সুপার ফুড কাঁঠাল

poribes news
5
(2)

দুনিয়া কাঁপানো কাঁঠাল :
ভারতের সুপার ফুড কাঁঠাল, আমাদের অতিপরিচিত এক ফল যা হয়ে উঠেছে সুপার ফুড ! ভারতের কাঁঠালের হয়েছে বিশ্বায়ন । ভারত থেকে ক্রমেই কাঁঠাল ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বে,এই বিশ্বায়নের যুগে দ্রুত গতিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা । প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য মিলিয়ে মিশিয়ে একাকার করে দিচ্ছে কাঁঠাল ।

সুপার ফুড কাঁঠাল
সুপার ফুড কাঁঠাল

বিশ্ব বাজারে কাঁঠালের সর্বাধিক সরবরাহকারী দেশ হলো ভারত, এবং ভারতের সর্বত্র কাঁঠাল উৎপন্ন হলেও  সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপন্ন হয় কেরালায় । সামগ্রিক ভাবেই দক্ষিণ ভারতের অনুকূল আবহাওয়া কাঁঠাল চাষের পক্ষে খুবই উপযোগী ! সেই কাঁঠালই এখন দুনিয়া কাঁপাচ্ছে । ভারতের পর কাঁঠাল উৎপাদনে অগ্রগণ্য দেশ হলো বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ড ।

কাঁঠালের বিজ্ঞান সম্মত নাম Artocarpus heterophyllus

 

কাঁঠাল দুই ভাবে খাওয়া হয়। কাঁচা কাঁঠাল অর্থাৎ  ইঁচড় সবজি হিসাবে রান্না করে খাওয়া হয়। পাকা কাঁঠাল ফল হিসাবে খওয়া হয় ।আবার পাকা কাঁঠালের বিচি পুড়িয়ে বা সবজি হিসাবে খওয়া হয়।

পাঁকা কাঁঠাল ও কাঁঠাল বিচি
পাঁকা কাঁঠাল ও কাঁঠাল বিচি

কাঁঠালের এই জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির দুটো কারণ রয়েছে,প্রথমত;এই  অনেকেই চিকেনের উপর ভরসা করতে পারছেন না তাই পরিবর্ত হিসেবে কাঁঠালের নাম উঠে আসছে । দ্বিতীয়ত করোনার জন্য রাজ্য বর্ডার আটকানো থাকায় স্থানীয় খাবারের সহজলভ্যতার উপর অনেকটাই নির্ভর করতে হচ্ছে ।

বিশেষত, নিরামিষাশী এবং ভেগানদের মধ্যে বর্তমানে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে পৌঁছেছে । স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে অনেকেই এখন উদ্ভিদজ খাবারের দিকে ঝুঁকছেন, কারণ এই জাতীয় খাবারে শরীরের যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা মিটে যায় কিন্তু কোনো ক্ষতিকারক প্রভাব থাকে না বললেই চলে । তাই একে সুপার ফুড বলাই যথার্থ ।

সম্প্রতি জেমস জোসেফ মাইক্রোসফটের ডিরেক্টরের চাকুরী ছেড়ে ‘জ্যাকফ্রুট 365’ নামে একটি স্টার্টআপ খুলেছেন । তাঁর মতে, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই সুপার ফুড এবং তিনি ও তাঁর কোম্পানি একে পাশ্চাত্যের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবেন । কাঁঠাল ভোজনবিলাসীদের এতটাই মনে কেড়েছে যে, পিজজার উপরের পর্কের আস্তরণের এখন দখল নিয়েছে কাঁঠাল !

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ ভাবেই কাজ করছেন, জেমস এবং গবেষণায় উঠে এসেছে কাঁঠাল থেকে উৎপন্ন আটা অতন্ত্য উপযোগী ! ডায়বেটিসের পক্ষেও ভীষণ কার্যকর এই কাঁঠালের আটা, সম পরিমান ভাত বা রুটির চেয়ে এই আটার পুষ্টি মূল্য প্রায় দ্বিগুন ।

দক্ষিণ ভারতে বর্তমানে কাঁঠালের আটা থেকে ইডলিও তৈরী করা হচ্ছে । জেমসদের গবেষণায় উঠে এসেছে একাধিক তথ্য, প্রায় ৩০ গ্রাম কাঁঠালের আটায় প্রায় ১ গ্রাম প্রেক্টিক থাকে যা প্রায় তিনটি আপেলে উপস্থিত প্রেক্টিকের সমপরিমাণ । কথায় বলে,প্রতিদিন একটি করে আপেল ,আপনার থেকে ডাক্তার কে দূরে রাখবে তাহলেই ভেবে দেখুন ; মাত্র 30 গ্রাম কাঁঠালের আটা কি করতে পারে ।

এছাড়াও কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার, ভিটামিন-A,ভিটামিন-C, ভিটামিন-B কমপ্লেক্স, আয়রন,ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম ।

কাঁঠালের সাত গুন :

(A ) ওজন নিয়ন্ত্রণ : কাঁঠালে প্রচুর পরিমান ফাইবার রয়েছে, যা হজমে সাহায্য করে । যদি শরীরের ওজন কমানো আপনার লক্ষ্য হয়ে থাকে তাহলে আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে রাখতেই হবে কাঁঠাল ।

(B) ইমিউনিটি : কাঁঠালে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি, কাঁঠাল কে এক অনাক্রম্যতা বর্ধক খাবারে পরিণত করেছে । ভিটামিন-সি শ্বেত রক্তকনিকা তৈরিতে সাহায্য করে এবং ইনফ্ল্যাম্যাশনের ফলে সৃষ্টি হওয়া ফ্রি রাডিকেল অর্থাৎ মুক্ত মূলক গুলির এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে কাঁঠালে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সাহায্য করে ।

(C) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : কাঁঠালে উপস্থিত পটাশিয়াম ভেসোডায়ালেটার হিসেবে কাজ করে ; যা আমাদের রক্তবাহ গুলিতে বিরাম দেয় অর্থাৎ রক্তবাহ সংকোচনে সাহায্য করে, ফলে রক্তচাপ এবং হৃদ সংবহনতন্ত্রের স্ট্রেস হ্রাস পায় । হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভবনা কমে যায় ।

(D) অস্থির গঠন : কাঁঠালে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং পটাশিয়াম,ক্যালসিয়াম অস্থির গঠনে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়াম শোষণের ক্ষেত্রেও এর যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে ।

(E)চোখ ও ত্বক : উপস্থিত ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টি ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের ক্ষেত্রে বার্ধক্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে,অর্থাৎ বার্ধক্য প্রকাশের লক্ষণ গুলিকে বিলম্বিত করে ।

(F) অনিদ্রা হ্রাস : কাঁঠালে থাকা ম্যাগনেশিয়াম দেহে নিউরোট্রান্সমিটারের পরিমান বৃদ্ধি করে যা ইনসোমিকদের পক্ষে অর্থাৎ অনিদ্রার রোগীদের ক্ষেত্রে খুব কার্যকরী , নিউরোট্রান্সমিটারের আধিক্য ঘুমাতে সাহায্য করে । তাই যে ব্যাক্তি অনিদ্রায় ভুগছেন তাকে নিয়মিত কাঁঠাল খাওয়ালে উপকার হতে পারে ।

(G) ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ : উপস্থিত ফাইবার এবং প্রাকৃতিক শর্করা রক্তের শর্করার পরিমান নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । দেহের মধ্যে ইন্সুলিন এবং গ্লুকোজের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে ডায়বেটিসের লক্ষণ গুলি প্রকাশে সাহায্য করে এবং দেহ কে ইন্সুলিন সেনসেটিভ বা সক্রিয় করে তোলে ।তবে ডায়াবেটিক রোগীদের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই পাঁকা কাঁঠাল খাওয়া উচিত।

কাঁঠালের এতো গুন উপলব্ধি না করেই, কাঁঠাল দখল করেছে বাঙালির পাত ! ভোজন রসিক বাঙালির কাছে ফল সবজি সব হিসেবেই ছক্কা হাকিয়েছে জ্যাকফ্রুট এখন সে পাড়ি জমিয়েছে পাশ্চাত্যে,কার্যকরী খাবার হিসেবে এখন সে সুপার ফুড ।

এই কারনেই কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল ।

সৌভিক রায়

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 2

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

গাছের পাতায় ডিম পাড়া মাছ কোপিলা আরনােলডি

5 (2) শ্ৰীমান কোপিলা (Copella arnoldi) থাকে দক্ষিণ আমেরিকায়। আমাজন ও তার শাখানদীতে সুখে শান্তিতেই আছে। খাচ্ছে-দাচ্ছে, নদীতে সাঁতার কাটছে, আর প্রজনন ঋতু এলে শ্ৰীমতী কোপিনার সঙ্গে সংসার ধর্ম পালন করছে। তবে ভয় যে একেবারে নেই তা নয়। শত্রুর আক্রমণে মাঝে মধ্যে কপাৎ-কোঁৎ হয়ে তাদের পেটে চালান হয়ে যায়। এমন […]
কোপিলা আরনােলডি, গাছের পাতায় ডিম পারে
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: