IUCN

@@
5
(1)

IUCN ( International Union for Conservation of Nature ) : এটি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা জীবের সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র রক্ষার কাজ করে। যার কথা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস।

বিপন্ন প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় এর অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। কোন কোন প্রজাতি বিপন্ন কোন কোন প্রজাতি অবলুপ্তির পথে রয়েছে, সেই সম্পর্কে আমাদের জানতে সাহায্য করে এই IUCN।

1948 সালের 5ই অক্টোবর; ফ্রান্স-এ IUCN প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর গ্লান্ড, সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত এবং এর সদস্য সংখ্যা বর্তমনে 1400। অর্থাৎ সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় 1400টি সংস্থা IUCN এর অন্তর্ভুক্ত। সর্বমোট 1600 জন বিজ্ঞানী সমগ্র পৃথিবী ব্যাপী,এর হয়ে কাজ করছেন। প্রায় 50 টি দেশে IUCN- এর 1000জন পূর্ণ সময়ের স্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন।

এরাই তিনটি বই প্রকাশ করে এই প্রজাতির সংকট সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার জন্যে, সেগুলি হলো যথাক্রমে রেড ডাটা বুক, গ্রীন ডাটা বুক এবং ব্লু ডাটা বুক।

IUCN কর্তৃপক্ষ তিন ধরণের প্রজাতির কথা বলেছে, যাঁরা সংরক্ষণের দাবিদার ; যথা- দুর্লভ সংকটাপন্ন প্রজাতি, কি স্টোন প্রজাতি অর্থাৎ যে সব জীব প্রজাতি লুপ্ত হলে অন্য প্রজাতিরও অবলুপ্ত হওয়ার সম্ভবনা থেকে যায় যেমন সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি।

রেড ডাটা বুক:

IUCN দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সারভাইভাল সার্ভিস কমিশনের উদ্যোগে রচিত বিপন্ন এবং অবলুপ্ত ও প্রাণীদের তথ্য সংবলিত বই-কে বলা হয় রেড ডাটা বুক। যা 1963 সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

এই বই তে প্রতি বছর নতুন তথ্য সংযুক্ত করা হয় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের বিপন্ন প্রজাতির নাম,অবস্থান, বিপন্ন হওয়ার কারণ ইত্যাদি ব্যাখ্যা করা হয়। সেই সঙ্গে উক্ত প্রজাতির সংরক্ষণ করার উপায়ও বর্ণনা করা হয়।

1966 সালে রেড ডাটা বুকে প্রায় 277টি স্তন্যপায়ী, 321টি পক্ষী প্রজাতিকে বিপদগ্রস্থের তালিকা ভুক্ত করা হয়েছিলো।

ডলফিন,

এশিয়ান লায়ন,

এশিয়ান এলিফ্যান্ট,

ভারতীয় বুনো গাধা এই বইতে বিপদগ্রস্থ বলে চিহ্নিত হয়েছিলো।

পাখি,সরীসৃপ, পতঙ্গ এবং স্তন্যপায়ী মিলে প্রায় 55টি ভারতীয় প্রজাতিও এর মধ্যে ছিল।

এই বইতে নটি শ্রেণীর প্রজাতির উল্লেখ রয়েছে। যথা:

iucn

1. অবলুপ্ত (extinct Ex) : এই তালিকা ভুক্ত প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রাকৃতিক বা বন্য পরিবেশে সম্পূর্ণ অবলুপ্ত। যেমন ডোডো পাখি, গোলাপি মাথা হাঁস ইত্যাদি।

2.বন্য পরিবেশে অবলুপ্ত (extinct in the wild EW) : এই সব প্রজাতির জীবেরা স্বাভাবিক বা বন্য পরিবেশে লুপ্ত হয়ে গিয়েছে কিন্তু সংরক্ষণের সাপেক্ষ জুলজিক্যাল গার্ডেন, অভয়ারণ্য, ন্যাশনাল পার্ক ইত্যাদি জায়গায় কৃত্রিম পরিবেশে এখ এদের পাওয়া যায়। যেমন : হাওয়াইয়ান দাঁড়কাক।

3. চরমভাবে বিপন্ন (Critically endangeered CR) : যে সব প্রজাতির অস্তিত্ব বিপন্ন তাদের এই তালিকা ভুক্ত করা হয়। আগামী তিন প্রজন্মের মধ্যে এই সব প্রজাতির চল্লিশ শতাংশ সদস্যর বিপন্ন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। উদাহরণ : পিগমি শামুক।

4.বিপন্ন (Endangered EN) : এই সব প্রজাতির অদূর ভবিষ্যতে অবলুপ্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে এবং এদের দ্রুত সংরক্ষণ প্রয়োজন। উদাহরণ: রেড পান্ডা।

5.সংকটাপন্ন ( Vulnerable Vu) : যে সকল প্রজাতি যথেষ্ট সংখ্যায় থাকলেও, পরিবর্তনশীল প্রতিকূল পরিবেশে এদের লুপ্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। উদাহরণ: ব্ল্যাক বাক।

6. প্রায় বিপদগ্রস্থ (Near থ্রেআতেনেদ NT): এই সব প্রজাতির বর্তমানে লুপ্ত হওয়ার কোনো রূপ আশংকা না থাকলেও আগামীতে বিপন্ন হওয়ার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। উদাহরণ : জাগুয়ার।

7. কম বিপদগ্রস্থ (Least Concernd LC) : এই সব জীবের সংরক্ষণ নিয়ে বর্তমানে কোনো রকম চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। উদাহরণ: মানুষ।

8. তথ্য অসম্পূর্ণ (Data deficient DD) : যে সকল জীবের বর্ণনা এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য অসম্পূর্ণ হওয়ায়; প্রজাতির সংরক্ষণ নিয়ে বা অবলুপ্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য করা যায় নি। যেমন: পেঁচা।

9. মূল্যায়নহীন (Not Evaluated NE) : সে সকল জীব সম্পর্কে কোনো মুল্যায়ন করা হয়নি। যেমন: 5913টি প্রাণী প্রজাতি, 780টি উদ্ভিদ প্রজাতি ইত্যাদি।

রেড ডাটা বুকের গুরুত্ব :

রেড-ডাটা-বুক

রেড ডাটা বুকের মাধ্যমে বিপন্ন ও বিপদগ্রস্থ প্রজাতির শনাক্তকরণ,বিবরণ এবং সংরক্ষণের উপায় সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট করা যায়। পরিবেশের জীববৈচিত্র সম্পর্কে জানা যায় এবং অবলুপ্ত প্রজাতি ও তাদের অবলুপ্তির কারণ সম্পর্কে জানা যায়। জীব বৈচিত্রের সংরক্ষণ নিয়ে এই বইতে আলোচনা করা হয় যা সংরক্ষণকেই অগ্রাধিকার দেয়। উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং সংরক্ষণে তাদের আহ্বান করানোতে সদর্থক ভূমিকা পালন করে এই রেড ডাটা বুক।

গ্রীন ডাটা বুক :

1987 সালে ইউক্রেনের উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা এটি সর্বপ্রথম প্রকাশ করেন। এটি মূলত একটি পকেট বুক, একে লিটিল গ্রীন ডাটা বুক নামেও ডাকা হয়। এই বই তে বিরল এবং বিপন্ন উদ্ভিদ প্রজাতির নাম এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এই বই অনুযায়ী উদ্ভিদ তালিকা গুলি হলো, অরণ্য অঞ্চলের উদ্ভিদ, গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, পঙ্কিল জলাভূমির উদ্ভিদ, জলাভূমির উদ্ভিদ, শুস্ক ও তৃণভূমির উদ্ভিদ । যেহেতু এই বইটি শুধুমাত্র উদ্ভিদ নিয়েই আলোচনা করে, তাই এর নাম গ্রীন ডাটা বুক রাখা হয়েছে।

ব্লু ডাটা বুক :

UNEP অর্থাৎ ইউনাইটেড নেশন এনভায়রমেন্টাল প্রোগ্রাম এই বইটি প্রকাশ করে।যে সকল প্রজাতি তাদের নিজস্ব স্থায়ী বাসস্থানে বিপদজনক কিন্তু বিপন্ন বা অবলুপ্তির পথে নয়,তাদের এই বইতে স্থান দেওয়া হয়। তাদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এই ব্লু ডাটা বুকে। তাদের সংরক্ষণ, বস্তুতান্ত্রিক, বৈশিষ্ট্য নিয়েই বিস্তারিত বিবরণ থাকে।

এছাড়াও রয়েছে ব্ল্যাক ডাটা বুক ; এই বইতে ক্ষতিকারক বা ধ্বংসাত্মক জীব প্রজাতির উল্লেখ করা হয়।

 

লেখকঃ সৌভিক রায়

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

বাঙালি চিকিৎসাবিজ্ঞানী উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী

5 (1) ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখতে পাবো কালে কালে করোনার থেকেও প্রাণঘাতী কয়েকটি মহামারিতে আক্রান্ত হয়েছে গোটা বিশ্বই। মারা গিয়েছেন কোটি কোটি মানুষ। চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষকরা এসব মহামারির প্রতিষেধক বা ওষুধ তৈরিতে নেমেছিলেন এক অসম যুদ্ধে। দীর্ঘদিনের গবেষণা আর প্রাণান্ত সাধনার পর তারা এমন রোগগুলোর প্রতিষেধক বা ওষুধ আবিস্কারে […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: