এল ই ডি লাইটের ইতিহাস, গুনাগুন ও ক্ষতিকারতা

এলইডি লাইট

দীপাবলি থেকে জন্মদিন সর্বত্রই আজ আলোর রোশনাই। বিভিন্ন রকম আলোতে সবদিক ভরে থাকে। ছোট থেকে বড় প্রত্যেকটি বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, রাস্তাঘাট সর্বত্র আলোর রোশনাই।
এই সমস্ত আলোর দাম সাধ্যের মধ্যে। তাই চাহিদাও বেশি সবার মধ্যে। এখন সমস্ত অনুষ্ঠান গুলিতে যে ধরনের আলো ব্যবহৃত হয় তাদের বলা হয় ‘এল ই ডি’ (LED)। এই সমস্ত লাইট গুলি মাত্র একটি সার্কিট এর উপর নির্ভর করে তৈরি হয়। এই সমস্ত লাইটগুলির জন্য খুব কম পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচা হয়। বর্তমানে বাজারে যেসব এল ই ডি লাইট বিক্রি হয় তা অধিকাংশ চীনের থেকে তৈরি হয়ে আসে। চীনে এগুলি তৈরি হয় অনেক কম খরচায়, ফলে তাঁরা এটিকে বিক্রিও কম খরচে করতে পারে। যার ফলস্বরূপ সম্পূর্ণ বাজারেই এল ই ডি লাইটের রমরমা।

তবে এল ই ডি-র ইতিহাস কি? কি করে হলো এল ই ডি আবিষ্কার?

প্রথমেই বলে রাখা ভাল “এল ই ডি” জিনিসটি কি? ‘এল ই ডি’ এর পুরো কথাটি হলো ‘লাইট এমিটিং ডায়োড’। মনে করা হয়ে থাকে প্রথম এল ই ডি লাইট তৈরি করেছিলেন রাশিয়ান ‘বিজ্ঞানী অলিগ লোসেভ‘ ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে। যদিও তার এই আবিষ্কার তখন তেমন গুরুত্ব পায়নি এবং বহু বছর পরে এটির প্রামাণ্য মডেলটি নিয়ে নতুন করে গবেষণা হয়। পরবর্তীকালে এলইডি লাইট সম্পূর্ণ ভাবে  আবিষ্কার করেন ১৯৬২ তে মাত্র ৩৩ বছর বয়সী ‘বিজ্ঞানী নিক হলনাংক জুনিয়র‘। তাকেই বলা হয়ে থাকে এলইডি লাইটের জনক। মূলত তিনি প্রথম দৃশ্যমান লাইট এমিটিং ডায়োড এর আবিষ্কার করেন। তখন এটি কে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল ‘একটি জাদু’ বলে। এলইডি লাইট মূলত কোন পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক তৈরি জিনিস নয়। বরং এটি অন্য একটি যন্ত্র তৈরি করতে গিয়ে ভুলবশত আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
এই এলইডি লাইটের জনক ‘বিজ্ঞানী নিক হলনাংক জুনিয়র‘ দারুন মজার একটি কথা বলেন — “আমি এমন সমস্ত যন্ত্রপাতি তৈরি করি যা এর পূর্বে কোনোদিন আবিষ্কার হয়নি”। তিনি তখন এই এলইডি তৈরি করেন অর্ধপরিবাহী ‘গ্যালিয়াম-আর্সেনাইড-ফসফাইড’ এর দ্বারা। তিনি সেই সময় যে এলইডি লাইটটি প্রথম আবিষ্কার করেন সেটি ছিল লাল বর্ণের। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এলইডি লাইটের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী গুণের কথাগুলি জেনে ক্রমশ এই লাইটের রমরমা ও বাড়তে থাকে।

গুনাগুন ও ক্ষতিকারতা:

এল ই ডি লাইট এর বিভিন্ন গুনগুলি মধ্যে সবথেকে বড় যে বিষয়টি সকলের কাছেই প্রাধান্য পেয়ে থাকে তা হল এটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এল ই ডি লাইট জ্বালাতে অনেক কম পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচা হয়। একটি সাধারণ ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব এর থেকে দশটি এলইডি লাইট অনেক কম পরিমান বিদ্যুৎ খরচ করায়।
এছাড়া রয়েছে এলইডি লাইটের উজ্জ্বলতা। যদি ক্ষমতা দিয়ে তুলনা করা হয় তবে একটি ১০ ওয়াটের ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব এর চেয়ে একটি ১০ ওয়াটের এলইডি লাইট অনেক বেশি উজ্জ্বল। সাধারণ বাল্বের আয়ুষ্কাল এর চেয়ে এলইডি লাইট এর আয়ুষ্কাল কয়েক গুণ বেশি। এই এলইডি লাইটের উৎপাদন খরচও অনেক কম তাই বাজারে প্রতি অনেক কম দামে বিক্রি হয়ে থাকে। অর্থাৎ খরচের দিক থেকে দেখতে গেলে এই লাইট ব্যবহারে দুই দিক থেকে সুবিধা। প্রথমত বিদ্যুৎ খরচ এবং দ্বিতীয়তো এটি কেনার খরচ।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন ধরনের এলইডি বিক্রি হয়। যার একেকটি একেক রকম ভাবে ব্যবহার করা যায়।
এছাড়াও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে এলইডির ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন এলইডি টিভি,ফ্রিজ, এছাড়া বিভিন্ন যন্ত্রের স্ক্রিনে এটি ব্যবহার হয়।
এলইডি লাইটের বিভিন্ন গুনাগুন গুলির সম্বন্ধে অবগত হওয়ার পরেও আমাদের কিছু বিষয়গুলি মাথায় রাখা উচিত। অত্যাধিক এলইডি লাইটের ব্যবহারে চোখের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। যদিও ‘ব্লু লাইট এল ই ডি’ বলে লাইটটি চোখের জন্য ভালো। চোখের ক্ষতি যাতে না হয় সেই জন্য অকারণে এলইডি লাইটের দিকে তাকিয়ে থাকা উচিত। এমনকি এলইডি টিভি দেখার সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।
বিভিন্ন রিসার্চ এ এই তথ্য উঠে এসেছে যে বেশিরভাগ বাচ্চাদের ক্ষেত্রে চোখের নানান ধরনের সমস্যার কারণ এই এলইডি লাইট।
সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এলইডি খুবই দারুন, কম খরচের একটি জিনিষ। ভবিষ্যতের জন্য বিদ্যুৎ সংরক্ষণে এটি দারুন কার্যকরী।
সৌরদীপ কর্মকার

Leave a Reply

%d bloggers like this: