সাবু বা সাগু (Sago)

@@
5
(1)
জ্বর হলেই হাল্কা পথ্য হিসাবে এখন ও অনেকে সাবু বা সাগু জলে ভিজিয়ে খাই। কিন্তু জানা আছে কি এই সাবু বা সাগু কি?
ছবির এগুলি সাবু গাছ।( Metroxylon sagu.)বিশাল উঁচু।
শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট কিড-এর নিজের হাতে পোঁতা এই গাছগুলি।
রবার্ট-কিড
রবার্ট কিড
সাবু গাছ নাকি ৭০০ বছরও বাঁচতে পারে। তাই যদি হয়, তাহলে এরা তো ছেলেমানুষ, মাত্র ২৩০ বছর হয়েছে। কিড সাহেব বাগান বসিয়েছিলেন ১৭৮৭ সালে।
এই বাগান যখন গড়ে ওঠে, এদেশে তখন কৃষি বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রকৃতিনির্ভর ছিল। অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি মাঝে মাঝেই ফসলের ভয়ঙ্কর ক্ষতি করতো, আর তার পরেই আসতো অনাহার, দুর্ভিক্ষ, মৃত্যু।
বছর বছর এই দৃশ্য দেখে কিড সাহেব ব্যাথা পেতেন। বিকল্প খাদ্যের সংস্থান করতে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে কিছুটা জমি চেয়ে নেন।
গঙ্গার পলিতে নবগঠিত সেই ভূভাগ যে কোনো চাষের পক্ষেই ছিল অনুকূল। তবু কিড সাহেব খরাপ্রবণ অঞ্চলের গাছপালাই বেছে নিয়েছিলেন যেগুলি দীর্ঘ বৃষ্টিহীন অবস্থা সামাল দিতে পারে। সাবুর গাছ তেমনি একটি বৃক্ষ।
প্রকৃত পাম বলতে এই সাবুর গাছকেই বোঝায়। এরা এরিকাসি(Arecaceae) পরিবারের সদস্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ায় প্রচুর পাম গাছের চাষ হয়।
সাবু গাছের মোটামুটি তিনটি প্রজাতি প্রধান:
মেট্রোক্সিলোন সাগু (ছবিতে যে গাছটি দেখছেন )(Metroxylon sagu ),
Cycas Revoluta বা King Sago বা Sago plam এবং
Cycas Rumphii বা Queen Sago.
সাবু গাছের ছড়িয়ে পড়া পাতার কেন্দ্রে সাবুর কোন হয়। সে কোন সম্পূর্ণ পেকে গেলে গাছ মরে যায়। তাই কোন হওয়ার আগেই আগা কেটে কান্ড চিরে ফ্লোয়েম কলার সিভনলের নির্যাস বের করে নেওয়া হয়। তা জল দিয়ে ফুটালে আঠালো লেই বেরিয়ে আসে।
বাজারে আমরা যে মুক্তোর দানার মতো সাবু কিনি তা ওই লেই থেকে তৈরি করা হয়। সেই পদ্ধতিকে বলা হয় জিলেটিনাইজেশন (gelatinization)।
সাবু হলো স্টার্চে ভরপুর একটি খাদ্য। কিন্তু স্টার্চ সহজপাচ্য নয়। কারণ স্টার্চ-এর অণুগুলি অত্যন্ত জটিল বন্ধনীতে বাঁধা থাকে, যা আমাদের পাচনতন্ত্র হজম করতে পারে না।
জিলেটিনাইজেশন সেই বন্ধনী শিথিল করে সাবুকে সহজপাচ্য করে তোলে। এ এক রাসায়নিক পদ্ধতি, এর বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া হয় না।
শুকনো অবস্থার তুলনায় অঙ্কুরিত ছোলা মটর যেমন সহজপাচ্য, সাবুও তেমনি।
বাজারের সাবু আমরা জলে ভিজিয়ে খাই। রোগীকে দেওয়ার সময় সাবু জল বা দুধ দিয়ে ফোটানো হয়। তাতে হাইড্রোজেন বন্ডের শূন্যস্থানে জল প্রবেশ করে সাবুকে আরও সহজপাচ্য করে তোলে।
কিড সাহেব অনাহারী মানুষের জন্য ভাতের বিকল্প হিসেবে সাবুর প্রচলন করার চেষ্টা করেছিলেন।
হারাপ্পা সভ্যতার মানুষ ওট, বার্লি খেত। কিড সাহেব তারও চেষ্টা করে গেছেন। আমরা শিখে উঠতে পারিনি। আজ এত দিন পর আমরা ওট খাওয়া ধরেছি।
সেসব কথা থাক!
ওই রাজা, রানী সাইকাসের কথা বলি। ওদের রস থেকেও সাবু তৈরি করা যায়। কিন্তু কিছু কিছু সাইকাস আছে যা বিষাক্ত। কাজেই, ভুল হলে বিপদ।

পঞ্চানন মণ্ডল

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

অন্ধ্রপ্রদেশে নতুন এক অজানা রোগ

5 (1) একা রামে রক্ষা নেই সুগ্রীব দোসর! এক করোনাতেই কাবু সমগ্র পৃথিবী এবার তার দোসর হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে এসেছে নতুন এক রোগ। গোদের উপর এই বিষফোঁড়াকে এখনো চিনতে পারেনি চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা, ডাক্তারবাবুরাও বিভ্রান্ত। এই অজানা রগের আতঙ্ক ছড়িয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের এলুরু শহর জুড়ে। গত 5ই ডিসেম্বর থেকে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। […]
আন্ধ্রাপ্রদেশ
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: