বিজ্ঞানী জে বি এস হ্যালডেন

5
(1)
জে বি এস হ্যালডেন ।পুরো নাম জন বার্ডন স্যান্ডারসন হ্যালডেন। বিজ্ঞানী হিসেবে বেশ পরিচিত নাম।তবে তাঁকে শুধু বিজ্ঞানী বলে দেগে দেওয়া ঠিক হবে না ।কেন বলছি তা পুরো নিবন্ধ পড়লে বুঝতে পারবেন। প্রায় বাহাত্তর বছরের জীবনে মানুষটা যে কত কিছু ভেবেছেন, বিশ্বাস করেছেন, বিশ্বাস হারিয়েও ফেলেছেন, কাজ করেছেন, করিয়েছেন, লিখেছেন, ঝগড়া করেছেন, কত যে বন্ধু পাতিয়েছেন, আবার বন্ধুত্বের বিচ্ছেদও করেছেন তার পূর্ণ তালিকা করা অসম্ভব! তাঁর কোন জীবনটা যে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ণয় করাও কঠিন !!
জীবনের শেষ সাত বছর ভারতে – কলকাতায় আর ভুবনেশ্বরে – কাটিয়েছিলেন। পায়জামা আর খদ্দরের পাঞ্জাবি পরতেন।শোনা যায় এক বঙ্গসন্তানের কাছে বাংলা শিখতেন নিয়ম করে। শেষ জীবনে খেতেন নিরামিষ।
তবে তিনি যে কি কেমন মানুষ তা একটি ধাঁধার মতো। নিজেই লিখেছিলেন, ‘যদি বিজ্ঞানের আঙিনা থেকে ছুটি চাই তবে আমি গিয়ে সমর সাংবাদিকতায় নাম লেখাতে পারি, বাচ্চাদের জন্য গল্প লিখতে পারি, অথবা রাজনৈতিক বক্তৃতা দিয়ে বেড়াতেও পারি।’
হ্যালডেন কম করে আধডজন কাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন। গণিতবিদ হলেও চলত। স্ট্যাটিসটিকস তাঁর গবেষণার অন্যতম উপকরণ ছিল। ভারতে আসেন প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটে গবেষণা করতে। এদেশে থাকবেন বলেই এসেছিলেন, কাজেই ভারতের নাগরিকত্বও নেন। শিক্ষাগত বা পড়াশোনার নিরিখে তিনি ছাপ্পা-মারা লাতিন-গ্রিক ইত্যাদি প্রাচীন সাহিত্য অনুরাগী । সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, প্রথম সারির বিজ্ঞান গবেষণা করেছেন আজীবন, কিন্তু বিজ্ঞানে তাঁর কোনও ডিগ্রি ছিল না। ছিল লাতিন-গ্রিক সাহিত্যে।
ভারতে এসে তিনি সংস্কৃত সাহিত্য গুলে খেয়েছিলেন। ভারতীয় পুরাণের নজির তাঁর লেখায় এমনভাবে টানতেন যে, জন্মসূত্রে ভারতবাসী এমন বহু মানুষ লজ্জায় পড়তে পারেন। তিনি দীর্ঘদিন লন্ডনের সংবাদপত্রে নিবন্ধ লিখেছেন। ফ্যান্টাসি গল্প লিখেছেন ছোটদের জন্য। ‘মাই ফ্রেন্ড মিস্টার লিকি’ তাঁর সেই গল্পসংকলনের নাম।
এই ডিগ্রিহীন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যে কী বিপুল পরিমাণ বিজ্ঞান-গবেষণায় ডুবে ছিলেন তা জানলে বিস্মিত হতে হয়। বস্তুতপক্ষে ডিগ্রি সম্পর্কে সারা জীবন ধরেই এক বিতৃষ্ণা মনে-মনে পালন করে এসেছেন তিনি।
ভারতের বিজ্ঞান গবেষনার স্লথ-গতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এদেশের ডিগ্রি-প্রীতিতে। বলেছেন, পুরনো জাতপাতের কাঠামো বিনাশের আগেই ডিগ্রি-ভিত্তিক নতুন জাতপাত ব্যবস্থা মাথা তুলেছে।
প্রশ্ন তুলেছেন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে অ্যানাটমির অধ্যাপক যদি আদতে জুলজির স্নাতক হন, স্ট্যাটিসটিক্স না পড়েই যদি সত্যেন্দ্র নাথ বসু এত বিরাট সংখ্যক পরমাণু নিয়ে তত্ত্ব তৈরি করতে পারেন, তবে ডিগ্রি নিয়ে এত মোহ থাকবে কেন? ‘হোয়াট এইল্স ইন্ডিয়ান সায়েন্স’ শীর্ষক এই লেখায় তিনি উদাহরণ দিয়েছেন পল ডিরাকের।
যে মানুষটি ইঞ্জিনীয়ারিংয়ে স্নাতক, কেমব্রিজে তিনিই গণিতের অধ্যাপক, কাজের সূত্রে আবার তাঁকেই বলা যায় ম্যাথামেটিক্যাল ফিজিক্সের বা পরিসংখ্যানবিদ্যার বিশেষজ্ঞ। হ্যালডেনের বক্তব্য, ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়-ব্যবস্থা কেন ইউরোপের অনুসরণে উদার হতে পারে না? অযথা ডিগ্রিকে আবশ্যক করে মুক্ত জ্ঞানচর্চাকে আটকানো হবে কেন?
তবে ,প্রথাগত বিজ্ঞানের ডিগ্রি না থাকলেও শেষ বিচারে অবশ্যই তিনি একজন বিজ্ঞানী। লিখছেন, বিজ্ঞান জগতে প্রবেশ তাঁর দুই বছর বয়সে, বাবার ল্যাবরেটরিতে মেঝেতে বসে তিনি খেলতেন আর তাঁর বাবাকেও খেলতে দেখতেন – এক্সপেরিমেন্ট-এক্সপেরিমেন্ট খেলা।
হ্যালডেনের বাবা, জন স্কট হ্যালডেন ছিলেন শারীরবিদ্যার গবেষক। নিজেকে নানারকম বিপজ্জনক পরীক্ষার সাবজেক্ট করতে তাঁর জুড়ি ছিল না। নিজের পুত্র, জেবিএস-কেও টেনে আনতেন তার মধ্যে।
আর সেই চরিত্র বর্তে ছিল জেবিএস-এর মধ্যেও। বেশ কিছু পরীক্ষায় প্রাণসংশয় ঘটতে পারত। সাবমেরিনে দুর্ঘটনার পর তিনি নিজে একটা সাবমেরিনে ওই আপৎকালীন অবস্থা তৈরি করে নাবিক সৈন্যদের মধ্যে কী-কী প্রতিক্রিয়া তখন ঘটেছিল তা দেখতে যান। কিছু কিছু পরীক্ষায় বিপর্যয় ঘটত, এবং তার ফল তাঁকে সারা জীবন বইতে হয়েছে।
বিজ্ঞানী হিসেবেও হ্যালডেনকে কোনও একটা বিশেষ ক্ষেত্রে একটা বিশেষ ধারার গবেষক বলে দাগানো খুব মুশকিল। অজস্র বিষয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লেগে থাকেননি, এগিয়ে গিয়েছেন অন্য বিষয়ের দিকে। ডারউইনের বিবর্তনবাদকে গণিতের কাঠামোয় প্রথম যাঁরা গেঁথেছিলেন তাঁদের অন্যতম এই হ্যালডেন।
চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে আজীবন কাজ করেছেন হ্যালডেন। তাঁর অন্যতম বই, ১৯৩২ সালে লেখা ‘দ্য কজেজ অফ ইভোলিউশন’ তাঁর দৃষ্টিভঙ্গীর দলিল।
সেখানে গভীর আলোচনায় ঢোকার আগে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রকৃতিতে সত্যিই কি নির্বাচন ঘটে? যদি ঘটে তবে কি তা নতুন প্রজাতি সৃষ্টিকে ব্যাখ্যা করতে পারে? নির্বাচন ছাড়া বিবর্তনের অন্যান্য কারণ নিয়ে কি আলোচনা করা উচিত আমাদের?
এইসব বিষয় সম্পর্কে ধারণা তৈরির জন্য গণিতের সাহায্য নেওয়া বিশেষভাবে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন হ্যালডেন। এরপর কিঞ্চিৎ গর্বের সঙ্গেই বলেছেন, পৃথিবীতে যে তিন জন বিবর্তনের গাণিতিক তত্ত্ব সম্পর্কে জানেন, তাঁদের মধ্যে তিনি একজন। তাই তাঁর অধিকার আছে প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করার। এই বইকেই বিশেষজ্ঞরা হ্যালডেনের ‘পপুলেশন জেনেটিক্স’ নিয়ে গবেষণার প্রাথমিক সারসংক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য কিভাবে বাহিত হয় তার খোঁজ করাই পপুলেশন জেনেটিক্সের লক্ষ্য। কীভাবে এই কাজটা নিয়ে এগিয়েছেন তিনি তার পুঙ্খানুপুঙ্খ না আলোচনা করে বরং উল্লেখ করা যাক যে ভারতে এ ব্যাপারে কোন গবেষণা চালান তিনি।
আমাদের দেশে নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের প্রচলন আছে বহু জায়গায়। জেনেটিক্সের তত্ত্ব বলে যে প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশের আমন্ত্রণে হ্যালডেন ভারতে আসেন ১৯৫৭ সালে। তাঁর নানা ভাবনার মধ্যে ছিল দক্ষিণ ভারতে নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহবন্ধনের জিনগত ফলাফল সমীক্ষা করা। এমন একটা সমীক্ষা বেশ বড়সড় বিস্তৃতি নিয়ে অন্ধপ্রদেশে সম্পাদন করেন হ্যালডেনের দুই ছাত্র। এর থেকে হ্যালডেন একটা নতুন পরিসংখ্যানগত পরীক্ষার কাঠামো তৈরি করেন। নিকট আত্মীয়দের মিলনে তৈরি সন্তানের সংখ্যা যখন জনগোষ্ঠীতে বাড়ছে তখন তার তাৎপর্য কি হতে পারে, তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব।
পরে, ১৯৬১ সালে আদমসুমারিতে, হ্যালডেনের পরামর্শে গোটা দেশ থেকে এমন তথ্য সংগ্রহ করে একটা দামী তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়।
ভারতবর্ষে এসে বেশ কিছু মেধাবী গবেষক পেয়েছিলেন হ্যালডেন। ১৯৬১ সালে স্পষ্ট করে লিখে জানিয়েছিলেন সে কথা। এঁদের মধ্যে অন্যতম কৃষ্ণ দ্রোণমরাজু। তাঁর লেখা থেকে জানতে পারি যে হ্যালডেন মনে করতেন, জীবজগতের বিবর্তন সম্পর্কে
ডারউইনের কাজকে ছাপিয়ে গিয়েছিল তাঁর গাছগাছালি সম্পর্কিত গবেষণা।
শুনতে অন্যরকম লাগলেও কথাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উদ্ভিদবিজ্ঞানী জন স্টিফেন্স হেনস্লো অনুপ্রাণিত করেন ডারউইনকে উদ্ভিদের বৈচিত্র্য নিয়ে ভাবতে। তিনিই বিগল জাহাজে যাত্রা করার সুযোগ করে দেন ডারউইনকে। এই অনুপ্রেরণা উদ্ভিদ সম্পর্কে স্থায়ী আগ্রহ তৈরি করে ডারউইনের মনে। বিবর্তন সম্পর্কে তাঁর আকর গ্রন্থ ‘অন দ্য ওরিজিন অফ স্পিসিস’-এ প্রাণীদের পাশাপাশি গাছেদের উল্লেখযোগ্য বিবরণ এই মনোভাবের ফসল।
বিজ্ঞানক্ষেত্রে কোনও একটা কারণে তাঁকে মনে রাখতে হলে এই একটা বিষয়ের কথাই তুলতে হবে। পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি হল কীভাবে? এই প্রশ্নে ওপারিন-এর সঙ্গে একযোগে প্রস্তাবিত তাঁর তত্ত্ব খুব সাড়া ফেলেছিল। তাঁরা বলেছিলেন বিশেষ রাসায়নিক সমৃদ্ধ কোনও জলাধারে সম্ভবত জীবনের প্রয়োজনীয় অণুগুলো জন্ম নিয়েছিল।
কিন্তু সেই ধারার গবেষণায় তিনি আর মন দেননি। ওপারিন যদিও ধারাবাহিকভাবে এ নিয়ে কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। জিনতত্ত্বের আরও অনেকগুলি প্রশ্ন নিয়ে কিছু কাজ করেছেন হ্যালডেন। কিন্তু একইভাবে বিষয়গুলো ধরেছেন, ভেবেছেন, তারপর ছেড়ে গিয়েছেন।
১৯৫৭ সালে ভারতে এসে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের কিছু কাজে লিপ্ত হয়েছিলেন।
এখানে তাঁর গবেষণার ছত্রবাহী শিষ্যধারা তৈরি হওয়ার মতো যথেষ্ট সময় পায়নি। মহলানবিশের সঙ্গে কিছু মনোমালিন্যের জেরে চার বছর বাদে স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট ছেড়ে তিনি চলে যান ভুবনেশ্বরে। তিনি চাইতেন ভারতীয়রা গবেষণায় ব্যয়সাধ্য যন্ত্রের অপেক্ষায় না থেকে একেবারে মামুলি উপকরণে বা কোনও উপকরণ ছাড়াই যেসব গবেষণা সম্ভব তা নিয়ে কাজ করুক। বহু ভারতীয় অবশ্য এই মনোভঙ্গিকে পিছন-ফেরা ভাব বলে মনে করতেন। আজও করেন।
কিন্তু হ্যালডেন বিচিত্র নানা বিষয়ে তাঁর প্রশ্ন তুলতেন। ফুলের পাপড়ির রং। কেঁচোর মাটি। শিউলি ফুলের পাপড়ির সংখ্যা আর বিন্যাস। তাঁর তত্ত্বাবধানে দেড় লক্ষ শিউলি ফুলের পাপড়ির সংখ্যা গোনা হয়েছিল। মাপা হয়েছিল ছয় টন কেঁচোর মাটি। যদি তেমন কোনও যুগান্তকারী ফল বেরত, এসব উদ্যোগ নেহাত বাজে পরিশ্রম বলে মনে করতেন না কেউই।
আমরা যারা তাঁর বিজ্ঞান গবেষণার রস নিতে পারব না (সত্যি কথা বলতে কী, তাঁর গবেষণা ছাড়িয়ে নানা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান আজ অনেকদূর চলে এসেছে) তাদের জন্য আছে তাঁর লেখাগুলো। পপুলার সায়েন্স? হ্যাঁ। বায়োলজি থেকে অ্যাস্ট্রোনমি সব বিষয়ে তিনি লিখতেন। জ্যোতির্বিদ্যার নিবন্ধগুলোতে ইংরেজি নামের পাশাপাশি তারাগুলোর ভারতীয় নামও বসাতেন।
হ্যালডেন ছিলেন মার্কসবাদী। কমিউনিজম নিয়ে বহু নিবন্ধ লিখেছেন, তারপর একদিন বীতশ্রদ্ধ হয়ে পার্টির সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। যে কোনও আটপৌরে জিনিসকে ঘুরিয়ে দেখিয়ে তা থেকে সম্পূর্ণ অন্য অর্থ বার করা? অবশ্যই।
Amarboi.com: বিজ্ঞান ও মার্কসীয় দর্শন - জে বি এস হ্যালডেন
তাঁর নিবন্ধগুলো সেই কারণেই এখনও সবাইকে চমকে দেয়। এমন ঋজু, ক্ষুরধার, ঝকঝকে চিন্তা দুর্লভ। অনেক কথাই হয়তো মানতে দ্বিধা হবে পাঠকের, তর্কে নামার জেদ চাপবে, কিন্তু কিছুতেই অগ্রাহ্য করা যাবে না।
ভারতে অহিংসার ঐতিহ্য তাঁকে খুব টানত। শুনে মনে হবে হ্যালডেন নিশ্চয় ছিলেন মাটির মানুষ। একেবারে উলটো। বিশেষ একটা সৌজন্যের ধার ধারতেন না। রগচটা স্বভাবের কারণে এখানকার অনেকেই তাঁর সঙ্গে মিশতে ইতস্তত করতেন, ভয়জনিত দূরত্ব থাকত।
নিজে বলেছেন, ভারতীয়দের সমস্যা হল, তারা বড্ড বেশি পোলাইট। এটা কাটাতে না পারলে তাদের দ্বারা কিছু হবে না। কেন যে তাঁর এরকম মনে হয়েছিল কে জানে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রণক্ষেত্রে যেতে হয়েছিল। গুলি চালিয়ে শত্রুনিধন করেছেন। পরে সে ঘটনা উল্লেখ করার সময় স্মরণ করেছেন গীতার বাণী। নিজেকে সহিংস প্রকৃতির মানুষ বলে জানিয়ে দিতেন। সেই মানুষটাই ভারতে এসে প্রচার করতে লেগেছেন, জীববিজ্ঞানের গবেষণায় কোনও প্রাণী মারা চলবে না। সাধু প্রস্তাব। তাতে অনেকেরই নিশ্চয় মনে হয়েছিল যে এতে গবেষণার প্রকৃতিও হয়ে পড়বে ধরাবাঁধা।
আজকের পৃথিবী অবশ্য তাঁর কথাই যেন ফিরে বিবেচনা করছে। তাঁর ধারণা হয়েছিল, ভারতীয়রা এতই অহিংস যে সাপও মারতে নারাজ। তিনি বলতে থাকলেন, কেউটে-গোখরোও মারা চলবে না। তার বদলে সাপের বিষের প্রতিষেধক টিকা বানাও, আর সমস্ত ভারতবাসীকে সেই টিকা দিয়ে দাও, যাতে তাদের সাপের কামড়ে আর কোনও ক্ষতি না হয়।
পায়ের ধুলো থেকে বাঁচতে চামড়া দিয়ে পুরো পৃথিবী ঢেকে ফেলার মতো ব্যাপার!
তিনি যেমন সারা জীবন বিজ্ঞানের অজানা রহস্যের কিনারা করতে উদ্যোগী ছিলেন , তেমনি আগ্রহী ছিলেন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান চেতনা ছড়িয়ে দিতে। তাঁকে বোঝার জন্য এমন ছোট্ট নিবন্ধ যথেষ্ট নয়, এ বড়জোর নিবিড় হ্যালডেন-চর্চার প্রাথমিক ধাপের একটা হতে পারে ।
জন বার্ডন স্যান্ডারসন হ্যালডেনের আজ জন্মদিন। (৫ নভেম্বর ১৮৯২ – ১ ডিসেম্বর ১৯৬৪)। তাঁর জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই।
@ পঞ্চানন মণ্ডল  পঞ্চানন-মণ্ডল

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা

5 (1)   //ছোটবেলার বিজ্ঞানে অনাগ্রহী ছাত্রই পরবর্তীতে ভারতের পরমাণু শক্তি গবেষণার পথিকৃৎ হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা (Homi Jehangir Bhabha) // ********************* যাঁদেরকে আমরা বড় বড় বিজ্ঞানী বলে জানি তাঁরা বেশিরভাগ ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানে আগ্রহী ছিলেন। বিজ্ঞানের প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাঁদের পরবর্তীতে সাফল্য এনে দিয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার ক্ষেত্রে […]
Homi Jehangir Bhabha
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: