বাঘ মামা

poribes news 1
5
(3)

পায়ে পড়ি বাঘমামা,

করো নাকো রাগ মামা !

তুমি যে এ ঘরে কে তা জানতো ?

বাঘ আমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় পশু,বনের রাজা সে ! যে সে রাজা নয় একেবারে পরাক্রমী স্বাধীনচেতা রাজা ।

গত 29শে জুলাই এই বড়ো বিড়ালদের দিন অর্থাৎ বিশ্ব বাঘ দিবস । বর্তমানে এই প্রাণীটি মহাবিপন্ন (Critically Endangered) প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ।

বাঘ- tiger
বাঘমামা

বৈজ্ঞানিক নাম : Penthera tigris

আয়ু :   ১০-১৫ বছর

গতি :    ৪৯-৬৫ কিলোমিটার / ঘ :

বাঘের প্রকার

সাধারণ বাংলা নাম সাধারণ ইংরাজী নাম বিজ্ঞান সম্মত নাম
১) বঙ্গীয় (ভারতীয়) বাঘ Royal Bengal Tiger Panthera tigris
২) ক্যাসপিয়ান বাঘ Caspian Tiger Panthera virgata
৩) সাইবেরিয়ান বাঘ Siberian Tiger Panthera artica
৪) জাভা বাঘ Javan Tiger Panthera sondaica
৫) দক্ষিণ চীনা বাঘ South Climese Tiger Panthera amoyensis
৬) বালি বাঘ Bali Tiger Panthera balica
৭) সুমাত্রীয় বাঘ Sumatran Tiger Panthera sumatrae
৮) ইন্দোচীনীয় বাঘ Indo-Chinese Tiger Panthera carbehi

পৃথিবীর কোন কোন দেশে বাঘ বাস করে

আমাদের দেশে বাঘের সময়ের সঙ্গেই সময়ের সঙ্গে কমে আসছে, একই অবস্থা সমগ্র পৃথিবীতেই । ১০০ বছর আগেও যেখানে বিশ্বে প্রায় এক লাখ বাঘ ছিল, সেখানে সংখ্যাটি এখন কমতে কমতে হাজার তিনেকের কিছু বেশিতে এসে ঠেকেছে ।

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানে আছে বেঙ্গল টাইগার; কম্বোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড আর ভিয়েতনামে পাওয়া যায় ইন্দো-চায়নিজ টাইগার; মালয়েশিয়া আর মিয়ানমারে মালায়ান টাইগার; ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় সুমাত্রান টাইগার; রাশিয়ান হিমশীতল তুন্দ্রায় সাইবেরিয়ান বা আমুর টাইগার আর চীনে আছে সাউথ চায়না টাইগার । এই ১৩টি দেশকে বলা হয় ‘টাইগার রেঞ্জ কান্ট্রি’। তবে বাংলাদেশের জন্য একটি ভালো খবর হলো, একক বনগুলোর মধ্যে সুন্দরবনেই বাঘের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি!

বাঘ উপস্থিতিতে বাংলাদেশ, ভারত, বার্মা, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, ভুটান, নেপাল ও রাশিয়া অন্যতম। তাই এদের একত্রে বলা হয় টাইগার টেরিটরি !

বাঘের প্রকারভেদ :

বাঘের আটটি উপ-প্রজাতির মধ্যে ইতোমধ্যে বালিনিজ টাইগার, জাভানিজ টাইগার ও কাম্পিয়ান টাইগার বিশ্ব থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে । বর্তমানে বাঘের পাঁচটি উপ-প্রজাতি আছে । এগুলো হল বেঙ্গল টাইগার, সাইবেরিয়ান টাইগার, সুমাত্রান টাইগার, সাউথ চায়না টাইগার এবং ইন্দো-চায়না টাইগার।

সাদা বাঘ :

আমাদের আকর্ষণের এক কেন্দ্র বিন্দু হলো সাদা বাঘ, কিন্তু সাদা বাঘ কোনো বিশেষ প্রজাতির বাঘ নয়, বলা যায় অ্যালবিনো । অর্থাৎ জীন মিউটেশনের ফলে কোনো ত্বকের রঙ তৈরী হয়নি । সোনালী এবং কালো বাঘও মিউটেশনের ফল ।

গত শতাব্দীর বাঘের পরিসংখ্যান :

১৯০০ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ১,০০,০০০টি এবং বর্তমানে বাঘের সংখ্যা প্রায় ৩,৯০০টি, এর প্রায় অর্ধেকের বেশি বাঘ রয়েছে ভারতে । বিশেষজ্ঞগণের মতে, বাঘের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবী থেকে এই প্রাণীটির হারিয়ে যাওয়ার তীব্র সম্ভবনা রয়েছে ।

রয়্যাল-বেঙ্গল-টাইগার
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

বিশ্বব্যাপী বাঘ সমীক্ষার প্রাথমিক পর্যায় :

২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা ঘোষণা ছিল । কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধুমাত্র ভারত, রাশিয়া, নেপাল ও ভুটান আংশিকভাবে সফল হয়েছে ।

২০১৫ সালে I U C N (International Union for Conservation of Nature and Natural Resources) এবং W W F (World Wildlife Fund)-এর সমীক্ষায় জানা যায় কম্বোডিয়ায় কোনো বাঘ নেই ।

বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি থেকে ১০৩টি, চীনে ৪৫টি থেকে ৭টি, লাউসে ১৭ থেকে ২টি, ইন্দোনেশিয়ায় ৫০০ থেকে ৩৭১টি, মালোয়েশিয়ায় ৫০০ থেকে ২৫০টি, থাইল্যান্ডে ২৫২ থেকে ১৮৯টি এবং ভিয়েতনামে ২০টি থেকে ৫টিতে নেমে এসেছে । মায়ানমারের বাঘ গণনার কোনো তথ্য পাওয়া য়ায়নি ।

বাঘের সংখ্যা হ্রাসের কারণসমূহ :

পৃথিবীর প্রায় সব দেশে বাঘের চামড়া, হাড় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে প্রস্তুত বিভিন্ন প্রকারের পণ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, আইন প্রণয়ন করেছে, কিন্তু তবু চোরাপথে বাঘের চামড়া পাচার ও কালো বাজারে বিক্রি হচ্ছে ।

বাঘ পোচিং অর্থাৎ চোরা শিকার ,গোপনে নিধন ও পাচার হচ্ছে । বনাঞ্চল ধ্বংস করে গড়ে উঠছে শিল্প, কলকারখানা, রাস্তাঘাট, জনবসতি, বাজার ইত্যাদি । বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে কিছু ওষুধ, স্যাম্পু ও টনিক তৈরির জন্য চীনে এখনও বেশ প্রচলিত ।

১। বাঘ শিকার ও দেহাবশেষ যেমন চামড়া, হাড় ইত্যাদি চোরা শিকার এবং পাচার ।

২। বাঘসমৃদ্ধ বনাঞ্চল ধ্বংস করে রাস্তাঘাট নির্মাণ, খনিজদ্রব্য আহরণ,দখল, জনবসতি ও বাজার স্থাপন করা ।

৩। বাঘের প্রাকৃতিক আবাস্থলে ও তার আশপাশে শিল্পকারখানা স্থাপন করে পরিবেশ দূষণ ।

৪। বাঘ শিকার ও নিধনের জন্য ফাঁদ, বিষটোপ ইত্যাদি ব্যবহার ।

৫। বাঘের খাদ্য শিকার প্রাণী নিধন ও মাংস বাজারজাতকরণ করা ।

৬। বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি ।

৭। বাঘসমৃদ্ধ বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে যানবাহন ও নৌচলাচল বৃদ্ধি ।

বাঘ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ :

প্রকৃতি থেকে বাঘ বিলুপ্তি রুদ্ধ করতে ১৯৯৪ সালের মার্চ মাসে দিল্লিতে Global Tiger Forum (GTF) প্রতিষ্ঠিত হয় । GTF হচ্ছে বাঘ অধ্যুষিত এবং বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ে সহায়তাকারী দেশসমূহের আন্তর্জাতিক সংস্থা।

বর্তমানে বাঘ ও সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগে সহায়তা করছে বিশ্বব্যাংক, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউ এস এইড, GTI (Global Tiger Initiative) ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থা ।

বাঘ হলো বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের একটি ইন্ডিকেটর প্রজাতি । যে বনের জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ, সেখানে বাঘের সংখ্যা বেশি থাকে । বাঘ কমে যাওয়ার অর্থ বনাঞ্চলের অবস্থা এবং বাঘের আবাসস্থল বিপদের সম্মুখীন ।

তাই বাঘ রক্ষার জন্য বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সক্রিয় হয়ে উঠেছে । বাঘের আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত ১৩টি টাইগার রেঞ্জ দেশ বাঘ সংরক্ষণের জন্য National Tiger Recovery Program (NTRP) ও Global Tiger Recovery Program (GTRP) এর মাধ্যমে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা ,বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে ।

বাঘ মামা

বাঘ সংরক্ষণের গুরুত্ব :

বাঘ বনের Flagship species হিসেবে কাজ করছে । বাঘ সর্বোচ্চ খাদক, বনভূমির খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে অবস্থান করছে এবং এর উপর নির্ভর করে, ওই বনের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য । সেজন্য বাঘ সংরক্ষণের প্রকৃত অর্থ হলো, কেবলমাত্র একক প্রজাতির জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা নয়, এর সঙ্গে অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে তাদের আবাস, খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রজনন নিয়ন্ত্রন করা ।

২০১০ সালে থাইল্যান্ডে, 1st Asian Ministerial Conference on Tiger Conservation (1st AMC) অনুষ্ঠিত হয় । এই কনফারেন্সের ঘোষণাকে সংক্ষেপে Hua Hin Declaration on Tiger Conservation নামে অভিহিত করা হয়।

এই যৌথ ঘোষণায় প্রতিটি দেশে বিপন্ন বাঘ ও বাঘের প্রাকৃতিক আবাস্থল সংরক্ষণের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য একাধিক কর্মসূচি গৃহীত হয়।

টাইগার সামিট :

২০১০ সালের ২০-২৪ নভেম্বর রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে Tiger Summit অনুষ্ঠিত হয় । ১৩টি বাঘসমৃদ্ধ দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং উক্ত সম্মেলনের মূল বিষয়গুলো হল :
১. আগামী ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা বর্তমান সংখ্যার থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করতে হবে ।

২. বাঘ ও বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে চিহ্নিত বনাঞ্চলসমূহকে সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে ।

৩. বাঘের বসবাসের জায়গাগুলিকে জীববৈচিত্র্-এর মূল আধার হিসেবে চিহ্নিত করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে ।

৪. বাঘসমৃদ্ধ বনাঞ্চলে কোনো শিল্পকারখানা স্থাপন, খনিজ পদার্থ উত্তোলন বা পরিবেশ দূষণ হয়; এমন কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না ।

৫. বনাঞ্চলের চলমান টহ ও নজরদারি ব্যবস্থা উন্নত করে বাঘ ও বাঘের শিকার প্রাণীর নির্বিচারে বেআইনি নিধন বন্ধ করতে হবে ।

৬. বাঘ সংরক্ষণের মাধ্যমে ইকোট্যুরিজম সম্প্রসারিত করে উক্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় জনসাধারণকে সংযুক্ত করতে হবে ।

৭. বাঘ ও মানুষের দ্বন্দ্ব ও সংঘাত নিরসনের জন্য গণসচেতনতা শিবির, প্রশিক্ষণ প্রদান ও সময়োপযোগী বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।

৮. দুই দেশের সীমান্তসংলগ্ন বাঘসমৃদ্ধ বনাঞ্চলে বাঘের চলাচল যাতে ব্যাহত না হয় তার জন্য ট্রান্সবাউন্ডারি তৈরী করা ।

৯. বাঘ, বাঘের দেহাবশেষ ও চামড়া পাচার রোধ করার জন্য CITES, INTERPOL, ASIAN-WEN ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থার সহয়তা গ্রহণ করতে হবে ।

১০. বাঘ ও বাঘের শিকার প্রাণী নিধনের জন্য বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত আইনসমূহে শাস্তির বিধান বৃদ্ধি করে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে ।

১১. জীববৈচিত্র্ সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় উপজাতীয় জনগোষ্ঠী ও জনসাধারণকে সংযুক্ত করতে হবে ।

১২. বনাঞ্চলে বাঘ ও শিকার উপযোগী প্রাণীর অবস্থা ও সংখ্যা নির্ধারণের জন্য নিয়মিতভাবে তথ্য সংগ্রহ ও উন্নত বৈজ্ঞানিক কৌশল প্রয়োগ করতে হবে । যা ত্বরান্বিত করবে সামগ্রিক সংরক্ষণ প্রক্রিয়া ।

১৩. বাঘসমৃদ্ধ বনাঞ্চলে বনজদ্রব্য আহরণ নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত পরিসরে হ্রাস করতে হবে এবং এর বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে Forest Carbon Financing যেমন REDD+, PES GER ইত্যাদি সহায়তা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে ।

১৪. প্রতিটি দেশকে বাঘ সংরক্ষণে Tiger Action Plan প্রণয়ন ও তার বাস্তব রূপায়ণ করতে হবে ।

১৫. সরকার অনুমোদিত জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্মসূচি National Tiger Recovery Programme সফল করতে হবে ।

১৬. প্রতি বছর ২৯ জুলাই ‘বিশ্ব বাঘ দিবস’ উদ্‌যাপন করে বাঘ সংরক্ষণে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং মানুষ কে বেশি করে সংযুক্ত করতে হবে ।

বাঘ সংরক্ষণে দিল্লি, ২০১৬ :

ভারতের অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাঘ সংরক্ষণ সন্মেলনে বাঘসমৃদ্ধ ১৩টি দেশের মন্ত্রী,বন আধিকারিক, বাঘ বিশেষজ্ঞ ও ঊর্দ্ধতন সররকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন । সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । সম্মেলনটি 2016 সালের 14ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় ।

বাঘ
বাঘ মামা

বাঘ-মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই :

বিভিন্ন ঘটনার পর্যালোচনা করলে দেখা যায় গত এক দশক আগে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫০-এর বেশি জন মানুষ বাঘের আক্রমনে মারা যায় । এদের অধিকাংশ সাধারণ গ্রামবাসী জেলে, মৌয়ালী ও জ্বালানি কাঠ আহরণকারী ।

সুন্দরবনের বিশেষ করে লোকালয়ে সংলগ্ন অঞ্চলে গবাদি পশু বাঘের আক্রমণের শিকার হয়ে থাকে। উল্টো ঘটনাও হয় প্রতি বছরই বাঘ লোকালয়ে মানুষ দ্বারা আক্রান্ত ও নিহিত হয়।

সুন্দরবনের পরিবর্তন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, হরিণ পাচার ও চোরাশিকার এবং খাদ্য সংকটসহ বিবিধ কারণে বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।মূলত খাবারের খোঁজেই বাঘ চলে আসে লোকালয়ে ! সাম্প্রতিককালে বন বিভাগ ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সন্মিলিত কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির ফলে বাঘ-মানুষ-এর এই দ্বন্দ্বে জীবনহানির ঘটনা হ্রাস পেয়েছে।

বিশেষত ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে লোকালয়ে চলে আসা কোনো বাঘের মারা যাওয়ার ঘটনা সেই ভাবে শোনা যায় নি, বিক্ষিপ্ত ভাবে কয়েকটা ঘটনা ঘটেছে এবং বাঘের আক্রমনে মানুষ মারা যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে চোরা শিকারির উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসন ও পুলিশের হাতে বাঘের চামড়া ধরা পড়ার ঘটনা কিন্তু লেগেই থাকে। বনের মধ্যে গোলপাতা, মধু ও মাছের আহরণে আগের মতোই মানুষের আগাগোনা থাকলেও হতাহতের সংখ্যা আগের মতো নয়।

সুন্দরবনের বাঘ গণনার সমস্যা :

সুন্দরবনের অবস্থা বাঘসমৃদ্ধ অন্যান্য বনাঞ্চলের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাদাবনে বাঘ চলাচলে কোনো নির্দিষ্ট পথ অর্থাৎ ট্র্যাক নেই, ফলে Camera Trapping পদ্ধতি ব্যবহারে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে।

২০০৪ সালের আগে Camera Trapping পদ্ধতির প্রচলন ছিল না l সুন্দরবনে বাঘ গোনা অন্য যেকোনো বন থেকে অনেক বেশি কঠিন। প্রতিদিন দুবার জোয়ার বাদাবনকে ডুবিয়ে দিয়ে যায় । সুন্দরবনের ঘন গাছপালা, চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ধারালো শ্বাসমূল মিলে বনকে এতই দুর্গম করেছে যে বনের মধ্যে ঢুকে পায়ের ছাপ সংগ্রহ অথবা সবখানে ক্যামেরা লাগিয়ে আসা, কোনোটিই আসলে পুরো বনে সম্ভব নয় ।

সুন্দরবনের জন্য তাই একটা নতুন নিয়ম তৈরি করা হলো, যাকে ‘খাল সার্ভে’ বলা হয় । ছোট ছোট নৌকায় করে বাঘ গোনা বাহিনী ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবনে জালের মতো বিছিয়ে রাখা অসংখ্য খালে, আর খালের ধারের বাঘের পায়ের ছাপ গুনে ফেলে তারা ।

ছাপের সংখ্যা কিন্তু অবশ্য বাঘের মোট সংখ্যা নয়, কিন্তু প্রতিবছর খাল সার্ভের ফলাফল তুলনা করে জানা যায় যে সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব একই রকম আছে কি না। তবে দুটি বছরে খুব পার্থক্য পাওয়া গেলেও তার মানে এটা না-ও হতে পারে যে বাঘের সংখ্যা বদলে গেছে। কোনো কারণে তাদের চলাফেরার এলাকা বদলে যেতে পারে, তারা কোন খাল থেকে জল খায় সেটা, বদলে যেতে পারে ।

খাল সার্ভের ফলাফল বাঘের সংখ্যা নির্দিষ্ট না বলতে পারলেও ; বাঘেরা সুন্দরবনে কোথায় কোথায় অবস্থান করে এটি বলতে পারে । সংখ্যা গণনার জন্য খাল সার্ভের সঙ্গে বর্তমানে শুরু হচ্ছে সেই ক্যামেরা ট্র্যাপিং ।

সুন্দরবনের অরণ্য অংশে রেখে আসা হবে ক্যামেরা, যার ছবিতে ধরা পড়বে রহস্যময় বাঘের অমূল্য সব ছবি, একেকটি বাঘের জন্য একেক রকম! এ ছাড়া বাঘের গলায় রেডিও কলার পরিয়ে তাদের টেরিটরি কতখানি, একেকটি বাঘ কতবার একটি খাল পার হচ্ছে, সব মিলিয়ে তাদের আচরণ সম্পর্কেই আরও নতুন অজানা তথ্য জানা যাবে ।

পাগমার্ক পদ্ধতি :

বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বসানো হচ্ছে ক্যামেরা ১৯৭০ সালে আরেকটি উপায়ে বাঘ গোনার চেষ্টা হয়েছিল। এক বনরক্ষক ধারণা করলেন যে প্রতিটি বাঘের পায়ের ছাপ বা ‘পাগমার্ক’- ই আলাদা। বনকর্মীরা পায়ের ছাপের ছাঁচ তৈরির জন্য নেমে গেলেন।

এ পদ্ধতিকে বলা হতো পাগমার্ক সেনসাস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে শুধু পাগমার্ক দেখে যদিও একটি বনে বাঘ আছে কি নেই তা বোঝা যায়, কিন্তু বহুদিন ধরে একটি বনের প্রতি ইঞ্চিতে ছাপ সংগ্রহ, মাপা এবং পরীক্ষা না করে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা প্রায় অসম্ভব।

সুন্দরবনে Pugmark Method-এর ফলাফলের উপর নির্ভর করে বাঘের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহারে ভারতীয় সুন্দরবনে ২৫০টি বাঘ এবং বাংলাদেশ সুন্দরবনে ৪৪০টি বাঘ পাওয়া যায়। যদিও সিউডো পাগমার্ক নিয়ে অনেক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় l

বাঘ গণনায় ক্যামেরা ট্র্যাপিং ব্যবহার :

সুন্দরবনে বাঘ চলাচলে কোনো নির্দিষ্ট পথ না থাকায় Camera Trapping পদ্ধতি ব্যবহারে বিতর্ক রয়েছে l বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ‘স্ট্রেংদেনিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর ওয়াইল্ডলাইফ প্রটেকশন’ প্রকল্পের অধীনে Wildlife Institute of India-এর সহায়তায় বন বিভাগ Camera Trapping ব্যবহার করে সুন্দরবনের বাঘ গণনার কাজ ২০১৩ সালের নভেম্বরে শুরু করে এবং ওই সমীক্ষা ২০১৫ সালের এপ্রিলে শেষ হয়।

এই যৌথ সমীক্ষা কাজ একই সময় দুই দেশের সরকারের নেতৃত্বে উভয় সুন্দরবনে সম্পন্ন হয়।

ক্যামেরাবন্দি ছবির মাধ্যমে পদ্ধতি নিয়ে ভারতীয় সুন্দরবন ও বাংলাদেশ সুন্দরবনের কর্মকর্তাদের আপত্তি ছিল। তাই এ পদ্ধতিটিকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য Wildlife Institute of India (WII)-এর বাঘ বিশেষজ্ঞ ডঃ রাজভেন্দর ঝালার নেতৃত্বে উভয় সুন্দরবনে প্লটিং করা হয়।

প্রতিটি গ্রিডে দুটি করে সুবিধাজনক গাছে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ক্যামেরাগুলি প্রতি দুদিন অন্তর চেক করে মেমরি কাডের ছবি রেকর্ড করা হয় । বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা ক্ষেত্রে , তাদের পায়ের ছাপ গুনে ও বিচরণের অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে করা হয় ।

ক্যামেরাবন্দি হওয়া বাঘের ৩০ শতাংশ পুরুষ এবং বাকিগুলো মহিলা । সমীক্ষা ফলাফল চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমবেশি ১০৬টি হবে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিলো ।

এছাড়াও এখন রিমোট সেন্সসিং ও রেডিও কলার ব্যবহার করা হয় ।

সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণের প্রধান আতঙ্কের কারণ :

১. বাঘ শিকার ও চামড়া পাচার ।

২. বাঘের খাদ্য শিকার প্রাণী হরিণ শিকার ও লোকালয়ে মাংস বাজারকরণ ।

৩. বনের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিতভাবে নৌযান চলাচল ।

৪. চোরা শিকারির উপদ্রব ।

৫. সুন্দরবনের মাঝে শিল্প, কলকারখানা, বিদ্যুৎ প্রকল্প, সাইলো, মাছের ঘের ও রাস্তাঘাট নির্মাণ ।

৬. সুন্দরবনের সর্বত্র যথেচ্ছভাবে মাছ ধরার জন্য মানুষের অনুপ্রবেশ ।

৭. বনাঞ্চলে বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি ।

রয়েল বেঙ্গল টাইগার

বাঘ সংরক্ষণে গৃহীত পদক্ষেপ :

বনবিভাগ বাঘ সংরক্ষণে বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরিত প্রোটোকল অনুসারে, সুন্দরবনের বাঘ রক্ষার জন্য বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে । আন্তর্জাতিক ঘোষণা অনুসারে, সুন্দরবনে বাঘ ও হরিণের সংখ্যা ধারণ ক্ষমতায় অর্থাৎ Carrying capacity রেখে অবৈধ হরিণ শিকার বন্ধ, আবাসস্থলের উন্নয়ন ও নিয়মিত সমীক্ষা এবং নজরদারি বজায় রেখে, বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য যথোপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উভয় সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ, বাঘ ও শিকারি প্রাণী পাচার বন্ধ, দক্ষতা বৃদ্ধি, মনিটরিং ইত্যাদির জন্য একটি Protocol ও একটি MoU স্বাক্ষর করা হয়েছে। লোকালয়ে আসা বাঘকে অনাক্রমণ না করে,বন দফতরে খবর দেওয়া এবং তার সাথে সাথে চেতনানাশক ‍ওষুধ প্রদান করে অন্যত্র স্থানান্তরকরণ ও সংরক্ষণের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে l

বাঘ সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের করণীয় :

১। চোরা শিকারির উপদ্রব বন্ধের জন্য পুলিশ, প্রশাসন ও বন বিভাগ সমন্বয়ে নিয়মিতভাবে যৌথ অভিযান পরিচালনা l বাঘ শিকারিদের ধরার জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করার জন্য স্থানীয় স্তরের তথ্য প্রয়োজন যে কাজটি কেবল মাত্র স্থানীয় লোকেদের দ্বারাই সম্ভব ।

২। প্রতিটি এলাকায় বন বিভাগের পেট্রোলিং করা l

৩। সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নৌ-চলাচল হ্রাস করে বিকল্প পথে নৌ-চলাচলের ব্যবস্থা করা ।

৪। সচেতনতা বৃদ্ধি করে বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসন করা ।

বাঘের আচরণগত বৈশিষ্ট ও তার দরুন গণনা সমস্যা :

সিংহ যেমন বড় দলে থাকতে পছন্দ করে, বাঘ কিন্তু তেমনটি নয়। একটি বাঘ একাই একটা নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে থাকে, যাকে বলা হয় তার টেরিটরি । এই টেরিটোরি ২৫ থেকে ১০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে! বাঘ শিকারও ধরে ওই নিজের টেরিটরি থেকেই।

বাঘের এই বিক্ষিপ্তভাবে থাকার অভ্যাসের কারণে বনের বাঘগুলোকে এক জায়গায় পেয়ে ‘মাথা গোনা’ বা লেজ গোনা সম্ভব নয়। বিভ্রান্তি তৈরি করে বাঘের চমৎকার ডোরা, যা তাকে খুব সহজেই ঘন পাতার সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে যাকে আমরা কেমোফ্লাজ বলি । যে কারণে বাঘের দেখা পাওয়াও যথেষ্ট কঠিন এবং ভাগ্যের ব্যাপার ।এক বাঘের ডোরাকাটা ছাপের সঙ্গে অন্য বাঘের ডোরাকাটা ছাপ মেলে না সাধারণত !

প্রায় ১০০ বছর আগে, রাশিয়ান বিজ্ঞানীরা ভাবলেন, বরফে ভরা বনে বাঘের পায়ের ছাপ হয়তো তাদের সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবে। বিচরণক্ষেত্রের আয়তন অনুযায়ী দুটি আলাদা ধরনের পায়ের ছাপ আলাদা করে তাদের সংখ্যা হিসাবের এই পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

পায়ের ছাপ বা টাইগার ট্র্যাক গোনার মূল সমস্যা হলো, বনের কয়টি বাঘ গোনাই হয়নি বা কয়টি একবারের বেশি গোনা হয়েছে, তা বোঝার আসলে কোনো উপায় নেই।আর তাছাড়া সব বন তো বরফাবৃত হয়না l

প্রায় ওই সময়ে ভারতে পদ্ধতিটি একটু বদল করে ব্যবহার করতে শুরু হয়েছিল। বাঘ যেসব জায়গা থেকে জল খায়, তার আশপাশের ট্র্যাকগুলো গুনলেন । তবে এর জন্য বাঘের বিচরণক্ষেত্রের এলাকা, আর কত ঘন ঘন বাঘ জল খেতে পারে—এ নিয়ে একটি আন্দাজ করতে হয়েছিল তাঁর।

পায়ের ছাপ থেকে সহজে তাদের আলাদা করা যায় না সত্যি, কিন্তু প্রতিটি বাঘের গায়ের ডোরার নকশা একেবারেই আলাদা। একজনের সঙ্গে অন্যজনের মেলে না। বাঘের ডোরা পরীক্ষা করবে কীভাবে? এ চিন্তা থেকেই শুরু হলো ক্যামেরা ট্র্যাপের ব্যবহার।

ফটোগ্রাফাররা বহুদিন থেকেই বিভিন্ন প্রাণীর দুর্লভ ছবি তোলার জন্য বনের মধ্যে বিশেষ ক্যামেরা রেখে আসতেন। ১৯৮০ সালের দিকে বিখ্যাত বাঘ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ উল্লাস করন্থ ভারতের নগরহোল বনে বিশেষভাবে তৈরি অসংখ্য ক্যামেরা ছড়িয়ে দেন। ক্যামেরায় ধরা পড়ে বাঘের নিজস্ব জীবনের অদ্ভুত সব ছবি।

চিতা ও লেপার্ড :

চিতা এবং চিতা বাঘ বা লেপার্ড এই স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখতে একরকম হলেও সম্পূর্ণ দুটি আলাদা প্রজাতির প্রাণী। চিতা দেখা যায় আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায়। চিতার দেহ হালকা,মাথা ছোট এবং পাগুলি বড় হয়ে থাকে।

অন্যদিকে লেপার্ড দেখতে পাওয়া যায় আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব চীনে। চিতা শিকার করে দিনের বেলায়। চিতা প্রথমে শিকারকে লক্ষ্য করে এবং তারপর দু’ তিনটি চিতা মিলে শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরা মূলতঃ শিকারের গলায় আঘাত করে। অত্যন্ত দ্রুতবেগে দৌড়ানো চিতার একটি বৈশিষ্ট্য।

অনেকক্ষেত্রে চিতার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ মাইলেরও (৯৬ কিমি) বেশী হয়ে থাকে। অন্যদিকে লেপার্ড একা একা এবং খুব ধীরে ধীরে চুপিসারে শিকার করে। এরা হল নিশাচর শিকারি। শিকারের পিছন থেকে ঘাড়ে কামড় দিয়ে মেরে ফেলতে পারে। চিতা গাছে উঠতে অক্ষম। কিন্তু লেপার্ড খুব সহজেই মুখে করে তার শিকার নিয়ে গাছে উঠতে পারে।

লেপার্ডের দেহের ওজন ও আকৃতি তুলনায় বড় ও বেশী এবং এদের ক্যানাইনের (কৃন্তক) দাঁতও আকারে বড় হয়। লেপার্ডের পায়ের ছাপও আকারে বড়। লেপার্ডের চোয়াল এত শক্তিশালী যে খুব সহজেই শিকারের হাড়গুলি ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো করে দিতে পারে। লেপার্ডের সারা দেহে কালো চাকা চাকা দাগ থাকে এবং চোখের নীচে দুটি অর্ধচন্দ্রাকৃতি সাদা দাগ দেখা যায়।

চিতাবাঘ-লেপার্ড
চিতাবাঘ-লেপার্ড

চিতার দেহেও কালো ছোপ থাকে কিন্তু চিতার দেহে মুখমণ্ডলে দুপাশে দুটি কালো দাগ থাকে যা চোখের পাশ থেকে মুখের কোণা পর্যন্ত বিস্তৃত। চিতা কখনও গর্জন করে না, তার পরিবর্তে মুখ দিয়ে বিভিন্ন রকম শব্দ সৃষ্টি করে ভাব বিনিময় করে। লেপার্ড সিংহের মত গর্জন করতে পারে যদিও তার প্রাবল্য সিংহের থেকে কম।

রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার :

আমাদের বাংলার খাস বাঘের কথায় আসি,এ হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার । সে, যে সে জিনিস নয়,এক থাবায় আপনি সাবাড় । এই করোনার আবহে পরিবেশের পোয়া বারো নয় তেরো হয়েছে,সব ভালো ভালো; দূষণ কমেছে ওজন স্তর সেরেছে আর বেড়েছে বাংলার এই বিখ্যাত বাঘেদের সংখ্যা l

সম্প্রতি বাঘ সুমারি অনুযায়ী,বাঘের সংখ্যা ৮৮থেকে ৯৬ হয়েছে । যদিও সামগ্রিক ভাবে বহুদিন থেকেই বাঘ সংরক্ষণ শুরু হয়েছে, তার সুফল আসতে শুরু করেছে । সুন্দরবনে , পৃথিবীর বৃতত্তম বাদাবনের অন্যতম জীব হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ।

যার বিচরণ ক্ষেত্রে সমগ্র সুন্দরবন,মানুষের সাথে যেন সহাবস্থান l প্রতি বছরই মানুষের প্রাণহানী হয়ে থাকে বাঘের কারণে,বন থেকে মধু কাঠ ইত্যাদি সংগ্রহ করতে গিয়েও মানুষ বাঘের শিকার হন ।

শুধু তাই না জেলেরাও অনেক সময় শিকার হয়ে থাকেন রয়্যাল বেঙ্গলের, সুন্দর বনের বাঘ নোনা কাদা মাটিতে উপকূলের তট রেখার কাছে ঘুরে বেড়ায় । সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,বিড়াল গোত্রীয় অন্য প্রাণীরা যখন জল অপছন্দ করে তখন কিন্তু বেঙ্গল টাইগার জল দেখলেই সাঁতার কাঁটতে নেমে পড়ে এবং এরা খুব ভালো সাঁতারু হয়; অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই অনেক দূর চলে যেতে পারে l নৌকা থেকে মানুষ নিয়ে যাওয়ার অনেক দৃষ্টান্ত ইতিহাসে আছে ।

বাঘের খাবার নিয়ে অনেক মিথ চলে,কিন্তু বেঙ্গল টাইগার অন্য ভারতীয় বাঘেদের তুলনায় আকারে বেশ বড়ো এবং সে এক দক্ষ শিকারী,গবাদি পশু থেকে তৃণভোজী বন্য জন্তু হাঁস মুরগি এমন কি কুমির পর্যন্ত আর মানুষ তো আছেই ।

বাঘ সাারনতঃ বৃদ্ধ বয়সে ম্যানইটার হয় । সুন্দরবনের ক্ষেত্রে বাঘের অতন্ত্য সহজ শিকার হলো মানুষ,তাই এদের ম্যানইটার বলাই যায় । বাঘ শিকারকে তার থাবায় রেখে,শিকারের গলার বা ঘাড়ের কাছের ধমনী ছিড়ে দেয় যার ফলে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের জন্য শিকার মারা যায়,বাঘ খুব সহজেই তার শিকার কে মুখে করে নিয়ে যেতে পারে যাতে মাটি স্পর্শ না হয় ।

এক বসায় বাঘ ৩০ থেকে ৪০ কিলোগ্রাম মতো মাংস খেতে পারে । বিড়ালের মতো বাঘের জিহ্বাতেও পানীয় জল বোঝার জন্য আলাদা স্বাদকোরক থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বাঘের লালা কিন্তু সংক্রমণরোধী ক্ষমতা সম্পন্ন ।

খাবার বা একাধিক কারণে প্রায়শই বাঘ চলে আসে লোকালয়ে,অনেক ক্ষেত্রেই চিনতে ভুল হয় এটাও সত্যি বাঘরোল কে আমরা বাঘ ভেবে ফেলি ! কিন্তু ওই ম্যান এন্ড অ্যানিম্যাল কনফ্লিক্ট; বন্য প্রাণী দেখলেই আমরা যে আচরণ গুলো করি বা পিটিয়ে তাদের মেরে ফেলি – এই ঘটনা গুলো প্রকৃতির নিয়মের পরিপন্থী ।

বাঘ কমে যাচ্ছে তার সংরক্ষণ প্রয়োজন এটা একটা কমন স্টেটমেন্ট ! মূলত বাঘের ক্ষেত্রে তিনটি সমস্যা তার সংখ্যার ক্রমহ্রাস-এর কারণ,

প্রথমত,শিকার অর্থাৎ বাঘের চোরাশিকার যাকে আমরা পোচিং বলে থাকি প্রধানত চামড়ার জন্য আজও প্রাণ হারাতে হয় বাঘেদের ।

দ্বিতীয়ত কারণ হলো,জলবায়ু অর্থাৎ প্রতিকূল আবহাওয়া,খাদ্যাভাব এবং অন্যান্য বিভিন্ন জৈবিক জিনিসের অভাব,রোগ সংক্রমণ ইত্যাদি ।

তৃতীয়ত, ম্যান এন্ড অ্যানিম্যাল কনফ্লিক্ট এবং তদুপরি হলো আমাের দেশের অশিক্ষা এবং আইনের শিথীলতা । সংরক্ষণ জিনিসটি আমরা আজ অবধি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি l

বাঘ সংরক্ষণ করতে হয় তাদের নিজস্ব বাস্তুতন্ত্রে এবং নিয়মিত মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় সকল জিনিসের নিরবিচ্ছিন্ন যোগান l বাঘ গণনা নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়মিত করা আবশ্যক।

বাঘের গণনা করার ক্ষেত্রে পায়ের ছাপ দেখে গণনা করার রীতিই ছিলো এক সময় সবেধন নীলমনি কিন্তু এখন অনেক নিত্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে,রেডিও কলার বা ক্যামেরা ট্রাপ ইত্যাদি কিন্তু পায়ের ছাপও দেখা হয় সেক্ষেত্রে সিউডো বা প্রোটো টাইগারের তত্ব চলতে থাকে । বাঘ হাঁটার সময় পিছনের পা আর সামনের পা এক জায়গায় ফেলে বলে মনে হয় যেন বাঘ দুপায়ে হাঁটে,এবং ১৮টি আঙুলের ছাপ পরে । অনেক সময় ছাপ দেখেও শনাক্ত করা দুর্বিসহ হয় ।

এইসবের মাঝেই সংখ্যা বেড়েছে বাঘের, গত মরসুমে বাঘের সংখ্যা ছিল ৮৮টি এই মরসুমে সংখ্যা ৯৬টি; ৮টি বাঘ বেড়েছে যা বিগত পাঁচ ছয়ের বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এতেই আশার আলো দেখছেন বনদপ্তর কারণ,এই সংখ্যা বৃদ্ধি ইঙ্গিত করে যে তাদের গৃহীত পদক্ষেপ গুলো ফলদায়ক হয়েছে ।

পৃথিবীর সর্বত্রই নারীরা এগোচ্ছেন,সুন্দরবনের বাঘেরাও সেই ট্রেন্ড ফলো করছে,বাদাবনে বাঘ ২৩ টি এবং বাঘিনী ৪৩টি এবং আরও ৩৫ টি ডোরাকাটা আছেন যাদের লিঙ্গ চিহ্নিত করা যায়নি l এছাড়াও ২৮দিনের গণনায় ১১টি শাবকেরও দেখা মিলেছে এবং মোট ৯৬টির মধ্যে বেশ সংখ্যায় আছে সাব- অ্যাকাউন্ট বা ছোকরা বাঘ ।

তাই বলা যায় বাদাবনের বাঘ তারুণ্যে ভরপুর এবং প্রচুর সংখ্যায় স্ত্রী প্রজাতি থাকায় ভারতের বাঘ বা বাংলার বাঘ এখন সম্ভবনাময় । ভবিষ্যতে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটবে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই ।

বাঘের অস্তিত্ব রক্ষায় বাঘের অন্যতম প্রধান বিপদ হলো চোরা শিকারিদের বাঘ হত্যা ও পাচার, বনের ভেতর দিয়ে লাগামহীনভাবে নৌচলাচল , জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লোকালয় সংলগ্ন খাল-নদী ভরাট এবং শিকার প্রাণী পাচার ইত্যাদি।

সুন্দরবনে বাঘের শিকার প্রাণীর মধ্যে চিত্রা হরিণ, শুকর ও বানর রয়েছে। বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হলে শিকার প্রাণীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। আমরা যদি এখনো তৎপর না হতে পারি, এই বিপন্ন প্রাণীটি আমাদের দেশ থেকে অচিরেই হারিয়ে যাবে ।

১৯৭৩ সালে ভারত সরকার ‘ভারতের জাতীয় পশু বাঘ‘-কে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে Project Tiger’ নামক একটি প্রকল্পের সুচনা করে; যার দায়ীত্বে রয়েছে National Tiger Conservation Authority (NTCA)।

১৯৭৩ সালে এই প্রকল্পের অধীনে মোট ৯টি ব্যাঘ্র প্রকল্প ছিল এবং এই ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধীনে মোট ভৌগোলিক এলাকার আয়তন ছিল ১৬,৩৩৯ বর্গকিমি, মোট বাঘের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬৮টি । যেটা বর্তমানে (২০১৮) মোট ৫০টি তে পৌছেছে। মোট এলাকা আয়তন প্রায় ৭২,৭৪৯.০২ বর্গ কিমি। এবং বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৯৬৭টি। ভারতের ১৮টি রাজ্য জুড়ে ব্যাঘ্র প্রকল্প গুলি ছড়িয়ে রয়েছে। ভূ-ভাগের প্রায় ২.২১% স্থান এই ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধীনে রয়েছে।

এই ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ কে সংরক্ষণের জন্য উক্ত অঞ্চলকে পুনরায় দুটি অঞ্চলে বিভক্ত করে সংরক্ষন করা হয়ে থাকে। যথা-

১) কেন্দ্রীয় অঞ্চল (Core Area)- কেন্দ্রীয় অঞ্চলটি আইনত ভাবে জাতীয় উদ্যান বা অভয়ারণ্যের স্বরূপ, যেখানে সাধারন মানুষের অবাধ প্রবেশ নিষিদ্ধ।

২) পার্শ্ববর্তী অঞ্চল (Buffer Area)- এই অঞ্চলটিতে সাধারণ মানুষ বা ভ্রমণকারীরা অনুমতিক্রমে পরিভ্রমণ করতে পারে।

ব্যাঘ্র প্রকল্পের উদ্দেশ্যঃ

১) ভারতের জাতীয় পশুর সংরক্ষণের সাথে সাথে বিপন্ন প্রায় ব্যাঘ্র প্রজাতির সংরক্ষণ। বিশেষত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংরক্ষণ।

২) বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক, নান্দনিক, সাংস্কৃতিক ও বাস্তুতান্ত্রিক গুরুত্ব নিরিখে বাঘের সংরক্ষণ করা আবশ্যক l

৩) ভারতের জাতীয় ঐতিহ্যের সংরক্ষনের সাথে সাথে বিনোদন ও শিক্ষামূলক প্রয়োজনে ব্যাঘ্র প্রকল্পগুলির কার্যকারীতা বৃদ্ধি।

ভারতের বাঘ শুমারি :

ব্যাঘ্ৰশুমারী হল National Tiger Conservation Authority (NTCA) দ্বারা আয়োজিত একটি সমীক্ষা। যার দ্বারা প্রতি ৪ বছর অন্তর সমগ্র ভারত জুড়ে একটি সমীক্ষা চালিয়ে বাঘের সংখ্যা, জন্ম, মৃত্যু, বৃদ্ধি, হ্রাস প্রভৃতি তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

ভারতের প্রথম ব্যাঘ্ৰশুমারী (Tiger Census in India)-টি শুরু হয় ২০০৬ সালে। এর পর ক্রমান্বয়ে ২০১০, ২০১৪ এবং সর্বশেষ ব্যাঘ্ৰশুমারী-টি হয়েছে ২০১৮ সালে। পরবর্তী ব্যাঘ্ৰশুমারী হতে চলেছে ২০২২ সালে।

চতুর্থ ব্যাঘ্ৰশুমারী ২০১৮-র গুরুত্ব :

সম্প্রতি ২০১৮ সালের ব্যাঘ্ৰশুমারী সম্পন্ন করার জন্য প্রযুক্তির ব্যাবহার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণ করে রাখার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ এর ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপটির TIT “MSTRIPES”|

২০১৮ সালের ব্যাঘ্ৰশুমারীতে উত্তর-পূর্ব ভারতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেটা বিগত শুমারিগুলিতে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
M-STrIPES App সম্পূর্ণ নাম কী?
Monitoring System for Tigers – Intensive Protection and Ecological Status

ব্যাঘশুমারির পদ্ধতি :

চার ধাপে বাঘশুনানি করা হয়েছিল। প্রথম দু’ধাপে বন দফতর ১৫ বর্গ কিলোমিটার করে অঞ্চল ভাগ করে দিয়েছিল। বাঘের পায়ের ছাপ দেখেও কিছুটা আন্দাজ করা হয়েছে বাঘের সংখ্যা।তৃতীয় দফায় জিআইএস অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে রিমোট সেন্সিং করে ২ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে ট্র্যাক করা হয়েছে।

২০১৮ ব্যাঘ্ৰশুমারির কিছু তথ্য :

৩,৮১,০০০ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি বন অঞ্চল জরিপ করা হয়েছিল। বন বিভাগের কর্মীরা পায়ে হেঁটে প্রায় ৫,০০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি বনাঞ্চল সমীক্ষা করেছে। ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩৩৭ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চলে। ২৬৮৩৮ টি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। যা ১৪১টি স্থানে ইনস্টল করা হয়েছিল। ২০১৮ টাইগার গণনা তথ্য অনুসারে বাঘের মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ২,৯৬৭টি।

২০১৪ ব্যাঘ্ৰশুমারির তুলনায় প্রায় ৩৩% বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩০০ বা তারও বেশি সংখ্যক বাঘ রয়েছে এমন ৪টি রাজ্য রয়েছে। যথা- মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, উত্তরাখণ্ড এবং মহারাষ্ট্র। ১৫০ বা তারও বেশি সংখ্যক বাঘ রয়েছে এমন ৮টি রাজ্য রয়েছে। যথা- তামিলনাড়ু, অসম, উত্তরপ্রদেশ, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক,উত্তরাখণ্ড এবং মহারাষ্ট্র।

২০০৬ এর তুলনায় বাঘের জনসংখ্যায় ১০০% -এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে , ৪ টি রাজ্য রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ কে ভারতের টাইগার রাজ্যে হিসাবে পরিগণিত করা হয়েছে। এই রাজ্যে ৫২৬টি বাঘ রয়েছে।

বক্সা, দামপা এবং পালামাউ টাইগার রিজার্ভগুলির এখন একটিও বাঘ নেই। মিজোরাম রাজ্যে কোনও বাঘের সন্ধান পাওয়া যায়নি। মধ্য প্রদেশের পেঞ্চ জাতীয় উদ্যান এবং কেরালার পেরিয়র জাতীয় উদ্যান হল ভারতের শীর্ষস্থানীয় দুটি টাইগার রিজার্ভ।

ছত্তিশগড় ও মিজোরাম বাদে বাকি ১৬টি রাজ্যে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ (এনটিসিএ) স্পষ্ট জানিয়েছে যে দেশে বাঘগুলি স্বাস্থ্যকর ও বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৬%। কেরালা রাজ্যে ২০০৬ থেকে প্রায় ৩৩৩% বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটেছে।

National Tiger Conservation Authority :

জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ (এন টি সি এ)পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অধীনে একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। এটি টাইগার টাস্ক ফোর্সের সুপারিশ অনুসরণ করে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

বাঘ সংরক্ষণকে শক্তিশালী করার জন্য এটি নির্ধারিত ক্ষমতা ও কার্যাদি অনুসারে; ২০০৬ সালে সংশোধিত হিসাবে, ‘বন্যজীবন (সুরক্ষা)আইন ১৯৭২’ বা Wildlife (Protection) Act, 1972- এর অধীনে এটি গঠন করা হয়েছিল।

 সৌভিক রায়

ছবিঃ ডঃ রাজা রাউত

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 3

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

One thought on “বাঘ মামা

Leave a Reply

Next Post

চার্লস ডারউইন (Charles Darwin )

5 (3) বিবর্তন বলেই আমাদের মাথায় যে লোক দুটির নাম প্রথমেই এসে পড়ে, তাঁরা হলেন ল্যামার্ক এবং ডারউইন ! চার্লস রবার্ট ডারউইন বিশ্ববরেণ্য একজন প্রকৃতিবিদ তিনি দার্শনিকও বটে । কারণ আধুনিক জীব বিজ্ঞানের দর্শন ; প্রজাতির উৎপত্তি তাঁর তত্ব দ্বারাই ব্যখ্যা করা সম্ভব হয়েছে । কে ছিলেন ডারউইন সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিক […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: