় তাদের বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা চার গুণ। তিনি দাবি করেন যে, প্রজাতির দল অধিক উচ্চতায় অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা জায়গায় সরে যাচ্ছে। সামুদ্রিক জীবেরাও উষ্ণতা সম্পর্কে খুবই সংবেদনশীল।

ফলে উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেশকিছু প্রজাতি স্থান পরিবর্তন করে। বেশ কিছু প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে গেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরে উপসাগরে করা সামুদ্রিক প্রজাতির গণনা রিপাের্ট থেকে জানা যায় ১৯৯৩-৯৪ সালে ১৯৩১ সালের তুলনায় অপেক্ষাকৃত অধিক উষ্ণতায় থাকতে পছন্দ করে এমন প্রজাতির সংখ্যা ক্রমশঃ বৃদ্ধ পেয়েছে। পাশাপাশি, অপেক্ষাকৃত শীতল জল পছন্দ করে এমন প্রজাতির সংখ্যা এই সময়ের মধ্যে কমেছে।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া এবং তাসমানিয়া এবং উত্তর মেরুপ্রদেশের মাঝামাঝি ছােট্ট ম্যাকুয়ারি দ্বীপেও এই একই ঘটনা ঘটেছে। স্থলভাগ থেকে নদীনালার মাধ্যমে ভেসে আসা দূষিত ও উষ্ণ জল, বিভিন্ন কলকারখানা থেকে নির্গত দূষিত বর্জ্য প্রভৃতির ফলে সমুদ্র জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পরে প্রবালদের  উপর। এর প্রভাবে দিনের পর দিন প্রচন্ডরকমভাবে প্রবাল গুলাে মরে যাচ্ছে। ১৯৭৯-৮০ সালে ৬০টি অঞ্চলের উপর করা একটি সমীক্ষার রিপাের্ট থেকে জানা যায় যে, কোনও কোনও জায়গায় শতকরা ৯৫ ভাগ প্রবাল নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

উত্তর মেরু অঞ্চলের ক্রমাগত উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সীলের জীবন ভীষণভাবে বিপন্ন। এতে সীলের শিশুদের মৃত্যুর হার ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, তাদের বরফের আবাসস্থল ভেঙে পড়ছে। তাছাড়া,
সীলের প্রাকৃতিক খাদ্য মাছদের সংখ্যা ভীষণভাবে কমে যাচ্ছে ফলে এদের তীব্র খাদ্যাভাব দেখা যাচ্ছে।

এই সীলের সংখ্যা কমা এবং জলে ভাসমান বরফের সংখ্যা কমার ফলে মেরুঅঞ্চলের ‘রাজা’ হিসেবে চিহ্নিত এবং পরিচিত মেরুভল্লুকের অস্তিত্ব প্রশ্নচিহ্নের সম্মুখে। বর্তমানে এরা তীব্র সংকটাপন্ন।
মিষ্টি জলে বসবাসকারী প্রজাতিরা যেমন, স্যামন, ট্রাউট, মাসকি সহ বেশ কিছু প্রজাতির মাছেরা জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। জলের তাপমাত্রা মাত্র ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বাড়লেই
অনেক ট্রাউটই মারা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশপ্রেমী সংগঠন এনভায়রণমেন্টাল প্রােটেকশন এডেন্সি (EPA) ১৯৯৬ সালে একটি সমীক্ষার রিপাের্টে উল্লেখ করেছে। যে, অন্ততঃ ২৪টি প্রদেশের ঠান্ডা জলের মাছ আগামী দিনে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ হারিয়ে যেতে পারে।

উত্তর আলাস্কার তীরবর্তী তটভূমিতে প্রাপ্ত পরিযায়ী বল্লা হরিণ ১৯৯০ সাল নাগাদ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছিল কারণ ঐ বছরেই সেখানে বসন্তকাল বেশ খানিকটা এগিয়ে এসেছিল। ফলস্বরূপ, তাদের
প্রধান খাদ্য গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের বীজ শুকিয়ে যায়। মেরু ভল্লুকেরা শিকার ধরার জন্য সমুদ্রে ভেসে থাকা বরফগুলাে ব্যবহার করে। কিন্তু, ভূ-উষ্ণায়ণের জন্য ভেসে থাকা বরফের মধ্যেকার দূরত্ব বাড়ছে ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জলে ডুবেই এদের মৃত্যু ঘটছে। বহু পরিযায়ী পাখিদের অস্তিত্ব তীব্র সংকটাপন্ন। বিজ্ঞানীরা বহুক্ষেত্রে দেখেছেন যে, এদের পরিযানকাল ও চক্র ব্যাহত হচ্ছে ভূ-উষ্ণায়ণের ফলে। এরা ক্রমশঃ আরও উত্তরের দিকে সরে যাচ্ছে। এদের ডিম ফুটানাের হার, বাচ্চার জন্মহার ক্রমাগত কমে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে বহু নিষিক্ত ডিম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এই ভূ-উষ্ণায়ণের জন্য। উপযুক্ত সময়ে পর্যাপ্ত খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবে এরা ভীষণভাবে সংকটাপন্ন। মেরুশেয়াল, নীলতিমি, টুনা মাছ প্রভৃতি আজ বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীতে নিজেদেরকে পরিণত করে চলছে। এদের স্বাভাবিক আবাসস্থল এবং খাদ্য উভয়েরই তীব্র সংকট।
সমুদ্রে” Ph” (অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের সূচক) এর মান অনেকটাই কমে আসছে। আগামী দিনেও কমবে। ফলে সমুদ্রজল আরও আম্লিক হচ্ছে – ফলে বহু প্রবাল, কাঁকড়া বা ঝিনুক তাদের খােলক তৈরি করতে পারছে না।

ডঃ রাজা রাউত

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর জুলাই- আগষ্ট ২০১০ থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

জীবন্ত জীবাশ্ম টুয়াটারা

5 (1) পৃথিবীর আদিম যুগের বহু প্রাণী আজ অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছে নানা কারণে। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা তাদের অনেকেরই অস্তিত্বের কথা নানাভাবে জানতে পেরেছেন। এদের জীবাশ্ম (Fossil) পাওয়া গিয়েছে পৃথিবীর নানা জায়গায়।  জীবাশ্ম অথচ জীবন্ত এই ব্যাপারটা কিরকম? বিস্ময়কর হলেও, ব্যাপারটি সত্য। কয়েক কোটি বছর আগে আবির্ভূত এক প্রাণী, নাম টুয়াটারা, আজও পৃথিবীর […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: