ডাব-নারিকেল সমাচার

জল-সংকট। শুদ্ধ পানীয় জল আশাই করা যায়না। কী আকাশের, কী ভূগর্ভস্থ জল সবই। সবই কম বেশি দূষিত। তাই তাে রাস্তার ধারে, দোকানে দোকানে, ভ্যান রিক্সায় ডাব। মানুষজনও তাই পান করছেন।
অনেকে হয়ত বিশুদ্ধ জল বলে পান, করেন আবার কেউ শরীর, মানে পেট ঠান্ডা রাখার জন্য পান করেন।সাধারণরা তলিয়ে দেখেন না অন্য কোন কারণ এর পেছনে আছে কিনা।

সংবাদ মাধ্যমকে রামদের সামনে তুলে ধরেছিল ডাবের জল পান নয়, উৎপদিত হােক নারিকেল।
কারণ নারিকেল শাঁস পুষ্টিকর। তার ছােবড়া, মালা ও গাছের -পাতা দিয়ে নানা প্রকার ক্ষুদ্র ও কুটীর শিল্প
গড়ে ওঠতে পারে, নানা লােককাজ পেতে পারেও বেকার সমস্যার সমাধানের
মাধ্যমে উন্নত জীবন গড়ে ওঠতে পারে।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে বর্তমান দিনে। নারিকেল চাহিদা মানুষের মধ্যে কমে গেছে। তার কারণ, অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, অধিকাংশ লােক অ্যাসিডিটি, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরােগে ভুগছেন এবং লিপিড প্রােফাইল এর স্বাভাবিক মাত্রার কমা বাড়া। তাই লােকে নারিকেলের প্রতি
আর আগ্রহী নেই বরং এড়িয়ে চলে।

যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরােগ নেই তারাও খায় না অ্যাসিডিটির ভয়ে। আজ অ্যাসিডিটি এমন পর্যায়ে গেছে জল খেলেও কারুর কারুর অ্যাসিডিটি। তারা ডাবের জল ও নারিকেল কোনটাই ছোঁয় না। এ যে দুঃসংবাদ।

ডাবের জল খাওয়ার উপকারিতা

ডাবের জল পানের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ডাবের মধ্যে ঢুকে পড়ে দেখি কী কী আছে এতে। বিশ্লেষণের পাতা ওল্টালে নজরে পড়ে এই জলে দ্রবীভূত আছে গ্লুকোজ, সােডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সাইটোকাইনিন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থ। ওই জলের গ্লুকোজ, স্বাদে মিষ্টি, শরীরে পুষ্টি জোগায়, সােডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনিসিয়ায় দৈনন্দিন জীবনে পেশীর ক্রিয়া, হৃৎপিন্ডের ছান্দিকগতি নিয়ন্ত্রণ করে, মল-মূত্র ও ঘামের সঙ্গে যে যে উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করে।

ডাবের পানি খাবেন কেন?
ডাবের জল খাওয়ার উপকারিতা

অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ গেলার বিকল্প হচ্ছে ডাবের জল পান করা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর জন্য আকাশ পথে উড়ে গেছিলেন এই ডাব নিয়ে, ওষুধও পথ্য হিসাবে যা শােনা যায়।

এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ডাবের জলে, তা হচ্ছে সাইটোকাইনিন। এই সাইটোকাইনিন হরমােন যেমন উদ্ভিদ দেহের পাতার বার্ধক্য বিলম্বিত করে ও কোষ বিভাজনকে উদ্দীপ্ত করে তেমনই মানবদেহে নানা প্রকার জৈবনিকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

সাইটোকাইনিন উদ্ভিদ হরমােন আর কাইনিন প্রাণী হরমােন। সবই কাইনিন, নাইট্রোজেন যুক্ত। প্রাণী হরমােন থেকে আলাদা করার জন্য হরমােন এর পূর্বে সাইটো যুক্ত করা হয়েছে। আমাদের দেহে রক্তরসেতে কাইনিন হরমোেন থাকে। এর জৈবনিক কাজ পরীক্ষিত, প্রমাণিত—রক্তস্রোত হার,
রক্তচাপ, রক্ত জালিকার ভেদ্যতা ইত্যাদি বজায় রাখে। এছাড়াও দেহেঅরেখ পেশী সংকোচন ও প্রসারণ নিয়ন্ত্রণকরে। কোন জীবানু ঘটিত আক্রমণে এই কাইনিন হরমােন প্রদাহের সৃষ্টি করে। তাই ডাবের জল পান শরীরে অতি উপকারী।নারকেলের ১৭টি ভেষজ ব্যবহার - রোদ্দুরে

সেজন্য ডাবের গাছের বনাঞ্চল সৃষ্টি জরুরি। যদিও বর্তমানে নানা প্রকার অপ্রাকৃত দ্রব্য নিয়ে শিল্প গড়ে উঠেছে।

নারিকেলের উপকারিতা

তাই নারিকেলের বা তার গাছের নানা অংশ জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তথাপি নারিকেল ডাব গাছ আরও লাগাবার প্রয়ােজন। শুধু তাই নয় নারিকেল দুধ খুবই পুষ্টিকর। যা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে নানাভাবে খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। নারিকেলের খাদ্যমূল্য শতকরা হিসাবে প্রােটিন ০.৯০ চর্বি ৭.১০, গ্লুকোজ ১.৮০, খণিজ লবন ০.৫৫ ভাগ। প্রায় মানব শরীরে মাতৃদুগ্ধের মত। যারা মাতৃদুগ্ধ পান করতে পায় না নারিকেল দুধ ও গাই দুধ মিশিয়ে তাদের খাওয়া যেতে পারে।

কাননকুমার প্রামাণিক

লেখটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর জানুয়ারি – ফেব্রুয়ারি -২০১৪ সংখ্যা থেকে সংগৃহীত।

Leave a Reply

%d bloggers like this: