কালাচ সাপ

poribes news
0
(0)

কালাচ
(Common Krait)

স্থানীয় নামঃ বাংলা- কালচ, ডােমনাচিতি, শিয়র চাঁদা। হিন্দি-করাত।

বিজ্ঞানসম্মত নাম: Bungarus caeruleus,

Family: Elapidae

কালাচ সাপ কোন এলাকায় বেশী দেখা যায়

ভারতবর্যের সর্বত্রই এদের পাওয়া যায়, উত্তর পূর্ব রাজ্যগুলিতে অপেক্ষাকৃত বেশী দেখতে পাওয়া যায়। সমুদ্রতল থেকে ১৭০০ মিটার উচ্চতায় এদের বিচরণ পরিলক্ষিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের সমভূমি এবং সুন্দরবনে এদের বেশী সংখ্যায় দেখা যায়। ভারতবর্য ছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং
পাকিস্থানে এদের পাওয়া যায়।

কালাচ সাপ চিনব কেমন করে ?

প্রধানত কালাে রঙের হয়, আঁশ অমসৃন এবং চকচকে। কখনাে কখনাে হালকা নীল আভা যুক্ত কালাচও দেখা যায়।

সদ্য খােলস ছাড়ার পরও নীলচে ভাব দেখা যায় এদের। মাথাটা ঘাড়ের থেকে সামান্য চওড়া। এদের ফনা বা Hood নেই।

পুরাে শরীরে প্রায় ৪০টা সাদা রঙের আড়াআড়ি দাগ থাকে।

পেট সাদা হয়।

 আঁশগুলাে ছয় কোনা আকৃতির।

চোখ তুলনামূলক ভাবে ছােট, চোখের তারা গােলাকার।

লেজ তুলনামূলক ভাবে ছােট।

কালাচ-সাপ
কালাচ-সাপ

 

দৈর্ঘ্যঃ

জন্ম মুহুর্তে এদের গড় দৈর্ঘ্য হয় ২৬-২৭ সেমি পরিণত অবস্থায় গড় দৈর্ঘ্য ৯০-১২০ সেমি।

কোথায় থাকতে পছন্দ করে ?

প্রধানত সমতল এলাকার সাপ।

তবে জলা জায়গা এদের বেশী পছন্দের।

ঝােপ, জঙ্গল, ঝােপ, জঙ্গল, উইটিবি, ইঁদুরের গর্ত, ভাঙা ইটের স্তুপে থাকে।

পরিত্যক্ত বাড়ির ফাটলে, এদের থাকতে দেখা যায়।

চালচলনঃ

দিনের বেলায় প্রধানত নিজেদের লুকিয়ে রাখে এবং রাত্রিবেলায় শিকারে বের হয়।

বিকালের পর থেকেই এরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

পুরুষ কালাচ সাপ নিজের এলাকা এবং পৌরুষের ব্যাপারে অনেকটা সচেতন।

এদের এলাকার ভেতর অন্য কোনাে পুরুষ কালাচ এর প্রবেশ মেনে নেয় না।

গরমকালে রাত্রে গ্রাম্য অঞ্চলের গৃহস্থ বাড়িতে প্রবেশ করে এবং বালিশ বা চাদরের তলায় গুটি
মেরে বসে থাকে এবং কারাে অজান্তেই ঘুমন্ত মানুষকে নড়াচড়া করলে কামড়ে দেয়।

বিষের প্রভাবঃ

♦  আধঘন্টা থেকে আট ঘন্টার মধ্যে এর বিষের প্রভাব শুরু হয়।

  চোখের পাতা বুজে আসে বা অবসন্ন হয়ে পড়ে।এই রকম চোখের পাতা কে শিবনেত্র বলা হয়।

কালাচের-কামড়ে-চোখের-পাতা-পড়ে-আসে
কালাচের-কামড়ে-চোখের-পাতা-পড়ে-আসে

 ♦  শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়, গা গােলাতে থাকে, পেটে ব্যাথা শুরু হয়।

  ঠোঁট ভারী হয়ে আসে বা আড়ষ্ট হয়ে থাকে।

♦  বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তি জানতেই পারেন না যে তাকে কালাচ সাপে কামড়িয়েছে।

  অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি গা গােলানাে বা পেট ব্যাথার জন্য ভাবেন যে হজমের গণ্ডগােল হয়েছে।

♦  বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই কামড় বােঝা যায় না। কারণ কালাচের দাঁত খুব ছােট হয়।

  এদের আক্রান্ত স্থান ফুলে ওঠেনা।

  শরীরে দুর্বলতা অনুভূত হয়।

  সঠিক চিকিৎসা না হলে ৫-১২ ঘন্টার মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু অবধারিত।

বিষরােধী সিরাম

পলিভ্যালেন্ট সিরাম সরাসরি শিরার মধ্যে যতশীঘ্র সম্ভব ইনজেক্ট করা দরকার। ভারতবর্ষে এই সাপের বিরােধী সিরাম পাওয়া যায়।

কালাচ সংরক্ষণঃ

ভারতীয় বন্য প্রাণী রক্ষা আইন (১৯৭২) এর Schedule-IV অনুযায়ী এই সাপ সংরক্ষিত এই সাপ সংরক্ষিত। এই সাপ ধরা বা মারা আইনত দন্ডনীয়। কালাচ সাপের মত দেখতে অন্য সাপঃ ঘরচিতি।

বিশেষ তথ্যঃ এই সাপটি ভারতের সবচেয়ে ক্ষতিকারক চারটি সাপের মধ্যে অন্যতম।

খাদ্যাভাস

এই সাপের খাদ্যাভাস একটু অন্য রকমের। এদের খাদ্য তালিকায়

  অন্ধ সাপ

  ব্যাঙ

  টিকটিকি

  ইঁদুর

  নিজের প্রজাতির সাপকেও খেয়ে ফেলে। এই কারণে এদের স্বজাতি ভক্ষক সাপও বলা হয়।

বংশগতিঃ

জানুয়ারির শেষ থেকে মার্চ এর মধ্যে এদের প্রজনন দেখা যায়। যেহেতু কালাচ স্বজাতি ভক্ষক তাই প্রজননের সময় এরা সতর্ক থাকে। স্ত্রী কালাচ ৩-১৫টা ডিম পাড়ে এবং মে-জুলাই মাসে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে আসে।

জন্মানাের এক বছরের মধ্যে এদের দৈর্ঘ্য দ্বিগুন হয়ে যায় এবং দু বছরের মধ্যে তিনগুন বড় হয়ে যায়।

স্ত্রী সাপ বাচ্চা ফোটা অবধি সেগুলিকে রক্ষা করে।

কালাচের বিষ 

  ভারতে পাওয়া সাপের মধ্যে কালাচের বিষ সব থেকে মারাত্মক বলা যায়।

  বিষাক্তর দিক থেকে ভারতে প্রথম এবং বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ।

   একবার কামড়ালে ২০-২২ গ্রাম বিষ ঢালে কালাচ।

♦  যদিও কালাচের লেথাল ডােজ ০.৫ গ্রাম।

   বিষ এক সাথে হিমােটক্কিক ও নিউরােটকসিক যা ভারতীয় কোবরা জাতীয় সাপের বিষের প্রায় ১৪-১৫ গুন বেশী।

  শ্বাস প্রশ্বাসের কেন্দ্রকে প্যারালাইসিস করে দেয়।

   লােহিত রক্ত কনিকাকে নষ্ট করে দেয়।

♦  কালাচের কামড়ে মৃত্যুর কারণ রূপে Asphyxia (যা প্রধানত শ্বাসরােধ করে দেয় অক্সিজেনের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। শ্বাস প্রশ্বাসে জড়িত অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলিকে প্যারালাইস করে দেয়) দেখা যায়।

নীলেন্দু কেশ

বিজ্ঞান অন্বেষক থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

মৌমাছি ও মধু

0 (0) মধু কি মৌমাছি ডানায় গুন গুন শব্দ আমাদের সবার পরিচিত। দূর দূরান্ত থেকে ফুলের মকরন্দ (Nector) সংগ্রহ করে আনে এবং বাসায় এনে উগরে ডানার দ্বারা বাতাস করে মধু (Honey)তে পরিণত করে। যা আমরা মধু হিসাবে খাই। মধু চটচটে, স্বাদেমিষ্টি, গাঢ় বাদামি রং,সুগন্ধ যুক্ত। মৌমাছি ফুলের মকরন্দ সংগ্রহ করে […]
মধু
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: