কোলেস্টেরল ও হৃদরোগ

5
(1)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপাের্ট মানবজাতির অন্যতম ঘাতক হিসাবে উচ্চ রক্তচাপকে চিহ্নিত করেছে। প্রতি বছর এই কারণে ৯৪ লক্ষ ভারতীয়ের মৃত্যু হয়। গড়ে শতকরা ২১ জন ভারতীয় এই উচ্চ রক্ত চাপের রােগী। এই সংক্রান্ত রােগের চিকিৎসায় ভারতে বহু কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, হু’র সমীক্ষা জানাচ্ছে ভারতে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে শতকরা ৩৩ ভাগ পুরুষ ও  শতকরা ৩২ ভাগ নারী উচ্চ রক্তচাপের শিকার।

রক্তসঞ্চালন তন্ত্রের রােগ বা কার্ডিও ভাসকুলার ডিজিজ বা “সি ভি ডি’ মার্কিন দেশের একনম্বর হত্যাকারী ব্যাধি। প্রতি বৎসর ৫০ লক্ষ এই রােগে আক্রান্ত হন এবং ১০ লক্ষ বা কমবেশি আমেরিকান মারা যান। আমেরিকানরা তাদের ডলারের বরাদ্দের প্রায় অর্ধেকই রেস্তোরার খাদ্যে ব্যয় করে থাকে।ধমনীর অসুখ সি.ভি.ডি বা সি .এইচ .ডি .( করােনারী হার্ট ডিজিজ ) উভয়ের ক্ষেত্রেই কোলেস্টেরােলের ভূমিকা বিশাল। সে কী পরিচালক, নায়ক নাকি খলনায়ক!হার্টফেলের কোন ধনী দরিদ্র ভেদাভেদ নেই।

হৃৎপিন্ডের লাব ডুব বন্ধ হওয়ায় নেই কোন কোটা কোন সংরক্ষণ, ভারতেই প্রতিবছর হার্ট ফেলে মারা যাচ্ছেন গড়ে তিরিশ লক্ষ। এইসব সাত পাঁচ ভেবে কোলেস্টেরােল নিয়ে আলােচনায় ডুব দিতে চাই।

কোলেস্টেরল কি ও কত প্রকার ?

কোলেস্টেরােল দেহাকাষের জন্য অত্যন্ত আবশ্যকীয় উপাদান—ঘরের দেওয়ালের পলেস্তারা। স্নায়ুকে অপরিবাহী (ইনসুলেট) করে, কতিপয় হরমােনের নির্মাণের ভিত্তি। লিভারের এটা লাগে পিত্তরস (বাইল) তৈরিতে। খাদ্য থেকে শতকরা কুড়ি এবং বাকি আশিভাগ দেহের অভ্যন্তরে তৈরি হয়। প্রাণিজ খাদ্য থেকে কোলেস্টেরােল পাওয়া যায়।

কুড়ি থেকে তিরিশ শতাংশ রক্তের কোলেস্টেরােল বহন করে নিয়ে যায় হাই ডেনসিটি লাইপােপ্রােটিন (H D L Cholesterol) ধমনী থেকে লিভারে— যেখানে শরীর থেকে নিকাশ হয়,একে

ভাল কোলেস্টোরেল (H D L )বলে।মন্দ কোলেস্টেরল (L D L Cholesterol)
ভাল কোলেস্টোরেল (H D L )। মন্দ কোলেস্টেরল (L D L Cholesterol)

 

লাে ডেনসিটি লাইপােপ্রােটিন (L D L Cholesterol) রক্তের প্রধান কোলেস্টেরল বাহক এবং যখন বা যদি এর পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে তখন তা ধমনীর দেওয়ালে মাছের আঁশের মত প্লেক তৈরি করে। অ্যাথরােমেটাস প্লেক বলে- ‘থ্রম্বাস’ নামেও পরিচিত—এর থেকেই ‘থ্রম্বসিস’ শব্দটির উৎপত্তি।এই ক্ষতিকর বা খারাপ কাজ করে বলে একে দুর্জন বা মন্দ কোলেস্টেরল (L D L Cholesterol) বলে।

কিভাবে শরীরে মেদের সৃষ্টি হয় ?

ট্রাই গ্লিসরাইড একই পরিবারের। খাদ্যের অন্তর্নিহিত ফ্যাট থেকে বা শ্বেতসার তথা কার্বোহাইড্রেট খাদ্য থেকে তৈরি হয়। খাদ্যের মাধ্যমে যে ক্যালরি আমরা পাই তা যদি শরীর তার কোষ কলায় কাজে লাগাতে অসমর্থ হয় বা যদি উদ্বৃত্ত হয় তখন তা ট্রাইগ্লিসরাইডে রূপান্তরিত হয়ে যায় এবং তখন তা দেহের ফ্যাট কোষের (অ্যাডিপােজ টিস্যু) মধ্যে জমা হতে থাকে। এইভাবে শরীরে মেদের জমা হওয়া শুরু।

হরমােন ফ্যাটকোষ থেকে ট্রাইগ্লিসারাইড মুক্ত করার জন্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নেয়, যদি এই খাদ্য গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে এনার্জি বা শক্তি দরকার হয়। সেই সময় ঐ ট্রাইগ্লিসারাইড ব্যয় হওয়ার সুযােগ থাকে। এখন খাদ্যাভ্যাস যদি এমন হয় যে জমা থাকা ট্রাইগ্লিসারাইড থেকে নয়, পুনরায় জোগানাে খাদ্য থেকেই আবার সুলভ ট্রাইগ্লিসারাইড যুক্ত হতে থাকে তখন ব্যাঙ্কের জমা সুদের ওপর আরাে সুদ জমতে থাকে।

কোলেস্টরলের কমানোর উপায়

পরিশ্রম যদি খাদ্যের অভ্যন্তরের শক্তি বা ক্যালরিকে সম্পূর্ণ খরচ করে ফেলতে পারে তাহলে উদ্বৃত্ত হয়ে তা ফ্যাট কোষের অন্দরে জমা হবার সুযােগ পায় না। উপবাস বা দুই খাদ্য গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে (লিপিড প্রােফাইল পরীক্ষার রক্ত টানার জন্য ১২ ঘন্টা সময় নেওয়া হয়) ভি এল ডি এল(বা ভেরিলাে ডেনসিটি লাইপােপ্রােটিন) সামগ্রিক রক্তের কোলেস্টরলের পনেরাে থেকে কুড়ি শতাংশ দখল করে থাকে, ট্রাইগ্লিসারাইডকে দোসর করে।

নির্দিষ্ট পরিমানের চেয়ে রক্তের এলডিএল- এর দখল বেশি হলে অ্যাথরােশ ক্লোরােসিসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে ভালাে হয় নির্দিষ্ট উচ্চমাত্রার ভাল কোলেস্টোরেল (H D L ) এবং নির্দিষ্ট নীচুমাত্রায় মন্দ কোলেস্টেরল (L D L Cholesterol)। ধূমপান (সিগারেট) রক্তনালির দেওয়ালের ক্ষতি করে এবং তা থেকে ভাল কোলেস্টোরেল (H D L ) মাত্রা বা পরিমান কমিয়ে দিতে পারে পনেরাে শতাংশ বা তার বেশি। ধূমপান ক্ষনিকের জন্য রক্তচাপ বৃদ্ধি করে থাকে তিরিশ মিনিট সময়কাল ধরে এবং আরাে বেশি ক্ষতিকর মুক্তমূলক(বা ফ্রির‍্যাডিক্যাল) তৈরি করে।

বসা কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের (সিক্রেটারি) জীবনশৈলী ভাল কোলেস্টোরেল (H D L ) কমিয়ে দিয়ে থাকে। শ্বাস ঘন ঘন হয় এমন সমস্ত ব্যায়ামই শারীরিক পরশ্রম (একনাগাড়ে আশিটা সিঁড়ি ভেঙ্গে হেঁটে ওঠা) ভাল কোলেস্টোরেল (H D L ) পরিমান বাড়িয়ে দিতে সাহায়্য করে। এমনকি তিরিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট দ্রুত গতির হাঁটর ব্যায়াম রক্তনালির চঞ্চালন তন্ত্রকে দুরন্ত সাহায্য করে।

প্রতিদিন তিন কিলোমিটার হাঁটা থেকে এক হাজার থেকে বারােশ কিলােক্যালরি প্রতি সপ্তাহে দহন করতে পারে। (প্রতি গ্রাম ফ্যাট থেকে আয় নয় ক্যালরি হিসাবে একশাে বাইশ থেকে একশো- তেত্রিশ গ্রাম ফ্যাট কমে যাবে, যদি খাওয়ার পরিমাণে তারতম্য না ঘটে)।

দেহের ওজন ও হৃদরোগের সম্পর্ক

মােটা বা গোলগাল বা গােপাল গোপাল ভাব মেদবহুল হওয়া কালক্রমে হৃদরােগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। দেহের বর্ধিত ওজনের (খুব সােজা হিসাব দৈহিক উচ্চতকে ইঞ্চিতে নিয়ে প্রতি ইঞ্চিতে প্রতি কেজি মাপ নিরাপদ। আরাে নিরাপদ বি এস আইকে(B S I ) বইশে রাখতে পারলে; উচ্চতাকে মিটারে বদল করে তার বর্গ করতে হবে—দেহের ওজনকে ঐ বর্গ দিয়ে ভাগ করলে বি এস আই পাওয়া যাবে।

অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগের সম্ভবনা বাড়ায়।
অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগের সম্ভবনা বাড়ায়।

যদি বি এস আইকে(B S I ) পচিশ-ছাবিশ হয় তখন তাকে ‘কসমেটিক ওভার ওয়েট’ বলা হয়। অর্থাৎ আর ওজন বাড়ানাে যাবে না। দেহের বর্ধিত ওজন প্রতি কেজি কমলে তা রক্তচাপ কমায় এক মাত্রা বা পয়েন্ট) মাত্র দশ শতাংশ ওজন যদি কমানাে যায় তাহলেই ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরােল এর মাত্রায় নিরাপত্তা দেবে। ডায়াবেটিস মেলিটাস (টাইপ টু) ট্রাইগ্লিসারাইড মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং এইচ ডি এল কোলেস্টেরােলের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে ঈষ্ট্রোজেন হরমােনের অপ্রতুলতও মেনােপজ হৃদরােগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।মেনােপজ ‘এল ডি এল কোলেস্টেরােলকে  বাড়িয়ে দেয় এবং নিরাপত্তা প্রদানকারী ‘এইচ ডি এল কোলেস্টেবল কোমিয়ে  দেয়।

পুষ্টিবিজ্ঞান সম্মত খাদ্যাভাস (একমাত্র নিউট্রিশানিষ্টই এ ব্যাপারে পরামর্শদানের ক্ষেত্রে যােগ্যতম) এবং শারীরিক পরিশ্রম সম্মত জীবনচর্যা দুশ্চিন্তা কমিয়ে দিতে সাহায্য করে এবং এই যুগলবন্দি রক্তের কোলেস্টেরােল ও ট্রাইগ্লিসারাইড মাত্রাকে নিরাপত্তা দিতে কার্যকরী ও সমর্থ।

খাবারে তেলের সাথে হৃদরোগের সম্পর্ক

ট্রানসফ্যাট হল  হাইড্রোজেনেটেড উদ্ভিজ তেল এদের বর্জন করাই শ্রেয় এর একটি মােহময়ী
ক্ষমতা আছে তা হল এটি দিয়ে তৈরি খাদ্যকে দুরন্ত স্বাদ ও গন্ধ এনে দিয়ে থাকে। খাদ্যের মাধ্যমে যে কোলেস্টেরল গ্রহণ করি তার পরিমান হতে  হবে তিনশাে মিলিগ্রাম।

 

মহিলাদের মাসিকের রক্তক্ষরণ ও করােনারী হার্ট ডিজিজ এর সম্পর্ক

আমেরিকান হার্ট অ্যাসােসিয়েশনের স্টাডি থেকে দেখাগেছে রক্তে উচ্চতর মাত্রায় লােহা থাকার জন্য হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। লােহা খারাপ  কোলেস্টেরােল বা এলডিএল-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় তা থেকে ধমনী গাত্রে ফ্যাটি অ্যাসিড জমে থাকে। অন্য নাম  আর্টারিওসক্লেরােসিস বা অ্যাথরােসক্লেরােসিস যে পদার্থটি জমে তার নাম অ্যাথারােমা বা থ্রম্বাস।

মহিলাদের মাসিকের রক্তক্ষরণ ও করােনারী হার্ট ডিজিজ এর সম্পর্ক
মহিলাদের মাসিকের রক্তক্ষরণ ও করােনারী হার্ট ডিজিজ এর সম্পর্ক

মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় যে রক্তক্ষরণ হয়ে  থাকে তার মাধ্যমে লােহা নিৰ্গত হয়ে যায় বলে হার্ট অ্যাটাক তথা হৃদরােগের ঝুঁকি কম থাকে মেনােপজ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত। অন্য ব্যাথা প্রকৃতি নারীকে মাতৃত্বের গৌরব বা দায় নিতে বাধ্য করার জন্য এই বিশেষ ছাড়  দিয়ে রেখেছে। রিসার্চ স্টাডি থেকে দেখা গেছে যে সমস্ত মহিলা ইস্ট্রোজেন নিয়ে থাকেন (এইচ আর টির মাধ্যমে) মেনােপজের পরেও, তাদের ক্ষেত্রে করােনারী হার্ট ডিজিজ (বা সিএইচডি) থেকে ঝুঁকি কমে যায় ষাট শতাংশ। অনুমান এমন হতে পারে যে ঈস্ট্রোজেন ভাল কেলেস্টেরেল শােষণ করে ফেরি করে নিয়ে যায় লিভারে।

কোলেস্টরলের প্রয়োজনীয়তা

১)  কোন প্রত্যঙ্গ অবাঞ্ছিত বা অতিরিক্ত  নয়। জৈব রাসায়নিক ব্যবস্থার কোন জৈব উপাদান অপ্রয়ােজনীয় নয়। কোলেস্টেরল উপাদানটির কোন কাজ না থাকলে তার অস্তিত্ব থাকতো না।

কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে কেউ কেউ আঁতকে ওঠেন, যেন কোলেস্টেরল অবাঞ্ছিত। বিষয়টি খােলসা করা দরকার। বাসস্থানের ঘরের যেমন সিমেন্টের প্লাস্টার দেওয়া দেওয়াল থাকে, মানব দেহের তিন লক্ষ কোটি কোষেরও প্রতিটির মেমব্রেন বা আচ্ছাদন ফসফোলিপিড প্রােটিন এবং কোলেস্টেরােল দিয়ে তৈরি।

২) দ্বিতীয় বড় কাজটি চাবি দিয়ে তালা খুলে ঘরে ঢােকার মত, প্রিকারসর এর ভূমিকা, যখন তাকে কর্টিকোস্টেৱােন, অ্যালডােস্টেরােন ও যৌন হরমােনের মত কতিপয় হরমােনের জন্য ‘বরণের’ কাজটি করতে হয়।

৩)   সবশেষে কোলেস্টেরােলকে বাইল বা পিত্তরস তৈরিতে অগ্রনী ভূমিকা নিতে হয় এর মধ্যে লিভারের জঠর থেকে দুটি সংশ্লেষিত হয় স্থানীয় কোলেস্টেরােল থেকে এবং প্রাথমিক বাইল সল্ট হিসাবে পরিচিত; উৎপাদিত ঐ পিত্তরস লিভার থেকে সরাসরি ক্ষুদ্রান্ত্রে অথবা গলব্লাডারের মত পিত্তথলির মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্তে ঢােকে। এজন্যই গলব্লাডার কেটে বাদ দিয়ে দিলেও বিপদের কারণ হয় না।

ক্ষুদ্রান্তে (এখানকার লিপেজ নামের উৎসেচক ফ্যাট হজম করায়) খাদ্যের মধ্যের ফ্যাটকে দ্রবীভূত করে
এবং তাকে উৎসেচকের পক্ষে রেকাবিতে সাজিয়ে দেওয়া খাবারের মত হজমের কাজটি করার জন্য সুবিধা হয়ে যায়। সেখানে ফ্যাটি অ্যাসিড দল মিশে যায়। মিশে যাবার সময় কখনাে বা ক্ষুদ্রান্তের ব্যাকটিরিয়দের দ্বারা দ্বিতীয় প্রকারের পিত্তরস তৈরি হয়ে যায়। উভয় প্রকার পিত্তরসই লিভারের
রসায়নাগারে আবার ফিরে যায় নিঃসরণ হবার জন্য।

এই রান্না ও পরিবেশন পর্ব সমেত সমগ্র কাজটি প্রতিদিন অন্ততঃ পঞ্চাশবার সমাধান করতে হয়
একজন আম আদমির জন্য। ১৪০ গ্রাম কোলেস্টেরােল যে সাধারণতঃ মানব দেহের ভাঁড়ারে জমা থাকার কথা বা জমা থাকে সমুদয় পরিচালন ব্যবস্থার অভিমুখ সেই দিকে থাকে।

পাশ্চাত্য দেশের প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণতঃ পাঁচশাে মিলিগ্রাম কোলেস্টেরােল (অবশ্যই ফ্যাটের মাধ্যমে) খেয়ে থাকে প্রতিদিন এবং এর চল্লিশ শতাংশ মাত্র শােষিত (বা হজম) হয়, যদি প্রতিদিন ১৫০ মিগ্রা কোলেস্টেরােল খাওয়া হয় তাহলেও শােষণের দক্ষতা শতাংশ হিসাবে কমে যায়। উল্টোদিকে কেউ যদি কম কোলেস্টেরােল খাদ্যরীতি অনুসরণ করে তা সত্ত্বেও কোলেস্টেরােল শােষণের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

নিরামিষভােজীদের কোথা থেকে আসে তাদের জন্য কোলেস্টেরল ?

মেরুদন্ডী প্রাণিদের অনেকেই নিরামিষভােজী বা উদ্ভিজ খাদ্যের উপর নির্ভরশীল (অত্যন্ত আনন্দের
কথা, নামীদামী দাবা খেলােয়াড় সন্দীপনচন্দ, নিরামিষভােজী, সম্রাট আকবরও নিরামিষভােজী ছিলেন। খবরটা পেয়েছি বাবা সুভাষ চন্দ মহাশয়ের কাছ থেকে। বুদ্ধির খেলা, মস্তিককে এত বেশি পরিশ্রম করতে হয় তা সত্ত্বেও ওর প্রাণিজ প্রােটিন না খেলেও অস্যার্থ রসিক পরিক ভাবুন)। কোথা থেকে আসে তাদের জন্য কোলেস্টেরােল? তা তখন সংশ্লেষিত হয়ে থাকে লিভার ও ক্ষুদান্ত্রে। উৎপাদিত ঐ কোলেস্টেরােল কোষে কোষে রক্তপ্রবাহে পরিবহন করে নিয়ে যায় ভেরি লাে ডেনসিটি লাইপােপ্রােটিন (বা ভিএলডিএল)।
লাইপােপ্রোটিন তৈরি হয় মূলত ট্রাইগ্লিসারাইড দিয়ে, যাকে ঘিরে থাকে কোলেস্টেরােল, ফসফোলিপিডস এবং প্রােটিন।

মুখরােচক খদ্য ও কোলেস্টেরল

খাদ্যগ্রহণ শুধুমাত্র শারীরবৃত্তীয় জ্বালানির যােগান নয়-খাদ্য এক সামাজিক অনুষ্ঠান উৎসব আড়ম্বর, কী নয়! আনন্দ করতে আমরা উৎসব করি ভােজ  দিই, শ্রদ্ধা বা শােক জানাতে উপবাস করি। ভাল খবর, আনন্দ উদ্যাপন করতে মিষ্টি বিতরণ করি। ফিল ণ্ডড ফ্যাক্টর (সুখানুভূতি) আনতে নেশা করি,
মাদক নিই, আরাে কত কী করি-তা করতে গিয়ে মুখরােচক হ্রদযুক্ত খাদ্য তৈরি করতে গিয়ে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শত্রু তেল-চিনি লবন সমৃদ্ধ বস্তু দিয়ে খাদ্য বানিয়ে ভােক্তাকে প্রীত করি, বােকা বানাই—এই দূর্বলতার পথ দিয়েই রােগব্যাধি সিধ কেটে মানবদেহে ঢােকে।

মুখরােচক খদ্য ও কোলেস্টেরল
মুখরােচক খদ্য ও কোলেস্টেরল

আমার একটি হাইপােথিসিস ঃ স্ত্রী অতি দক্ষ রাঁধুনি হলে তার স্বামীর যথাকালে হৃদরােগের বুকিং পাকা। রান্না ঘর আসলে একটি বিশাল কেমিক্যাল ফ্যাক্টরী এ ক্ষেত্রে নেই নেই করে অন্তত বেশি কম পঁচিশটি উপাদান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু জিভকে খুশী করতে গিয়ে তাকে আমরা হৃদরােগের আঁতুড় ঘর
বানিয়েছি। বেশির ভাগ টিভি চ্যানেলের রান্না ঘর বা রান্নার অনুষ্ঠান নিয়ে যে প্রহসন দেখানাে হয় সেখানে নানা কায়দায় তেল, ঘি, মাখন, চীজ ডালডা, ক্রীম, মারগাবিন, চিনি, লবন, ভিনিগার, চীনা বাদাম, নারকেল, কাজু, আজিনা মটর, দই, ছােট চিংড়ি ইত্যাদি বারে বারে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার হয়-
এসবই মুখরােচক বটে কিন্তু স্বাস্থ্যকর নয়।

অনেক সময়ই মাংসের পদ রান্না নানা চরিত্র নিয়ে এসে হাজির করানাে হয়। এব্যাপারে আর কথা না বাড়িয়ে বলি, সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।

‘পান কু’-য়ের বক্তব্য দিয়ে লেখা শেষ করছি। তিনি বলেছেন ব্যাধির বিরুদ্ধে যারা সতর্ক করেন, যারা হুশিয়ারী দিতে পারেন, যারা সঠিক খাদ্য বিচার করে খাওয়ার জন্য সুপারিশ করতে পারেন তারা অনেক বড় চিকিৎসক। কি খাবেন কেন খাবেন তা পুষ্টিবিদ বা ডায়েটিসিয়ানের কাছে জেনে নিতে পারেন।

লেখকঃ রণজিৎ পাল

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক  থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

মহিলাদের ঘুম

5 (1) ঘুম নিয়ে গবেষক, মনস্তত্ত্ববিদ,মনােবিদ, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে চলেছেন। পৃথিবীতে অর্থাৎ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিবের অধিকারী মানুষই সবচেয়ে বেশ চিন্তাভাবনা করেছে যুম নিয়ে। স্বাভাবিক থাকছে কিংবা ঘুম যদি বা একটু বেশীই হয় মানুষ তখন ঘুম নিয়ে কোনও চিন্তা করে না। যত চিন্তা শুরু হয় […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: