ডায়াবেটিস কি,কারণ ও প্রতিকার

0
(0)

ডায়াবেটিস কী ?

ডায়াবেটিস হল একটি সাধারণ, নিয়ন্ত্রণযােগ্য, আজীবনের অবস্থা।আপনার শরীর আপনার গ্রহণ করা খাবারকে যেভাবে কাজে লাগায়, ডায়াবেটিস সেটাকে পালটে দেয়। আপনার শরীর খাবারকে শর্করায় পরিণত করে এবং শক্তির জন্য এই শর্করাকে ব্যবহার করে। ইনসুলিন হল একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমােন যা শর্করাকে আপনার রক্ত থেকে দেহের কোষগুলিতে চালিত করে। আপনার শরীর যদি ইনসুলিন প্রস্তুত না করে অথবা ইনসুলিন যথাযতভাবে কাজ না করে, তাহলে আপনার রক্তে শর্করা জমতে থাকবে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হয়ে গেলে, যেসব রক্তবাহী নালীগুলি আপনার কিডনি, হৃদপিণ্ড চোখ ও স্নায়ুগুলিতে রক্ত সরবরাহ করে, সেগুলির ক্ষতি করে এই সকল অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।

ডায়াবেটিসের ধরণঃ—

মূলত ৩ প্রকারের ডায়াবেটিস আছে।

টাইপ ১ ডায়াবেটিসঃ  শরীরের ইনসুলিন প্রস্তুতের ব্যর্থতার ফলস্বরূপ ঘটে এবং সেই ব্যক্তিকে ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নিতে হয়।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসঃ-ইনসুলিনের বিরুদ্ধে প্রতিরােধের ফলস্বরূপ ঘটে, এই অবস্থায় কোষগুলির যথাযথভাবে ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে অক্ষম হয় এবং কখনও কখনও এর সাথে ইনসুলিনের সম্পূর্ণ অভাবও থাকে।

গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসঃ-সেসব গর্ভবতী মহিলার আগে কখনও ডায়াবেটিস ছিল না, তাদের যখন গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তখন এই ডায়াবেটিস ঘটে। এর পরেই টাইপ ২ ডিএম হতে পারে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলি কী কী?

ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলি হল

১) খুব তেষ্টা পাওয়া,

২) ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া,

৩) খুব ক্ষিধে পাওয়া বা ক্লান্তি অনুভব করা,

৪) কোনাে চেষ্টা না করে ওজন কমা,

৫) ঘা ধীরে ধীরে সারা,

৬) শুকনাে ত্বক, চুলকানি,

৭) পায়ে অনুভূতি হারিয়ে যাওয়া অথবা পায়ে ঝিঝি ধরা,

৭) চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।

আপনার ডায়াবেটিস ধরা পড়ার আগে এই লক্ষণগুলির মধ্যে কোনাে একটা বা একাধিক হতে পারে। অথবা আপনার কোনাে লক্ষণই না থাকতে পারে। গ্লুকোজের মাত্রা যাচাই করার জন্য একটি রক্ত পরীক্ষায় দেখা যাবে যে আপনার প্ৰিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস আছে কিনা।

রক্তে গ্লুকোজের  মাত্রা কত হওয়া উচিত?

প্রত্যেকের রক্তেই কিছু গ্লুকোজআছে। যেসব লােকের ডায়াবেটিস নেই, তাদের স্বাভাবিক সীমা হল     ৭০ mg/dl থেকে ১২০ mg/dl। খাওয়ার পরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় কিন্তু ১ বা ২ ঘন্টা পরে আবার স্বাভাবিক সীমায় ফিরে আসে।

ডায়াবেটিস পরীক্ষা
ডায়াবেটিস পরীক্ষা

ডায়াবেটিসে কী কী জটিলতা হয়?

ডায়াবেটিসের সম্ভাব্য জটিলতা গুলির মধ্যে কয়েকটি হলঃ

১) হৃদপিণ্ড ও রক্তবাহী নালীর রােগ-যেমন অ্যাথারোস্কেরোসিস ও উচ্চরক্তচাপ।

২) স্নায়ুর ক্ষতি (নিউরোপ্যাথি),

৩) কিডনির ক্ষতি(নেফ্রোপ্যাথি),

৪) চোখের ক্ষতি,

৫) পায়ের ক্ষতি,

৬) ত্বক ও মুখের সমস্যা,

৭) অস্টিওপােরােসিস,

৮)অ্যালজাইমার্স ডিজিজ,

৮) কানে শােনার সমস্যা।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা আপনার হাতেই আছে।

ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি
ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি গুলি-

আরাে বেশি শারীৱিক কার্যকলাপ করুন, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ করার অনেকগুলি উপকার আছে। ব্যায়াম আপনাকে এইভাবে সাহায্য করতে পরে।

ক) ওজন কমানাে,

খ) ব্লাড সুগার কমানো,

গ) ইনসুলিনের প্রতি আপনার সংবেদনশীলতা বাড়ানো যা আপনার ব্লাড সুগারকে একটা স্বাভাবিক
সীমার মধ্যে রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা যায় যে এরােবিক ব্যায়াম এবং প্রতিরােধ প্রশিক্ষণ উভয়ই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে, তবে সবচেয়ে ভালাে উপকার পাওয়া যায় এমন একটি ফিটনেস প্রােগ্রাম থেকে যার মধ্যে দুটোই অন্তর্ভুক্ত আছে।

প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা তন্তুজাতীয় খাদ্য খান—

এটা রুক্ষ এবং শক্ত-আর এটা আপনাকে এইভাবে সাহায্য করতে পারে

১)আপনার ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের উন্নতি ঘটিয়ে আপনার ডায়াবেটিসের আশঙ্কাকে কমানাে।

২) আপনার হৃদরােগের ঝুঁকি কমানাে।

৩) আপনার পেট ভর্তি রেখে ওজন কমানােয় সাহায্য করে। যেসব খাবারে বেশি পরিমাণে ফাইবার আছে   তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হল শাকসবজি, বীন্সও গােটা দানাশস্য।

গােটা দানাশস্য খান-

যদিও এর কারণটা স্পষ্ট নয়, তবে গােটা দানাশস্যগুলি আপনার ডায়াবেটিসের আশঙ্কাকে কমাতে পারে এবং ব্লাড সুগারের মাত্রাকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। আপনি যে পরিমাণ শস্য খান, তার মধ্যে অন্তত অর্ধেক পরিমাণ গােটা দানাশস্য রাখতে চেষ্টা করুন। গােটা দানাশস্য থেকে তৈরি করা অনেক খাবারই খাবার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া যায়, যার মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরণের রুটি। প্যাকেটের উপরে আর উপাদানের তালিকায় প্রথম কয়েকটা জিনিসের মধ্যেই গােটা’ শব্দটা খুঁজুন।

অতিরিক্ত ওজন কমানঃ-

আপনার ওজন যদি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয়, তাহলে ওজন কমানাের উপরেই ডায়াবেটিস প্রতিরােধ করা নির্ভর করে। আপনি যত পাউন্ড ওজন কমাবেন, সেই প্রত্যেক পাউন্ড আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।

আর এটা কতটা উন্নতি করতে পারে, সেটা দেখে আপনি অবাক হতে পারেন।একটি পর্যবেক্ষণে, অতিরিক্ত মােটা প্রাপ্ত বয়স্ক লােকেরা যে পরিমাণ ওজন কমিয়েছিলেন, তার প্রত্যেক কিলােগ্রাম(২.২ পাউন্ড) এর জন্য ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এছাড়াও যারা মাঝারি পরিমাণ, অর্থাৎ তাদের শরীরের প্রাথমিক ওজনের কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমিয়েছিলেন, এবং নিয়মিত ব্যায়াম করেছিলেন, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুকি তিন বছর সময়কাল ব্যাপী প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

খামখেয়ালি খাদ্যাভ্যাস এড়িয়ে চলুন এবং আরাে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিনঃ-

কম কার্বোহাইড্রেট যুক্ত ডায়েট, গ্লাইসিমিক ইডেক্স ডায়েট অন্যান্য সাহায্য করতে পারে, তবে ডায়াবেটিস প্রতিরােধ করার ক্ষেত্রে এগুলির কার্যকরিতা বা এগুলির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব জানা নেই। আর একটি নির্দিষ্ট
শ্ৰেণীর খাবারকে পুরােপুরি বাদ দিলে বা কঠোর ভাবে সীমিত করলে আপনি হয়ত জরুরী পুষ্টিকর উপাদান নাও পেতে পারেন। এর পরিবর্তে, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার সর্বাঙ্গীন পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বৈচিত্র্য এবং খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভাবুন।

আপনি কখন খাবার খাচ্ছেন সেটা, আপনি কোন খাবার খাচ্ছেন তাকে প্রভাবিত করে।

১। প্রচুর পরিমাণে শর্করা বিহীন শাকসবজি, বীন্স খান।

২। শস্যগুলিকে যতটা সম্ভব কম প্রক্রিয়া করা অবস্থায় খান। ভাঙ্গা হয়নি এমন অবস্থায় যেমন শাঁসযুক্ত গোটা শস্যের রুটি, বাদামী চাল, গােটা বার্লি, জোয়ার, আর গােটা গম, অথবা পরম্পরাগত ভাবে প্রক্রিয়াকৃত,যেমন শিলে গুঁড়াে করা শস্যের রুটি এবং প্রাকৃতিক গ্র্যানােলা বা সিরিয়ালস।

৩। সাদা আলু এবং সাদা পাউরুটি আর সাদা পান্তার মত সংশোধন করা শস্যের খাবার এড়িয়ে চলুন।

৪। বীনস, মাছ বা ছাল ছাড়ানাে মুরগীর মাংসের মত স্বাস্থ্যকর প্রােটিন খান।

৫। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আছে এমন খাবার বেছে নিন, যেমন অলিভ (জলপাই) তেল। ফাস্ট ফুড আর অনেক প্যাকেটের খাবারেই যে আংশিকভাবে হাইড্রোজেন যােগা করা ফ্যাট (ট্র্যান্স ফ্যাট) পাওয়া যায়, সেটা পুরােপুরি বাদ দিন।

৬। প্রতিদিন তিনবার প্রধান আহার করুন আর এক থেকে দুবার হালকা খাবার খান আর সকালের জলখাবার বাদ দেবেন না।

৭। ধীরে ধীরে খান আর পেট ভর্তি হয়ে গেলে খাওয়া বন্ধ করুন।

৮। মাখন বা ভেজিটেবল তেলের পরিবর্তে অলিভ তেলে রান্না করুন।

৯। রান্না করার আগে মাংস থেকে যে কোনাে দৃশ্যমান ফ্যাট ছেটে ফেলুন। আর মুরগীও টারকির মাংস রান্না করার আগে ছাল ফেলে দিন।

১০। ডুবাে তেলে ভাজার বদলে গ্রিল বা বেক করুন, অথবা নাম মাত্র তেলে ভাজুন।

১১। লাল মাংসের বদলে সপ্তাহে ২ বা ৩বার মাছ খান।

ডায়াবেটিস রোগির জীবনযাত্রা ঃ-

আপনি যদি শরীর চর্চা করার সময় একেবারেই না পান, তাহলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষদের দৈনন্দিন জীবনে আরাে বেশি শরীর চর্চাকে অন্তর্ভুক্ত করতে সাহায্য করার জন্য নিচেকিছু পরামর্শ দেওয়া হল।

১) আপনার বাড়ি পরিষ্কার করুন। ঘর পরিষ্কার করলে সত্যিই ঘাম ঝরতে পারে। আপনার ঘরবাড়িকে ঝকঝকে রাখার জন্য আপনাকে কখনাে ঝুকে, আবার কখনাে হাত বাড়িয়ে জিনিসের নাগাল পেতে হয়, আর এর জন্য পেশীগুলিকে কাজে লাগাতে হয়। বাড়ির উঠোনে কাজ করা, গাছের পাতা তােলা, বেলচা দিয়ে মাটি খোঁড়া আর বাগান করার মত কাজও উপযােগীহয়।

২) শরীরচর্চাকে সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত করুন। রাতের খাবারের সময়ে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশারা বদলে, আপনি হাঁটতে হাঁটতেও গল্প করতে পারেন।

৩) বিজ্ঞাপনের বিরতির সময়ে চলাফেরা করুন। আপনি যদি খুব বেশি টিভি দেখেন, তাহলে আরেকটু বেশি চলাফেরা করার একটা ভাল উপায় হল বিজ্ঞাপনের বিরতির সময়ে কাউচ থেকে উঠেপড়া। আপনি প্রতিটা বিরতিতে লাফাতে, সিট আপ করতে বা ডন দিতে পারেন।

৪) আপনার গাড়ীকে আরাে দূরে দাঁড় করুন। মল বা অফিসে পৌঁছানাের জন্য আপনাকে যে কয়েক ধাপ বেশি হাঁটতে হবে, সেগুলি একসাথে যােগ করলে সত্যিই উপকার হতে পারে।

৫) ফোনে কথা বলার সময়ে উঠে দাঁড়ান। বসে থাকার থেকে দাঁড়ানাে অবস্থায় বেশি ক্যালােরি খরচ হয়, তাই গল্পকার সময়ে চলাফেরা করতে থাকুন।

৬) সিঁড়ি ব্যবহার করুন। লিফট ব্যবহার করার বদলে সিঁড়িদিয়ে ওঠানামা করার মত একটা সহজ ব্যাপার হল সক্রিয় থাকার একটা অসাধারণ উপায়।

৭) অল্প দূরে কেনাকাটা করতে যাওয়ার সময়ে হাঁটুন। আপনি যদি মুদির দোকান বা ওষুধের দোকান থেকে এক-দুই মাইল দূরে থাকেন, তাহলে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার বদলে হাঁটতে চেষ্টা করুন।

ফল খাওয়ার অনুমতি আছেঃ—

প্রতিদিন যে কোন ১টি ফল খাওয়ার অনুমতি। আছে (ব্লাড সুগারের মাত্রা অনুসারে আপেল, পেঁপে, পেয়ারা, মােসাম্বি, কমলালেবু, বেদানা)

সাধারণ নির্দেশিকাঃ-

উপোস করবেন না অথবা প্রধান আহারগুলি বাদ দেবেন না। ২ বার বিশাল পরিমাণে খাওয়ার বদলে অল্প অল্প পরিমাণে বারবার খান। রিফাইন্ড তেল ব্যবহার করবেন (প্রতিদিন ৩-৪ চা-চামচের বেশি নয়)।
ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলা উচিত, তবে সাদা অংশটা খাওয়া যেতে পারে।

সপ্তাহে একবার মুরগীর মাংস (চামড়া ছাড়ানো ৭৫ গ্রাম) খাওয়া যেতে পারে।সপ্তাহে দুবার মাছ খাওয়া যেতে পারে। মাছ ভাজবেন না। খাবারের লবণের পরিমাণ কমাবেন এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সমস্ত
নােনতা ও সােডিয়ামে ভরপুর খাবার এড়িয়ে চলবেন, যেমন নােনতা বিস্কিট, পাপড়, আচার, সস, কৌটোর খাবার, প্যাকেটের স্যুপ, বেকিং পাউডার ও সােডা।

ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করতে হবে।নিয়মিত শরীরচর্চা করুন (সকালে ৪৫ মিনিট হাঁটুন। অথবা অন্য যে কোনাে মাঝারি পরিশ্রমের ব্যয়াম করুন)।ননীযুক্ত দুধের বদলে ননী তােলা দুধ কম ফ্যাটযুক্ত দুধ ব্যবহার করুন।

ডায়াবেটিস রোগীর বাঙালী খাবার চার্ট বা খাদ্য তালিকাঃ

 

সকাল ৭টাঃ চাপাটি (২টি ছােট), ডিম, সবজি A এর তরকারি, ফল A।

সকাল ১১টাঃ মুড়ি, বিস্কিট, ‘ঘােল’, ডাবের জল, ফল ।

দুপুর ১টাঃ ভাত (২ কাপ), মাছ, মাংস, ডাল (১ মাঝারি ঘন) সবজি।

বিকেল ৪টেঃ দুধ (টোন্ড, ১ ছোটকাপ), বাদামবা ছােলা।

রাত ৯টাঃআটার চাপাটি, মাছ, ১৫ গ্রাম ডাল, সবজি B।

সবজি Aঃ সব ধরণের পাতাযুক্ত সবজি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, পটল, বেগুন, কাঁচা পেঁপে, লাউ, ঝিঙে, সজনে ডাঁটা, করলা ইত্যাদি।

সবজি Bঃ গাজর, পেঁয়াজ, মটর, কাঁচা আম, বী, কাঁচকলা, এঁচোড়, মোচা, ঢেড়স।

ফল Aঃ কালােজাম, কামরাঙা, সাদা জাম, আমলকী, ডাবের জল, পাতিলেবু ইত্যাদি।

ফল Bঃ কমলালেবু (নাগপুর, দার্জিলিং নয়), নাশপাতি, পীচ, মুসাম্বি, পেয়ারা (খুব বেশি পাকা নয়), তরমুজ/ মেলন (১কাপ), চেস্টনাট (৬-৭)।

নিচের ফলগুলি তুলনামূলক ভাবে মিষ্টি, আর তাই এগুলি ডায়াবেটিকদের খাওয়া উচিত নয় বলে একটা ধারণা আছে। তবে, পেঁপে, আনারস (অল্প পরিমাণে), সফেদা (১টি ছােট), আঙুর (৮-১০টি), আপেল (১টি মাঝারি) সিঙ্গাপুরীকলা (১/২টি) খাওয়া যেতে পারে।

ডায়াবেটিস সম্পর্কে সাধারণ কিছু প্রশ্ন উত্তরঃ

ডায়াবেটি্স রোগীকে যে কোনাে মূল্যেই চিনি খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে ?

তথ্য । ভাল খবর হল এই যে, আপনি যতক্ষণ পর্যন্ত যথাযথ ভাবে পরিকল্পনা করছেন, ততক্ষণ আপনার প্রিয় খাবার গুলির স্বাদ উপভােগ করতে পারেন। মিষ্টিকে পুরোপুরি আপনার সীমার বাইরে রাখতে হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এটা স্বাস্থ্যকর আহার পরিকল্পনার অংশ হবে অথবা আপনি এর সাথে শরীরচর্চা করবেন।

ডায়াবেটিস রোগীদের  অধিক প্রােটিনযুক্ত খাবার সবচেয়ে ভালো?

পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে যে অত্যাধিক প্রােটিন, বিশেষত পশুদের থেকে পাওয়া প্রােটিন খেলে প্রকৃতপক্ষে ইনসুলিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠতে পারে, যা ডায়াবেটিসের একটি প্রধান কারণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার মধ্যে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট তিনটিই থাকে। আমাদের শরীরের যথাযতভাবে কাজ করার জন্য এই তিনটি উপাদানই প্রয়ােজন হয়। মূল কথা হল একটা ভারসাম্যপূর্ণ আহার করা।

ডায়াবেটিস রোগীদের  কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পরিমাণ অনেক কমিয়ে দিতে হবে ?

মূলকথা হল একটা ভারসাম্যপূর্ণ আহার করা। আপনি যে ধরণের কার্বোহাইড্রেট খান এবং তার
পরিবেশনের পরিমাণ হল বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গোটা শস্য কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার উপরে নজর দিন, কারণ এগুলি ফাইবারের ভাল উৎস আর এগুলি ধীরে ধীরে হজম হয়, যার ফলে ব্লাড সুগারের মাত্রা আরো সমান থাকে।

ডায়াবেটিস রোগীদের  আর স্বাভাবিক ভাবে খেতে পারবেন না ?

আপনার বিশেষ ডায়বেটিক খাবার প্রয়ােজন হবে।  আপনি ডায়াবেটিস প্রতিরােধ বা নিয়ন্ত্রনের প্রচেষ্টা করুন বা না করুন স্বাস্থ্যকর খাওয়ার প্রধান নিয়মগুলি কিন্তু একই থাকে। দামী ডায়াবেটিক খাবারগুলি সাধারণত কোনাে বিশেষ উপকারই দেয় না। আপনি যদি ভারসাম্য বজায় রেখে খান, তাহলে আপনি সহজেই আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একসাথে খেতে পারেন।

লেখকঃ ডাঃ কৌশিক চক্রবর্তী

শ্রমজীবী স্বাস্থ্য, জানুঃ ২০১৪ (৫-৮ পৃঃ) থেকে আহরণ হয়েছে।
লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর মার্চ এপ্রিল২০১৬ থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

বুড়াে হবো না

0 (0) পৌরাণিক চরিত্র ‘রাজা যযাতিক’ কথা মনে আছে ? যৌবনকে সারা জীবন অটুট রাখতে গিয়ে যিনি নিজের পুত্রের ‘যৌবন’ চেয়ে নিয়েছিলেন।প্রাকৃতিক নিয়মেই সকল জীবের যৌবনের অন্তে বার্ধক্য শুরু হবে। বার্ধক্য অর্থাৎ ক্ষয়। শরীরের কোষের কার্যকারিতার অবনতির শুরু। রােগ ব্যধির আগমন হবে। এক সময় মৃত্যু শরীরের কর্মকান্ডের সমাপ্তি ঘােষণা করবে। […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: