অন্ধ্রপ্রদেশে নতুন এক অজানা রোগ

@@
5
(2)

একা রামে রক্ষা নেই সুগ্রীব দোসর! এক করোনাতেই কাবু সমগ্র পৃথিবী এবার তার দোসর হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে এসেছে নতুন এক রোগ। গোদের উপর এই বিষফোঁড়াকে এখনো চিনতে পারেনি চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা, ডাক্তারবাবুরাও বিভ্রান্ত। এই অজানা রগের আতঙ্ক ছড়িয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের এলুরু শহর জুড়ে। গত 5ই ডিসেম্বর থেকে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। রোগের উপসর্গ বলতে, রোগীদের মাথা ঘুরছে এবং মুখ থেকে ফেনা উঠছে।

প্রাথমিক ভাবে প্রায় 300 জন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ছিলো,তার মধ্যে 140জনের অবস্থা স্হিতিশীল হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আস্তে আস্তে রোগের সম্পূর্ণ উপসর্গ বোঝা যাচ্ছে গা গোলানো অর্থাৎ ধারাবাহিক ভাবে বমি বমি ভাব, খিঁচুনি সংজ্ঞা হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। রোগীদের করোনা পরীক্ষাও করা হয়েছে সেই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে, সেরিব্রো স্পাইনাল ফ্লুইড-এর পরীক্ষা এবং সিটি স্ক্যান করেও কোনো কিছুই পাওয়া যায় নি।

আর এতেই চিন্তা বেড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার এবং ভারত সরকারেরই, স্বাস্থ্য দপ্তর নড়েচড়ে বসেছেন। উক্ত এলাকার পানীয় জল পরীক্ষা করা হয়েছে সেখানেই কিছু পাওয়া যায়নি। ই.কোলাই এবং ওই এলাকায় খাওয়া দুধেরও পরীক্ষা করা হচ্ছে। হয়তো কালচার টেস্ট-এর রিপোর্ট আসলেই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হবে, যে এত গুলো মানুষের কি হয়েছে!

তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান খুব সম্ভবত ক্লোরিন জাতীয় কোনো যৌগের কারণেই এই অজানা রোগের উৎপত্তি। কারণ অর্গানোক্লোরিন জাতীয় কোনো যৌগ শরীরে প্রবেশ করলে এই রকম স্নায়ু রোগ,বমি পাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। এর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রুত গতিতে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা 500-এর কিছু বেশি।

তাদের মধ্যে প্রায় 292 জন সুস্থ হয়ে ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু চিন্তা বাড়াচ্ছে 46 বছর বয়সী এক পৌঢ়ের মৃত্যু, তার মৃত্যুর কারণ এই অজানা রোগ। সেই সঙ্গে আরেকটি বিষয়ে হলো অজানা এই রোগে এখনো পর্যন্ত 45 জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে যাদের বয়স 12 বছরের নীচে।

সেক্ষেত্রে বোঝাই যাচ্ছে বাচ্চাদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশ ভালোই। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে সব বয়সী এবং সব লিঙ্গের মানুষই এতে আক্রান্ত হচ্ছে। যার ফলে ভাইরাসের আক্রমণের নির্দিষ্ট কোনো প্যাটার্ন পাওয়া যাচ্ছো। তবে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই রোগ মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ছাড়ায় না এবং এই যে এতো মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, কেউই এই রোগে অন্য কোনো আক্রান্ত মারা দ্বারা সংক্রমিত হননি। এটাই যা রক্ষার !

এই অজানা রোগের প্রকোপ দেখা দিতেই এইমস, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল টেকনোলজি ও সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি থেকে প্রতিনিধি দল এলুরু গিয়ে পৌঁছয়। তারা আক্রান্ত মানুষদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন পরীক্ষার জন্যে, আর তাতেই ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে আসছে।

অজানা এই রোগে আক্রান্ত মানুষদের রক্তে প্রচুর পরিমানে সীসা ও নিকেল পাওয়া যাচ্ছে । অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন সম্পূর্ণ বিষয়ের তদন্ত করা হচ্ছে, কোথা থেকে ? কিভাবে সীসা নিকেল মানুষের শরীরের এলো তার অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে উপযুক্ত এবং সম্ভাব্য সমস্ত রকম চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

হাসপাতাল গুলিতে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশে ভারতীয় রাজ্য গুলির মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক প্রায় আট লক্ষের কিছু বেশি, এই  এই সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্যে। এই সব কিছুর মধ্যে ইতিবাচক যে, এই অজানা রোগ মানুষ দ্বারা সংক্রমিত হয়তো এবং এর মৃত্যুহার খুবই কম; প্রায় নেই বললেই চলে। এর সুস্থতার হারও অতন্ত্য বেশি প্রায় 60 শতাংশ মানুষ ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন যা যথেষ্ট আশা ব্যাঞ্জক।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 2

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চা

5 (2) মাতৃভাষায়_বিজ্ঞান_চর্চা এ কথা আজ সবার জানা যে একটি দেশের বা জাতির ভাষা যত বেশি সমৃদ্ধ সে দেশ বা জাতি বিজ্ঞান চর্চায়, সাহিত্যে ও শিল্পকলায় তত বেশি উন্নত। নিজস্ব ভাষায় একটি চিন্তা বা বক্তব্যকে যত সহজে ব্যক্ত ও হৃদয়ঙ্গম করা যায়, হাজার পারদর্শী হলেও বিদেশী ভাষায় তত সহজে তা’ […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: