ল্যান্টানা

poribes news
4
(3)

ল্যান্টানার বিজ্ঞানসম্মত নাম হলো

ল্যান্টানা ক্যামারা Lantana camara

ল্যান্টানা (Lantana) অতন্ত্য পুরু একটি ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদ, এদের মধ্যে ছোটো ছোটো ফুলও জন্মায় এবং এইটিই এই অরণ্যের বিপুল পরিমানে বিস্তার লাভ করে ছিলো।

ল্যান্টানা
ল্যান্টানা ফুল

এই গাছ পুরো এলাকায়  ঘন ঝোপ বিস্তার লাভ করার ফলে অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণী গুলি   ( ফ্লোরা এবং ফণা) পর্যাপ্ত আলো পৌছায় না । যার ফলে খাদ্য উৎপাদন এবং পুষ্টি সরবরাহের ঘাটতি হতে শুরু হয়। ফলে ল্যান্টানার নিচে কোন ঘাশ,লতা জন্মায় না।

মিশন ল্যান্টানা রাজস্থান :

রাজস্থানের উদয়পুর জেলায় রয়েছে সজ্জনগরঅভয়ারণ্য ( Sajjangarh wildlife sanctuary) , এই অভয়ারণ্যে ল্যান্টানা নামক এক বৈদেশিক ঝোপ জাতীয় ঘাসের প্রজাতির আগমণ ঘটে এবং এই নতুন বিদেশী ঝোপ মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে ।

যার ফলে ওই অঞ্চলের দেশীয় যেসব প্রজাতির ঘাস,উদ্ভিদ ছিলো সেগুলি কমতে শুরু করে যার ফলে ভয়ানক ভাবে বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়ে ওই অঞ্চলের জৈব বৈচিত্র।

সেই সঙ্গে খাদ্য শৃঙ্খলও ক্ষতিগ্রস্থ হতে শুরু হয়! এই সব সমস্যার সমাধানের জন্যই সংগঠিত হয় মিশন ল্যান্টানা । যা প্রায় দেড় মাস ব্যাপী চলে এবং এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল ওই অভয়ারণ্যের জীব বৈচিত্র রক্ষা এবং পুনরায় দেশীয় প্রজাতির ঘাস এবং উদ্ভিদের বিস্তার করানো।

আরাবল্লী পর্বতের দক্ষিণপ্রান্ত. রাজস্থানের উদয়পুর জেলার সজ্জনগরে অবস্থিত, এইখানেই রয়েছে সজ্জনগর অভয়ারণ্য। যার পরিধি মাত্র ৫.১৯ বর্গ কিলোমিটার এবং এটিই ভারতের অন্যতম ক্ষুদ্র অভয়ারণ্য ! কিন্তু এই অভয়ারণ্যে বিপুল সংখ্যক তৃণভোজী পাওয়া যায়।

ল্যান্টানার বিষাক্ত ফল

ল্যান্টানার ( ল্যান্টানা গাছে বেরির ন্যায় ফল জন্মায় ) মধ্যে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতির কথাও জানা যায় এবং এই কারণেই গবাদি পশু এটি গ্রহণ করতে পারে না। ওই অঞ্চলে ঘাস ও অন্যান্য তৃণ জাতীয় উদ্ভিদ জন্মানোও একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো,এই কারণেই তৃণভোজী প্রাণীরা তাদের প্রয়োজনীয় খাবার পাচ্ছিলো না।

ল্যান্টানা’র  জঙ্গলে খাদ্যশৃঙ্খলার সমস্যাঃ

তাদের সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করে যার ফলে মাংসাশীদের সংখ্যাও কমতে শুরু হয় এবং এইভাবেই আন্তঃসম্পর্ক যুক্ত খাদ্যশৃঙ্খল বিঘ্ন হতে শুরু হয়। তাই আবশ্যক হয়ে পড়ে মিশন ল্যান্টানা রাজস্থান অভিযানের। এই কর্মসূচি কোনো সরকার গ্রহণ করেনি।

স্থানীয় এক পুলিশ আধিকারিক বিনীতা ঠাকুর প্রথম লক্ষ্য করেন ওই অভয়ারণ্যের স্পটেড হরিণগুলির আচরণের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ! উনিই প্রথম পরিবেশ ও অরণ্য অধিকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন । উক্ত অভয়ারণ্যের 50 শতাংশ এলাকায় যে ল্যান্টানা ঝোপ বিস্তার লাভ করেছিলো তা নির্মূল করার সংকল্প শুরু করেন।

এই অভিযান সম্পূর্ণ স্বেচ্ছা সেবকদের মাধ্যমে সংগঠিত হয়, আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতির “শ্রম দান” ভাবনার উপর নির্ভর করে। বিভিন্ন স্বেচ্ছা সেবী সংগঠনের লোক,পুলিশ, বনকর্মী, পরিবেশ প্রেমী পরিবেশ সচেতন মানুষজন সকলে মিলে এই অভিযান সফল করেছে।

এই অঞ্চলে প্রায় ৪৫দিন ধরে ১০হেক্টর বনভূমিতে সাফাই অভিযান চলে এবং তারপর ওই অঞ্চলে ওখানকার নেটিভ প্রজাতির গাছ রোপন করা হবে,যা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে; প্রায় ৫০০টি চারা রোপন করা হয়েছে।

Forest dept launch eradication drive : Lantana poses threat to Sajjangarh wildlife sanctuary | | Udaipur News | Udaipur Latest News | udaipur local news । Udaipur Updates

তৃণভোজী প্রাণীদের উপযোগী ঘাসের বীজ এখানে রোপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ল্যান্টানা এলো কোথা থেকে ? জানা যাচ্ছে ১৮০৭ সাল থেকে বিদেশ থেকে আস্তে আস্তে ল্যান্টানা আসতে শুরু করে । অভয়ারণ্যে, বায়োলজিকাল পার্ক, নদীতীরবর্তী অঞ্চলে, টাইগার প্রজেক্টের অধীনে এলাকায় বিস্তার লাভ করে এবং স্থানীয় ঘাসেদের দমিয়ে দিয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে যা জীববৈচিত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

যেসব অঞ্চল গবাদি পশুর চারণভূমি ল্যান্টানা সেখানেও প্রবেশ করতে শুরু করে এবং এর ফলে গবাদি পশুর প্রাকৃতিক খাদ্য ভাণ্ডারে টান পড়ে,গ্রামবাসীদের জীবন ও জীবিকার উপর প্রভাব পড়তে শুরু হয় কারণ তাদের উপার্জন ও জীবিকা গবাদি পশুপালনের উপর অনেখানি নির্ভলশীল!

বৈদেশিক প্রজাতির আগমণে জীববৈচিত্র ধ্বংসঃ

বৈদেশিক কোনো প্রজাতির আগমণের ফলে জীববৈচিত্র ধ্বংস হওয়ার ঘটনার একাধিক উদাহরণ ইতিহাসে পাওয়া যায়।

আমাদের দেশেই ১৯৮০ সালে কেরলের জলজ বস্তুতন্ত্র চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলো।

পৃথিবীব্যাপী অ্যাকুয়া কালচারের উন্নতির জন্যে আশির দশকে প্রচুর পরিমানে উত্তর আফ্রিকার ক্যাটফিশের বিস্তার ঘটানো হয়েছিলো।

ভারতেও বিপুল পরিমানে ক্যাটফিশের আমদানি করা হয়েছিলো। এই নর্থ আফ্রিকান ক্যাটফিশ কেরলের জলজ জীববৈচিত্র কে প্রায় পুরোপুরিই শেষ করে দিযেছিলো !

ল্যান্টানা সমস্যার সমাধানঃ

এই ল্যান্টানা সমস্যার সমাধান এই একবার একে নির্মূল করেই সম্ভব নয় আগামী ৩ থেকে ৪ বছর প্রতি বছর নিয়ম করে এই সাফাই অভিযান চালাতে হবে । যদি ল্যান্টানার সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভব হয় এবং এই সাফাই কর্মসূচি বর্ষাকালেই নিতে হবে।

ল্যান্টানা ছেদন করার সময় পাহাড়ি এলাকায় বা উচ্চভূমিতে একদম উপর থেকে কাটতে কাটতে নীচে নামতে হবে ।

সমতলভূমির ক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে নির্মূল করতে করতে পরিধির দিকে যেতে হবে তবেই ল্যান্টানার সম্পূর্ণ বিতারণ সম্ভব ।  ঐ আলিবাবা চল্লিশ চোরের মতো গেয়ে উঠতেই পারেন মার ঝাড়ু মার ঝেটিয়ে বিদায় কর !

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4 / 5. Vote count: 3

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

হ্যালির ধূমকেতুও বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি

4 (3)   পঞ্চানন মণ্ডল প্রতি ৭৫-৭৬ বছর পরপর পৃথিবীর আকাশে দৃশ্যমান হয়ে উঠা একটি ধূমকেতু। প্রখ্যাত ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালির নামানুসারে এই ধূমকেতুর নামকরণ করা হয়েছে হ্যালির ধূমকেতু। ৮ ই নভেম্বর এডমন্ড হ্যালির জন্মদিন। ১৬৫৬ সালের আজকের দিনে তাঁর জন্ম হয়। হ্যালির ধূমকেতুর জ্যোতির্বিজ্ঞান নাম ১পি/হ্যালি। প্রতি শতাব্দীতেই আকাশে […]
হ্যালির-ধূমকেতু
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: