পরিবেশ বন্ধু বাদুড়

poribes news
0
(0)

বাদুড় (Bat) প্রকৃতির অনন্য সৃষ্টি পরিবেশের বন্ধু ও ভারসাম্য রক্ষাকারী একটি প্রকৃত উড়ন্ত একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী।
এরাও প্রাণী রাজ্যে মানুষের মত,স্তন্যপায়ী শ্রেণীর ‘কাইরােটেরা’ বর্গের অধীনে একটি প্রাণী। এই বর্গের অধীনে দুটো উপবর্গ আছে যথা- ‘মেগাকাইরোপটেরা ও মাইক্রোকাইরপােটেরা।

এই বর্গের অধীনে মােট ১৮টি গােত্র আছে যার ১টি মাত্র গোত্র এই ‘মেগা কাইরোপটেরা উপবর্গের অধীনে পড়ে। এই গােত্রের প্রতিটি প্রজাতির শেয়ালের মত মুখের গঠন কাঠামাে -যাদের উড়ন্ত শেয়ালও বলে।

বাকি ১৭টি গােত্র ‘মাইক্রোকাইরােপটেরা’ উপবর্গের অধীনে। যাই হােক সারা বিশ্বে ‘কাইরোপটেরা’ বর্গের অধীনে মােট ৯৭৭টি প্রজাতি এই মুহুর্তে বেঁচে রয়েছে।

আবার অন্যদিক দিয়ে এদের খাদ্য অভ্যাসের উপর নির্ভর করে এদেরকে দুটো গােষ্ঠীতে ভাগ করা যায় যথা—ফলভােজী ও পতঙ্গভূক বা মাংসাশী।

বস্তুত পক্ষে প্রথম প্রকারের প্রতিটি বাদুড়ের প্রজাতিই মেগাকাইরোপটেরা’ উপবর্গের অধীনে। আর দ্বিতীয় প্রকারের বাদুড়ের প্রতিটি প্রজাতিই ‘মাইক্রোকাইত্রোপটেরা’ উপবর্গের অন্তর্গত।

ফলভােজী বাদুড়ঃ

ফলভােজী বাদুড় বহু উদ্ভিদের পরাগযােগ এবং বীজের বিস্তারে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে বিশেষ করে ক্রান্তীয় অঞ্চলে।

অন্য দিকে পতঙ্গভূকবা কীটভােজী বাদুড় পতঙ্গ পেস্টদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যদিও ফলভােজী বাদুড়রা সাময়িকভাবে ফসলের কিছুটা ক্ষতি করে কিন্তু অঙ্ক কয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে এরা দীর্ঘ মেয়াদী লাভ দিয়ে থাকে।

ফলভােজী-বাদুড়
ফলভােজী বাদুড়

 

ক্রান্তীয় অঞ্চলের বাদুড়েরা অরণ্যের ২৪ শতাংশ বীজের বিস্তারে সাহায্য করে। একটা হিসেবে দেখা গেছে যে ‘নিউট্রপিক্যাল ধরণের বাদুড়দের ৯৬টি গনের অধীনে প্রায় ৫০০টি প্রজাতির উদ্ভিদের সরাসরি পরাগযােগে এরা সাহায্য করে।

অন্য দিকে এদের ১০০’র বেশী প্রজাতি বহু অর্থনৈতিক গুণ সম্পন্ন উদ্ভিদের বীজের বিস্তার এবং পরাগযােগে সাহায্য করে যেমন, ‘Seba’s short tailed’ Fruit bat (Carollia perspicillata), ল্যাটিন
আমেরিকার ক্রান্তীয় বর্ষাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাদুড়। এরা মূলত: ‘পিপার গনের উদ্ভিদদের বিভিন্ন প্রজাতি (প্রায় ৩৫টি প্রজাতি) এবং সেক্রোপিয়া’ গনের অধীনে প্রায় ৮-১০টি ফল উৎপাদনকারী উদ্ভিদের উপর নির্ভর করে।

একরাত্রে এরা ৬০,০০০ বীজ পর্যন্ত খেতে পারে। এই হিসেবে এদের ৪০০টি এরকম কলােনী বছরে ১৪৬ মিলিয়ন(১ মিলিয়ন =১০ লক্ষ) বীজের বিস্তারে সাহায্য করে। এর মধ্যে মাত্র ০.১ শতাংশ বীজেরও যদি অঙ্কুরােদ্গম ঘটে, তাহলে ১৪৬,০০০টি চারাগাছ জন্মাতে পারে।

বাদুড় ও ফুলের মধ্যে দেওয়া-নেওয়া ও পরষ্পর উপকৃত হওয়ার সম্পর্ক। একদিকে উদ্ভিদরা গন্ধ ও ফুলের বিভিন্ন অংশ গঠনে শক্তি খরচ করে, বাদুড়দের মত প্রাণীদের আমন্ত্রণ জানায়—মকরন্দ এবং রেণু খাওয়ার জন্য। অপরদিকে বাদুড়বা একফুল থেকে অন্য ফুলে রেণু ছড়াতে সাহায্য করে যার পরিণতিতে
‘নিষেক’ প্রক্রিয়া সম্ভব হয় – যেটা উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরী।

জীব বিজ্ঞানীদের মতে, কমপক্ষে ৪৪৩টি মানুষের প্রয়ােজনীয় সামগ্রী ১৬৩ রকম উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায় যারা পরােক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে বাদুড়দের দ্বারা

পরাগযােগ কিংবা বীজের বিস্তারের উপর নির্ভরশীল। এই প্রয়ােজনীয় সামগ্রীর মধ্যে কাঠ, ফল, তম্ভ, ঔষুধ, খাদ্য ও অন্যান্য বহুস্থানীয় দ্রব্যাদি উল্লেখযােগ্য।

ক্রান্তীয় অঞ্চলের বনভূমি কমবেশী অনেকটাই এদের উপর নির্ভরশীল। এখানকার বেশকিছু উদ্ভিদের ফুল প্রস্ফুটিত হয় রাত্রে যাদের স্বতন্ত্র গন্ধ, বর্ণ ও আকার বাদুড়দের আকৃষ্ট করে। এরকমই   ‘Baobab Tree’ পূর্ব আফ্রিকার

এমনই গাছ যাদের উপর অন্যান্য বহুবন্যপ্রাণী নির্ভরশীল। এই গাছগুলিকে
অন্য কথায় ‘Tree of Life’ বলে।

এখানে বেশ কিছু সংখ্যক অর্থনৈতিক মূল্যযুক্ত বুনো শস্যের ফলন বাদুড়দের উপরই পুরােপুরি ভাবে নির্ভরশীল। এদের মধ্যে কলা, খেজুর, ডুমুর, পীচফল, আম, লবঙ্গ, কাজুবাদাম প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য। অবশ্য বর্তমানে এই উদ্ভিদদের চাষ করা হচ্ছে, তবুও এদের বুনাে স্টক অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত মূল্যবান এবং প্রয়ােজনীয়। ক্রান্তীয় বনভূমিতে একটি মুক্তস্থানে শতকরা ৯৫ ভাগনতুনবনভূমি সৃষ্টির কারণই এদের দ্বারা বীজের বিস্তারের ফলশ্রুতি।

পতঙ্গভুক ও মাংসাশী

স্বভাবে এদের সিংহভাগই কীটভােজী / পতঙ্গভূক বা মাংসাশী। এরা মূলত: নিশাচর কীটপতঙ্গ ধরে খায় যারা কিনা বহু ফসলের ক্ষতিকর পেস্ট বা কীট।এক একটা বাদুড় ঘন্টায় শ’খানেক কীটপতঙ্গ খেতে পারে এবং এভাবে এক একটি বড় বাদুড় কলােনী কয়েক টন কীটপতঙ্গ এর রাত্রির মধ্যে শেষ করে দিতে পারে যাদের নিয়ন্ত্রণের পেছনে প্রশাসন এবং কৃষকদের বছরে কয়েক বিলিয়ন (১ বিলিয়ন =১০০ মিলিয়ন ) টাকা খরচ করতে হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্ত Tadarida brasiliensis প্রজাতির বাদুড়ের এক একটি কলােনীতে ২০x১০=২০০ লক্ষ জীব থাকে যা এদের দেহের ওজনের শতকরা ৫০-৭০ ভাগ কীট খেয়ে ফেলে প্রতিরাত্রে এবং Myotis
lucifugus বাদুড়টি দেহের ওজনের পুরাে ১০০ শতাংশই খেয়ে ফেলে।

টেক্সাসে একটি হিসেবে দেখা গেছে যে ১০ লক্ষ বাদুড়, ১০ টনের ওজনের পরিমান মত কীটপতঙ্গ সাফাই করে ফেলে মাত্র একরাত্রে। কানাডাতে এই ছােট বাদামী বাদুড় শতকরা ৮৫ ভাগ মশা সাফাই করে দিতে পারে মাত্র একরাত্রে।

ফলে মশাবাহিত রােগের সম্ভাবনাই ৮৫ শতাংশ কমে আসে সে দেশে। বাদুড়রা এছাড়া লেপিডােপটেরা (প্রজাপতি, মথ প্রভৃতি), ডিপটেরা (মশা, মাছি প্রভৃতি), হােমােপটেরা (ঝিঝি পােকা, অফিড প্রভৃতি) এবং
ট্রাইকপূটেরা (ক্যাডি মাছি প্রভৃতি) বর্গের পতঙ্গদেরও এরা শিকার করে। এরা পতঙ্গ পেস্টদের জৈব নিয়ন্ত্রক রূপে কাজ করে। বিভিন্ন শস্যের ক্ষতিকারক পােস্ট বা পতঙ্গদের নিয়ন্ত্রণ করে। আখেরে দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ ও সুদৃঢ় করে।

এরা শসা পােকা, জুন পােকা, শস্য ছিদ্রকারী, জেরুজালেন ক্রিকেট প্রভৃতি ক্ষতিকারক পােকার হাত থেকে যথাক্রমে শস্য, তুলাে এবং আলু প্রভৃতি রক্ষা করে। বাের্নিদ্বীপের ‘নিয়া গুহায় প্রতিদিন ৭,৫০০ মিলােগ্রাম পতঙ্গপােকা খাওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এই বাদুড় সম্প্রতি।

বাদুড়ের বিষ্ঠা

বাদুড়দের বিষ্ঠা বিভিন্ন কৃষিজ শস্যের গুরুত্বপূর্ণ  জৈব সার রূপে কাজ করে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন গুহায় বহু বড় দল বা বাদুড় কলােনী। (লক্ষ লক্ষ বাদুড়) একসঙ্গে অনেক পরিমাণে বিষ্টা তৈরি করে। নিউ মেক্সিকোর কার ল্যাড ক্যাভারান’ এমনই একটি ‘বাদুড় বিষ্ঠা দিয়ে তৈরি অর্থনৈতিক
গুরুত্ব সম্পন্ন বিষ্ঠা খনি।

১৯২৩ সালের একটি হিসেব অনুযায়ী সেই সময় ঐ খনি থেকে প্রতি বছর ১০১,৬০০ টনবিষ্ঠাকে জৈবসার হিসেবে উত্তোলন করা হতাে। তবে সম্প্রতি রাসায়নিক সারের বাড় বাড়ন্তের জন্য উন্নত দেশে
এদের চাহিদা কমে আসছে।

এই বিষ্ঠা ফসফেট ও নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ তাই খুব উন্নতমানের সার এটি। যাই হােক বহু উন্নয়নশীল দেশে আজও স্থানীয় অধিবাসীরা এর থেকে বহু অর্থ উপার্জন করে থাকেন। এই জৈব সার ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা অনেকটাই বেড়ে যায়।

বাদুড়ের অন্যান্য উপযােগিতা

উপরিউক্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত এবং সমষ্টিগত ভূমিকা ছাড়াও ‘বাদুড় গবেষণা’ বায়ুযান, বিমান চলাচলে, দিকনির্ণয় করতে, অন্ধ লােকের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচীতে, জন্ম নিয়ন্ত্রণে, কৃত্রিম গর্ভাধানে,টিকা উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রভৃতিতে ব্যাপক আকারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভারতে প্রাপ্ত বিভিন্ন বাদুড়

ভারত, বাদুড় বৈচিত্রেও অনন্য। ভারতে এই মুহুর্তে অন্তত পক্ষে ১৭টি প্রজাতির ‘মেগাকাইরােপটেরা’ এবং ৯৭টি প্রজাতির ‘মাইক্রোকাইরোপটেরা’ বাদুড় পাওয়া যায়।

এই মােট ১১৪ টি প্রজাতির বাদুড়ের মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাদুড়-উড়ন্ত শেয়াল (Indian flying fox), কমলা-কালাে বাদুড় এবং খুবই দুলর্ভ প্রজাতি ‘সেলিম আলির ফল বাদুড়’ (Salim Ali’s Fruit Bat)
ভারতেই পাওয়া যায়।

ভারতের সুউচ্চ হিমালয় থেকে দক্ষিণের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল; উত্তর পশ্চিমে থর মরুভূমি থেকে পূর্বের ক্রান্তীয় বিস্তীর্ণ অরণ্যাঞ্চল জুড়েই এদের দেখা মেলে। এখানে ফল, ফুলের মকরন্দ, কীটপতঙ্গ, ব্যাঙ
এবং অন্যান্য ছােট বাদুড় খেকো সব ধরণেরই প্রজাতির বাদুড়ের দেখা মেলে।

এখানে, তিন মাস বর্ষা, তিন মাস শীত এবং বাকী সময় শুষ্ক ও গরম আবহাওয়ার জন্য আবহাওয়াও বৈচিত্রপূর্ণ। যে কারণে প্রচুর পরিমাণে ফল জাতীয় উদ্ভিদ এবং বহু কীটপতঙ্গের বাহার দেখা যায়।

উত্তর পূর্ব ভারতে প্রকৃতির আবহাওয়ার এই সব রঙই দেখা যায় বলে এখানে ৭০টির উপরও বাদুড়ের বিভিন্ন প্রজাতির দেখা পাওয়া যায়। এখানে প্রাপ্ত বাদুড়গুলাে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে প্রাপ্ত বাদুড়গুলাের সাথে সাদৃশ্যযুক্ত। বিশেষ করে বার্মা, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াতে প্রাপ্ত বাদুড় এর সাথে মিলযুক্ত।

কিন্তু বাকি বাদুড়গুলাে পশ্চিমি এশিয়ায় প্রাপ্ত বাদুড় গুলাের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

ভারতে প্রাপ্ত ১৭টি ‘মেগাকাইরােপটেরা’উপবর্গের বাদুড়ের মধ্যে Indian flying fox, Fulvous Fruit Bat এবং Short Nosed Fruit Bat সারা ভারতেই দেখা গেলেও এই ৩টি প্রজাতি ছাড়া বাকি ১৪টি খুবই দূলর্ভ। দক্ষিণ ও উত্তর পূর্ব ভারতের পাহাড়ী অঞ্চলে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ছাড়া আর কোথাও এদের দেখা যায় না।

বাদুড় সংরক্ষণ

সারা পৃথিবীতে বাদুড়দের সংরক্ষণের বিষয়ে এখনও তেমন ভাবে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়নি যার জন্য ক্রমশঃ এদের বহু প্রজাতি বিলুপ্তির প্রহর গুনছে। এদের বাসস্থান ও খাদ্যস্থান নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে। এদের বিশ্রাম স্থান।

বিভিন্ন পরিত্যক্ত গুহা, পুরােনাে বাড়ি, দালান প্রভৃতির সংস্কার করায় এবং মানুষের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার ফলে এরা এরকম বাস্তুচ্যুত। ডুমুর-গাছ সাধারণভাবে পছন্দ করে, কিন্তু আধ্যাত্মিক কারণে এদেরকে সেখানে বসতে দেওয়া হয় না।

মন্দিরের ফাটলে, চূড়াতে একই কারণে এদের থাকতে দেওয়া হয় না। কৃষি কাজে অত্যধিক হারে পেস্টিসাইড, ইনসেক্টি সাইড প্রভৃতি ব্যবহারের ফলে পতঙ্গভুক্ত বা মাংসাশী বাদুড়দের জীবনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে ধীরে ধীরে এদের প্রজনন ক্ষমতা লােপ পাচ্ছে—এদের সংখ্যা কমে আসছে।

বাদুড়কে নিয়ে বিভিন্ন লােকগাথা প্রচলিত আছে। সব ক্ষেত্রেই এদেরকে অন্তত শক্তি পরিচায়ক-ভিলেন বানানাে হয়। সিনেমার পর্দায় এদেরকে ‘ড্রাকুলা’ বা ভ্যামপায়ার’ বা ‘রক্তচোষা’ দানব বানানো হয়।

যে কারণে গ্রামাঞ্চলে শহরে এদের প্রাপ্য ভালবাসা, পৃথিবীতে বাসের অধিকারটুকু ধীরে ধীরে কেড়ে
নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফসলের ক্ষতির অজুহাতেও এদেরকে স্বাভাবিক ভাবে থাকতে দেওয়া হয় না। লােক সমাজে প্রচলিত আছে যে, যার বাড়িতে/অঞ্চলে বা গাছে এরা অবস্থান করে, তার ক্ষতিই নাকি হয়।

ভারতে প্রাপ্ত ১১৪টি প্রজাতির বাদুড়ের মধ্যে মাত্র দুটি প্রজাতি যথা- Wroughton’s Free Tailed Bat এবং Salim Ali’s Fruit Bat কেই ভারতের বন্যপ্রাণী আইন, ১৯৭২ এর তপশীল-১ অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা
হয়েছে। ফলে আইনী সর্বোচ্চ সুরক্ষা কেবলমাত্র এদেরকেই দেওয়া হয়েছে।

ফলভােজী বাকি ১৬টি প্রজাতিকে একই আইনের তপশীল-৫-এ হিসেবে রাখা হয়েছে যেখানে বলা আছে প্রয়ােজনবােধে শিকারও করা যেতে পারে, আইনগত কোন বাধা নেই। আর বাকি বদুড়দের জন্য এখনও পর্যন্ত আইনগত তেমন কোন সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই।

বাদুড়! পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম স্তন্যপায়ী শ্রেণীর অন্তর্গত ‘কাইরােপটেরা বর্গের অধীনে (রােডেট ইদুরদের বর্গের পর)। এরা উত্তর গােলার্ধের ‘আর্কটিক’ অঞ্চল এবং দক্ষিণ গােলার্ধের ‘অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল ছাড়া আর পৃথিবীর সর্বত্রই পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন একরাত্রে এক একটি বাদুড় প্রায় ৪০০০ পতঙ্গ ধরে খেতে পারে। মেক্সিকোর সারা গ্রীষ্মকালে ৬০০০ টন পতঙ্গ ধরে খেতে পারে। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বাদুড় ঘােড়া, ছাগল,
শুয়াের, গরু প্রভৃতি প্রাণীদের দেহ থেকে রক্ত শুষে খায় যার পরিমান আনুমানিক ১০-১৫ মি.লি. প্রতি রাত্রে।

Desmodus Rotundus নামক বাদুড় মানব দেহে চামড়ায় দাঁত বসাতে পারে তবে মানব রক্ত খায় না। কাজেই বাদুড় মানুষের ক্ষেত্রে এখনই বিপদজ্জনক নয়। অনেক বেশি কাজের নিকটবর্তী ।আমেরিকান বিজ্ঞানী ডােনাল্ড গ্রিফিন ১৯২০ সালে এদের জীবনে ‘ইকোলােকেশন’ (Echolocation) ঘটনাটি আবিষ্কার করেন যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত লােকগাথা, ভুল ধ্যান ধারণা প্রচলিত আছে সেগুলাের কোন ভিত্তি নেই, তাই সেগুলাে মুছে ফেলে দিয়ে আমাদের নিজেদের তাগিদেই এদের বাঁচানাের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, অন্যান্য বহুমূল্যবান প্রাণীর মত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী এরা। বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত প্রাণী রাজ্যে এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে আসবে।

লেখকঃ ডঃ রাজা রাউত

জলপাইগুড়ি সায়েন্স এন্ড নেচার ক্লাব।

লেখটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর সেপ্তেম্বর-অক্টোবর ২০১৩ থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

বেশী খাবার পর যা করবেন না

0 (0) একটা চোঁয়া ঢেকুড় উঠল। আপনি দ্বিপ্রহরিক কিংবা রাত্রির ভারী খাবার খেয়েছেন। আপনি তৃপ্ত। এই তৃপ্ত আমেজকে আরও কিছুক্ষণ স্থায়ী করতে চাইলেন। তাই আপনি এমন কিছু করলেন যাতে ভারী খাওয়ার পরেও আমেজটা থেকে যায়। কিন্তু আপনি বুঝতেও পারলেন না খাওয়ার পরের এই কাজ আপনার শরীরের বিপদ ডেকে আনল। ভুরিভােজের […]
ভুড়ি-ভোজ
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: