জলবায়ুর পরিবর্তন আমরা প্রত্যক্ষ করছি

জলবায়ু-পরিবর্তন

আজ ২৩শে সেপ্টেম্বর । একটি বিশেষ দিন । আজ দিবারাত্র সমান থাকার কথা । কিন্তু সময়ের হিসেব বলছে কলকাতায় ২/৩ মিনিটের ব্যবধান আছে।

আমরা সবাই জানি বছরে দুবার এই দিন আসে । একবার মার্চ মাসে একবার সেপ্টেম্বর মাসে । দিন রাত সমান কেন হয় কিভাবে হয় আমরা সবাই জানি। বছরের এই দুটি দিনকে আমরা বলি মহা বিষুব এবং জল বিষুব । স্পৃং ইকুইনক্স এবং অটাম ইকুইনক্স।

আমাদের ভ্রমণ আড্ডার এক বন্ধু আজকের বিষুব দিনটির নাম দিয়েছেন শরৎ বিষুব। ইংরেজিতে অবশ্য তাই বলা হয়। কিন্তু শরৎ বিষুব কথাটি শুনতে অনেক ভালো লাগে।

এ বছর মাসের হিসেব বাংলায় শরৎ শুরু হয়েছে সেই কবে অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি। কিন্তু শরতের সেই আমেজ এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। শিশির ভেজা সকাল, গাঢ় নীল আকাশ, ভাসা মেঘ।

বিকেলে এক পশলা বৃষ্টি তারপর সব ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাওয়া। অবশ্য আবহাওয়া দপ্তরের হিসেবে এখনও বর্ষাকাল। অন্যান্য বছর এই সময়ে উত্তর পশ্চিম ভারতের রাজস্থান থেকে বর্ষা বিদায় নেয় কিন্তু এবার বর্ষা এখনও বিদায় নেবার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

আগে সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই বর্ষা বিদায় পর্ব শুরু হয়ে যেত। সব মিলিয়ে পশ্চিম রাজস্থানে বর্ষার স্থায়িত্ব ছিল মেরে কেটে দেড় মাস।

গত কয়েক বছর থেকে দেখা যাচ্ছে যে রাজস্থান থেকে বর্ষা বিদায় নিচ্ছে অনেক দেরি করে। বর্ষা পৌঁছাচ্ছে একটু আগে। রাজস্থানে বর্ষার স্থায়ীত্ব গড়ে প্রায় পনেরো দিন বেড়েছে।

বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য আরব ও বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্পের যোগান আসছে । বৃষ্টি না হলেও বাতাসের উপরের স্তরে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেকটাই বেশি রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর থেকে বর্ষা বিদায়ের কথা সরকারি ভাবে বলা হচ্ছে না। নিম্নচাপের জন্য মধ্য ভারত বরাবর জোরালো বৃষ্টি হচ্ছে । জল জমেছে মহানগর জুড়ে।

আগামী কাল নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে যাবে। তার পর বর্ষা বিদায়ের কথা বলা হবে।

নিম্নচাপ দুর্বল হলেও আগামী কয়েক দিন দক্ষিণ বঙ্গে কমবেশি বৃষ্টি হবে। দক্ষিণ বঙ্গ থেকে বর্ষা ঠিক কবে বিদায় নেবে একথা এখনও বলা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন আমরা প্রত্যক্ষ করছি এবং জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত হারে।

অজয় নাথ

Leave a Reply

%d bloggers like this: