কি করে বুঝবেন আপনি কম ঘুমাচ্ছেন

ঘুমের-সমস্যা

কি করে বুঝবেন আপনি কম ঘুমাচ্ছেন

Dr. Opurbo Chowdhury
London, England

সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন । এর সঠিক কোনো কারণ বিজ্ঞান এখনো জানে না । একমত হবার মতো সঠিক কারণটি না জানলেও পরীক্ষা এবং গবেষণা করে এই হিসেবটায় একমত হয়েছে । এর কমতি হলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় ।

বাচ্চারা গড়ে ষোলো থেকে আঠারো ঘন্টা ঘুমায় । কিশোর কিশোরীদের দৈনিক ঘুমের প্রয়োজন দশ থেকে বারো ঘন্টা । এই সময় তাদের শরীরে কিছু পরিবর্তন হয় । ঘুমের সমস্যা শারীরিক পরিবর্তনগুলোর উপর প্রভাব ফেলে । বাবা মায়েদের উচিত সন্তানদের ভালো স্বাস্থ্যের জন্যে পর্যাপ্ত ঘুমের দিকটি লক্ষ্য রাখা । যদিও অনেক বাবা মা নিজেরাই রাতের পাখি, সন্তানদের কি করে ঠিক রাখবে আঁখি !

মানুষের জীবনের তিনভাগের এক ভাগ ঘুমে কাটে । তবে প্রাণীদের মধ্যে বিড়াল এবং বাদুড় সবচেয়ে বেশি ঘুমায় । ষোলো থেকে আঠারো ঘন্টা ।

কিন্তু প্রতিদিন হিসেবে করে দেখেন যে – ঠিকই তো আট-নয় ঘন্টা ঘুমিয়েছেন, কিন্তু ঘুম থেকে উঠে মনে হতে থাকে পর্যাপ্ত ঘুমাননি । দিনভর ক্লান্ত লাগছে, শরীর অযথা অলস লাগছে, মাথা ভার ভার হয়ে আছে, কোথাও মনোসংযোগ দিতে পারছেন না । হরহামেশাই এসব সমস্যা দিনের বেলা মোকাবেলা করছেন ।

আধুনিক নগর জীবনে ঘুম একটি প্রধান সমস্যা । বিশ্ব জুড়েই এই সমস্যা । উন্নত দেশগুলোতে প্রতি তিনজনের একজন ঘুম জনিত সমস্যায় ভুগছে । কম ঘুম এবং অতিরিক্ত ভুল খাওয়া এখন কোনো কোনো জাতির জাতীয় সমস্যা । ঘুমের সমস্যা এবং মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যা এখন অনেক রোগের চেয়েও বেশি বড় সমস্যা ।

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছে আধুনিক জীবনে ঘুমের সমস্যার অন্যতম একটি কারণ – আলো । আলো দূষণ । দিনের বেলা শব্দ দূষণ এবং রাতের বেলা আলোর দূষণ । রাতের বেলা অতিরিক্ত আলোর প্রভাব । এখন বলা হয় শারীরিক সমস্যার চেয়ে আলোর দূষণ এখন ঘুমের অনেক সমস্যার কারণ ।

আধুনিক বিশ্বে সত্তর ভাগ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ঘুম জনিত কোনো একটি সমস্যায় ভুগছে ।

শুরুতে বলে নেই – কি করে বুঝবেন আপনার ঘুমটি ভালো হয় । ঘুমোতে যাওয়ার সাত থেকে দশ মিনিটের মধ্যে ঘুম এলে বুঝবেন আপনার ঘুমটি ভালো হয় এবং আপনার ঘুমের স্বাস্থ ভালো ।

কিন্তু কি করে বুঝবেন আপনার ঘুমের স্বাস্থ রীতিমতো অসুস্থ !

কি করে বুঝবেন আপনি কম ঘুমাচ্ছেন ?

➼ দিনভর হাই তুলবেন ।

➼ কোনো কাজ শুরু করার একটু পরেই ঝিমুনি পেয়ে বসবে ।

➼ অনেক ছোট বিষয়ে অযথা বিরক্ত হবেন ।

➼ ঘুম আসবে না, কিন্তু থেকে থেকে ঘুম ঘুম ভাব আসবে ।

➼ একটা কাজে বেশিক্ষন মনোসংযোগ দিতে পারবেন না ।

➼ কোনো কারণ ছাড়াই দুর্বল অনুভব করবেন ।

➼ দুশ্চিন্তার কোনো বিষয় না থাকলেও ছোটোখাটো বিষয়েও দুশ্চিন্তা পেয়ে বসবে ।

➼ পার্টনার কাছে এসে আদর করলেও আদর করতে ইচ্ছে করবে না ।

➼ ডায়াবেটিস থাকলে অযথা সুগার বেড়ে যাবে ।

➼ ঘুমের ক্রনিক ব্যাঘাতে শরীরের ইমিউনিটি কমে যাওয়ায় ঘন ঘন গলা ব্যথা, সর্দি, কাশি, এমনকি পেটের পীড়াতে আক্রান্ত হবেন সহজে ।

➼ দিনের বেলা ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাবে ।

➼ কম খাচ্ছেন, তারপরেও দেখছেন ওজন বেড়ে যাচ্ছে শরীরের ।

➼ দৈনন্দিন অনেক কিছু অল্প সময়ের ব্যবধানে বার বার ভুলে যাবেন ।

➼ সহজে হাত থেকে এটা সেটা পড়ে যাবে, হাঁটতে গেলে হঠাৎ করে টলবেন, ব্যালেন্স হারাবেন সহজে ।

➼ দিনের বেলা শরীরে অযথা ব্যথা অনুভব করবেন ।

➼. দিনে অযথা মনে হবে পেট খালি এবং ঘন ঘন ক্ষুধা লাগবে ।

© অপূর্ব চৌধুরী ।

চিকিৎসক এবং লেখক ।

জন্ম বাংলাদেশ, বসবাস ইংল্যান্ড ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: