খড়ের গাদায় সূচ

Samrat Sarkar
4.1
(8)

হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। উনি খড়ের গাদায় সূচই খুঁজছেন। তাও আবার যে সূচ কম করে একশো বছর আগে হারিয়ে গেছে। সূচটি আদপে একটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে ধরে নেওয়া পাখি। পাখিটার নাম Pink-headed Duck। আর যিনি খুজছেন তার নাম রিচার্ড থর্নস্‌। গত ৫০ বছরে সারা বিশ্বের পক্ষীবিদদের অন্যতম সেরা আকর্ষণ Pink-headed Duck।

১৯৩৫ সালের জুন মাসে দার্জিলিং যাদুঘরের কিউরেটর চার্লস এম ইংলিশ বিহারের দারভাঙ্গা থেকে একটি Pink-headed Duck-এর কঙ্কাল পান। যা মুখে করে নিয়ে এসেছিলো একটি শিকারি কুকুর। ওই শেষ।

তারপর ১৯৪৯ সালে শেষ নিশ্চিত দর্শনের খবর পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো ছবিসহযোগে প্রমাণ নেই। তারপর সবাই ধরেই নিয়েছেন তারা আর নেই। বিলুপ্তই হয়ে গেছে। কিন্তু ৫৩ বছর বয়সী রিচার্ড থর্নস্‌ দমবার পাত্র নন। ২০০৯ সাল থেকে মায়ানমারের প্রত্যন্ত আঞ্চলে ছটি আভিযান চালানোর পর তার উপলদ্ধি Pink-headed Duck একেবারে হারিয়ে যায়নি। অন্তত ৫০টি এখনো আছে।

pink-headed-duck

রিচার্ড থর্নস্‌-ই প্রথম নন। তার আগে আরেক পাগল আমেরিকান ররি নাগেন্ট Pink-headed Duck খুজতে গিয়ে জীবন উচ্ছন্নে পাঠিয়েছিলেন।

নিরাপদ জীবনের বিপদ কাটিয়ে নিজের বসত বাড়ি ও সমস্ত অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে এসেছিলেন Pink-headed Duck-এর খোঁজে আশির দশকের প্রথম দিকে। কোলকাতার হাঁস-মুরগির বাজার, সিকিম, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত এবং অবশ্যই ব্রহ্মপুত্র নদীর বিস্তৃত অববাহিকায় মরিয়া সন্ধান।

তারপর অজস্র বিপদ, মৃত্যুভয় কাটিয়ে তিনি দেশে ফিরে যান নব্বই-এর দশকের প্রথম দিকে। শূন্য হাতে। সচক্ষে দেখেননি কোনোদিন সেই মহার্ঘ্য হাঁসটিকে। কিন্তু তার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের কাহিনী লিখে গেছেন “The search for the Pink-headed Duck”-বইয়ে। তিনি লিখেছেন – ‘আমরা তাকে দেখেছি হয়তো, কিন্তু খেয়াল করিনি। তারা হারিয়ে যায়নি। শুধু খুঁজে পাওয়া শক্ত’।

ররি নাগেন্ট-এর সেই বিখ্যাত বই

রিচার্ড থর্নস্‌ কিন্তু আরো হিসেব কষে খুঁজছেন। ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মায়ানমারের নাওং কুইন জলাভূমিতে একটি Pink-headed Duck দেখতে পাওয়ার খবর আসে। জায়গাটি উঁচু ঘাসযুক্ত জলাশয়। যেরকম জায়গা ওই হাঁসটির আবাসভূমি বলে ধরা হয়। যে ভদ্রলোক হাঁসটি দেখেছেন বলে দাবি করেন তাকে সঙ্গে করে রিচার্ড খুঁজছেন।

মায়ানমার ১৯৬২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত “জুন্টা” সেনা দ্বারা শাসিত ছিলো। মায়ানমার স্বর্ণ সহ বহু প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। যদিও এখন গন্তান্ত্রিক সরকার সেদেশে প্রতিষ্ঠিত তবুও এখনো সেদেশের সব প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাওয়া মানে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। রিচার্ড সাহেব সেই ঝুঁকি নিচ্ছেন।

প্রতিটি অভিযানের বিপুল খরচ সামলাতে অনেকের কাছে হাত পেতেছেন। Birdlife International ও Mayanmar’s Biodiversity and Wetland Conservation Association তাকে সাহায্য করছে। ২০১৬ সালের শেষ অভিযানের পর রিচার্ড জানিয়েছেন তিনি হয়তো খুব তাড়াতাড়ি কোনো সুখবর দিতে পারবেন। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে থেকে একাধিক নিশ্চিত খবর পাওয়ার পর তার এই যুক্তি।

রিচার্ড থর্নস্‌ সফল হোন। ভারতের আরেক খোওয়া যাওয়া পাখি Jerdon’s Courser –এর মত Pink-headed Duck পুনরায় আবিস্কৃত হোক। হোক না সে পড়শি দেশ মায়ানমার। পাখির আবার দেশ!

জর্ডন-করসার
জর্ডন করসার

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.1 / 5. Vote count: 8

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

আলফ্রেড নোবেল "মৃত্যুর ব্যবসায়ী ” না "মহান দাতা" ?

4.1 (8) নোবেল আজ এই শব্দটির সাথে পৃথিবীর সকলেই পরিচিত , বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল মানুষদের জন্য জোটে এই বিশ্বখ্যাত পুরস্কার ! যা পৃথিবীর বহু কৃতীদের স্বপ্ন কিন্তু নোবেল কথাটির মানে টা কি ? বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে নামাঙ্কিত এই পুরস্কার ! কে এই নোবেল ……কি করেছিলেন তিনি ; জানবো আজ […]
অলফ্রেড-নোবেল
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: