নোবেল পুরস্কারের পটভূমি ,ইতিহাস এবং মজার গল্প

poribes news
3.7
(3)

 

আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করলেন ডিনামাইট ! ভাবলেন কয়েক মাইল এগিয়ে যাবে সভ্যতা , সভ্যতা তো এগোলেই ; সাথে সাথে ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠলো মানুষও l কালের নিয়মে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন নোবেল, কিন্তু থেকে গেলো তাঁর পদবীটি ! তাঁর আবিষ্কার মানব কল্যাণের বদলে ! ডিনামাইট , মারণ অস্ত্র রূপে ব্যবহৃত হতে শুরু হয় ! নোবেল ডিনামাইট থেকে যতই উপার্জন করছিলেন ততই অনুশোচনায় ভুগতে শুরু করেন।

অলফ্রেড-নোবেল
         অলফ্রেড-নোবেল

তিনি বেশ বুঝতে পারছিলেন হয়তো তাঁর মৃত্যুর পর মানুষ তাঁকে ঘৃণা করতে শুরু করবে। বিশেষ করে ভাইয়ের মৃত্যুর তিনি একথা উপলব্ধি করেছিলেন, কারণ একটি পত্রিকা ভুলবশত , ভাইয়ের বদলে তাঁর মৃত্যুর শোক সংবাদ ছেপেছিলো এবং সংবাদটির শিরোনাম ছিল –“মৃত্যু ব্যবসায়ীর মৃত্যু!”

ডিনামাইট আবিষ্কার কে নিজের অপরাধ বা পাপ হিসেবে তিনি গণ্য করেন । এই ঘটনার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে তিনি তাঁর বিপুল পরিমাণ উপার্জিত সম্পদ মানব কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিদের পুরস্কার হিসেবে প্রদানের পরিকল্পনা করেন ।

নোবেল নিজের সম্পত্তির ৯৪ ভাগ দান করেছিলেন

তিনি নিজের সম্পত্তির ৯৪ ভাগ সম্পত্তি দিয়ে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য, বিশ্বশান্তি এই ৫টি বিষয়ে অনন্য অবদান রাখা বিশ্বব্যাপী ক্ষেত্রে, সেরা কৃতিব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদানের জন্য কমিটি গঠন করেন। ১৯০১ সালে তাঁর মৃত্যুর ৫ বছর পরে প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং যা আজও চলছে ।

২১ শে অক্টোবর ১৮৩৩ সাল সুইডেনের স্টকহোমে জন্ম হয়েছিল আলফ্রেড নোবেলের, তিনি  তাঁর জীবদ্দশায় অনেক গুলো উইল করেছিলেন। সর্বশেষ উইলটি লেখা হয়েছিল তাঁর মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে , ২৭ শে নভেম্বর ১৮৯৫ সালে প্যারিসে অবস্থিত সুইডিশ-নরওয়ে ক্লাবে।

জীবনের শেষ উইলে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর উপার্জিত সমস্ত সম্পদ পুরস্কার হিসেবে প্রতি বছর প্রদান করা হবে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, বিশ্ব শান্তি ও সাহিত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রের বৃহত্তর বিশ্বমানবতার জন্য কাজ করা কৃতি মানুষদের । ২৬ শে এপ্রিল ১৮৯৭ সালে এই দলিল অনুমোদন করা হয় , তার আগে পর্যন্ত এই উইলের বাস্তবভিত্তি এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকার কারণে  নরওয়ে থেকে এই উইল অনুমোদন করা হয় নি।

তাঁর উইলের সমন্বয়কারী রগনার সোলম্যান ও রুডলফ লিলজেকুইস্ট নোবেল ফাউন্ডেশন তৈরি করেন, যাদের প্রধান কাজ নোবেলের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও নোবেল পুরস্কার প্রদান করা।

নোবেল কমিটি গঠন

১৮৯৭ সালে নোবেলের উইল অনুমোদন হওয়ার সাথে সাথেই নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্য নরওয়ে একটি নোবেল কমিটি তৈরি করে । তার পর পরই নোবেল পুরস্কার প্রদান করার জন্য অন্যান্য সংস্থাগুলো প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে । ওই বছরই যথাক্রমে ৭ ই জুন ক্যারোলিংস্কা ইনিস্টিটিউট, ৯ ই জুন সুইডিশ একাডেমী এবং ১১ই জুন রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ।

কিভাবে ,কাকে, কি কি করলে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে তার একটি বিধি প্রস্তুত করা হয় এবং ১৯০০ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন নতুনভাবে একটি নিয়ম বিধি তৈরি করে । ১৯০৫ সালে সুইডেন ও নরওয়ের মধ্যে নোবেল সংক্রান্ত সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। তার পর থেকেই নরওয়ের নোবেল কমিটি  কেবল শান্তিতে নোবেল পুরস্কার এবং সুইডেনের প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য বিভাগের পুরস্কার প্রদানের দায়িত্ব পায়।

১৭৮৬ সালে একটি স্বাধীন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দ্য সুইডিশ একাডেমির সৃষ্টি হয়েছিল। এই একাডেমি ১৯০১ সাল থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দিয়ে আসছে। এই অক্টোবর মাস টি হলো নোবেলের মাস ! কারণ এই মাসেই নোবেলের ঘোষণা হয় l

নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক হলেন আলফ্রেড নোবেল, তাঁর নামেই পুরস্কার !

নোবেল পুরস্কার প্রথম প্রদান করা হয় ১৯০১ সালের ১০ ই ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যু দিনে , প্রথমে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হতো ৫ টি ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা শাস্ত্র, শান্তি ও সাহিত্য l

নোবেল পুরস্কারের ৬ টি ক্ষেত্রে

১) পদার্থ বিজ্ঞান

২) রসায়ন বিজ্ঞান

৩) চিকিৎসা শাস্ত্র

৪) শান্তি 

৫)সাহিত্য 

৬)অর্থনীতিতে (পরে অর্থনীতি যোগ করা হয়) l

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ১৯৬৯ সালে প্রথম দেওয়া হয়েছিল l

১৯৬৮ সালে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার ৩০০ বছর পূর্তিতে নোবেল ফাউন্ডেশনকে প্রচুর অর্থ দান করে। তাদের প্রস্তাব ছিলো নোবেলের নামেই নতুন একটি পুরস্কার প্রদান করার কাজে ঐ অর্থ ব্যবহার করতে হবে ।

তার ঠিক পরের বছর থেকেই অর্থনীতিতে প্রথমবারের মতো নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। অর্থনীতিতে পুরস্কার মনোনীত করার দায়িত্ব পড়ে রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান একাডেমির ওপর।

জান টিনবার্গেন ও রাঙ্গার ফ্রিস হল অর্থনীতিতে প্রথম নোবেল বিজয়ী। অর্থনৈতিক পদ্ধতিসমূহে গতি তত্ত্ব প্রয়োগ করার জন্য তাদের এই সম্মান প্রদান করা হয় ।

কবে দেওয়া হয় নোবেল ?

প্রতি বছর অক্টোবরে নোবেল প্রাপকদের নাম ঘোষনা করা হয় এবং প্রতি বছর ১০ই ডিসেম্বর নোবেল পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয় ।

নোবেলের মনোনয়ন পদ্ধতি :

নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন গ্রহণের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট মনোনয়নপত্র। সমগ্র বিশ্ব থেকে নির্বাচিত ৩০০০ জন কৃতি ব্যাক্তিকে এই মনোনয়নপত্র দেওয়া হয় যাতে তাঁরা এই মনোনয়ন পত্র পূরণ করে, পুরস্কারের আবেদন করতে পারে। নোবেল শান্তি পুরস্কার নির্বাচনের জন্য জুড়ি কমিটি রয়েছে ( কিছু ব্যক্তিদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যাঁরা সংশ্লিষ্ট এই বিষয়ে বিশেষ কর্তৃত্বের অধিকারী) ।

যে বছরের পুরস্কার প্রদান করা হবে, সেই বছর ৩১ শে জানুয়ারী মনোনয়ন পত্র প্রদানের শেষ তারিখ। নোবেল কমিটি তাঁদের মধ্যে সম্ভাব্য ৩০০ জনকে মনোনীত করে।

মনোনীতদের নাম প্রকাশ করা হয় না, এমনকি তাদেরকে জানানোও হয় না পর্যন্ত যে তাঁরা মনোনীত হয়েছেন। মনোনয়নের এইসব নথি পুরস্কার প্রদানের পর থেকে ৫০ বছরের জন্য সংরক্ষন করে রাখা হয়।

এরপর নোবেল কমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের মতামতের উপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় । প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকাসহ এই প্রতিবেদনটি নোবেল পুরস্কার প্রদানের সংস্থাগুলোকে পাঠানো হয়। সংস্থাগুলো ভোটের মাধ্যমে প্রত্যেকটি বিষয়ে বিজয়ী নির্বাচিত করতে হয় । একটি পুরস্কার সর্বোচ্চ তিনজন এবং দুটি ভিন্ন কাজের জন্য প্রদান যায়।

নোবেল শান্তি পুরস্কার যে কোন সংস্থাকে প্রদান করা যায় আর বাকি সকল পুরস্কার শুধু মাত্র জীবন্ত ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়ে থাকে। যদি কোনো বছর শান্তি পুরস্কার দেওয়া না হয় তবে , ওই বছর উক্ত খাতের অর্থ বিজ্ঞানের অন্যান্য পুরস্কারে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়। এই জাতীয় ঘটনা নোবেলের ইতিহাসে ১৯ বার ঘটেছে।

মরণোওর নোবেল :

মরনোত্তর নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় না ! যদিও মৃত্যু পরবর্তী মনোনয়ন অনুমোদিত হয় না, কিন্তু যদি প্রার্থীর মৃত্যু ; মনোনয়ন প্রদান ও নোবেল কমিটির পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে হলে সেই নির্বাচিত হবে।

ইতিহাসে এমন দুইটি ঘটনার দৃষ্টান্ত আছে , ১৯৩১ সালে সাহিত্যে এরিক এক্সেল কার্লফেল্ড এবং ১৯৬১ শান্তিতে জাতিসংঘের মহাসচিব ড্যাগ হেমার্শেল্ড। উইলিয়াম ভিক্রী নামক একজন নোবেল বিজয়ী ১৯৯৬ সালে পুরস্কার (অর্থনীতিতে) ঘোষণার পর কিন্তু প্রদানের পূর্বে মারা যান।

৩ রা অক্টোবর ২০১১সালে চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়; কিন্তু তখন পর্যন্ত কমিটি জানতো না যে, বিজয়ীদের মধ্যে অন্যতম একজন রালফ স্টেইনম্যান তিন দিন আগে মারা গেছেন। কমিটিতে রালফ স্টেইনম্যানের পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক চলেছিলো কারণ, মরণোত্তর পুরস্কার নিয়মের পরিপন্থী !

নোবেল প্রদান অনুষ্ঠান :

নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান প্রথমে নরওয়েজীয় নোবেল সমিতি (১৯০৫ – ১৯৪৬) এবং ওসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আউলা-তে (অডিটোরিয়াম) (১৯৪৭ – ১৯৯০) অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে নোবেল প্রদান অনুষ্ঠান ওসলো সিটি হলে অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছাড়া অন্য পুরস্কারগুলো প্রদান করা হয় স্টকহোম কনসার্ট হলে। প্রতি বছর একই বিষয়ে সর্বোচ্চ তিনজনকে পুরস্কার দেয়া যায়।

নোবেল পুরস্কার হিসেবে কি কি দেওয়া হয় 

যাঁরা নোবেল পান তাঁদের বলা হয় লরিয়েটদের, এঁদের প্রত্যেককে দেওয়া হয়;

একটি স্বর্ণপদক,

একটি ডিপ্লোমা অর্থাৎ একটি সনদ পত্র ,

সুইডেনের নাগরিকত্ব এবং 

বিপুল অঙ্কের অর্থ।

নােবেল পুরস্কার বিজয়ীদের ‘নােবেল লরিয়েট’ কারণ পূর্বে তাঁদের লরেঞ্জ গাছের পাতা দেওয়ার রেওয়াজ ছিলো ‘।

সোনার নোবেল পদক

নোবেল-পুরষ্কার
নোবেল-পুরষ্কার

১৯৮০ সালের আগে পর্যন্ত নােবেল বিজয়ীরা যে পদক পেতেন, সেটা ছিল ২৩ ক্যারেট সোনার । এরপর থেকে ১৮ ক্যারেট ‘সবুজ স্বর্ণে’র ধাতবের ওপর ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া পদক দেওয়া হচ্ছে নােবেল বিজয়ীদের,যার একদিকে আলফ্রেড নোবেলের ছবি খোদাই করা থাকে ।

নোবেল পুরষ্কারের অর্থমূল্য

বর্তমানে অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ১০ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার (১৪ লক্ষ ২০ হাজার ডলার বা ১ মিলিয়ন ইউরোর সামান্য বেশি)। ইতিহাসের সবচেয়ে কম অর্থমূল্য ছিল ১৯২৩ সালে।এই অর্থ প্রদানের মূল কারণ এই যে, প্রাপকেরা যেন পুরস্কার পাওয়ার পর উচ্চতর গবেষণা চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে যে সময় নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় সে সময় দেখা যায় অধিকাংশ লরিয়েটই অবসর জীবন যাপন করছেন, তাই অনেকে প্রাপ্ত অর্থ সমাজ সেবামূলক কাজে দান করে দেন।

১৯০২ সাল থেকে সুইডেনের রাজা স্টকহোমে পুরস্কার বিতরণ করে আসছেন। প্রথম বছর সুইডেনের রাজা ছিলেন রাজা ২য় অস্কার; তিনি এতো বহুমূল্য পুরস্কার বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার বিরোধী ছিলেন, এই কারণ তিনি পু্রষ্কার প্রদানে প্রথম দিকে সম্মত হননি। পরবর্তীতে অবশ্য জনসমর্থন রক্ষার জন্য এবং সুইডেনের সম্মান রক্ষার তাগিদে তাঁকে মত পরিবর্তন করতে হয়েছিলো।

১৯০৪ সালে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি গঠিত হয়। এর আগে নরওয়ের রাষ্ট্রপতি নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানের যাবতীয় আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু কমিটি গঠনের পরে কমিটির ৫ জন সদস্য শান্তি পুরস্কার দেওয়ার জন্য মনোনয়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করেন ।

তাঁদেরকে নরওয়েজীয় আইনসভা সরাসরি মনোনয়ন দেয়, তাঁরা কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং কারো কাছে কোনো কিছুতেই তাঁদের কোনো রকম বাধ্যবাধকতা নেই।

অন্যদিকে নরওয়ের আইনসভার অন্য সদস্যরা কিন্তু এই কমিটিতে অংশ নিতে পারেন না।
নোবেল প্রদান অনুষ্ঠান : প্রত্যেকে বক্তব্য রাখেন, এছাড়াও পুরস্কার গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে তাঁদের একটি করে বক্তৃতা দিতে হয়, গান ,নাচ ইত্যাদি বিনোদনের আয়োজন থাকে, তিনটি কোর্সের ডিনারের ব্যবস্থা রাখা হয় ! নোবেল পুরস্কারের রেপ্লিকা চকোলেট দেওয়া হয় l

 

নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা :

৪ টি সংস্থা নোবেল প্রদান করে । যথা : নোবেল কমিটি অব দি নরওয়েজিয়ান পার্লামেন্ট (নরওয়ে)- যা শান্তিতে নোবেল প্রদান করে, সুইডিশ একাডেমি (সুইডেন) যা সাহিত্যে নোবেল প্রদান করে , রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স (সুইডেন) যা পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও অর্থনীতি এবং ক্যারোনিস্কা ইনস্টিটিউট (সুইডেন) যা চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল প্রদান করে l

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়েতে

এখনো পর্যন্ত যথাক্রমে ১৯৪০, ১৯৪১, ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে নোবেল দেওয়া হয়নি !

শান্তিতে শুধুমাত্র ব্যাক্তিরা নয় সংস্থাও নোবেল পেতে পারে, সর্বাধিক তিনবার নোবেল পাওয়া সংস্থা হলো রেড ক্রস (১৯১৭, ১৯৪৪, ১৯৬৩) l

নোবেল প্রত্যাখ্যান 

নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের মতো অবাক করা ঘটনাও ঘটেছে দুই দুইবার—১৯৫৮ এবং ১৯৬৪ সালে।১৯৫৮ সালে রাশিয়ার জনপ্রিয় কবি, ঔপন্যাসিক ও অনুবাদক বরিস পাস্তের্নাকের জন্ম মস্কোতে এবং কয়েক বছর পর ফ্রান্সের দার্শনিক জ্যঁ পল সার্ত্র ১৯৬৪ সালে সাহিত্যে নোবেল প্রত্যাখ্যান করেন l এছাড়াও শান্তিতে প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন ভিয়েতনামের লি ডাক থো (১৯৭৩)।

ড্রেস কোড :

মূলত পুরুষদের ক্ষেত্রে পশ্চিমি স্যুট( কালো ), সাথে টাই বা বো টাই , মহিলাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কিছু থাকে না l গ্লাভস এবং স্কার্ফ রাখা হয় অনেকেই পড়েন l

2020 সাল পর্যন্ত মহিলারা 57 জন নোবেল পেয়েছেন

মোট 603 বার পুরস্কার ঘোষণা হয়েছে

তার মধ্য 962 জন লরিয়েট আছেন আর 28 বার কোনো সংস্থা পেয়েছে মোট 25টি সংস্থা এবং রেড ক্রস একাই তিন বার পেয়েছেন।

একজন দেওয়া হয়েছে :352 বার

দুইজন কে একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে : 143

তিন জন কে একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে : 108

ভারতীয় উপমহাদেশের পুরস্কার বিজয়ীরা

( চিকিৎসা বিজ্ঞান ) ১৯০২রোনাল্ড রস

( সাহিত্য -১৯০৭)রুডইয়ার্ড কিপলিং

(সাহিত্যে -১৯১৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(পদার্থবিদ্যা -১৯৩০) সি ভি রমন

( চিকিৎসায় – ১৯৬৮) হর গোবিন্দ খোরানা

(শান্তি -১৯৭৯) মাদার তেরেসা

(পদার্থবিদ্যা – ১৯৮৩) সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর

(অর্থনীতি১৯৯৮) অমর্ত্য সেন

(রসায়ন ২০০৯) ভেক্টর রমন রামকৃষ্ণ

( সাহিত্য- ২০০১ ) বিদ্যাধর সূর্যপ্রসাদ নাইপল,

( শান্তি- ২০১৪) কৈলাশ সত্যার্থী

( অর্থনীতি-২০১৯) অভিজিৎ ব্যানার্জি, এর মধ্যে খাস কলকাতায় নোবেল এসেছে ছয়টি ।

বহু ভারতীয় বহুবার মনোনয়ন পেয়েছেন কিন্তু শেষমেষ আর জোটেনি নোবেল যেমন হরি মোহন ব্যানার্জী, মেঘনাদ সাহা, রবি দত্ত , মহাশ্বেতা দেবী, উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী প্রমুখ !

সর্বকনিষ্ট ও সবচেয়ে বর্ষীয়ান নোবেল পুরস্কার বিজয়ী:

সর্বকনিষ্ট নোবেল বিজয়ী পাকিস্থানের মালালা ইউসুফজাঈ এবং সব চেয়ে বেশি ৮৬ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হলেন জার্মানীর থিওডোর মমসেন ১৯০৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

প্রথম রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব যিনি নোবেল পান :

রাজনীতিবিদ হয়েও সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল।

প্রথম মুসলমান নোবেল বিজয়ী :

আনোয়ার সাদাত (মিশর -শান্তিতে)

ডবল নোবেল :

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে মাত্র চারজন ব্যক্তি জোড়া নোবেল বিজয়ের সম্মান লাভ করেছেন। তাঁরা হলেন:
মারি ক্যুরি : পদার্থবিজ্ঞান ১৯০৩ (তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার) এবং রসায়ন ১৯১১ (বিশুদ্ধ রেডিয়াম পৃথকীকরণ)

লিনাস পাউলিং : রসায়ন১৯৫৪ (অরবিটাল সংকরণ তত্ত্ব) এবং শান্তি১৯৬২ (নিউক্লিয় শক্তির পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ আইনের বাস্তবায়নের জন্য প্রচেষ্টা)

জন বারডিন : পদার্থবিজ্ঞান: ১৯৫৬ (ট্রানসিস্টর আবিষ্কার) এবং পদার্থবিজ্ঞান: ১৯৬২ (অতিপরিবাহিতার তত্ত্ব)

ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার : রসায়ন ১৯৫৮ (ইনসুলিন অণুর গঠন আবিষ্কার) এবং রসায়ন ১৯৮০ (ভাইরাসের নিউক্লিওটাইডের ধারা আবিষ্কার)

নোবেল দম্পতি :

মেরি কুরি ও পিয়েরে কুরিঃ ইতিহাসে প্রথম দ্বিতীয়বার নোবেল জিতে অনন্য নজির গড়েছিলেন মেরি কুরি। অন্য একটি রেকর্ডেও নিজের নাম অমর করেছেন তিনি। মেরি কুরি ও পিয়েরে কুরিই প্রথম দম্পতি, যাঁরা একই বছর একই বিভাগে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। ১৯০৩ সালে স্বামী পিয়েরে কুরির সঙ্গে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল জেতেন। অবশ্য মেরি কুরির নাম ওই বছরের নোবেলজয়ীদের তালিকায় ছিল না প্রথম থেকে ।

আইরিন কুরি ও তাঁর স্বামী ফ্রেডেরিক কুরিঃমেরি কুরি-পিয়েরে কুরি দম্পতির মতোই তাঁদের পরিবারেরই অন্য দুই সদস্য। ১৯৩৫ সালে রসায়নে নোবেল জেতেন মেরি-পিয়েরের বড় মেয়ে আইরিন কুরি ও তাঁর স্বামী ফ্রেডেরিক কুরি

মা-বাবা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রেডিয়াম ইনস্টিটিউটেই নিজের গবেষণাকাজ শুরু করেন আইরিন। ১৯২৪ সালে মেরি কুরির সহায়ক হিসেবে সেখানে যোগ দেন ফ্রেডেরিক। আইরিনের হাত ধরেই তেজস্ক্রিয়তা–সংক্রান্ত গবেষণায় হাতেখড়ি হয় ফ্রেডেরিকের। ১৯২৬ সালে বিয়ে করেন আইরিন ও ফ্রেডেরিক। এর নয় বছর পর ১৯৩৫ সালে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য রসায়নে নোবেল জেতেন এই দম্পতি, এদের কে নোবেল পরিবার বলা যায়।

গার্টি ও কার্লে তৃতীয় দম্পতি হলো গার্টি ও কার্লে, এরা একইসঙ্গে মেডিকেল কলেজে পড়েছেন, পাস করেছেন, এরপর নোবেলটাও পেয়েছেন একই সঙ্গে। অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেওয়া এই দুই বিজ্ঞানী তাঁদের গবেষণার বেশির ভাগটাই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রায় ৩০ বছরের নিরলস গবেষণার পর ১৯৪৭ সালে গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনের বিপাক ক্রিয়া সংক্রান্ত গবেষণার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জেতেন গার্টি-কার্ল দম্পতি।

ব্রিট মোজার-এডভার্ড মোজার ঃ২০১৪ সালে চতুর্থ জুটি হিসেবে একই সঙ্গে নোবেল জেতেন মে ব্রিট মোজার-এডভার্ড মোজার দম্পতি। মস্তিষ্কের পজিশনিং সিস্টেম গঠনকারী কোষ আবিষ্কারের জন্য ২০১৪ সালে চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল জেতেন এই দম্পতি।

অভিজিৎ বন্দোপাধ্যায় এবং  এস্থার ডুফলো দারিদ্র্য দূরীকরণে পরীক্ষামূলক গবেষণার জন্য ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন অভিজিৎ বন্দোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী এস্থার ডুফলো ।

এই পাঁচটির বাইরে কিন্তু আরও একটি নোবেলজয়ী দম্পতি আছেন, আলভা মিরডাল-গানার মিরডাল দম্পতি। ওপরের পাঁচ দম্পতির সঙ্গে এই দম্পতির নোবেল জয়ের মূল পার্থক্য হলো, এখন পর্যন্ত একমাত্র দম্পতি হিসেবে এরা আলাদা আলাদাভাবে এবং ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে নোবেল জিতেছেন আলভা-গানার দম্পতি। ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিতে নোবেল জেতেন গানার এবং ১৯৮২ সালে শান্তিতে নোবেল জেতেন আলভা।

নোবেলজয়ী পিতা পুত্র :

নোবেলজয়ী পিতা-পুত্র হলেন আর্থার কর্নবার্গ (১৯৫৯) ও রজার ডি কর্নবার্গ (২০০৬) ,দুজনেই রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন l

অল্টারনেট নোবেল :

Right Livelihood Award কে বিকল্প নোবেল পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয় ,এই পুরস্কার ও সেই সংক্রান্ত কমিটি ১৯৮০ সালে জার্মান-সুইডিশ নাগরিক জ্যাকব ভন উক্সাল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। ১৯৮০ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু এবং সাধারণত ডিসেম্বর মাসে দেওয়া হয়।এটির সদর দপ্তর সুইডেনে অবস্থিত।

ম্যাগসেসাই পুরস্কারকে এশিয়ার নোবেল পুরস্কার বলা হয় । এটি ফিলিপাইন থেকে দেওয়া হয় এবং ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি Ramon Magsaysay Award কে সম্মান জানিয়ে এই নামকরণ করা হয় । এটি ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ।

২০২০ সালের নোবেলের অনুষ্ঠান :

প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের স্টকহোম কনসার্ট হলে নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এটাই ঐতিহ্য এবং এটাই হয়ে আসছে, অনুষ্ঠানে সবাই মিলে প্রায় ১৩০০ জন অতিথির সমাগম হয়ে থাকে।  নোবেল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লার্স হেইকেনস্টেন জানিয়েছেন, মহামারির কারণে এই বছর নোবেল প্রদানের অনুষ্ঠান বাতিল থাকছে , ভার্চুয়ালি কিছু চেষ্টা করা হবে ।

শেষবার নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছিল ১৯৫৬ সালে। হাঙ্গেরিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের প্রতিবাদে সেবার নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।  এছাড়া ১৯০৭ ও ১৯২৪ সালেও নোবেল নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছিল।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 3.7 / 5. Vote count: 3

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে অন্ধ্র, তেলেঙ্গানা, কর্নাটক, মহারাষ্ট্রের অতি বৃষ্টি

3.7 (3)   অজয় নাথ   ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের ১৩ তারিখ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত এক এক করে অন্ধ্র প্রদেশ থেকে কোঙ্কণ ও গোয়া উপকূলে একদিন করে ভারী থেকে অতি ভারী এবং কোথাও কোথাও চরম বা এক্সট্রিম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এখন ভারী থেকে অতি ভারী এবং চরম বা ২০০ মিলিমিটারের […]
বিশ্ব-উষনায়ন-ও-জলবায়ু-পরিবর্তনের-ফলে-বন্যা
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: