পালস অক্সিমিটার কিভাবে কাজ করে

poribes news
5
(1)
কিভাবে কাজ করে পালস অক্সিমিটার
পঞ্চানন মণ্ডল    পঞ্চানন-মণ্ডল
**************************
কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা কার্যকরী ওষুধ কোনোটাই আমাদের হাতে নেই।তাই আমরা যতটা সম্ভব সচেতন থাকছি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি ।
বর্তমানে করোনা টেস্টের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাস্কের ব্যবহার । এর সঙ্গে প্রায় সমানে পাল্লা দিচ্ছে একটি ছোট যন্ত্রের ব্যবহারও । আপনি সম্ভবত অনুমান করতে পেরেছেন কোন যন্ত্রের কথা বলা বলছি । হ্যাঁ,পালস অক্সিমিটারের । এই যন্ত্রটি ব্যাথা-বেদনা ছাড়াই রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বলে দেয় ।
কোভিড-১৯ তে যে কারণে পালস অক্সিমিটারের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে তা হলো সাইলেন্ট হাইপোক্সিয়া বা কলাকোষে অক্সিজেনের ঘাটতি শনাক্ত করতে যন্ত্রটির সাফল্য । তবে বাড়িতে পালস অক্সিমিটারের ব্যবহার নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও বিতর্ক উঠেছে।
অনেকেই কোভিড-১৯ শনাক্ত করতে যন্ত্রটি ব্যবহার করছেন। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে, আরো অনেক রোগেও শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই এ যন্ত্রে অক্সিজেনের কম মাত্রা দেখে শতভাগ নিশ্চিত হতে পারবেন না যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণই হয়েছে। কেনার সময় নিশ্চিত হোন যে আসল পালস অক্সিমিটারই কিনছেন, অন্যথায় ঠকে যেতে পারেন ।

পালস অক্সিমিটার কি?

পালস অক্সিমিটার হলো একটি ছোট মেডিক্যাল যন্ত্র যেটা দিয়ে হৃদস্পন্দনের হার ও রক্তে অক্সিজেনের সম্পৃক্ততা (স্যাচুরেশন) পরিমাপ করা হয়।
সাধারণত যন্ত্রটিতে আঙুল লাগিয়ে অক্সিজেন স্যাচুরেশন মাপা হয়; কিন্তু কানের লতি , নাক, পায়ের আঙুল ও এমনকি কপালের চামড়াতেও সংযুক্ত করা যায়।
ব্যাটারি চালিত পালস অক্সিমিটারের ছোট এলইডি ডিসপ্লে তৎক্ষণাৎ ফলাফল জানিয়ে দেয়।
কিছু উন্নত পালস অক্সিমিটারে একটি তার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ শনাক্তের মনিটর সংযুক্ত করা হয় – শরীরে অন্যান্য সেন্সর স্থাপন করে হৃদস্পন্দন, শারীরিক তাপমাত্রা ও রক্তচাপ সম্পর্কে আরো নির্ভুল তথ্য পেতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।

পালস অক্সিমিটার কিভাবে হৃদস্পন্দন ও অক্সিজেন

পরিমাপ করে ?

রক্তে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ও হৃদস্পন্দনের হার (হার্ট রেট ) পরিমাপ করতে পালস অক্সিমিটারে একটি লাইট থাকে (infrared light ), যা ত্বকের মধ্য দিয়ে লোহিত রক্তকণিকার রঙ ও গতিবিধি শনাক্তে সহায়তা করে। অক্সিজেন সমৃদ্ধ লোহিত রক্তকণিকা উজ্জ্বল লাল ও অক্সিজেন ঘাটতিতে থাকা রক্তকণিকা কালচে লাল।
পালস অক্সিমিটার শতকরা হিসেবে অক্সিজেন স্যাচুরেশন নির্ণয় করতে উজ্জ্বল লাল রক্তকণিকা ও কালচে লাল রক্তকণিকার মধ্যে তুলনা করে।
উদাহরণস্বরূপ, ৯৯% রিডিংয়ের মানে হচ্ছে- রক্তপ্রবাহে মাত্র ১ শতাংশ রক্তকণিকা অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত।

অক্সিজেনের মাত্রা ও হৃদস্পন্দন হার কত হলে

স্বাভাবিক ?

পালস অক্সিমিটারের রিডিংয়ে অক্সিজনের মাত্রা ৯৫% থেকে ১০০% আসলে স্বাভাবিক ।
৯০ শতাংশের নিচে দেখালে বিপজ্জনক নিম্ন মাত্রা (হাইপোক্সিক) হিসেবে বিবেচিত হবে।
চিকিৎসকগণ বলছেন , অনেক কোভিড-১৯ রোগী ৬০% বা আরো কম অক্সিজেন মাত্রা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
প্রতিমিনিটে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক হার হলো ৬০ থেকে ১০০।
সাধারণত কমটাই তুলনামূলক ভালো, কারণ ধীর হৃদস্পন্দন হার শক্তিশালী কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমকে (হার্ট ও রক্তনালী) নির্দেশ করে।

পালস অক্সিমিটার কি কোভিড-১৯ শনাক্ত করতে

পারে?

শনাক্ত করতে পারে না। অনেক চিকিৎসকে কোভিড-১৯ রোগীদের মধ্যে অক্সিজেনের বিপজ্জনক নিম্ন মাত্রা দেখলেও এটা উল্লেখ্য যে, করোনা সংক্রমণই একমাত্র রোগ নয় যে কারণে এমন সমস্যা হয়।          ♦    সিওপিডি Chronic obstructive pulmonary disease (COPD)

♦    অ্যাজমা

          ♦      নিউমেনিয়া
          ♦     ফুস্ফুসের অসুখ
          ♦    হার্ট অ্যাটাক
          ♦   হার্ট ফেলিউর ও
           ♦      কোভিড-১৯ এর সঙ্গে সম্পর্কহীন ফুসফুসীয় সংক্রমণের মতো দীর্ঘস্থায়ী
ফুসফুসের রোগেও হাইপোক্সিয়া হতে পারে ।
তবে এটা ঠিক যে কোভিড ১৯ তে হাইপোক্সিয়া ধরতে এই যন্ত্রটির ভূমিকা প্রশ্নাতীত।
বেশিরভাগ সময় রক্তে যে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা প্রথমেই বোঝা যায় না। সেক্ষেত্রে বাড়িতে এ যন্ত্র থাকলে কাজে আসবে।
তবে রিডিংয়ে অক্সিজেনের নিম্ন মাত্রা নিজেই করোনা সংক্রমণ শনাক্ত করতে যথেষ্ট নয়।
সময়ের আবর্তনে মাত্রা আরো কমতে থাকলে আপনার চিকিৎসক কোভিড-১৯ টেস্ট করেছেন কিনা জানতে চাইবেন।
তাই উপসর্গ দেখা দিলে বা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে করোনা টেস্ট করিয়ে নিন।
সচেতন থাকুন। সুস্থ থাকুন।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

ভারতে বিজ্ঞানে প্রথম মহিলা ডক্টরেট অসীমা চট্টোপাধ্যায়

5 (1) ভারতে বিজ্ঞানে প্রথম মহিলা ডক্টরেট অসীমা চট্টোপাধ্যায় । ১৯৪৪ সালে তিনি জৈব রসায়নে পিএইচডি করেন। রসায়ন ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য দেশের বিজ্ঞানী মহলে তিনি আজও সমাদৃত। ভিনকা অ্যালকালয়েডের গবেষণা ও কুষ্ঠ, ম্যালেরিয়া রোধী ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ভারতীয় বিজ্ঞানী মহল। […]
ভারতে-বিজ্ঞানে-প্রথম-মহিলা-ডক্টরেট-অসীমা-চট্টোপাধ্যায়
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: