জেনে নিন সৌর শক্তির প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহার

Subhankar
4
(4)

বর্তমান বিশ্বে আমরা এক অতি গুরুতর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। যার জন্য আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পরবে। এটি এমন এক ধরনের সংকট যাকে দু-দশ বছরে নতুনের মতো করে দেওয়া সম্ভব নয়।

কথা হচ্ছে জ্বালানি সংকট কে নিয়ে। আরো ভালো করে বললে ভূগর্ভস্থ জ্বালানি। যা অণবীকরণ যোগ্য। আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে সমস্ত জ্বালানি সর্বদা ব্যবহার করে চলেছি এখন তা ক্রমশই অন্তিম লগ্নে এসে পৌঁছাচ্ছে।

এটি এমন এক ধরনের সমস্যা যাকে আমরা নিজে থেকে প্রথমের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে কখনোই পারবো না। কারণ এই জ্বালানি তৈরি হয়েছে বহু লক্ষ কোটি বছর ধরে। আমাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয় তাকে পুনর্নবীকরণ করা।

তবে আমাদের উপায় কি? ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কি আমাদের জন্য শেষ হয়ে

যেতে হবে? কিংবা পরতে হবে বড় সমস্যার মুখে?

এ হতে দেওয়া চলে না! সেই কারণেই আমাদের প্রয়োজন এমন এক জ্বালানি যা বর্তমানে ব্যবহার করলেও ভবিষ্যতের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। সেই জ্বালানির অন্যতম উদাহরণ আমাদের সৌরশক্তির জ্বালানি।

বহু বছর ধরে সূর্যের থেকে এসে পৌঁছানো তাপকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় মানুষ তা ভাবছিল। একসময় তারা সৌরশক্তি কে কাজে লাগাতে সফল হল। তৈরি করল সৌরকোষ। যার মধ্যে সূর্য থেকে আসা আলো এবং তাপ অর্থাৎ ফোটন কণা কে সংগ্রহ করে তার থেকে জ্বালানি শক্তি উৎপন্ন হল।

সৌরকোষ তৈরি হওয়ার পূর্বে সূর্যের আলোকে কাজে লাগানো হতো লেন্সের মাধ্যমে। বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরানোর কাজে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হতো।

সূর্যের আলোকে একটি লেন্সের মধ্যে দিয়ে কোন শুকনো পাতার উপরে ফেললে কিছুক্ষণের মধ্যেই তা থেকে আগুন জ্বলে উঠতো। প্রথম দিকে এই ভাবেই সৌরশক্তি ব্যবহৃত হতো।

পরবর্তীতে সৌরকোষ তৈরি হবার পরে বিভিন্ন ভাবে তাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রথম সৌরকোষ তৈরি হয় ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দ, চার্লিস ফ্রিস্ট এর দ্বারা। এটি তখন তৈরি হয়েছিল কপার অক্সাইড দ্বারা। কিন্তু এটি খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যেত। তাই পরবর্তীতে ধীরে ধীরে একে আরো উন্নতি ঘটিয়ে বর্তমানে তা সিলিকন দ্বারা তৈরি হয়। সিলিকন দ্বারা তৈরি কোষগুলি বহু বছর অক্ষয় অবস্থায় থাকে।

এগুলি অনেকটা পূর্বের মতই লেন্স এর কার্যকারিতা ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ একটি বড় লেন্স এর মত তৈরি করে তার মধ্যে সূর্যরশ্মি কে একত্রিত করে একটি রশ্মি তে পরিণত করে তার শক্তি সঞ্চয় করা হয়।

এরপর এর থেকে তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ কে ব্যবহারের সুবিধা মত পরিচালনা করে নেওয়া হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ি ঘর গুলিতে সৌরকোষ ব্যবহার করে তাদের ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

সৌরকোষের দ্বারা উৎপাদিত বিদ্যুৎ খুব বেশিক্ষন ধরে রাখা যেত না, তৎক্ষণাৎ ব্যবহার করে ফেলতে হতো।

এই সমস্যার জন্য বিজ্ঞানীরা এই শক্তিকে ধরে রাখতে বানিয়ে ফেললেন এক ক্যাপাসিটার বা বিশেষ ধরনের ব্যাটারি। এই ব্যাটারীতে দিনের বেলায় সৌরশক্তি সঞ্চিত হয়, পরে রাতেও তাকে কাজে লাগানো সম্ভব হয়।

বাড়িঘরের বিদ্যুৎ শক্তির চাহিদা সৌরশক্তির দ্বারা পূরণ হবার ফলে, সাধারণ বিদ্যুৎ শক্তি যা কয়লা থেকে পাওয়া যায় তার দরকার পরেনা। এর ফলে ভূগর্ভস্থ জ্বালানি বেঁচে যায়।

এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন কৃষিজ ফসল ফলানোর জন্য কৃত্রিম ঘর তৈরি করা হচ্ছে। এই কৃত্রিম ঘরে উদ্ভিদকে সেই সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়া হচ্ছে যেগুলো একটি উদ্ভিদের বেড়ে ওঠার জন্য দরকার।

এই ক্ষেত্রেও সৌরশক্তি ব্যবহার হচ্ছে। কারণ সৌরশক্তি ছাড়া উদ্ভিদের নিজস্ব খাদ্য তৈরি করার মূল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে না। তাই ওই ঘরের মধ্যে সৌরকোষ লাগিয়ে তার মাধ্যমে তাপ এবং আলো উদ্ভিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

মহাকাশে পাঠানো অধিকাংশ ‘স্যাটেলাইট’ সূর্যের আলো থেকে শক্তি সংগ্রহ করে নিজেদের যান্ত্রিক কাজ কর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। কারণ মহাকাশে অত পরিমাণ জ্বালানি একসঙ্গে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অথচ জ্বালানি ছাড়া যন্ত্রাংশ কাজ করবেনা, তাই এক্ষেত্রেও সৌরশক্তিকে কাজে লাগানো।

বিভিন্ন জায়গায় ভূগর্ভস্থ জল কে মাটি থেকে তুলে আনার পরে এই সৌরশক্তির মাধ্যমে তাকে ফিল্টার করা হয়।

এ রকমই বহু কাজে সৌর শক্তির ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে।

পৃথিবীর অতলে সঞ্চিত ভূগর্ভস্থ জ্বালানি যখন শেষের পথে তখন এই শক্তি এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। এটি অক্ষত অবস্থায় থাকে বহু বছর। শুধু সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে যদি এর ব্যবহার বহু পরিমাণ বাড়িয়ে তোলা যায় তবে ভবিষ্যতে জ্বালানির আর কোনো সংশয় থাকবেনা। পৃথিবীর থেকে এক বড় সমস্যার নিস্পত্তি ঘটবে।

-সৌরদীপ কর্মকার

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4 / 5. Vote count: 4

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

ডপলার প্রভাব ( Doppler Effect)

4 (4) ডপলার প্রভাব *********************** আপনারা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন একটা অ্যাম্বুল্যান্স যখন আমাদের পাশ দিয়ে চলে যায় তখন তার সাইরেনের শব্দটা আমরা জোরে শুনি আবার যখন অ্যাম্বুল্যান্সটা দূরে যেতে থাকে তখন শব্দটা আস্তে আস্তে দূরে হারিয়ে যেতে থাকে। যদি অ্যাম্বুল্যান্সটা দাঁড়িয়ে থাকে আর আপনি দূরে চলে যেতে থাকেন তাহলেও কিন্তু […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: