এইডস (AIDS)

@@
0
(0)

//এইডস সম্পর্কে সচেতনতা ও রোগীর প্রতি

সহমর্মিতাই এইডসের কবল থেকে মুক্ত

করতে পারে বিশ্ববাসীকে//

 ১ লা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস। করোনা আবহের মধ্যে আজ সারা বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস।এই রোগ সম্পর্কে বিশেষভাবে সচেতন করাই এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য।এইডস (ইংরেজি: AIDS; পূর্ণরূপ: Acquired Immuno Deficiency Syndrome) বা অর্জিত প্রতিরক্ষার অভাবজনিত রোগলক্ষণ সমষ্টি ।
এইডস একটি মারণ রোগ। ২০১৭-এর হিসাব অনুযায়ী, এইডস আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে ২৮.৯ মিলিয়ন থেকে ৪১.৫ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছেন এবং আনুমানিক ৩৬.৭ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি সংক্রামিত হয়ে বেঁচে আছেন।
বিশ্বের অনেক অঞ্চলে সাম্প্রতিক উন্নত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা পৌঁছোনোর ফলে, ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যায় মৃত্যুর পর এইডস মহামারী থেকে মৃত্যুর হার কমেছে (২০১৬ সালে ১ মিলিয়ন, যেখানে ২০০৫ সালে ছিল ১.৯ মিলিয়ন)।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় এইডস সম্পর্কিত বিশ্ব কর্মসূচির দুজন জনতথ্য কর্মকর্তা জেমস ডব্লু বুন এবং টমাস নেটটার দ্বারা ১৯৮৭ সালের আগস্টে প্রথম বিশ্ব এইডস দিবসের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এইডস সম্পর্কিত বিশ্ব কর্মসূচির (বর্তমানে আনএইডস নামে পরিচিত) পরিচালক ডঃ জোনাথন মানের কাছে বুন এবং নেটটার তাঁদের ধারণাটির কথা জানিয়েছিলেন।
ডঃ মান এই ধারণাটি পছন্দ করে এটির অনুমোদন করেন এবং ১৯৮৮ সালের ১লা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবসটি প্রথম পালন করা উচিত এমন পরামর্শের সাথে একমত হন। সান ফ্রান্সিসকোর প্রাক্তন টেলিভিশন সম্প্রচার সাংবাদিক বুন, ১লা ডিসেম্বর তারিখটির সুপারিশ করেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল মার্কিন নির্বাচনের যথেষ্ট পরে কিন্তু বড়দিনের ছুটির আগে, পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমগুলি দ্বারা বিশ্ব এইডস দিবসের প্রচার সর্বাধিক হবে।
এর প্রথম দুই বছরে, বিশ্ব এইডস দিবসের প্রতিপাদ্য শিশু এবং তরুণদের লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছিল। এই প্রতিপাদ্যটি বেছে নেওয়ার সময়, কিছু ঘটনা উপেক্ষা করার কারণে এর সমালোচনা করে বলা হয়েছিল যে সমস্ত বয়সের লোকেরা এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারে, প্রতিপাদ্যটি রোগটিকে ঘিরে থাকা কিছু কালিমা মোচন করতে এবং পারিবারিক রোগ হিসাবে সমস্যাটির স্বীকৃতি বাড়াতে সহায়তা করেছিল।
১৯৯৬ সালে এইচআইভি / যৌথ জাতিসংঘের এইডস সম্পর্কিত কর্মসূচি (ইউএনএআইডিএস) চালু হয়েছিল, এবং এটি বিশ্ব এইডস দিবসের পরিকল্পনা ও প্রচারের দায়িত্ব অধিগ্রহণ করে। শুধু একটি দিনে মনোযোগ না দিয়ে, আনএইডস ১৯৯৭ সালে বছরব্যাপী যোগাযোগ, প্রতিরোধ ও শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বিশ্ব এইডস অভিযান তৈরি করেছিল। ২০০৪ সালে, বিশ্ব এইডস প্রচার, একটি স্বাধীন সংগঠনে পরিণত হয়েছিল।
২০১৬ সালে, এইচআইভি এবং এইডস সম্পর্কিত এনজিওগুলি (প্যানেজিয়া গ্লোবাল এইডস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এইডস এবং অধিকার জোট সহ) বিশ্ব এইডস দিবসটিকে বিশ্ব এইচআইভি দিবসের নামে করার জন্য একটি প্রচার কার্য শুরু করেছিল। তারা দাবি করে যে এই পরিবর্তন সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়গুলি, এবং প্রি এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস (ব্যাধির আক্রমণ হবার আগে চিকিৎসা) এর মতো চিকিৎসার অগ্রগতির ওপর জোর দেবে।
২০০৭ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, হোয়াইট হাউস ভবনের উত্তরের বারান্দায়, ২৮ foot (৮.৫ মি) লম্বা এইডস ফিতা সাজিয়ে, বিশ্ব এইডস দিবসকে চিহ্নিত করা শুরু করে।
সেই সময়, রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ. বুশ প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী হোয়াইট হাউসের সহযোগী স্টিভেন এম লেভাইন, বিশ্ব এইডস মহামারী মোকাবিলা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত পিইপিএফএআর প্রোগ্রামের প্রতীকের মাধ্যমে প্রদর্শনের প্রস্তাব করেছিলেন। হোয়াইট হাউস প্রদর্শন, যেটি এখন পরপর চারজন রাষ্ট্রপতির প্রশাসনেই একটি বার্ষিক ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, দ্রুত সম্মতি জারি করে।
এইডস এর জন্য দায়ী এইচআইভি “মানব প্রতিরক্ষা অভাবসৃষ্টিকারী ভাইরাস” । যা মানুষের দেহে রোগ-প্রতিরোধের ক্ষমতা বা প্রতিরক্ষা হ্রাস করে। এর ফলে একজন এইডস রোগী খুব সহজেই যে কোনও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যা শেষ অবধি মৃত্যুও ঘটাতে পারে।

এইচ.আই.ভি. সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই সর্বদা

এইডস হয়নাঃ

এইচ.আই.ভি. সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই সর্বদা এইডস হয়না। শুরুতে ক্ষেত্র বিশেষে ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় উপসর্গ দেখা যেতে পারে। এরপর বহুদিন কোনও উপসর্গ দেখা যায় না।
এইচ.আই.ভি. ভাইরাসের আক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র বা অনাক্রম্যতন্ত্র দুর্বল হতে থাকে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এমনকি সংক্রামক ব্যাধি বা টিউমারের শিকারও হতে পারেন, যেগুলি কেবলমাত্র সে সব লোকেরই হয়, যাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করে না। এইচ.আই.ভি. সংক্রমণের এই পর্যায়টিকেই এইডস বলা হয়।
এই পর্যায়ে প্রায়শই রোগীর অনিচ্ছাকৃতভাবে ও অত্যধিক পরিমাণে ওজন হ্রাস পায়।
এইচ আই ভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগীই কোন লক্ষণ ছাড়া এই রোগ বহন করে। তবে কখনো কখনো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ পরে কিছু অনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন জ্বর, গলা ব্যাথা, মাথা ব্যথা, ফুলে ওঠা লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি।
এই সব লক্ষণ কোনও রকম চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়, যার কারণে রোগী এই ভাইরাস সম্পর্কে অবগত হয় না। এইচ আই ভি ভাইরাস কোনও রকম লক্ষণ ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ বছর মানুষের শরীরে বাস করতে পারে।
এইচ.আই.ভি. ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে, বা তার ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা সূঁচ ব্যবহার করলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকী এইচ.আই.ভি. ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের শিশুরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গর্ভধারণের শেষ দিকে বা প্রসবের সময় হতে পারে। এইচ.আই.ভি. ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কারো সঙ্গে অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আসলে শরীরজাত অধিকাংশ তরল ক্ষরণে এইচআইভি নিঃসৃত হয়। তবে স্নেহপদার্থের আবরণ থাকায় এইচআইভি অত্যন্ত ভঙ্গুর। তাই এইচআইভি শরীরের বাইরে বেশিক্ষণ বাঁচে না। এই কারণে সরাসরি রক্ত বা যৌন নিঃসরণ শরীরে প্রবেশ না করলে এইচআইভি সংক্রমণের সম্ভাবনা খুব কম। শুধুমাত্র স্পর্শ, এক সঙ্গে খাওয়া, এমনকী একই জামাকাপড় পরা, বা মশার কামড়ে কখনও এইচআইভি ছড়ায় না। তাই এইচআইভি সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়।

জেনে রাখা ভালো-

👉এইচআইভির পুরো কথা হল হিউম্যান ইমিউনো ডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস। এই ভাইরাস সংক্রমণ ঘটায় এবং মানুষের প্রতিরক্ষাতন্তকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যদিও এইচআইভি মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হতে পারে কিন্তু এডস এমন একটি রোগ যা শুধুমাত্র এইচআইভি সংক্রমণের ফলেই অর্জিত হয়। এইডস এইচআইভি সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়।
👉এইচআইভি অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) ৩ বা ততোধিক অ্যান্টিরেট্রো ভাইরাল (এআরভি) ওষুধ দ্বারা দমন করা যেতে পারে। এআরটি এইচআইভি সংক্রমণ নিরাময় করে না কিন্তু একজন ব্যক্তির শরীরের মধ্যে ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি হওয়া বন্ধ করে এবং ব্যক্তির প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা শক্তিশালী করে।
👉বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০১৭ সালে আনুমানিক ২১.৭ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি চিকিত্সার মধ্য দিয়ে যান। তবে বিশ্বব্যাপী, ২০১৭ সালে এইচআইভি সংক্রামিত ৩৬.৯ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে মাত্র ৫৯% এআরটি নেন।

এইচআইভি আছে কি না তা নির্ধারণের উপায়ঃ

👉আপনার এইচআইভি আছে কি না তা নির্ধারণের জন্য পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে ভাল উপায়। তবে প্রাথমিক কিছু লক্ষণগুলি হল জ্বর, ঠান্ডা লাগা, র্যাশ, রাতে ঘাম হওয়া, পেশীর ব্যথা, গলা ব্যথা, ক্লান্তি, গলায় ঘা বা মুখের আলসার।
👉এইচআইভি স্ব-পরীক্ষা একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যিনি তার এইচআইভি স্ট্যাটাস জানতে চান তিনি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেন এবং ফলাফলগুলি বন্ধুস্থানীয় বিশ্বস্ত কারুর সঙ্গে আলোচনা করেন। এইচআইভি স্ব-পরীক্ষার একটি নির্দিষ্ট এইচআইভি-পজিটিভ নির্ণায়ক প্রদান করে না। এটা একটি প্রাথমিক পরীক্ষা যা পরে আরও স্বাস্থ্যপরীক্ষা প্রয়োজন কি না তা নির্ধারণ করে।
👉রোগ ব্যাধির মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সংক্রমণ রোগ হলো এইডস।এই রোগের সংক্রমণ নিয়ে অনেকের মধ্যে রয়েছে অনেক ভ্রান্ত ধারণা। তাই সচেতনতার ও রোগীর প্রতি সহমর্মিতার মধ্যে দিয়ে এই রোগের কবল থেকে মুক্ত হতে পারে বিশ্ববাসী।

পঞ্চানন মণ্ডল

(সমস্ত তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত )

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

অর্থনীতি ও গণিতের এই সম্পর্ক আপনি আগে জানতেন?

0 (0) অর্থনীতি ও গণিত গণিত এবং অর্থনীতির প্রথম সম্পর্ক স্থাপন হয় প্রাচীনকালে, যার প্রকৃতি ছিল বাণিজ্যিক (Commercial)। বণিকেরা নিত্য বাণিজ্যিক কাজে গণিতকে ব্যবহার করতে বাধ্য হতেন। পরবর্তীকালে এই সম্পর্ক আরও গভীরতর হয়, যখন ব্যাঙ্ক মালিকেরা এবং ব্যাঙ্কের পরিষেবা গ্রহনকারীরা অর্থনৈতিক হিসাবপত্র (Financial Calculation)  করতে শুরু করে। এই হিসাবপত্রে সাধারণ […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: