আমেদিও_অ্যাভোগেড্রো

@@
0
(0)
১৭৭৬ সালের ৯ ই আগস্ট ইতালিতে বিজ্ঞানী আমেদিও অ্যাভোগাড্রো( 9 August 1776 – 9 July 1856) জন্মগ্রহণ করেন।
১৮১২ খ্রিস্টাব্দে ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী আমেদিও অ্যাভোগাড্রো গ্যাসের আয়তন ও অণুর সম্পর্কীয় একটি সূত্র প্রস্তাব করেন। তাঁর দেয়া এ প্রস্তাবটি যদিও বিগত প্রায় ২০০ বছর যাবৎ নির্ভুল প্রমাণিত হয়ে আসছে অর্থাৎ তত্ত্ব হিসাবে প্রতিষ্ঠিত তথাপি আজও এ প্রস্তাবটি ‌#অ্যাভোগাড্রো_প্রকল্প (Avogadro’s Hypothesis) নামেই পরিচিত।
অ্যাভোগাড্রোর প্রকল্পটি এরূপ – স্থির তাপমাত্রা ও চাপে সম আয়তনের মৌলিক ও যৌগিক সকল গ্যাসে সমান সংখ্যক অণু থাকে। বিপরীতভাবে বলা যায় যে, স্থির তাপমাত্রা ও চাপে যে কোন গ্যাসের সমান সংখ্যক অণু সম আয়তন দখল করে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে চারটি একই আয়তনের বেলুনে যথাক্রমে হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2), নাইট্রোজেন (N2) ও কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) গ্যাস ভরা থাকে এবং কোনভাবে প্রথম বেলুনে n সংখ্যক হাইড্রোজেন অণুর অস্তিত্ত্ব পাওয়া যায় তবে অ্যাভোগাড্রোর সূত্র অণুসারে অন্যান্য বেলুনগুলোতেও যথাক্রমে n সংখ্যক অক্সিজেন অণু, n সংখ্যক নাইট্রোজেন অণু এবং n সংখ্যক কার্বন ডাইঅক্সাইড অণু বিদ্যমান থাকবে; যদিও গ্যাসসমূহের রাসায়নিক ভর, গঠন ও প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটিই অ্যাভোগাড্রো প্রকল্পের মূল ধারণা।
এছাড়া অ্যাভোগাড্রোর প্রকল্প থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অণুসিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে। এগুলো হলো –
১. নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যতীত অন্য সকল মৌলিক গ্যাসের অণু দ্বিপরমাণুক।
২. যেকোন গ্যাসের আণবিক ভর তার বাষ্প ঘনত্বের দ্বিগুণ।
. স্থির তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের মোলার আয়তন সমান এবং আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে তা ২২.৪ লিটার (L) বা ২২.৪ ঘনডেসিমিটার (dm3) ।
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার নামকরণ করা হয়েছে ১৯ শতকের ইতালীয় রসায়নবিদ আমাদিও আভোগাদ্রোর নামানুসারে। ১৮১১ সালে তিনি প্রথম বলেন যে কোন গ্যাসের আয়তন স্থির তাপমাত্রা ও চাপে তাতে বিদ্যমান অণু বা পরমাণু সংখ্যার সমান।
১৯০৯ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী জিন বাপটিস্ট পেরিন ধ্রুবসংখ্যাটিকে অ্যাভোগাড্রোর সম্মানে নামকরণের প্রস্তাব করেন। পেরিন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান নির্ণয়ের চেষ্টা করেন এবং এ কারনে ১৯২৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
১৮৬৫ সালে সর্বপ্রথম জোহান জোসেফ লসমিডট্‌ ধ্রুবসংখ্যাটির মান নির্দেশ করেন। তিনি একটি নির্দিষ্ট আয়তনে অণুর সংখ্যা গণনা করার মত একি ধরনের একটি প্রক্রিয়ায় বাতাসের অণুগুলোর গড় ব্যাস নির্ণয় করতে সমর্থ হন। তাঁর সম্মানে একক আয়তনে গ্যাসের অণুর সংখ্যাকে লসমিডট্‌ ধ্রুবক নামকরণ করা হয়েছে যা কিনা অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার নির্ভুল মান নির্ণয় করা সম্ভব হয় যখন ১৯১০ সালে আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী রবার্ট মিলিকান একটা ইলেকট্রনের চার্জ পরিমাপ করেন। ১৮৩৪ সালে মাইকেল ফ্যারাডের তড়িৎ বিশ্লেষণ এর গবেষণা গুলো থেকে জানা যায় এক মোল ইলেকট্রনের চার্জ সর্বদা স্থির বা ধ্রুব, যাকে বলা হয় ১ ফ্যারাডে। এক মোল ইলেকট্রনের চার্জকে একটা ইলেকট্রনের চার্জ দিয়ে ভাগ করে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান নির্ণয় করা যায়।
পেরিন মূলত অক্সিজেনের এক গ্রাম অণুতে বিদ্যমান অণুর সংখ্যাকেই অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা নামকরণের প্রস্তাব করেছিলেন, যেটা এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষত প্রাথমিক গবেষণা কাজ গুলোতে।
পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে যখন পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক (SI) এ মোল কে একটি মৌলিক এককে রূপান্তর করা হল তখন এর নাম পরিবর্তন করে অ্যাভোগাড্রো ধ্রুবক (NA) রাখা হয়, যা কোন বস্তুতে উপস্থিত পদার্থের পরিমাণ প্রকাশ করে এবং পরিমাপের মাত্রার উপর নির্ভর করে না।
এই স্বীকৃতির ফলে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা (NA) আর একটি বিশুদ্ধ সংখ্যা নয়, এর একক রয়েছে যা হচ্ছে মোলের বিপরীত রাশি (মোল−1)। যদিও পদার্থের পরিমাণ প্রকাশে সাধারণত মোলই ব্যবহৃত হয়, অ্যাভোগাড্রো সংখ্যাকে আরো কিছু এককের মাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়, যেমন পাউন্ড মোল (lb-mol) কিংবা আউন্স মোল (oz-mol)।
NA = ২.৭৩১৫৯৭৫৭(১৪)×১০২৬ (lb-mol)−১ = ১.৭০৭২৪৮৪৭৯(৮৫)×১০২৫ (oz-mol)−১
আমরা জানি ১ মোল কোন পদার্থে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক কণা থাকে। অ্যাভোগেড্রো সংখ্যার মান হল 6.02×10^23।
কিন্তু এই সংখ্যাটির মান কেনো এই নির্দির্ষ্ট সংখ্যাটিই হল? অন্য কোন মান হতে পারলো না?
আমরা জানি হাইড্রোজেনের (H) এর পারমাণবিক ভর 1.008 g. এটা পাওয়া যায় হাইড্রোজেনের প্রধান তিনটি আইসোটোপের গড় ভর থেকে। এখন হাইড্রোজেন পরমাণুর নিক্লিয়াসে সাধারণত একটিমাত্র প্রোটন থাকে, কোন নিউট্রন থাকে না। তাহলে একটি H পরমাণুর ভর আসলে এর পরমাণুর কেন্দ্রের প্রোটনটির ভরের সমান (কক্ষপথস্থ ইলেক্ট্রনের ভর অতিমাত্রায় নগণ্য বলে হিসাব-বহির্ভূত।
অর্থ্যাত ১ টি H পরমাণুর ভর = ১ টি প্রোটনের ভর। = 1.672 × 10^-24 g।
এখন আমরা বের করব, এরকম কতগুলো H-পরমাণুর সমন্বিত ভর 1.008 g হয়।
গাণিতিকভাবে, (ঐকিক নিয়ম)
ভর 1.672 × 10^-24 g হয় যখন কণা 1 টি
ভর 1 হয় যখন কণা 1/(1.672 × 10^-24 g) টি
ভর 1.008 g হয় যখন কণা 1.008 g/(1.672 × 10^-24 g) টি ≈6.02×10^23 টি।
অর্থ্যাত 6.02×10^23 টি H-পরমাণু নিলে আমরা 1.008 g H পাব। অন্য কোন মৌল থেকেও হিসেব করে আমরা এই সংখ্যা পেতে পারি।
তাহলে, মূলত আমরা যে বলি হাইড্রোজেনের পারমাণবিক ভর 1.008 g, এটা আসলে ১ মোল বা 6.02×10^23 সংখ্যক হাইড্রজে ন পরমাণুর ভর। নচেৎ, একটি H-পরমাণুর ভর তো সেই শধু প্রোটনটির ভরের সমান মানে 1.672 × 10^-24 g।
অবশ্য, এখানে আমরা যাকে পারমাণবিক ভর বলছি তা মূলত গ্রাম পারমাণবিক ভর।
পারমাণবিক ভরকে মূলত Atomic Mass Unit (a.m.u) এককে প্রকাশ করা হয়। সেক্ষেত্রে সেটা একটি পরমাণুরই ভর, অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক কণার ভর নয়।
তথ্যসূত্র -উইকিপিডিয়া
Image may contain: 1 person

পঞ্চানন মণ্ডল

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

আইজ্যাক আসিমভ - সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কল্পবিজ্ঞান লেখক

0 (0) আইজ্যাক আসিমভ – সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কল্পবিজ্ঞান লেখক। ************************************************************************ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন , “সায়েন্স ফিকশন হল আধুনিক জগতের রূপকথা“ । প্রাচীন রূপকথা গুলো যেমন মানব মনের কল্পনা প্রসূত তেমনি সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞানও তাই। পার্থক্য শুধু সায়েন্স ফিকশন বিজ্ঞান কে ভিত্তি করে মানব মনের কল্পনা! আর তাই কল্পবিজ্ঞানকে আধুনিক […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: