অর্থনীতি ও গণিতের এই সম্পর্ক আপনি আগে জানতেন?

Subhankar
3.9
(7)
অর্থনীতি ও গণিত
গণিত এবং অর্থনীতির প্রথম সম্পর্ক স্থাপন হয় প্রাচীনকালে, যার প্রকৃতি ছিল বাণিজ্যিক (Commercial)। বণিকেরা নিত্য বাণিজ্যিক কাজে গণিতকে ব্যবহার করতে বাধ্য হতেন। পরবর্তীকালে এই সম্পর্ক আরও গভীরতর হয়, যখন ব্যাঙ্ক মালিকেরা এবং ব্যাঙ্কের পরিষেবা গ্রহনকারীরা অর্থনৈতিক হিসাবপত্র (Financial Calculation)  করতে শুরু করে।
এই হিসাবপত্রে সাধারণ পাটিগণিত ব্যবহার করা হত যাকে এখন বলা হয়  Accounting। যখন মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তির কাছে গণিতের সঠিক প্রাথমিক জ্ঞান সীমাবদ্ধ ছিল, বণিকেরা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখার জন্য একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। ইতালিতে এয়োদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ভাগে Double-entry Book Keeping আবিষ্কার হয়।
এই পদ্ধতি এখনও সার্থকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বণিকেরা সবসময় চাইতেন হিসাবপত্র ছিমছাম রাখতে এবং গণিতবিদরা এটা করার কৌশল জানতে। অর্থনীতি ও গণিতের সম্পর্ক ছিল অগভীর ও স্হির। অর্থনীতিবিদ্যার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গণিতের সাথে তার সম্পর্ক দৃঢ় হল এবং নতুন পেশার সৃষ্টি হল যার নাম Economist অর্থাৎ অর্থনীতিবিদ।

গণিত প্রথমে ছিল অর্থনীতির ধারণাকে প্রকাশ

করার পথ বা উপায়।

এটি ক্রমশ অর্থনীতির ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হল, যার মাধ্যমে অর্থনীতির Theory গঠন করা যায় এবং নতুন জিনিস অনুধাবন করা যায়। আজকের দিনে আধুনিক অর্থনীতি হলে তাদের অবশ্যই পড়তে হবে অবকলন, সমাকলন, সম্ভবনা তত্ত্ব এবং রাশিবিজ্ঞান। ১৭৭৬সালে আদাম স্মিথ (অর্থনীতি বিজ্ঞানের জনক) অনুপাত ব্যবহার না করে গুণ ও ভাগ ব্যবহার করেছিলেন, এটা দেখানোর জন্য রে বিশেষায়ণ কর্মচারীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে।
আবার অর্থনীতিবিদ থমাস মালথুস সমান্তর প্রগতি ও গুণোত্তর প্রগতি ব্যবহার করেন তাঁর একটি জনসংখ্যা বিষয়ক প্রবন্ধে। যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেন জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে চরমভাবে জীবনধারণের মানকে কমিয়ে দেবার ঝুঁকি থাকে।
তিনি দেখিয়েছিলেন, পৃথিবীর জনসংখ্যার যেকোন মানের জন্য মানব প্রজাতির বৃদ্ধি পায় গুণোত্তর প্রগতিতে অর্থাৎ ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২, ৬৪, ১২৮……। কিন্তু জীবিকা সমান্তর প্রগতিতে বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার বাড়লে জীবনসংস্থানের মান চরমভাবে বিপদগ্রস্ত হয়। ক্যান্টিলন্ দাবি করেন যে একই কাজের জন্য ভিন্ন পারিশ্রমিক হতে পারে।
স্মিথ ব্যাখ্যা করলেন কাজের বিন্যাসের মাধ্যমে কর্মচারীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা যায়। এখন দেখার  বিষয় হল উপরোক্ত পর্যবেক্ষণগুলি পাটিগণিতের সাহায্য ছাড়াও প্রকাশ করা যায়। তথাপি পাটিগণিত ব্যবহার করলে যুক্তিগুলি অধিক স্পষ্টতা পায়। গাণিতিক ভাবে সত্য কিনা যাচাই করা যায়।

ধীরে ধীরে এবং অসতর্কভাবে গাণিতিক ভাষা বেশি ব্যবহৃত হতে

লাগল অর্থনীতিবিদদের লেখায় এবং গবেষণায়।

অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম জেরানস্ একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন, ” Economy, if it is be a science at all, must be a mathematical science.” তাঁর কথার সত্যতা নিশ্চিত হয় যখন দেখা যায় অর্থনীতিবিদ্যার বেশ কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য গাণিতিক তত্ত্বের ব্যবহার করা হয়েছে।
গণিতের অবরোহী পদ্ধতিকে সচেতন ভাবে অর্থনীতি বিজ্ঞানের একটি মূল টেকনিক হিসেবে ধরা হয়। অর্থনৈতিক নিয়মগুলি (laws) নির্ভুল সংজ্ঞা এবং গাণিতিক প্রমাণ সহ অর্থনীতির সূত্রে কঠোরভাবে তৈরি করার আন্তরিক প্রচেষ্টা এখনও বর্তমান।
 বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অর্থনীতি ও গণিতের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য Econometrics নামে একটি শাখা তৈরি হয়েছে বলা হচ্ছে Halfway between Mathematics, Statistics and Economics. সমাজ ধারাবাহিকভাবে বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে অর্থনীতি এবং এর প্রকৃত ব্যাখ্যার জন্য প্রয়োজন আরও শক্তিশালী গণিতের হাতিয়ার ও জ্ঞান।
অর্থনীতির বেশিরভাগ গবেষণা গাণিতিক এবং পরিসংখ্যানগত Methods বোঝার প্রয়োজন, তাই ঠিক কি গাণিতিক অর্থনীতি? গাণিতিক অর্থনীতিটি অর্থনীতির একটি উপ-ক্ষেত্র হিসাবে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা হয় যা অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক তত্ত্বের গাণিতিক দিক পরীক্ষা করে। অথবা অন্য কথায় বলে, গণিত যেমন ক্যালকুলাস , ম্যাট্রিক্স বীজগণিত, এবং ডিফারাল সমীকরণগুলি অর্থনৈতিক তত্ত্বকে ব্যাখ্যা করতে এবং অর্থনৈতিক হাইপোথিসিসের বিশ্লেষণ করতে প্রয়োগ করা হয়।
গাণিতিক অর্থনীতির সমর্থকগণ দাবি করেন যে এই বিশেষ পদ্ধতির প্রাথমিক সুবিধা হল যে এটি সরলীকরণের মাধ্যমে সাধারণীকরণের মাধ্যমে তাত্ত্বিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করার অনুমতি দেয়। তবে অর্থনীতির গবেষণায় এই পদ্ধতির “সরলতা” অবশ্যই ব্যক্তিগত।
এই সমর্থক জটিল গণিত মধ্যে দক্ষ হতে পারে সম্ভবত। অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের অগ্রগতি বিবেচনা করে গণিত অর্থনীতি একটি বোঝা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উন্নত অর্থনীতি গবেষণাগুলি আনুষ্ঠানিক গাণিতিক যুক্তি এবং মডেলগুলির ব্যাপক ব্যবহার করা হয়।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 3.9 / 5. Vote count: 7

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

যে কয়েকটি বই না পড়লেই নয় যদি আপনি মানস জাতীয় উদ্যান-কে জানতে চান

3.9 (7)   আসামের মানস জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে যারা বিশদে জানতে চান, বিশেষত আমাদের ব্লগের পাঠকেরা, যারা দেশে বিদেশে ছড়িয়ে আছেন তাদের জন্য কতগুলি বিভিন্ন স্বাদের বই-এর হদিশ দিচ্ছি। আজকের বাঙালী পাঠক যেরকম বাংলা ভাষায় বই পড়েন, ব্লগ পড়েন তেমনই পাল্লা দিয়ে ইংরেজি ভাষাতেও পড়েন। বাংলা ভাষাতে মানস জাতীয় উদ্যান […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: