ঢ্যাড়শ / ভেন্ডি

নামান্তরে ও অসমীয়া, ওড়িয়া-ভেড, বাংলা- ঢেড়শ, হিন্দী,পঞ্জাবী-ভিন্ডি, গুজরাতি- ভিণ্ডা,কন্নড় -ভেন্ডেকায়ী, মালয়ালম,তামিল – ভেড়াক্কা, মারাঠী- ভেণ্ডা,ভেলুণ্ড-ভেড়া সংস্কৃত-রােমশ, গন্ধমূলা, ইংরাজী Ladies finger

ভেন্ডির উৎপত্তি ও বিস্তার ঃ আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে ইথিওপিয়াতে নাকি ঢেড়শ নামক এই সবজিটির জন্ম। মিশর, জর্ডন লেবালন, তুরস্ক, ইরান ও ইয়েমেন এর লােকেরা আজও ঢেড়শকে
মাংসের সঙ্গে রান্না করেই যায়। এখন ভারত এবং তার আশপাশের দেশগুলিতে এর ব্যাপক চাষ করা হয়ে থাকে।

 

পরিচিতিঃ একটি খাড়া বিরূৎজাতীয় বর্ষজীবী রােমশ ক্ষুপ সাধারণত ২-৩ ফুট উঁচু হয়ে থাকে। পাতা ও কান্ড খসখসে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রােমযুক্ত। পাতা করতলাকার ৩-৫ভাগে বিভক্ত, অনিয়মিত ভাবে দন্তর।
পা তার বোঁটা ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্ত রােমযুক্ত। ফুল কাক্ষিক,একক ভাবে ফোঁটে, হলুদ রঙের মাঝখানটা লালচে বেগুনী।

ফলঃ – ৬-১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা,ঝুলন্ত ক্যাপসুল তার আগার দিকটা ক্রমশ সরু হয়ে আসা। ৬-৮টি
শিরাযুক্ত বীজ গােলাকার ধূসর বর্ণের দাগযুক্ত গুনাবলী পিচ্ছিল, রুচিকারক, ভেদক, স্নিগ্ধ, কোমল, বলকারক,পিত্ত ও কফ প্রশমক, মূত্রবর্ধক, বায়ূবর্ধক।

ভেন্ডির রাসায়নিক সংযুতিঃ -প্রতি ১০০ গ্রাম ভেন্ডি/ঢ্যাড়শে কার্বোহাইড্রেট ৭.৩০ গ্রাম, প্রােটিন ২ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ৩.২০ গ্রাম, মােট ফ্যাট ০.১ গ্রাম। ফোলেট তথা ফলিক অ্যাসিড ভিটামিন বিনাইন ৩৭মিগ্রা, পটাশিয়াম ২৫৭ মিগ্রা, সােডিয়াম ৭.৮ মিদ্রা, ম্যাগনিসিয়াম ০.৯৯ মিগ্রা, ফসফরাস ৬৩ মিগ্রা, ম্যাঙ্গানিজ ০.৯৯ মিগ্রা, কপার ০.৯৪ মিগ্রা, লৌহ ০.৮ মিগ্রা, সিলােনিয়াম ০.৭ মিগ্রা, জিঙ্ক ০.৬০ মিগ্রা, ভিটামিন এ ৬৬০ আইইড, ভিটামিন ৫৩মিগ্রা, ভিটামিন সি ২১ মিগ্রা, যামামিন ২০০মিগ্র,বিবাকোভিন ০.০৬০ মিগ্রা, নিয়াপিন ১ মিগ্রা, প্যানটোমেনিক অ্যাসিড ০.২৪৫ মিগ্রা, পাইরিভক্সিন ০.২১৫মিগ্রা,বিটা ক্যারােটিন ২২৫মিগ্রা। এতে কোলেষ্টেরল নেই। শক্তি মেলে ৩৩ কিলো ক্যালােরী।

কাঁচা ভেন্ডি/ঢ্যাড়শে খেলে সমস্ত ভিটামিন ‘সি’ ই মেলে, সেদ্ধ করে খেলে পরিমান কমে যায়।

1280px-Ladies'_Finger_BNC

উপকারিতা – কচি ভেন্ডি/ঢ্যাড়শে কুচি সারা রাত ভেজানাে জল হাপানিতে উপকার করে। ধমনিতে বেয়ারা চর্বি জমতে দেয় না। চোখে ছানি পড়া আটকায়।ব্রন ফুস্কুরির প্রদাহ দমন করে। গর্ভাবস্থায় চতুর্থ থেকে দ্বাদশ সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়তি ফোলিক অ্যাসিড দরকার হয়। তাই গর্ভবতীদের ঢ্যাড়শ খেতে বলা হবে থাকে।কারণ ঢাড়শে ফোলেট থাকে।
ত্বককে তকতকে রাখার জন্য মিশরের রানি কিয়ােপেট্টা ও চীনের রানি  ইয়াং গুহ ফেই নিয়মিত ঢ্যারশ খেতেন।

লকায়িত ঔষধার্থে প্রয়ােগঃ-

অম্বলে-যারা অম্বলে ভােগেন তারা দুবেলা ঢ্যাশ সেদ্ধ খান। সারা রাত ঢ্যারশ কুচি ভিজিয়ে রাখা একগ্লাস জল সকালে খালি পেটে খেলে উপকার পাবেন। আর বেশী উপকার পাবেন দুটি করে কচি ঢ্যাবশ দুবেলা চিবিয়ে খেলে। এতে কোষ্ঠবদ্ধতারও উপকার হয়।
আলসার ভুগছেন? ভেন্ডি/ঢ্যাড়শে খান। ১ জন প্রনালীর উপর অস্থায়ী পরত তৈরী করে শুশ্ৰকরে ঢ্যাশ।

 কাশিতেঃ খুশখুশে কাশি হলে কাঁচা ভেন্ডি/ঢ্যাড়শে (বীজ বাদ দিয়ে) কুচিকুচি করে কেটে কড়া রােদে শুকিয়ে গুড়া করে ৫৭ গ্রাম চিনি দিয়ে চিনির রসে মেড়ে বড়ীর মত করে কাচের শিশিতে রাখুন। রােগের প্রকোপ হলে যে কোন বয়সেরই হােন না কেন চুষে খান একদিনেই আরাম।

দৌর্বল্যেঃ- যার খুৰ দুৰ্বল অবসন্ন বােধ করেন। কাজে মন লাগে না।তারা পরপর কয়েকদিন ভেন্ডি/ঢ্যাড়শে সেদ্ধ খেয়ে যান। সহজেই চনমনে হয়ে যাবেন।

প্রস্রাবের উগ্রগন্ধে-কাঁচা ভেন্ডি/ঢ্যাড়শে (বীজ বাদে) ২৫-৩০ গ্রাম, ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে দেড় দুকাপ থাকতে নামিয়ে চটকে ছেকে সে পিচ্ছিল জলটি খেলে প্রস্রাব সরল হৰে পরিমানে বাড়বে আর গন্ধের তীব্রতা কমবে।জলটি একবারে না খেয়ে সারা দিনে ৩-৪বারে খেলেও হবে। প্রস্রাবের স্বল্পতায় বেশী জল খাওয়া সত্ত্বেও প্ৰজাৰকম, এক্ষেত্রে ২০-২৫ গ্রান কাঁচা ঢ্যাশ ৪-৫ কাপ জলে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ঐ পিচ্ছিল জলটি দিনে ২-১ বার খেলেই প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়ে আসে।

ব্লাড সুগারে/ ডায়াবেটিসে-রক্তে শর্করার আধিক্য থাকলে কালােজাম বীজচূর্ণ ও ৩-৪টি কচি ঢ্যারশ সিদ্ধ জলের সঙ্গে প্রত্যহকিছুদিন খেলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

লেখকঃ প্রনবেশ কুমার চৌধুরী

লেখটি  বিজ্ঞান অন্বেষক থেকে সংগৃহীত।

Leave a Reply

%d bloggers like this: