গ্রাফিন

poribes news
0
(0)

গ্রাফিন নিয়ে কিছু কথা

মানব সভ্যতা শুরু হয়েছিল প্রস্তর যুগ থেকে। তারপর তাম্রযুগ, লৌহযুগ, মিলিন টেকনােলজিকে
পেছনে ফেলে ন্যানােটেকনােলজি যুগের শুভারম্ভ হয়েছে গ্রাফিন (Graphene)আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে।

সম্মিলিত ভাবে কোনও একটা মৌলের কার্বনের মতাে এত ব্যাপক অবদান বােধহয় আর নেই।জীবজগতে হাইড্রোজেনের সঙ্গে মিলে এর বিপুল প্রকাশের কথা বাদ দিয়ে আমরা যদি শুধুমাত্র ফুলরিন ও গ্রাফিনের কথাই ধরি তাহলেও এর অবদান একেবারে ছােট হবে না।

২০০৪ সালে ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ যন্ত্রের সাহায্যে ড. জিম ও ড. নােভাে– সেলভ দেখালেন কার্বনের একটা স্তর গ্রাফাইট থেকে তুলে আনা সম্ভব।

একটা স্কচটেপ এক টুকরো গ্রাফাইটে চেপে গিয়ে বেশ জোরে টানলে একট স্তর বেরিয়ে আসে। এই আবিষ্কারের জন্য ২০১০ সালে এরা দুজন পদার্থবিদ নােবেল পুরস্কার পান। গ্রাফাইটের এই এক স্তর অবস্থার নাম গাফিন।

গাফাইটের একটা স্তরের নাম হিসাবে গ্রাফিন শব্দটা কিন্তু ১৯৬২ তে অধ্যাপক বত্রোম প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। তিনিই প্রথম রাসায়নিক পদ্ধতিতে এটা আলাদা করে এক্সরের মাধ্যমে সঠিক বিশ্লেষণ করেছিলেন। তাই তার নাম নােবেল প্রাইজ না থাকার ব্যাপারটা সহজে মেনে নেওয়া যায় না।

দ্য মিনেস্ট মেটেরিয়াল ইন দ্য ওয়ান্ড। জিনিসটা আসলে কার্বন পরমাণু , একটা চাদর। ছটা করে কার্বন পরমানু পরপর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে (অনেকটা মৌচাকের মতো) তৈরী করেছে এই চাদর।

ন্যানােটেকনােলজি যুগের শুভারম্ভ হয়েছে গ্রাফিন
ন্যানােটেকনােলজি যুগের শুভারম্ভ হয়েছে গ্রাফিন

 

পরমাণুর চেয়ে ছােট কণা অনেক আছে। কিন্তু তাদের দিয়ে এভাবে চাদর তৈরী করা এখনও সম্ভব হয়নি।
কার্বনের এই চাদরটা পৃথিবীতে সবচেয়ে পাতলা পদার্থ। ওরকম ২ লাখ চাদর পরপর বসালে একটি মােটা চুলের সমান হবে। দুই রাশিয়ান বিজ্ঞানীর ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে যে যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন গ্রাফাইটের অনুকরণে তাকে বলা হচ্ছে গ্রাফিন।

গ্রাফিনের দুটি স্তরের অন্তবর্তী দুরত্ব ০.৩৩৫ মিলিমিটার এবং সি-সি বন্ধন দৈর্ঘ্য ০.১৪২ মিলিমিটার।
ল্যাবরেটরিতে গ্রাফিন তৈরীর সাফল্য রীতিমত বিস্ময়কর। বলা চলে ন্যানাে টেকনােলজির এক চমকপদ সাফল্য হল গ্রাফিনের আবিষ্কার।

ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কোস্টায়া নবােসেলভ জানিয়েছেন, গ্রাফিনের বহুমুখী ব্যবহারের কথা। পাতলা ও দূর কার্বনের এই রূপভেদটি স্টিল অপেক্ষা ১০০ গুণ শক্তিশালী। ইহার পরিবাহিতা অন্যান্য সাধারণ পরিধিগুলির থেকে অনেক বেশী। ইহার পাতলা চাদরের মধ্য দিয়ে হিলিয়াম
গ্যাসের পরমাণু এমনকি জলীয় বারুদ ভেদ করে বেরিয়ে যেতে পারে।

গ্রাফিনের এই ধর্মকে কাজে লাগিয়ে দুই নােবেল জয়ী পদার্থবিদ একটি প্লে ফুল এক্সপেরিমেন্ট করেছিলেন। তারা গ্রাফিন পর্দার মাধ্যমে জলীয় বাষ্প দূরীভূত
করে ভােডকা পাতিত করে গাঢ় করেছিলেন।

গ্রাফিন বিদ্যুত পরিবাহী এবং কাজ করতে পারে ট্রানজিস্টর হিসেবেই কম্পিউটার প্রযুক্তিতে এর অবদান অনস্বিকার্য। সমুদ্রের জল থেকে লবন পৃথকীকরণে গ্রাফিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এর থেকে প্রাপ্ত জলও পানের যােগ্য।

বিভিন্ন মােবাইল কোম্পানীগুলাে গ্রাফিনের স্বচ্ছও পরিবাহিতা গুণকে কাজে লাগিয়ে  আরাে উন্নত করে চলেছে।

টাচ স্ক্রিন ইন্টারফেস এ ব্যাবহার হচ্ছে গ্রাফিন
টাচ স্ক্রিন ইন্টারফেস এ ব্যাবহার হচ্ছে গ্রাফিন

 

বিজ্ঞানীরা গ্রফিনকে কিভাবে বিল্ডিং মেটিরিয়াল হিসাবে কিভাবে কাজে লাগানাে যায়, তার নতুন দিশা খুজছেন। গ্রাফিনের তৈরী উড়াে হাজের বিশেষ বিশেষ অংশ উড়ােজাহাজের ওজন কমাতে সক্ষম হবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

গ্রাফিন একদিকে যেমন কোনাে বিস্ফোরকে উপস্থিত নাইট্রেটও অ্যামােনিয়াকে তুলে আনতে সক্ষম আবার তেজস্ক্রিয় অপদ্রব্যকে শােষণ করতেও সক্ষম।

ন্যানাে টেকনােলজিস্টরা অবশ্য নােবেল জয়ী ফাইনম্যানকে মনে রাখেন এক বক্তব্যের জন্য। ১৯৫৯ এর ডিসেম্বরে আমেরিকান ফিজিক্যাল সােসাইটির বার্ষিক অধিবেশন বলেছিল তার কর্মস্থল ছিল ক্যালিফোর্ণিয়া ইনস্টিটিউঅব টেকনােলজিতে।

তিনি আলােচনা করেছিলেন কোনও কিছুর সাইজ ছােট, আরও ছােটকার প্রক্রিয়ার বিপুল লাভও তার সমস্যাদি নিয়ে। প্রশ্ন করেছিলেন ২৪ ভলুউমের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকানর সব তথ্য কেন ছাপানাে যাবে না একটা পিন এর মাথায় ?

বস্তুত এই বক্তৃতার বছরটিকে ন্যানাে প্রযুক্তির শূন্য বছর ধরা হয়। এই সময় থেকেই ন্যানাে প্রযুক্তির সম্পর্কে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়। আজ সারা পৃথিবী ন্যানাে প্রযুক্তির গবেষণায় ব্যস্ত। তবে একটা
চিন্তা থেকেই যায় ন্যানাে প্রযুক্তি কোন পর্যন্ত কী যে পরিণত হবেঃ আশীর্বাদ
না অভিশাপ?

লেখকঃ ডঃ তপন দাস

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর মার্চ এপ্রিল ২০১৪ থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

ভারতীয় যুবকদের হৃদয় সবথেকে দুর্বল

0 (0) রবি ঠাকুর এমন এক দেশের কথা লিখেছিলেন, “চিত্ত যেথা ভয় শূন্য !” কিন্তু দুঃখের বিষয় ভারতীয়দের চিত্ত আজ খুবই দুর্বল; অন্তত গবেষণা তাই জানান দিচ্ছে । হৃদরোগ এক সময় আমাদের ধারণা ছিল,এ বুঝি কেবল বুড়োদের রোগ কিন্তু আজ সে ধারণা একেবারেই ভুল প্রমাণিত ! অকাল মৃত্যু অর্থাৎ বার্ধক্যের […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: