ক্ষুধাসূচকে ভারতবর্ষ বনাম উৎপাদন

Subhankar
5
(3)

“ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়। পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।”

সভ্যতার আদিকাল থেকে মানুষকে খাদ্য, বস্ত্র, আর মাথা গোঁজার ঠাঁই এর জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই সংগ্রামে আগে সফল হওয়া প্রয়োজন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। কিন্তু জীবনে বেঁচে থাকার জৈব প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য খাদ্য সংগ্রহের তাড়নায় যে জীবন পর্যুদস্ত, তার কাছে পূর্ণিমার চাঁদ কোনো সুন্দর স্বপ্নকে বহন করে আনে না। নিয়ে আসে শুধু ক্ষুধার জ্বালা মেটানোর বহু কাঙ্ক্ষিত ঝলসানো রুটির স্বপ্ন।

বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারত বিশ্বের ১০৭টি দেশের মধ্যে ৯৪ নম্বরে। তালিকায় ভারতের আগে রয়েছে নেপাল (৭৩), পাকিস্তান (৮৮), বাংলাদেশ (৭৫), ইন্দোনেশিয়ার (৭০) মতো দেশ। ১০৭টি দেশের মধ্যে রোয়ান্ডা, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, লাইবেরিয়া, মোজাম্বিক, চাদের মতো অনুন্নত দেশের আগে রয়েছে ভারত। কিন্তু তার চেয়েও খারাপ খবর, ভারতের পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে।

GHI (Global Hunger Index) রিপোর্ট

তালিকার শীর্ষে রয়েছে বেলারুশ, ইউক্রেইন, তুরস্ক, কিউবা, এবং কুয়েত সহ ১৭টি দেশ, যাদের প্রত্যেকেরই GHI স্কোর পাঁচের কম। সারা পৃথিবীতে ক্ষুধা এবং অপুষ্টির খতিয়ান রাখে এই GHI রিপোর্ট। এই রিপোর্টটি যৌথভাবে প্রস্তুত করেছেন আইরিশ ত্রাণদায়ী সংগঠন ‘কন্সার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ এবং জার্মান সংস্থা ‘ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফা’, যাদের মতে ভারতে ক্ষুধার মাত্রা বর্তমানে ‘গুরুতর’। ভারতের জনসংখ্যা বিপুল, শিশুর ওজনের হারও অনেকটাই কম। মোটামুটি ৪টি মাপকাঠির ওপরে ভিত্তি করেই তৈরি হয় ক্ষুধা সূচক। এগুলি হল

১. অপুষ্টি।

২. পাঁচ বছরের কম শিশুর উচ্চতার তুলনায় ওজন।

৩. বয়স অনুযায়ী শিশুদের কম ওজন।

৪. পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুমৃত্যুর হার।

সরকারী তথ্য

সরকারী তথ্য বলছে ২০১৯-২০ বর্ষে ভারতের মাটিতে ৫,৯৯০ লক্ষ টন ফল উৎপন্ন হয়েছে এবং ১০,১২০ লক্ষ টন শাক-সব্জি উৎপন্ন হয়েছে। গম, ধান উৎপাদনে ভারতবর্ষে পৃথিবীর মধ্যে প্রথম আবার সরিষা তৈলবীজ সহ দুগ্ধজাত পণ্য তৈরিতে ভারতবর্ষের স্হান দ্বিতীয়। হিসেব করলে দেখা যাবে ১৩৫ কোটির দেশে প্রতি মাসে ফল ও শাক সবজি মাথা পিছু বরাদ্দ করা যাবে ১০০ কিলো। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মাসে খুব বেশি হলে ২০ কিলো ফল, শাক সবজি লাগে। তাহলে আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় ৫ গুণ খাবার উৎপন্ন হয়। তাও, ভারতবর্ষ ক্ষুধা সুচকে ৯৪তম স্থানে। তাও, এদেশে রোজ কত কত শিশু অপুষ্টিতে মারা যায়। তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে ভারতবর্ষে অপুষ্টি সহ অন্যান্য কারণে ৮লক্ষ ৪০হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জন্মের প্রথম এক হাজার দিন পর্যাপ্ত পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই

কিন্তু তার পরও ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েই চলেছে, বা বেঁচে থাকলেও তাদের পূর্ণ কর্মক্ষম মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
উল্টোভাবে, ক্ষুধার সঙ্গে সঙ্গে মুটিয়ে যাওয়ার হারও বেড়ে যাচ্ছে। দুনিয়ার ১.৫ বিলিয়ন মানুষের ওজন বেশি, এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মোটা হিসেবে বিবেচিত। এসব মানুষ আবার হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
ওজন বেড়ে যাওয়া আসলে শুধু বেশি খাওয়ার জন্য হয় তা নয়, সাধারণভাবে যা ধারণা করা হয়। আসলে এর কারণ হচ্ছে, বৈচিত্র্য ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের ঘাটতি। ফলে, দুনিয়ার সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, সঠিক খাবার যথাযথ পরিমাণে প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

এমন একটি খাদ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা দরকার, যেটা জনগণের প্রকৃত চাহিদা মেটাতে পারে।

বিশেষ করে যারা সামাজিকভাবে নিগৃহীত ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক অবস্থায় আছে, তাদের জন্য এ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা দরকার। সাধারণত মহিলা, শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা অপুষ্টির শিকার হন। ফলে তাদের জীবনের খাদ্য অনিরাপত্তা ও অপুষ্টি রোধে বিশেষ নজর দিতে হবে।
আজকের প্রচেষ্টায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে উপকৃত হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আবার বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থা উন্নততর করতে হলে আমাদের অবশ্যই পরিবেশগতভাবে টেকসই ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে।

তথ্যসুত্র ঃ Wikipedia

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 3

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

ইলেকট্রনের আবিস্কারক জে জে থমসন

5 (3)         ইলেকট্রন যে একটি উপ-পারমাণবিক কণিকা (sub-atomic particle) তা সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী জে. জে. থমসন ( Joseph John Thomson) ১৮৯৭ সালে আবিষ্কার করেন। ১৮ই ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাভেন্ডিশ গবেষণাগারে ক্যাথোড রশ্মি নল নিয়ে গবেষণা করার সময় তিনি তিনি ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন। ক্যাথোড রশ্মি নল হল […]
j j thomson
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: