আলফ্রেড নোবেল “মৃত্যুর ব্যবসায়ী ” না “মহান দাতা” ?

poribes news
5
(1)

নোবেল আজ এই শব্দটির সাথে পৃথিবীর সকলেই পরিচিত , বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল মানুষদের জন্য জোটে এই বিশ্বখ্যাত পুরস্কার ! যা পৃথিবীর বহু কৃতীদের স্বপ্ন কিন্তু নোবেল কথাটির মানে টা কি ? বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে নামাঙ্কিত এই পুরস্কার ! কে এই নোবেল ……কি করেছিলেন তিনি ; জানবো আজ খুঁজবো আজ !

জন্ম

আলফ্রেড বার্নার্ড নোবেল, ১৮৩৩ সালের ২১ শে অক্টোবর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

অলফ্রেড-নোবেল
অলফ্রেড-নোবেল

পিতামাতা

তাঁর পিতা ইমানুয়েল নোবেল ছিলেন একজন মাঝারি মানের একজন ব্যাবসায়ী। তাঁর মা অ্যান্ড্রিয়েট আলসেল ছিলেন এক সাধারণ গৃহবধূ ।
পিতা ইমানুয়েলের ব্যবসায় হঠাৎই মন্দা দেখা দিতে শুরু করে । মন্দায় পড়ে তিনি ধার করতে শুরু করেন এবং ঋণ না মিটাতে পেরে তিনি ঋণখেলাপী হয়ে পড়েন ।

অনটনের শিশুকাল

আলফ্রেড নোবেল ছিলেন পিতামাতার চতুর্থ সন্তান।পারিবারিক আর্থিক সংকটের মধ্যেই নোবেলের জন্ম হয় , ফলে স্বভাবতই আর্থিক অভাব অনটনের মধ্যেই তাঁর শিশুকাল অতিবাহিত হয়েছিলো, এরপর তাঁদের বাড়ি আগুনে পুড়ে যায় এবং তাঁদের পুরো পরিবার সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়ে।

আলফ্রেডের মা-এর মুদি দোকান

আলফ্রেড নোবেলের বয়স যখন ৪ বছর, তখন তাঁর বাবা ইমানুয়েল নতুন ব্যবসার উদ্দেশ্যে ফিনল্যান্ড যান। পরিবার সুইডেনই রয়ে যায়। কিন্তু নতুন ব্যবসা শুরু করে উপার্জন করা এবং পরিবারের জন্য সেই টাকা পাঠাতে অনেক সময় লেগে যায় তাঁর পিতার। এই সময়ে তাঁদের সহায়তা করেন আলফ্রেডের মাতামহ । তিনি আলফ্রেডের মা-কে একটি মুদি দোকান খুলে দেন ; যা দিয়ে তাঁদের পরিবার চলতো।

পড়াশুনা

৭ বছর বয়সে আলফ্রেড নোবেল, জ্যাকব’স প্যারিশ অ্যাপলজিস্ট স্কুলে ভর্তি হন যা ছিলো সাধারণত দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের জন্যে । তিনি ছোটোবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন এবং পড়াশুনায় তাঁর অত্যন্ত আগ্রহ ছিলো।

নবেলের পিতার রাশিয়ায় অস্ত্র ব্যবসা

এই সময়ের মধ্যেই তাঁর বাবাও সফল হন এবং ব্যবসায় প্রভূত উন্নতি করেছিলেন। রাশিয়ান সেনাবাহিনীর জন্য অস্ত্র তৈরীর একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন ইমানুয়েল, সাথে সাথেই পরিবারকেও নিয়ে আসেন রাশিয়ায় । সেইন্ট পিটার্সবার্গে মাত্র ৯ বছর বয়সে নোবেল আসেন । তিনি এতটাই মেধাবী ছিলেন যে, রাশিয়ান ভাষা শিখতে তাঁর সময় লেগেছিল মাত্র এক বছর।

বাড়িতে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশোনা

ইমানুয়েল ছিলেন প্রোটেস্ট্যান্ট পন্থী, সেই কারণে তিনি রাশিয়ায় তাঁর সন্তানদের আর স্কুলে পাঠাননি। বাড়িতে গৃহশিক্ষক রেখে তাঁদেরকে প্রোটেস্ট্যান্ট পন্থী ভাবধারায় শিক্ষা প্রদান করার ব্যবস্থা করেছিলেন। ধীরে ধীরে ইমানুয়েলের অস্ত্র ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠতে লাগলো। আলফ্রেডের পড়াশুনাও চলতে থাকেই, রসায়ন তাঁর প্রিয় বিষয়তে পরিণত হয়েছিলো ইতিমধ্যেই । শুধু বিজ্ঞানই নয়, ইংরেজি, ফরাসি আর জার্মান ভাষাও তিনি শিখে ফেলেন।

আলফ্রেড নোবেল লেখক হতে চেয়েছিলেন

১৬ বছর বয়সে নোবেল ঠিক করলেন তিনি একজন লেখক হবেন । এর কারণ ছিল ,গৃহশিক্ষকের কাছে পড়া শেক্সপিয়ার সাহিত্যের প্রতি তাঁকে আকৃষ্ট করে । অন্যদিকে, শেলীর কবিতায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন। কিন্তু তাঁর বাবা তাঁকে বাঁধা দেন।

তিনি নোবেলকে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইউরোপে ঘোরার প্রস্তাব দেন এবং শর্ত দেন বিনিময়ে নোবেল যেন, ব্যবসায় যোগ দেয় এবং ব্যাবসায় সর্বান্তকরণে মনোনিবেশ করে।
নোবেল বাবার প্রস্তাবে রাজি হয়ে, ভ্রমণে গিয়ে তিনি নিউ ইয়র্ক আর প্যারিস ঘুরে দেখলেন। ১৮৫২ সালে তিনি উনিশ বছর বয়সে রাশিয়া ফিরে আসেন। ততদিনে তাঁর বাবার ব্যবসা মহীরুহ-তে পরিণত হয়েছে ; সেই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০০০ এর অধিক শ্রমিক কাজ করত সে সময়ে।

নোবেল বাবার ব্যবসায় যোগ দেন

স্বাস্থ্যগত কারণে রাশিয়া ফিরে এসে নোবেল বাবার ব্যবসায় যোগ দেন। কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্য ততদিনে বেশ খারাপ হয়েছিলো। নোবেল প্রায় নিয়মিত রোগে ভুগতেন বললেই চলে। হঠাৎই ইমানুয়েলের কোম্পানিতে মন্দা দেখা দেয় ।

আলফ্রেডের বয়স যখন ২৫ , তখন ইমানুয়েলের ব্যবসা অর্থাভাবে ডুবছে যার, কারণ ছিল রাশিয়ার ক্রিমিয়ার যুদ্ধে হেরে যাওয়া। ক্রিমিয়ার যুদ্ধ হেরে সরকার অস্ত্রের অর্থমূল্য পরিশোধ করেনি।

তাছাড়াও আরেকটি কারণ ছিলো, ইমানুয়েল তখনকার সময়ে ব্যবহৃত গানপাউডারের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী একপ্রকার বিস্ফোরক ‘নাইট্রোগ্লিসারিন’ আবিষ্কারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন,যাতে বিপুল পরিমান অর্থ তিনি খরচ করেছিলেন । এই ব্যর্থতা ছিলো তাঁর ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির অন্যতম একটি কারণ যদিও এই ব্যার্থতাই নোবেল কে বিখ্যাত করেছে । ১৮৫০-১৮৫২ সাল পর্যন্ত আলফ্রেড নোবেল ফ্রান্সের পারি গিয়ে টি. জুলস পিলৌজ গবেষণাগারে কাজ করেন কিছুদিন।

নোবেলের গবেষনা

১৮৬৩ সালে রাশিয়াতে কাজ শুরু করলেন নোবেল, তাঁর বাবা-মা তখন সুইডেন ফিরে গেছেন। নোবেল একটি ছোট শিল্প কারখানায় নিজের গবেষণাগার স্থাপন করেন । এই সময়ে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রম করতে শুরু করেন, অন্যদিকে তাঁর স্বাস্থ্য দৈহিকভাবে ভগ্ন ছিলো ,কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি দৈনিক ১৮ ঘন্টা পরীক্ষাগারে কাজ করতেন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নাইট্রোগ্লিসারিন এর বিস্ফোরণ ঘটাতে শিখে ফেলেন।

কনিষ্ঠ ভাইএর বিস্ফোরণে মৃত্যু

পরের বছর ১৮৬৪ সালে ঘটে যায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ! নোবেলের কনিষ্ঠ ভাই এমিলও তাঁর সাথে গবেষণাগারে কাজ করতো। এমিল, একজন সহকর্মী এবং ঝাড়ুদার সহ পাঁচ জন পুড়ে মারা যান ; ঐ পরীক্ষাগারের মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে ।

আলফ্রেড প্রাথমিকভাবে কিছুদিন দুঃখ হতাশায় মানসিক অবসাদ গ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন । তবে ইতিহাস অন্য সমাপতন চাইছিলো ,তাই নোবেল প্রত্যাবর্তন করেন ।  ফিরে আসেন শুধু তাই নয় ! খুব দ্রুতই তিনি অধিক পরিমাণ নাইট্রোগ্লিসারিনের বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য গবেষণা শুরু করেন এবং সফলও হয়েছিলেন।

ব্লাস্টিং ক্যাপ ডেটোনেটর

ল্যাবরেটরিতে আগুন লেগে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হবার পর থেকেই নোবেল সাবধানী হয়ে যান এবং কোনো ক্ষেত্রে যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় ; তাই কিভাবে অধিক পরিমাণ বিস্ফোরক ব্যবহার করে সহজে এবং অব্যর্থভাবে বিস্ফোরিত করা যায় সে বিষয়ে গবেষণা করছিলেন। অবশেষে তিনি আবিষ্কার করলেন বিখ্যাত ব্লাস্টিং ক্যাপ ডেটোনেটর। পরবর্তী প্রায় ৫০ বছর কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এটি ব্যবহৃত হয়, এমনকি বর্তমানে এখনো কোনো কোনো কাজে ওই ধরণের ডেটোনেটরই ব্যবহার করা হচ্ছে ।

ডিনামাইট-এর আবিস্কার

এবার পালা ডিনামাইট-এর ! ১৮৬৩ সালে আলফ্রেড নোবেল নাইট্রোগ্লিসারিনের সাথে কাঠ কয়লার মতো আরও কিছু গুড়ো পদার্থ মিশিয়ে একপ্রকার অধিক শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল বিস্ফোরক তৈরী করেন। ১৮৬৪ সালে তিনি এই নতুন বিস্ফোরক এর জন্য সুইডিশ পেটেন্ট অফিসে পেটেন্ট এর জন্য আবেদন করেন। তবে পূর্বে কিছু দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ায় তাঁর আবেদন মঞ্জুর হচ্ছিল না।

অলফেড-নোবেল-ও-ডিনামাইট
অলফেড নোবেল,ডিনামাইট অবিষ্কার করেন

স্টকহোমে “নাইট্রোগ্লিসারিন এবি” নামক একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। ১৮৬৫ সালে নোবেল তার ব্লাস্টিং ক্যাপ নকশাটির আরও উন্নতি সাধন করেন। জার্মানি এসে তিনি হামবুর্গ শহরের কাছে অবস্থিত ক্রুমেল নামক স্থানে “আলফ্রেড নোবেল অ্যান্ড কোম্পানি” কারখানাটি নির্মাণ করেন।

১৮৬৬ সালে নোবেল যুক্তরাষ্ট্রে “ইউনাইটডে স্টেটস ব্লাস্টিং অয়েল কোম্পানি” প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে ক্রুমেলের কারখানাটি ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর তিনি পুনরায় গবেষণায় ফিরে যান, নাইট্রোগ্লিসারিনকে এক প্রকার শোষক পদার্থ দিয়ে শোষণ করিয়ে নেন, সেই পদার্থগুলো ছিলো কিসেলগার, কাঠের গুড়ো, সিলিকেট ইত্যাদি।

তারপর ওই বিস্ফোরককে কাগজে মুড়ে তৈরী করেন ডিনামাইট। তিনি গ্রীক শব্দ ‘ডিনামিস’ -এর ইংরেজি প্রতিশব্দ ডিনামাইট শব্দটি তিনি ব্যবহার করেন এর নামকরণের জন্যে, যার অর্থ শক্তি ! এই ডিনামাইটকে শান্তিপূর্ণ কাজে ও সভ্যতার অগ্রগতিতে ব্যবহার করা হবে বলে, তিনি বিশ্বাস করতেন।

নাইট্রোগ্লিসারিনের সাথে কাইসেলগুর (সিলিকনের মত অধঃক্ষেপ, যা ডায়াটোমেশাস মাটি হিসেবেও পরিচিত) মেশালে ,সেটি অনেক বেশি স্হিতিশীল হয়। ১৮৬৭ সালে ডিনামাইটের জন্য পেটেন্ট অর্জন করেন।

১৮৭১ সালে নোবেল স্কটল্যান্ডের আর্ডিয়ারে “ব্রিটিশ ডিনামাইট কোম্পানি” প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৭৭ সালে এই কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল “নোবেল’স এক্সপ্লোসিভ কোম্পানি”।

গ্যালিগনাইট আবিষ্কার 

১৮৭৩ সালে ৪০ বছর বয়সে নোবেল প্রভূত সম্পত্তির অধিকারী হন। ১৮৭৩ সালে আলফ্রেড নোবেল চিরস্থায়ী ভাবে প্যারিসে চলে আসেন । দু’বছর পর তিনি ‘গ্যালিগনাইট’ নামক একপ্রকার বিষ্ফোরক আবিষ্কার করেন। গ্যালিগনাইট ছিলো ডিনামাইটের চেয়ে অধিক শক্তিশালী এবং জলের নিচেও বিষ্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম !

শুধু তাই নয়’এর ক্ষতির মাত্রার নিয়ন্ত্রণে উপাদানের পরিমাণের তারতম্য ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যাওয়া যায় ।

তিনি প্যারিসের মালাকফ এভিনিউতে বসবাস শুরু করেন । একই বছর আর্ডিয়ারের কারখানায় নাইট্রোগ্লিসারিন ও ডায়নামাইট-এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। ১৮৭৫ সালে নোবেল “ব্লাস্টিং গিলাটিন” উদ্ভাবন করে পরের বছর পেটেন্ট করেন। ফ্রান্সের পারিতে “সোসাইটি জেনারেলে পৌর লা ফেব্রিকেশন দে লা ডাইনামাইট” প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৭৬ সালে জার্মানির হামবুর্গে আলফ্রেড নোবেল অ্যান্ড কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ডাইনামাইটাকটাইঙ্গেসেলশাফট (ডিএজি)।

১৮৮০ সালে নোবেলের ইতালী এবং সুইজারল্যান্ড-এর কোম্পানি একত্রিত করে “ডিনামাইট নোবেল” গঠিত হয়। ১৮৮১ সালে সেভরানে নোবেল জমি ও একটি গবেষণাগার ক্রয় করেন। ১৮৮৫ সালে ডিএজি এবং জার্মানির আরও কিছু ডিনামাইট কোম্পানি একত্রিত করে “জার্মান ইউনিয়ন” প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৮৮৬ সালে DAG এবং নোবেল’স এক্সপ্লোসিভ কোম্পানি একত্রিত হয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে “নোবেল-ডায়নামাইট ট্রাস্ট কোম্পানি” প্রতিষ্ঠিত হয়।

ব্যালিস্টিট’ আবিস্কার

১৮৮৭ সালে নোবেল নাইট্রোসেলুলোজ এবং নাইট্রোগ্লিসারিনের সংমিশ্রণে তৈরী করে ফেলেছিলেন বুলেট এবং কামানের গোলায় ব্যবহার করার জন্য তৈরী করেছিলেন একপ্রকার প্রোপ্যালেন্ট, যার নাম ছিলো ‘ব্যালিস্টিট’ !

কিন্তু ফরাসী প্রতিরক্ষা দপ্তর এই ব্যালিস্টিট এর প্রতি কার্যত কোনো রকম আগ্রহই দেখায় নি, তাই তিনি বাধ্য হয়ে ইতালির সেনাবাহিনীর কাছ থেকে এর অনুমোদন করিয়ে নিয়েছিলেন ! তাতেই ফরাসী সরকার চোটে যায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা চালায়, তাঁর গবেষণাগারে অভিযান চালিয়ে এবং অনেক জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করে। ১৮৯১ সালে এই ঘটনায় দুঃখ পেয়ে এবং ক্ষুব্দ্ধ হয়ে নোবেল চিরদিনের মতো ফ্রান্স ত্যাগ করে, ইতালিতে পাকাপাকি বসবাস শুরু করেন।

১৮৯৩ সালে নোবেল র‍েগণার সোলম্যান-কে নিয়োগ করেন, যাকে তিনি পরবর্তীতে তাঁর উইল এবং টেস্টামেন্ট এর এক্সসিকিউটার করে গিয়েছিলেন। ১৮৯৪ সালে আলফ্রেড নোবেল সুইডেনের কার্লস্কোগাতে একটি ছোট মেশিন-ওয়ার্কস এবং একটি বাড়ি ক্রয় করেন। ১৮৯৫ সালে ফ্রান্সে সুয়েডীয়-নরওয়েজীয় ক্লাবে নোবেলের তৃতীয় এবং শেষ উইল স্বাক্ষরিত হয়, যার ভিত্তিতে নোবেল প্রপ্রো করা হয় ।

মানব কল্যাণের বদলে ডিনামাইট মারণ অস্ত্র

তাঁর আবিষ্কার মানব কল্যাণের বদলে ডিনামাইট , মারণ অস্ত্র রূপে ব্যবহৃত হতে শুরু হয় ! নোবেল ডিনামাইট থেকে যতই উপার্জন করছিলেন ততই অনুশোচনায় ভুগতে শুরু করেন।

মৃত্যু ব্যবসায়ীর মৃত্যু!

"মৃত্যু-ব্যবসায়ীর-মৃত্যু!”Fake-News
“মৃত্যু ব্যবসায়ীর মৃত্যু!”অলফেড নোবেলের মৃত্যুর Fake News

তিনি বেশ বুঝতে পারছিলেন হয়তো তাঁর মৃত্যুর পর মানুষ তাঁকে ঘৃণা করতে শুরু করবে। বিশেষ করে ভাইয়ের মৃত্যুর তিনি একথা উপলব্ধি করেছিলেন, কারণ একটি পত্রিকা ভুলবশত , ভাইয়ের বদলে তাঁর মৃত্যুর শোক সংবাদ ছেপেছিলো এবং সংবাদটির শিরোনাম ছিল -“মৃত্যু ব্যবসায়ীর মৃত্যু!

উপার্জিত সম্পদ মানব কল্যাণে ব্যবহার

ডিনামাইট আবিষ্কার কে নিজের অপরাধ বা পাপ হিসেবে তিনি গণ্য করেন । এই ঘটনার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে তিনি তাঁর বিপুল পরিমাণ উপার্জিত সম্পদ মানব কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিদের পুরস্কার হিসেবে প্রদানের পরিকল্পনা করেন ।

নোবেল পুরস্কার প্রদান

নোবেল-পুরষ্কার
নোবেল-পুরষ্কার

তিনি নিজের সম্পত্তির ৯৪ ভাগ সম্পত্তি দিয়ে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য, বিশ্বশান্তি এই ৫টি বিষয়ে অনন্য অবদান রাখা বিশ্বব্যাপী ক্ষেত্রে, সেরা কৃতিব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদানের জন্য কমিটি গঠন করেন। ১৯০১ সালে তাঁর মৃত্যুর ৫ বছর পরে প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং যা আজও চলছে ।

 

মৃত্যু

শেষ জীবনে নোবেল হৃদরোগে নিয়মিত ভুগেতেন। ১৮৯৬ সালের ১০ই ডিসেম্বর ৬৩ বছর বয়সে সান রেমো শহরের বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয় । স্টকহোমের উত্তরাঞ্চলীয় সমাধিক্ষেত্রে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

সৌভিক রায়

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

নোবেল পুরস্কারের পটভূমি ,ইতিহাস এবং মজার গল্প

5 (1)   আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করলেন ডিনামাইট ! ভাবলেন কয়েক মাইল এগিয়ে যাবে সভ্যতা , সভ্যতা তো এগোলেই ; সাথে সাথে ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠলো মানুষও l কালের নিয়মে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন নোবেল, কিন্তু থেকে গেলো তাঁর পদবীটি ! তাঁর আবিষ্কার মানব কল্যাণের বদলে ! ডিনামাইট , মারণ অস্ত্র […]
নোবেল-পুরষ্কার
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: