স্যাটেলাইট সিস্টেম

Space-Station

স্যাটেলাইট সিস্টেম

স্যাটেলাইট শব্দটির সঙ্গে আজ সবাই পরিচিত। তার কারণে এর বহুমুখী প্রয়োজনীয়তা । স্যাটেলাইট এর ব্যবহার সর্বত্র। মাটি থেকে জল থেকে মহাকাশ – প্রত্যেকটি স্থানে প্রত্যেক জরুরি ব্যবস্থাই স্যাটেলাইট এর অন্তর্ভুক্ত। সেনাবাহিনী, আবহাওয়া, মহাকাশ গবেষণা, রেডিও, ইন্টারনেট সর্বত্রই স্যাটেলাইটের প্রয়োগ লক্ষণীয়।

মহাকাশের প্রত্যেকটি গ্রহের নিজস্ব উপগ্রহের অস্তিত্বের ধারণা থেকে এই স্যাটেলাইট ব্যাপারটি আসে। যার জন্য বাংলায় স্যাটেলাইটকে ‘কৃত্রিম উপগ্রহ’ বলা হয়ে থাকে।

বিজ্ঞানের অন্যতম এই সেরা আবিষ্কারটি কে ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে যে দিনটিতে পাওয়া যায় সেটি হল ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা আগস্ট। এদিন সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি পৃথিবীর সর্বপ্রথম স্যাটেলাইট ‘স্পুটনিক-১’ মহাকাশ পথে প্রথমবারের মতো যাত্রা করে। সেই সূচনা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ৮৯০০টি স্যাটেলাইট, ৪০ টিরও বেশি দেশ থেকে উৎক্ষিপ্ত হয়েছে।

স্পুটনিক-১

সাধারণ উপগ্রহ গুলির যেমন নির্দিষ্ট কক্ষপথ থাকে, এই সমস্ত ‘স্যাটেলাইট’ গুলিকেও সাধারণ উপগ্রহ গুলির মতোই পূর্বনির্ধারিত কিছু কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। এই কক্ষপথগুলি বিভিন্ন উচ্চতা অনুসারে আলাদা-আলাদা হয়ে থাকে। যেমন-নিম্ন কক্ষপথ, মধ্য কক্ষপথ, জিওস্টেশনারি কক্ষপথ প্রভৃতি।

উপগ্রহ স্থাপনের ক্ষেত্রে সব থেকে এগিয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৮৫৯টি স্যাটেলাইট এর সঙ্গে, এটি ঠিক পরেই আছে চিন, ২৫০টি স্যাটেলাইট। এরপর যথাক্রমে রাশিয়া(১৪৬টি), ভারত(১১৮টি) অবস্থান করছে।

এবার প্রশ্ন হলো, এই উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট গুলিকে মহাকাশের স্থাপন কিভাবে করা হয়?

এদেরকে তৈরি করার পর আলাদা রকেট এর মধ্যে সব যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন করা হয়। মহাকাশে যে কক্ষপথে স্যাটেলাইটিকে প্রতিস্থাপিত করতে হবে সেই স্থান পর্যন্ত এটি রকেটের মাধ্যমে যাত্রা করে। এরপর রকেটের থেকে প্রত্যেকটা পার্ট আলাদা হয়ে গিয়ে ওই স্যাটেলাইটটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রতিস্থাপিত হয়ে যায়। কাজের মেয়াদ সম্পূর্ণ হলে এগুলি আবার পৃথিবীর বুকে নেমে আসে।

বিভিন্ন কাজের জন্য স্যাটেলাইট গুলি দুইভাবে স্থাপন করিয়ে কাজে লাগানো হয়। প্রথমটি হল শুধু একটি স্যাটেলাইট তার নিজস্ব প্রক্রিয়াতে একা কাজ করে। দ্বিতীয়টি হল বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইটকে এক সঙ্গে যুক্ত করে কোন কাজ করানো।

স্যাটেলাইট গুলোর কাজের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা রকমের হয়ে থাকে তা প্রথমেই বলা হয়েছে। এবার সে বিষয়ে কিছু আলোকপাত করা যাক।

মহাকাশে ঘটে চলা বিভিন্ন রকম ক্রিয়া-কলাপ গুলিকে পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহার হয়ে থাকে মহাকাশীয়-স্যাটেলাইট। বিভিন্ন গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, উল্কা, প্রভৃতি বিষয় গুলির উপর সর্বত্র নজর রেখে চলেছে এগুলি।

ভূপৃষ্ঠে অত্যধিক উদ্ভিদ হ্রাস পাওয়ার ফলে, বিজ্ঞানীরা মহাকাশের বুকে ‘স্যাটেলাইট’ এর মধ্যে উদ্ভিদকে প্রতিপালনের চেষ্টা চালাচ্ছে। যেগুলোকে ‘বায়ো-স্যাটেলাইটে’ করে পাঠানো হয়ে থাকে।

আমাদের বিভিন্ন যোগাযোগের ব্যবস্থা মাধ্যম মোবাইল সিগন্যাল, ইন্টারনেট, প্রভৃতি ‘কমিউনিকেশন-স্যাটেলাইট’ এর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

এছাড়া এই একইভাবে মোবাইল সিগন্যাল, রেডিও সিগন্যালের দ্বারা কোন বিশেষ স্থান বা ব্যক্তিকে খুঁজে দিতে কাজে লাগানো হয় ‘নেভিগেশন-স্যাটেলাইট’ কে। আবার কোন বিশেষ অঞ্চলের ওপর নজরদারি রাখতে অথবা আবহাওয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে ভূপৃষ্ঠ-পরিদর্শনকারী স্যাটেলাইটের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনে শত্রু শিবির ধ্বংস করতেও স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়।

সর্ববৃহৎ যে স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহৃত হয় তাকে ‘স্পেস স্টেশন’ বলে এখানে মানুষের বসবাস করার ব্যবস্থা থাকে।

 

স্পেস-স্টেশন

 

দৈনন্দিন জীবনকে নিয়ন্ত্রণের পিছনে স্যাটেলাইট এর ভূমিকা বর্তমানে অনস্বীকার্য। তবে এই স্যাটেলাইট আবার যখন ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে তখন অনেক সময় মাটিতে আছরে পরে বহুল পরিমাণ ক্ষতি সাধন করে।

সমুদ্রের জলে পতিত হলে জলের মধ্যে ক্ষতিকারক ধাতু ও জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে। যদিও অধিকাংশ স্যাটেলাইট মাটি স্পর্শ করার আগেই বায়ুমন্ডলে থাকাকালীনই অত্যাধিক গতি ও বায়ুস্তরের সংঘর্ষের ফলে ভষ্মিভূত হয়ে যায়। এটি না হলে তা স্থলভাগ এবং জলভাগ উভয়ের অত্যধিক ক্ষতি করতে পারত।

স্যাটেলাইট পরিষেবা ছাড়া এই সমস্ত বিশ্ব পিছিয়ে যাবে বহু শতাব্দী আগে, থমকে যাবে বহু চেনা পরিষেবা।

-সৌরদীপ কর্মকার

Leave a Reply

%d bloggers like this: