এসি ও ডিসি কারেন্টের উৎস কথা

এসি ও ডিসি কারেন্ট

বর্তমানে সমগ্র বিশ্বই গেজেট নির্ভরশীল। যেখানেই তাকাও সেদিকেই ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতির ছড়াছড়ি। স্থল, জল, আকাশ কিংবা মহাকাশেও ইলেকট্রিসিটি ছাড়া কোনকিছু ভাবাই আজ অসম্ভব।এই ইলেক্ট্রিসিটি প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে আলাদা দুই ধরনের রুপে পাওয়া যায়। সেগুলি হল ‘এসি(AC)’ অর্থাৎ ‘অল্টারনেটিভ কারেন্ট‘ এবং ‘ডিসি(DC)’ অর্থাৎ ‘ডাইরেক্ট কারেন্ট‘। ইলেকট্রিসিটির এই হলো দুই ভাগ। সমস্ত রকম যন্ত্রপাতি ও গেজেটসে এই দুই ধরনের ইলেকট্রিসিটি প্রয়োজন মত ব্যবহার করা হয়। এই দুই ধরনের কারেন্ট তৈরি করার পদ্ধতিও আলাদা। এদের চরিত্রও আলাদা ধরনের।

এসি(AC) ও ডিসি(DC) কারেন্ট কি?

প্রথমেই বলা হয়েছে এসি ও ডিসি হচ্ছে কারেন্টের দুটি ধরন। এসি(AC) এবং ডিসির মধ্যে সর্বপ্রথম ডিসি কারেন্ট আবিষ্কৃত হয়। এটি আবিষ্কার করেন ‘বিজ্ঞানী থমাস আলভা এডিসন‘ ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে। এই ডিসি কারেন্ট আমরা ব্যাটারি থেকে পাই। ডাইরেক্ট কারেন্ট অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট ধরনের কারেন্ট একটিমাত্র দিকে চালিত হয়। একটিমাত্র দিকে চালিত হবার জন্য এর নাম ডাইরেক্ট কারেন্ট। এই ধরনের কারেন্টে কখনো ভোল্টেজ আপডাউন অর্থাৎ পরিমান কম বেশি হয় না।

অপরদিকে এসি কারেন্ট অর্থাৎ অল্টারনেটিভ কারেন্ট এর জনক যদি কাউকে বলা হয় তবে সে ‘বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা‘। তিনি প্রথম অল্টারনেটিভ কারেন্ট দ্বারা চালিত মোটর আবিষ্কার করেন। তার এই আবিষ্কার বিজ্ঞানের জগতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করে। আলোড়ন সৃষ্টির কারণ হলো ডিসি কারেন্টের থেকে এসি কারেন্ট তৈরি অনেক সহজে করা যায়। ডিসি কারেন্ট এর ক্ষেত্রে যেসব অসুবিধাগুলির সম্মুখীন হতে হয় সেগুলো এসি কারেন্ট এর ক্ষেত্রে নামমাত্র। এসি কারেন্ট কে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করে নিয়ে যাওয়া অনেক সোজা। শুধুমাত্র একটি ট্রান্সফরমারের সাহায্যে এর কার্যকারিতা পরিচালনা করা যায়। কিন্তু ডিসি কারেন্ট এর ক্ষেত্রে এটি খুবই জটিল উপায়। অতিরিক্ত পরিমাণে ডিসি কারেন্ট কে সংরক্ষিত করে রাখতে যে পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন সেই পরিমাণ জায়গা দেওয়া অধিক খরচসাপেক্ষ হয়ে যায়।

এসি কারেন্ট কে শিল্পক্ষেত্রে নানা উপায়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে ‘উইলিয়াম স্ট্যানলি’ প্রথমবারের মতো এসি কারেন্ট কে ‘স্টেপ আপ’ এবং ‘স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমারের’ মাধ্যমে কিভাবে তৈরি করে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় তার প্রামাণ্য মডেলটি পেশ করেন।
যদিও এসি কারেন্ট কে উদ্ভাবন করার জন্য আরো বহু পূর্ব থেকেই চেষ্টা চলছিল। কখনো চুম্বক কে ব্যবহার করে চৌম্বকীয় শক্তির দ্বারা, মোটর এর মাধ্যমে। তবে এই ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দতেই সর্বপ্রথম এসি কারেন্ট শিল্পক্ষেত্রে প্রসার লাভের পথ পায়। এখান থেকেই যাত্রা শুরু করে আজকের এসি কারেন্ট যা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে উৎপাদনেও বেড়েছে।

এসি না ডিসি কোনটির ব্যবহার বেশি?

সাধারণত আমাদের যত গাড়ি ব্যবহৃত হয় তার সমস্তটাই ডিসি কারেন্টে চলে। গাড়িতে যে ব্যাটারি গুলি থাকে তার মধ্যে ডিসি কারেন্ট উৎপাদিত হয়। গাড়ির ব্যাটারিগুলিকে পুনরায় চার্জ করার জন্য দারুন এক উপায় ব্যবহার হয়। গাড়ির ব্যাটারি চার্জ হয় গাড়ি চলার উপর নির্ভর করে। যত বেশি পরিমাণ গাড়ি চলবে তত গাড়ির ব্যাটারি চার্জ হবে বেশি পরিমাণ।
এছাড়া আমাদের বাড়ি, অফিস, স্কুল-কলেজ, কলকারখানা প্রভৃতি যত জায়গা রয়েছে সেসব জায়গায় যে ধরনের কারেন্টে আলো পাখা এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি যা চলে তা হল এসি কারেন্ট। অর্থাৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ডিসি কারেন্টের থেকে এসি কারেন্টের চাহিদা বেশি। এমন কি ডিসি কারেন্টের যে ব্যাটারি, তাদেরকেও চার্জ করতে অনেক সময় এসি কারেন্টের এর দরকার পরে।

তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এসি কারেন্ট এর থেকে ডিসি কারেন্ট অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ সাধারণত ডিসি কারেন্টের ভোল্টেজ কম হয়। তবে এসি কারেন্টের ভোল্টেজ প্রায় সব জায়গাতেই ২২০ থেকে ২৪০ ভোল্ট হয়ে থাকে যা ডিসি কারেন্টের থেকে অনেকটাই বেশি। এই ভোল্টেজের পক্ষে একটি আস্ত মানুষকে পর্যন্ত কয়েক সেকেন্ডেই শেষ করে দেওয়া সম্ভব। সুতরাং অবশ্যই এসি কারেন্ট ব্যবহার করার সময় আমাদের সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। সর্তকতা অবলম্বন না করলে হয়তো যেকোনো সময় কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবার এসি কারেন্ট কে ডিসি কারেন্টে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়ে থাকে । যেমন এলইডি লাইট, ফ্যান বা কোন ব্যাটারি চার্জার, প্রভৃতি জিনিসগুলিতে।
যেকোনো ধরনের কারেন্ট কে নিয়ে কাজ করতে গেলে অবশ্যই আমাদের সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। উপযুক্ত কারেন্ট নিরোধক পোশাক পরিধান করতে হবে। শিশুদেরকে অবশ্যই সব সময় কারেন্টের যে কোনো ধরনের ‘তার’ কিংবা ‘প্লাগ পয়েন্ট’ থেকে দূরে রাখতে হবে। সভ্যতার আলো যেন কোনোভাবেই কারো জীবনে অন্ধকার না ডেকে আনে।

সৌরদীপ কর্মকার

পরিবেশ কাকে বলে ?

পরিবেশ কাকে বলে ?

আমাদের আশেপাশের জীব ,জন্তু ,জল ,বায়ু ,গাছপালা,সকল ধরনের সজীব ও নির্জীব পদার্থ যা আমাদের জীবন কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আমাদের জীবন-কে প্রভাবিত করে এদের সকলকে নিয়ে আমাদের পরিবেশ।

আবার অন্য ভাবে বলা যায় কোন জীবের চারপাশে থাকা জীবটির উপর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়াকারী এবং প্রভাব বিস্তারকারী সমস্ত সজীব ও জড় পদার্থ সকলকে একত্রে ঐ জীবের পরিবেশ বলা হয়।

বিভিন্ন বিজ্ঞানী-গন বিভিন্ন সময়ে পরিবেশের বিভিন্ন সজ্ঞা দিয়েছেন

আর্মস,  তাঁর “এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স” নামক গ্রন্থে পরিবেশের সংজ্ঞা দিতেগিয়ে ১৯৯৪ সালে বলেছেন যে, “জীব সম্প্রদায়ের পারিপার্শ্বিক জৈব এবং প্রাকৃতিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে”

১৯৭৬ ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রােগ্রাম UNEP পরিবেশের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছিল

“পরিবেশ বলতে পরম্পর ক্রিয়াশীল উপাদানগুলির মাধ্যমে গড়ে ওঠা সেই প্রাকৃতিকও জীবমন্ডলীয় প্রণালীকে বােঝায় যার মধ্যে মানুষ ও অন্যান্য সজীব উপাদানগুলি বেঁচে থাকে, বসবাস করে”

১৯৯৫ সালে তাদের “এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স” নামক গ্রন্থে পরিবেশ বিজ্ঞানী টনি এবং কেলার,পরিবেশের সজ্ঞা দিতেগিয়ে  বলেছেন যে

“জীব, উদ্ভিদ বা প্রাণী তাদের জীবনচক্রের যে কোন সময়ে যে সমস্ত জৈব এবং অজৈব কারণগুলির দ্বারা প্রভাবিত হয়, সেই কারণ গুলির সমষ্টিকে পরিবেশ বলে।”

সুতরাং পরিবেশ হল সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক,ধার্মিক অবস্থা যা মানুষের জীবন কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত করে ।

পরিবেশ (Environment) কয় প্রকার ও কি কি ?

আমাদের পরিবেশকে সাধারণ ভাবে তিন ভাগে ভাগ করতে পারি।

১.ভৌত বা প্রাকৃতিক পরিবেশ

মহাবিশ্বের সমস্ত জড় বস্তু যেমন জল,বাতাস, আলো, তাপ ,মাটি, পাহাড়, পর্বত, নদী,নালা, খাল , বিল,রাস্তাঘাট, আলো প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ।

২.জীবজ পরিবেশ

মানুষ, গাছপালা, জীবজন্তু, পশু ,পা‌খি,জীবাণু ইত্যাদি জীবের মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্কই হল জীবজ পরিবেশ।

৩. সামাজিক পরিবেশ

মানুষ দ্বারা নির্মিত মানুষের নিজের পরিবেশ হল সামাজিক পরিবেশ।

 সামাজিক পরিবেশের উপাদানগুলি হল

রাজনীতি

অর্থনীতি

ধর্ম

খেলাধুলা

শিক্ষা

স্বাস্থ্য

মুল্যবোধ

জীবন সংগ্রাম

এগুলি সবকিছুর মিশ্রনই হল মানুষের সামাজিক পরিবেশ।

পরিবেশের উপাদানসমূহ (Components of

Environment)

পরিবেশের উপাদানগুলি দুই ধরনের হয়।

১. জড় বা অজৈব উপাদান

পরিবেশের জড় উপাদানগুলি হল,

জল

বাতাস

আলো

মাটি

পাহাড় পর্বত

নদী-নালা

খাল-বিল

রাস্তাঘাট

আলো ইত্যাদি।

 

২. সজীব বা জৈব উপাদান

মানুষ

গাছপালা

জীবজন্তু

পশু

পা‌খি

জীবাণু এগুলি পরিবেশের সজীব উপাদান।

malayan-giant-squirrel-manas

আবার পরিবেশের এই উপাদানগুলিকে প্রধানতঃ চার ভাগে ভাগ করা হয়।

১. আবহাওয়া জনিত উপাদানঃ

(i) তাপমাত্রা,

(ii)আলােক,

(iii) বাতাসের জলীয় বাষ্প

(iv) বৃষ্টিপাত,

(v) বায়ু।

২. ভূ-পৃষ্ঠীয় উপাদান ঃ

(i) পাহাড় ও পর্বতের নতি,

(ii) উচ্চতা।

৩. মাটির উপাদানঃ

(i) মাটির উৎপত্তির বিভিন্ন শর্তাবলী

(ii) মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব গঠন।

. জৈবিক উপাদানঃ

প্রাণী,উদ্ভিদ ও বিভিন্ন আণুবীক্ষণিক জীবদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক।

পরিবেশ বিদ্যা বা পরিবেশ বিজ্ঞান কাকে বলে ?

বিজ্ঞানের যে শাখায় মানুষ ও তার আশেপাশের জীবজন্তু, উদ্ভিদ, প্রানি,মাটি জল , আল,বায়ু ইত্যাদির মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচিত হয় তাকে পরিবেশ বিদ্যা বা পরিবেশ বিজ্ঞান বলে।

অর্থাৎ মহাবিশ্বের সমস্ত জিনিসই পরষ্পর পরষ্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। কোন একটি জিনিসের অনুপাত বা অবস্থানের পরিবর্তন হলেই পরিবেশের পরিবর্তন হয়। তাই মহাবিশ্বের সমস্ত জিনিসের সম্পর্কে আলোচনা,গবেষনা পরিবেশ বিদ্যা বা পরিবেশ বিজ্ঞানের মধ্যে পরে।

পরিবেশ বিদ্যা ( Environmental Science)পাঠের

প্রয়োজনীয়তা

১• পরিবেশে প্রত্যেকটি জীব প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথে সম্পর্কিত। কোন একটি জীব বা মানুষ পরিবেশে আলাদা ভাবে বেঁচে থাকতে পারবে না। তাই পরিবেশ বিদ্যা পাঠের মাধ্যমে মানুষ প্রত্যেকটি জীব ও জন্তুর মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্ক আরও বেশী করে জানতে পারে।

২• পরিবেশ বিদ্যা ( Environmental Science) পাঠের মাধ্যমে আমরা পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারি।

৩• পরিবেশ দূষনের ফলে উৎপন্ন সমস্যার সমাধান করতে পারি পরিবেশ পাঠের মাধ্যমে।

৪• পরিবেশ দূষনের ফলে কোন রোগ সৃষ্টি হলে সেই রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধের ব্যাবস্থা আমরা শিখি পরিবেশ বিদ্যা পাঠের মধ্যদিয়ে।

৫• পৃথিবীর জল , মাটি, বাতাস ভাল রাখার জন্য পরিবেশ বিদ্যা পাঠ জরুরী।

৬• ভবিষ্যত প্রজন্মকে পরিবেশ দূষনের হাত থেকে বাঁচাতে পরিবেশ বিদ্যা পাঠ প্রয়জনীয়।

ভারতের বিভিন্ন জায়গায় পরিযায়ী পাখির মৃত্যু

পরিযায়ীরা সংকটে :

নতুন বছর, হরষে বিষাদে এলো জানুয়ারি কিন্তু কাটলো না বিষ। এবার আতঙ্ক পরিযায়ী পাখিদের মৃত্যু ঘিরে! পক্ষীবিদ বনকর্মীদের কপালে এই শীতেও চিন্তার ঘাম জমা হচ্ছে।

হিমাচল প্রদেশের পং বাঁধ সংলগ্ন জলাভূমি অঞ্চলে শত শত পরিযায়ী পাখির রহস্য মৃত্যু হচ্ছে। গত এক-দেড় সপ্তাহে এখানে মৃত পাখির সংখ্যা 1700 ছাড়িয়েছে। মৃত পাখিদের প্রজাতির তালিকায় রয়েছে বহু বিপন্ন প্রজাতির পাখিও। এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায় নি। যার ফলে ক্রমেই বাড়ছে চিন্তা।

1976সালে হিমাচল প্রদেশের নাগরোটা উপত্যকা অঞ্চলে এই জলাভূমিটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আই.ইউ.সি.এন তরফেও এই জলাভূমির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে।

প্রতি বছর বারহেডেড গিজ, ঢিল ইত্যাদি প্রজাতির পাখিরা ভালো সংখ্যায় আসে এখানে। এখানে রেড-নেক গ্রীবদেরও দেখা মেলে যা ভরতপুর অভয়ারণ্য ছাড়া ভারতে একমাত্র এই উপত্যকায়ই দেখা যায়।

প্রায় ত্রিশ হাজার হেক্টর জুড়ে শীতকালে, প্রায় চার মাস অস্থায়ী ভাবে বসবাস করে পরিযায়ী পাখিরা। প্রধানত আঠারো হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে পরিযায়ীদের আনাগোনা চলে। সাইবেরিয়া এবং মঙ্গোলিয়া মূলত পাখিরা এখানে আসে। পরিযায়ী পাখিদের ইনডেক্স অনুযায়ী প্রায় দেড় লক্ষ পাখি এখানে আসে শীতকালে প্রতি বছর।

প্রায় 114 টি প্রজাতির পাখি আসে এখানে । বিগত বছর অর্থাৎ 15ই ডিসেম্বর 2020-এর হিসেব অনুযায়ী, এর মধ্যেই এই বছর এসে পড়েছে 57 হাজার পরিযায়ী পাখি। যার মধ্যে রয়েছে মরাল, কালো মাথার চিল, নদীচিল, তিলিহাঁসের মতো বিপন্ন প্রজাতির পাখি।

গত 28 শে ডিসেম্বর ওই অঞ্চলের ফতেপুর এলাকায় কয়েকটি পরিযায়ী পাখির মৃতদেহ নজরে আসে বনবিভাগের কর্মীদের। জলাভূমিতে প্রথমে তিনটি গিজ এবং একটি ঢিলের মৃতদেহ পাওয়া যায়।

প্রথমে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি কিন্তু একদিনের মধ্যেই  ওই জলাভূমি সংলগ্ন অঞ্চলেই 421 টি পাখির মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরে ক্রমশই বাড়তে থাকে মৃত পাখির সংখ্যা। এর পরেই তাঁরা ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। অনুসন্ধান চলে!
‘ফরেস্ট ওয়াইল্ড লাইফ’ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সত্যতাকে নিশ্চিত করেছেন।

এতো বিপুল সংখ্যায় পাখিগুলো কি কারণে মারা গেল?

কারণে অনুসান করতে তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি কিন্তু প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়েছে পাখিগুলি কোনো রকম বিষক্রিয়ায় মারা যায়নি।

গিজের মৃত্যুর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ঘটনা দেখা গিয়েছে, সব পাখি গুলোই ছটফট করে মারা গিয়েছে। যা চিন্তা বাড়িয়েছে ! প্রশাসন তরফে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে,পর্যটকদের ঐ অঞ্চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

পাখির মৃত্যু
পাখির মৃত্যু

কিছু পাখির মৃতদেহ জলন্ধরের ‘ইন্ডিয়ান ভেটেরিনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ ও ‘রিজিওনাল ডিজিজ ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি, দেরাদুন, উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে ইন্ডিয়ান রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ভোপালের হাই সিকুরিটি অ্যানিম্যাল ডিজিজ ল্যাবরেটরি (HSADL) দেশের এই চারটি পরীক্ষাগারে নমুনা হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

তাঁরা মৃতদেহের ময়না তদন্ত করে পাখি মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধান করবেন। বাকি পাখিদের মৃতদেহগুলিকে দ্রুত পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। যার ফলে পাখিদের দেহে যদি কোনো রকম সংক্রমণ থেকেও থাকে, তা আর ছড়িয়ে পড়ার কোনো সম্ভবনাই থাকলো না।

ধামেটা ও নাগরোটা অরণ্য অঞ্চলের জাগমোলি ও গুগলাডা এলাকায় সর্বাধিক পাখি মৃত্যু হয়েছে। মৃত পাখিদের মধ্যে 89 শতাংশই বারহেডেড গিজ প্রজাতির পাখি।

প্রতি বছর শীতের কারণে এই পরিযায়ী পাখিরদল সাইবেরিয়া ও মঙ্গোলিয়া থেকে আসে। অ্যাভিয়ান ফ্লু-কেও কারণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে। যদিও সবই সম্ভবনা স্তরেই রয়েছে।

অন্যদিকে, রাজস্থানে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যেই বহু পাখির মৃত্যু হয়েছে। কোটায় মারা পড়েছে 47 টি কাক, ঝালাওয়ারে 100 টি কাক ও বারানে 72 টি কাক। যোধপুরে 152 টি এবং জয়পুরে 135 টি কাকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। কেবল কাক নয়, প্রচুর সংখ্যায় কিংফিসার এবং ম্যাগপাইও মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরেও একই ঘটনাই চোখে পড়েছে। 50 টি মৃত কাকের পরীক্ষা করা হয় ভোপালে,তাদের দেহে H5N8 ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। গুজরাটের জুনাগড়ে 53টি পাখির মৃত্যু হয়েছে। বার্ড ফ্লু ভাইরাসের আক্রমণের খবর আসার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রের তরফে দেশের সমস্ত রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যেখানে বার্ড ফ্লু জনিত কারণে পাখি মৃত্যু হয়েছে সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

একে অতিমারী চলছেই, তার মধ্যে এই নতুন উপদ্রব আর সবচেয়ে মারাত্মক হলো এমন এক রোগ যার কারণ জানা যাচ্ছে না। বনকর্মী,পক্ষীবিদ, পরিবেশ কর্মী এবং সাধারণ পাখিপ্রেমীরা সকলেই উদ্বিগ্ন ! জীব বৈচিত্রের ক্ষতি হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদের এই ক্ষতি, ক্ষতি ডেকে আনছে পরিণবেশেরও। লুপ্ত প্রায় বিপন্ন প্রজাতির পাখি মৃত্যু ভয়ঙ্কর সম্ভবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সৌভিক রায়