এসি ও ডিসি কারেন্টের উৎস কথা

এসি ও ডিসি কারেন্ট

বর্তমানে সমগ্র বিশ্বই গেজেট নির্ভরশীল। যেখানেই তাকাও সেদিকেই ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতির ছড়াছড়ি। স্থল, জল, আকাশ কিংবা মহাকাশেও ইলেকট্রিসিটি ছাড়া কোনকিছু ভাবাই আজ অসম্ভব।এই ইলেক্ট্রিসিটি প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে আলাদা দুই ধরনের রুপে পাওয়া যায়। সেগুলি হল ‘এসি(AC)’ অর্থাৎ ‘অল্টারনেটিভ কারেন্ট‘ এবং ‘ডিসি(DC)’ অর্থাৎ ‘ডাইরেক্ট কারেন্ট‘। ইলেকট্রিসিটির এই হলো দুই ভাগ। সমস্ত রকম যন্ত্রপাতি ও গেজেটসে এই দুই ধরনের ইলেকট্রিসিটি প্রয়োজন মত ব্যবহার করা হয়। এই দুই ধরনের কারেন্ট তৈরি করার পদ্ধতিও আলাদা। এদের চরিত্রও আলাদা ধরনের।

এসি(AC) ও ডিসি(DC) কারেন্ট কি?

প্রথমেই বলা হয়েছে এসি ও ডিসি হচ্ছে কারেন্টের দুটি ধরন। এসি(AC) এবং ডিসির মধ্যে সর্বপ্রথম ডিসি কারেন্ট আবিষ্কৃত হয়। এটি আবিষ্কার করেন ‘বিজ্ঞানী থমাস আলভা এডিসন‘ ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে। এই ডিসি কারেন্ট আমরা ব্যাটারি থেকে পাই। ডাইরেক্ট কারেন্ট অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট ধরনের কারেন্ট একটিমাত্র দিকে চালিত হয়। একটিমাত্র দিকে চালিত হবার জন্য এর নাম ডাইরেক্ট কারেন্ট। এই ধরনের কারেন্টে কখনো ভোল্টেজ আপডাউন অর্থাৎ পরিমান কম বেশি হয় না।

অপরদিকে এসি কারেন্ট অর্থাৎ অল্টারনেটিভ কারেন্ট এর জনক যদি কাউকে বলা হয় তবে সে ‘বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা‘। তিনি প্রথম অল্টারনেটিভ কারেন্ট দ্বারা চালিত মোটর আবিষ্কার করেন। তার এই আবিষ্কার বিজ্ঞানের জগতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করে। আলোড়ন সৃষ্টির কারণ হলো ডিসি কারেন্টের থেকে এসি কারেন্ট তৈরি অনেক সহজে করা যায়। ডিসি কারেন্ট এর ক্ষেত্রে যেসব অসুবিধাগুলির সম্মুখীন হতে হয় সেগুলো এসি কারেন্ট এর ক্ষেত্রে নামমাত্র। এসি কারেন্ট কে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করে নিয়ে যাওয়া অনেক সোজা। শুধুমাত্র একটি ট্রান্সফরমারের সাহায্যে এর কার্যকারিতা পরিচালনা করা যায়। কিন্তু ডিসি কারেন্ট এর ক্ষেত্রে এটি খুবই জটিল উপায়। অতিরিক্ত পরিমাণে ডিসি কারেন্ট কে সংরক্ষিত করে রাখতে যে পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন সেই পরিমাণ জায়গা দেওয়া অধিক খরচসাপেক্ষ হয়ে যায়।

এসি কারেন্ট কে শিল্পক্ষেত্রে নানা উপায়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে ‘উইলিয়াম স্ট্যানলি’ প্রথমবারের মতো এসি কারেন্ট কে ‘স্টেপ আপ’ এবং ‘স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমারের’ মাধ্যমে কিভাবে তৈরি করে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় তার প্রামাণ্য মডেলটি পেশ করেন।
যদিও এসি কারেন্ট কে উদ্ভাবন করার জন্য আরো বহু পূর্ব থেকেই চেষ্টা চলছিল। কখনো চুম্বক কে ব্যবহার করে চৌম্বকীয় শক্তির দ্বারা, মোটর এর মাধ্যমে। তবে এই ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দতেই সর্বপ্রথম এসি কারেন্ট শিল্পক্ষেত্রে প্রসার লাভের পথ পায়। এখান থেকেই যাত্রা শুরু করে আজকের এসি কারেন্ট যা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে উৎপাদনেও বেড়েছে।

এসি না ডিসি কোনটির ব্যবহার বেশি?

সাধারণত আমাদের যত গাড়ি ব্যবহৃত হয় তার সমস্তটাই ডিসি কারেন্টে চলে। গাড়িতে যে ব্যাটারি গুলি থাকে তার মধ্যে ডিসি কারেন্ট উৎপাদিত হয়। গাড়ির ব্যাটারিগুলিকে পুনরায় চার্জ করার জন্য দারুন এক উপায় ব্যবহার হয়। গাড়ির ব্যাটারি চার্জ হয় গাড়ি চলার উপর নির্ভর করে। যত বেশি পরিমাণ গাড়ি চলবে তত গাড়ির ব্যাটারি চার্জ হবে বেশি পরিমাণ।
এছাড়া আমাদের বাড়ি, অফিস, স্কুল-কলেজ, কলকারখানা প্রভৃতি যত জায়গা রয়েছে সেসব জায়গায় যে ধরনের কারেন্টে আলো পাখা এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি যা চলে তা হল এসি কারেন্ট। অর্থাৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ডিসি কারেন্টের থেকে এসি কারেন্টের চাহিদা বেশি। এমন কি ডিসি কারেন্টের যে ব্যাটারি, তাদেরকেও চার্জ করতে অনেক সময় এসি কারেন্টের এর দরকার পরে।

তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এসি কারেন্ট এর থেকে ডিসি কারেন্ট অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ সাধারণত ডিসি কারেন্টের ভোল্টেজ কম হয়। তবে এসি কারেন্টের ভোল্টেজ প্রায় সব জায়গাতেই ২২০ থেকে ২৪০ ভোল্ট হয়ে থাকে যা ডিসি কারেন্টের থেকে অনেকটাই বেশি। এই ভোল্টেজের পক্ষে একটি আস্ত মানুষকে পর্যন্ত কয়েক সেকেন্ডেই শেষ করে দেওয়া সম্ভব। সুতরাং অবশ্যই এসি কারেন্ট ব্যবহার করার সময় আমাদের সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। সর্তকতা অবলম্বন না করলে হয়তো যেকোনো সময় কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবার এসি কারেন্ট কে ডিসি কারেন্টে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়ে থাকে । যেমন এলইডি লাইট, ফ্যান বা কোন ব্যাটারি চার্জার, প্রভৃতি জিনিসগুলিতে।
যেকোনো ধরনের কারেন্ট কে নিয়ে কাজ করতে গেলে অবশ্যই আমাদের সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। উপযুক্ত কারেন্ট নিরোধক পোশাক পরিধান করতে হবে। শিশুদেরকে অবশ্যই সব সময় কারেন্টের যে কোনো ধরনের ‘তার’ কিংবা ‘প্লাগ পয়েন্ট’ থেকে দূরে রাখতে হবে। সভ্যতার আলো যেন কোনোভাবেই কারো জীবনে অন্ধকার না ডেকে আনে।

সৌরদীপ কর্মকার

Leave a Reply

%d bloggers like this: