বাচ্চার খেলনার বিপদ

5
(1)

নিক নাক   ভিনাইল ড লস (ভিনাইলে তৈরি পুতুল) নরম নরম যে খেলনাগুলােকে সহজেই যা খুশী করা যায়। এছাড়াও ব্যাটারী চালিত খেলনাগুলােও সমান বিপদজ্জনক, ক্ষতিকারক। ব্যাটারি থেকে যেসব ভয়ংকর, Noxious নিঃসৃত উপজাত পদার্থ পাওয়া যায়, তার অন্যতম হল ডাইক্সিন (Dioxin) এবং বেনজিন।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে এই রাসায়নিক পদার্থগুলাে কারসিনােজেনিক অর্থাৎ এরা মানবদেহে ক্যান্সার তৈরি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও স্নায়ুতন্ত্রের গন্ডগােল, জন্মগত ত্রুটি প্রভৃতি হতে পারে। বাচ্চাদের খেলনায় সাধারণত কার্বন, অ্যালকালাইন জিঙ্ক ইত্যাদি নানা ধরণের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। এগুলাে

বাচ্চাদের পক্ষেই শুধু নয়, দূষণ ডেকে আনে সমগ্র পরিবেশই। আরেকটি তথ্য ব্যাটারি কিন্তু রিসাইকেল হয় না তাই এর থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থগুলাে মাটি ও বাল দূষণ ঘটায়।

কেন বাচ্চাবেই বিপদ( Risk) বেশি কেন?

প্লাস্টিকের খেলনা থেকে যে দূষণ ছড়ায় তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সবাই পরিবেশ ও আমরা। দূষণজনিত স্বাস্থ্যসমস্যা সবচেয়ে বেশি বর্তায় বাচ্চাদের ওপর কারণ

১। বাচ্চাদের শরীর খুব ছােট, কমলীয় ও নরম প্রকৃতির হয়, তাই সহজেই এই বিপদজনক রাসায়নিক গুলাে স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে অন্যান্য অঙ্গে জমা হতে পারে।

২। মস্তিষ্কসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলাের বৃদ্ধি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যেহেতু তখনও চলতে থাকে, তাই বেশি পরিমাণে এই রাসায়নিকগুলো জমা হতে থাকলে তা ওই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলাের বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়
প্রভাব ফেলে। এর ফলে বৃদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয়, দেখা দিতে পারে অস্বাভাবিক গঠনও।

৩। বাচ্চাদের প্রায় সব জিনিসই মুখে দেওয়ার এক অদ্ভুত প্রবণতা থাকে। ফলে, প্লাস্টিকের খেলনাথেকে খুব সহজেই দূষিত পদার্থগুলাে বাচ্চাদের পেটে চলে যায়। যত সহজে এই পদার্থগুলাে বাচ্চাদের দেহে
ঢোকে, তত সহজে। এরা দেহ থেকে বেরােয় না। কারণ, লঞ্জের মাধ্যমে এইসব টক্সিন বা ভারী ধাতবগুলাে মূলত যকৃত, অস্থি প্রভৃতি অঙ্গে জমা হত থাকে। পরিণতিতে দেখা দেয় বাচ্চাদের নানা স্বাস্থ্যসমস্যা।
বিপদ থেকে বাঁচতে!!
প্লস্টিকের খেলনা থেকে দূষণ এবং সেই দূষণ থেকে বাচ্চাদের ও আপনার স্বাস্থ্য সমস্যা -এই দুই বিপদ থেকেই আপনি বাঁচতে পারেন।

কী করবেন-

ক) প্লাস্টিকের খেলনা কেনা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

খ) একদম এড়ানো সম্ভব না হলে, যতটা পারেন কম প্লাস্টিকের খেলনা কিনুন।

গ) এই ধরণের খেলনাগুলােকে ডিসপাজিং করবেন না, বরং এগুলাে যাতে রিসাইকেল করা যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

ঘ) বিকল্প পরিবেশবান্ধব খেলনা যেমন -কাপড়ের বা কাঠের খেলনা দিয়ে বাচ্চাদের ভােলাতে চেষ্টা করুন।

ঙ) বাচ্চাদের এমন খেলনা কিনে দিন যাতে ওঁদের কল্পনাশক্তি, চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশ হয়।

চ) প্লাস্টিকের খেলনার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলুন। ফলে, বিশ্বের অনেক দেশেই আজকের সচেতন মা-বাবা তাদের আদরের সােনামণিদের জন্য খুঁজছেন বিকল্প খেলনা। প্লাস্টিকের খেলনার বদলে অন্য কিছু-যা একদিকে পরিবেশ বান্ধব হবে, অন্যদিকে ইনডাের পলিউশন তৈরি করবে না।

ফলে বাচ্চাদের স্বাস্থ্য থাকবে সুরক্ষিত। বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে তাই আজকের সচেতন মা-বাবা ফিরে পেতে চাইছেন তাদের নিজেদের ছােটোবেলার খেলনাগুলোই। প্লাস্টিকের নয়, কাপড়ের বা কাঠের পুতুল দিয়ে ভােলাতে চাইছেন বচ্চাদের। বিজ্ঞানীরা বলেছেন রঙ না করা, কাঠ দিয়ে বানানাে
পুতুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বাচ্চাদের জন্য। সােলার পাওয়া বড় টমগুলােও বিকল্প পরিবেশ বান্ধব খেলনা হিসেবে একেবারে ফেলনা

লেখকঃ   ডঃ সােমা বসু

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক  থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

কোলেস্টেরল ও হৃদরোগ

5 (1) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপাের্ট মানবজাতির অন্যতম ঘাতক হিসাবে উচ্চ রক্তচাপকে চিহ্নিত করেছে। প্রতি বছর এই কারণে ৯৪ লক্ষ ভারতীয়ের মৃত্যু হয়। গড়ে শতকরা ২১ জন ভারতীয় এই উচ্চ রক্ত চাপের রােগী। এই সংক্রান্ত রােগের চিকিৎসায় ভারতে বহু কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, হু’র সমীক্ষা জানাচ্ছে ভারতে ২৫ বছর বয়সীদের […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: