অ্যানাটমির খুঁটিনাটি

Subhankar
4.4
(7)

অ্যানাটমির খুঁটিনাটি

অ্যানাটমি (ইংরেজি: Anatomy)  নামটার সঙ্গে সকলেই প্রায় পরিচিত। বিশেষত চিকিৎসাক্ষেত্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত অন্তত কেউই এই নামটি শোনেননি এরকম বলতে পারবেন না। ডাক্তার কিংবা ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট এদের সকলকেই শুরুটা করতে হয় এই অ্যানাটমি দিয়েই। অর্থাৎ বলা যেতেই পারে যে এই অ্যানাটমি হল চিকিৎসার ভিত্তি প্রস্তর।

কি এই অ্যানাটমি?

এই অ্যানাটমি হল প্রানীদের (এক্ষেত্রে মানুষের) শরীরের বিভিন্ন হাঁড়‌ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সম্বন্ধে ধারণা এবং তাদের নিজেদের মধ্যে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন বিষয়ক আলোচনা।
‘অ্যানাটমি’ কথাটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘অ্যানা‘ যার অর্থ ‘উপর’ এবং ‘টমোস‘ যার অর্থ ‘কাটা’। তাহলে শব্দটির পূর্ণ অর্থ হল ‘উপর থেকে কাটা’। এটিই হলো অ্যানাটমি করার পদ্ধতি। দেহকে উলম্বভাবে ভাগ করা। এটি ম্যাক্রোস্কোপিক এবং মাইক্রোস্কোপিক দু ধরনের হয়ে থাকে। যে অঞ্চলগুলি আমরা খালি চোখে দেখতে পাই তাকে ম্যাক্রোস্কোপিক বলে। যেগুলি দেখতে আমাদের অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয় তাদের মাইক্রোস্কোপিক বলা হয়ে থাকে। মনে করা হয়ে থাকে প্রাচীনকালে প্রথম গ্রিক-এ অ্যানাটমি সম্পর্কে চর্চা শুরু হয়। যদিও প্রাচীন মিশরের বিভিন্ন লিপিতে মানুষের দেহের প্রস্থচ্ছেদ এর চিত্র পাওয়া যায়। এর থেকে বোঝা যায় তারাও এক সময় অ্যানাটমি সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিল। এবার অ্যানাটমি সম্বন্ধে একটু জেনে নেওয়া যাক।

অ্যানাটমিকাল পজিশন

১) দেহ সোজাসুজি থাকবে।

২) মস্তক, চোখ, পায়ের বুড়ো আঙ্গুল সামনের দিকে থাকবে।

৩) দেহের দুই পাশে টানটান করে হাত দুটি থাকবে।

৪) হাতের তালু সামনের দিকে মুখ করে থাকবে।

অ্যানাটমি করার জন্য দেহকে যে ভাবে বিভক্ত করে তার ভাগগুলো দেখা যাক

১) মিডিয়ান স্যাজাইট্যাল তল – দেহকে ডান এবং বাম এই দুই ভাগে ভাগ করলে সেটিকে মিডিয়ান স্যাজাইট্যাল তল বলে। এক্ষেত্রে দেহ দুই দিকে সমানভাবে বিভক্ত হয়। যদি দেহটি সমানভাবে বিভক্ত না হয় কিন্তু ডান এবং বাম দুই ভাগেই বিভক্ত হয় তবে তাকে প্যারা স্যাজাইট্যাল তল বলে।

২) করনাল তল – দেহকে সামনে এবং পেছনের দুটি খণ্ডে যে তল বরাবর বিভক্ত করা হয় তাকে করনাল তল বলে।

৩) আড়াআড়ি তল – দেহকে উপর এবং নিচের খণ্ডে আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত করলে তাকে আড়াআড়ি তল বলে ।

কঙ্কালতন্ত্র

অ্যানাটমির শুরুটাই হয় কঙ্কালতন্ত্র দিয়ে। যেটি হল আমাদের দেহের গঠন এবং রক্ষণমূলক মূল কাঠামো। কঙ্কালতন্ত্র দু’ভাগে বিভক্ত। এগুলি হল যথাক্রমে- অ্যাক্সিয়াল স্কেলিটনঅ্যাপ্যেন্ডিক্যুলার স্কেলিটন। এই অ্যাক্সিয়াল স্কেলিটন আবার গঠিত হয়েছে ৮০টি হাঁড় নিয়ে এবং অ্যাপ্যেন্ডিক্যুলার স্কেলিটন গঠিত হয়েছে ১২৬ টি হাঁড় নিয়ে। হাঁড়গুলির চারিত্রিক গঠন অনুসারে আবার মোটামুটি ৭ ভাগে বিভক্ত।

এগুলি হল যথাক্রমে-
১)লঙ বোন, যেটি আবার ২ ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হল লঙ-লঙ বোন এবং শর্ট-লঙ বোন।
২)শর্ট বোন, ৩)ফ্ল্যাট বোন, ৪)ইরেগুলার বোন, ৫)নিউম্যাটিক বোন, ৬)সিসাময়েড বোন, ৭)অ্যাক্সেসরি বোন।

দেহের সমস্ত হাঁড় সম্বন্ধে জানার পর যেটি জানার অন্যতম মূল বিষয় সেটি হল বিভিন্ন জয়েন্ট গুলি।

জয়েন্ট গুলি মূলত চার প্রকার হয়ে থাকে। প্রথমটি হলো ফাইব্রোস জয়েন্ট, কার্টিলেজিনিয়াস জয়েন্ট, সাইনোভিয়াল জয়েন্ট ( যেটি আবার ৬ টি ভাগে বিভক্ত ) এবং ফ্যাসেট জয়েন্ট।
প্রসঙ্গত এই সাইনোভিয়াল জয়েন্ট এর ভাগগুলি হল- প্লেন জয়েন্ট, বল এবং সকেট জয়েন্ট, হিণ্জ জয়েন্ট, পিভট জয়েন্ট, কন্ডাইলয়েড জয়েন্ট, স্যাডেল জয়েন্ট।
এরপরে এই বিভিন্ন জয়েন্টগুলি আরো নানারকম ভাগ রয়েছে এবং তাদের সকলের গতি প্রকৃতি আলাদা-আলাদা ধরনের।
এ রকমই বিভিন্ন হাঁড় ও দেহের বাকি অঙ্গগুলির মধ্যে সমস্ত রকম সম্পর্ক অ্যানাটমির মাধ্যমে জানা যায়।

অ্যানাটমির ব্যবহার

যে সকল ক্ষেত্রে অ্যানাটমির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় তা হল বিভিন্ন রকম এক্স-রে,এম আর আই, সিটি স্ক্যান, ফিজিওথেরাপি প্রভৃতি। এই সকল বিষয়গুলি যারা করিয়ে থাকেন তাদের প্রথমেই এই অ্যানাটমি সম্পর্কে ধারণা থাকতেই হবে। অ্যানাটমি ছাড়া তারা তাদের কাজ করতে পারবে না। কারণ দেহের যে কোন জায়গায় পরীক্ষা করতে গেলে সেই স্থানের অ্যানাটমি জানা দরকার।

আবার এই অ্যানাটমি সম্বন্ধে আলাদাভাবে পড়াশোনা করা হয়। অ্যানাটমি সম্বন্ধে পড়াশোনা করার যে বিষয়টি তার নাম হলো ‘জু-টমি‘। যদিও এখানে খালি মানুষই নয়, মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন প্রাণীদের অ্যানাটমি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এটি প্রাণীবিদ্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখাও বটে। অন্তত নিজের দেহকে জানতে সকলেরই একবার হলেও অ্যানাটমি জেনে নিতে পারেন। নিজেকেই নিজের জানার এক অন্য আনন্দ উপভোগ করা যায়।

-সৌরদীপ কর্মকার

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.4 / 5. Vote count: 7

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

অরুণাচল প্রদেশের দিবাং ভ্যালি জল বিদ্যুত প্রকল্প ও পরিবেশ বিপর্যয়

4.4 (7) পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত ধরে নিত্য নতুন ভাইরাসের মারণ কামড়, সাইক্লোন -টর্নেডো- হ্যারিকেন এর মত দানবীয় ঝড়-ঝঞ্ঝার সংখ্যা, ব্যাপ্তি  ও বিধ্বংসী ক্ষমতা বেড়েই চলেছে ক্রমাগত। এখন সকলের কাছে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হচ্ছে যে , নিজেদের বাঁচাতে, পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচাতে, এই নীল গ্রহে মানুষ সহ তামাম জীব-বৈচিত্র্য কে টিকিয়ে […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: