অন্য প্রসঙ্গ ; শিশু সাহিত্য

poribes news
0
(0)

আজ পন্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্ম বার্ষিকী। সব সামাজিক গনমাধ্যম তাঁকে নিয়ে নানা কথা, ছবি, তাঁর সম্মন্ধে নানা জানা অজানা তথ্য ইত্যাদিতে ভরাট হয়ে আছে।

তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি অন্য প্রসঙ্গ নিয়ে লিখছি। দু সপ্তাহ হল টিভিতে একটি নতুন ধারাবাহিক শুরু হয়েছে। নাম পান্ডব গোয়েন্দা। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা এমন বালখিল্যতা সমর্থন করেন না সুতরাং তারা সিরিয়েলটি দেখেন না বলেই আমার বিশ্বাস। তবে আমার মত সাধারণ মানুষ যারা পান্ডব গোয়েন্দাদের জন্মলগ্ন থেকেই চেনেন তারা ফাঁক পেলে সিরিয়েলটি অবশ্যই দেখেন। এটাও আমার বিশ্বাস।

সেটা ষাটের দশক। স্কুলের নীচু শ্রেনীতে, এই পঞ্চম ষষ্ঠ এইরকম হবে, পড়ি। শিশু সাহিত্যের রঙ্গিন জগৎ আমাদের কাছে উন্মুক্ত। তার মধ্যে একটি হল দেব সাহিত্য কুটিরের মাসিক শিশু সাহিত্য পত্রিকা শুকতারা।

এই শুকতারাতেই জন্ম নেয় পান্ডব গোয়েন্দা ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় নামের এক ২৩/২৪ বছরের শিশু সাহিত্যিকের হাত ধরে। হাওড়া জেলার খুরকুট সাথিতলায় তাঁর জন্ম ১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখ। আগামী জানুয়ারি মাসে তাঁর বয়স ৮০ বছর পুর্ণ হবে।

পান্ডব গোয়েন্দা হলো তিনটি ছেলে দুটি মেয়ে যাদের বয়স ১০/১১ থেকে ১৫/১৬র মধ্যে। তারা থাকে হাওড়া শহরে। পান্ডব গোয়েন্দাদের সবার বড় হল বাবলু, তার পর বিলু। বিলুর সম বয়েসী বাচ্চূ । বাচ্চুর ছোট বোন বিচ্ছু এবং তার কাছাকাছি বয়েসের ভোম্বল। তাদের সাথে আরো একটি চরিত্র ছিল। কানা পঞ্চু। একটি রাস্তার কুকুর যার একটি চোখ কানা।

বাবলু, বিলু, বাচ্চু, বিচ্ছু আর ভোম্বল সব সবসময় একসাথে থাকে। তাই পাড়ায় তাদের নাম পঞ্চপাণ্ডব। সেবার গরমের ছুটিতে এক দুপুর বেলা তারা ঢুকে পড়ে মিত্তিরদের পড়ো বাগান বাড়িতে সঙ্গে কানা পঞ্চু ।

বাগানটি আম, জাম, কাঁঠাল পেয়ারা, নারকেলের গাছে ভরা। কিন্তু কেউ থাকেনা বলে পড়ে থাকতে থাকতে জঙ্গলে পরিনত হয়েছে। ভূত প্রেত সাপ খোপের ভয়ে কেউ এখানে আসেনা। তবে পঞ্চপাণ্ডবের কথা আলাদা তাদের ভয় ডর থাকলেও খুব বেশি নয়। বাচ্চু বিচ্ছু সাপ খোপ ভুত প্রেত থেকে বেশি ভয় পায় মায়ের হাতের মারকে। সব থেকে সাহসী বাবলু। সে সবার বড়ও বটে।

বিচ্ছু আর ভোম্বোল যথেষ্ট বুদ্ধি ধরে। ভম্বোল একটু পেটুক হলেও ওর গুলতির টিপ অব্যর্থ। সেদিন সেই গ্রীষ্মের দুপুরে ঝাল নুন দিয়ে কাঁচা আমের চাকলা খেতে খেতে তারা ঠিক করে তারা এডভেঞ্চার করবে। চোর ডাকাত ধরবে। এক কথায় গোয়েন্দাগিরি করবে । দলের নাম দিল পান্ডব গোয়েন্দা। বাবলু হলো দলের পান্ডা।

মিত্তিরদের বাগানবাড়ি হলো ওদের অফিস এবং একত্রিত হওয়ার জায়গা। এই মিত্তিরদের বাগান বাড়ি থেকেই শুরু হয় তাদের গোয়েন্দাগিরি। পান্ডব গোয়েন্দাদের এডভেঞ্চারের গল্পের উৎস হল একজন ইংরেজ মহিলা শিশু সাহিত্যিক Anid Blyton (১১ অগাস্ট ১৮৯৭ – ২৮শে নভেম্বর ১৯৬৮) এর লেখা ফেমাস ফাইভ নামের ধারাবাহিক এডভেঞ্চার কাহিনী।

ফেমাস ফাইভ ধারাবাহিকের চরিত্ররা হল চারজন কিশোর কিশোরী। দুটি ছেলে জুলিএন ও ডিক। দুটি মেয়ে এ্যনি এবং জর্জিনা বা জর্জী । পঞ্চম চরিত্র হল তাদের কুকুর টিমি। জাতিতে জার্মান শেফার্ড ( টিভি ধারাবাহিকে যা দেখেছি) ।

ফেমাস ফাইভের এডভেঞ্চার কাহিনী শুরু হয়েছে Five on a Treasure Island দিয়ে। বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে। ষষ্ঠী পদ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মের এক বছর পর। পান্ডব গোয়েন্দাদের নিয়ে টিভি সিরিয়াল হয়তো আগেও হয়েছে তবে আমি দেখিনি। এখন ইউ টিউব থেকে দেখা যায়।

এখন যে সিরিয়েলটি শুরু হয়েছে তাতে বাবলু সদ্য কৈশোর পেরোনো যুবক। বাকি চরজন কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা দেওয়ার অপেক্ষায়। হিসেব করলে গত ৫৫ বছরে পান্ডব গোয়েন্দাদের বয়েস বেড়েছে পাঁচ থেকে ছয় বছর। এখন অবশ্য পান্ডব গোয়েন্দা সমগ্র বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু আজকের দিনের কিশোর কিশোরীরা সেই সোনার খনির সন্ধান জানে না।

তারা স্মার্ট ফোনের ভার্চুয়াল জগতে বাস করে। তেপান্তরের মাঠের স্বপ্ন দেখে না। পান্ডব গোয়েন্দাদের সাথে চোর ডাকাতের পেছনে ধাওয়া করে না। অবশ্য এক সময় তারা বিজ্ঞাপনের জোরে জে কে রাউলিংএর হ্যারি পটারের পেছনে ধাওয়া করেছিল। এখন আর সেই পাগলামীও চোখে পড়ে না। অবশ্য হ্যারি পটার ছিল এমনি ফোন আর স্মার্ট ফোনের মাঝের সময়টুকুতে।

একটি অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে ইচ্ছে হল। কিছুদিন আগে আমাদের ভদ্রেশ্বর বাজারের বইএর দোকানে গিয়েছিলাম বাচ্চাদের উপোযোগী বই কিনতে। দেখলাম রঙ্গিন মলাটে পঞ্চতন্ত্রের গল্প রয়েছে। কিনে নিয়ে এলাম।

বাড়িতে এনে খুলে দেখলাম পঞ্চতন্ত্র এবং ঈশপের গল্প মিলিয়ে একটা জগাখিচুড়ি তৈরি করা হয়েছে। ছোট বেলায় স্কুল পাঠ্যে আমরা পঞ্চতন্ত্র এবং ঈশপের গল্প দুটোই পড়েছি । এখন মনে হয় স্কুলে পঞ্চতন্ত্র বা ঈশপের গল্প কোনটাই পড়ানোর চল নেই। জগাখিচুড়ি দেখে একটু কষ্ট হলো। কি আর করা সময়ের সাথে সব কিছু পাল্টে যায় ।

অজয় নাথ

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

বাঘ মামা

0 (0) পায়ে পড়ি বাঘমামা, করো নাকো রাগ মামা ! তুমি যে এ ঘরে কে তা জানতো ? বাঘ আমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় পশু,বনের রাজা সে ! যে সে রাজা নয় একেবারে পরাক্রমী স্বাধীনচেতা রাজা । গত 29শে জুলাই এই বড়ো বিড়ালদের দিন অর্থাৎ বিশ্ব বাঘ দিবস । বর্তমানে এই প্রাণীটি […]
বাঘ- tiger
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: